জাতীয় সংসদ নির্বাচন ২০২৬

ও গণভোট

ক্লিক করুন

সাবেক দুই উপদেষ্টার গ্রেপ্তার দাবিতে বিক্ষোভ জামায়াতের

স্ট্রিম প্রতিবেদক
স্ট্রিম প্রতিবেদক
ঢাকা

জুমার নামাজের পর জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগরীর ব্যানারে জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের উত্তর গেটে সংক্ষিপ্ত সমাবেশ করে দলটি৷ স্ট্রিম ছবি

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের মাধ্যমে জনগণের রায়কে পাল্টে দেওয়ার অভিযোগ এনে সাবেক উপদেষ্টা সৈয়দ রিজওয়ানা হাসান ও ড. খলিলুর রহমানকে গ্রেপ্তার করে জিজ্ঞাসাবাদের দাবি জানিয়েছে জামায়াতে ইসলামী৷ এই দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে দলটি৷

শুক্রবার (৬ মার্চ) জুমার নামাজের পর জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগরী জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের উত্তর গেটে সমাবেশ করে। পরে বিক্ষোভ মিছিল রাজধানীর বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে৷

সংক্ষিপ্ত সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে দলটির সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, ‘ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দুঃখ, বেদনা এবং রহস্যের জন্ম দিয়েছে। কারণ, ভোট গ্রহণ পর্ব শেষ হওয়ার পর ভোট গণনা, রেজাল্ট শিট তৈরি করা, ফলাফল ঘোষণার প্রতিটি পর্বে পর্বে ইঞ্জিনিয়ারিং করা হয়েছে। অতীতের নির্বাচনের চেয়ে এবারের নির্বাচনের ইঞ্জিনিয়ারিং এবং কারচুপির ধরনটাই ছিল একদম আলাদা। উনারা ভেবেছিলেন জনগণ বা ভোটাররা হয়তো বুঝতে পারবে না। ভোটাররা তো ভোটকেন্দ্রে গেল, ভোট তো দিল, কিন্তু কামটা কখন সারা যায়? দক্ষ ইঞ্জিনিয়াররা সেই ইঞ্জিনিয়ারিংটা ঠিকমতোই করেছেন।’

মিয়া গোলাম পরওয়ার আরও বলেন, ‘ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের একজন রাজসাক্ষীর বক্তব্য সোশ্যাল মিডিয়াতে এসে গেছে। রিজওয়ানা হাসান বলছেন, তারা যদি বিরোধী দলে থাকেও, তাদেরকে আমরা মেইনস্ট্রিমে আসতে দেইনি। অর্থাৎ আপনি মেইনস্ট্রিম বলতে পার্লামেন্টে নির্বাচনে মেজোরিটি সিটে জিতে আসতে দেননি। দ্যাট ইজ কলড ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং। ফলে এখান থেকে এই কথা থেকে জনগণের বিশ্বাস করার সুযোগ আছে যে আপনি হচ্ছেন সেই ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের একজন আত্মস্বীকৃত রাজসাক্ষী। এখন আপনাকেই এটা প্রমাণ করতে হবে যে বিরোধী দল বলতে আপনি কাকে মিন করেছেন। পার্লামেন্টে কি জামায়াতে ইসলামী ছাড়া আর কোনো বিরোধী দল আছে?’

সাবেক উপদেষ্টা ড. খলিলুর রহমানের কথা উল্লেখ করে মিয়া গোলাম পরোয়ার বলেন, ‘লন্ডন কন্সপারিসির হোতা হিসেবে যাকে এদেশের মানুষ মনে করে ডক্টর খলিলুর রহমান, যিনি ইনটেরিম গভর্নমেন্টের সিকিউরিটি অ্যাডভাইজার ছিলেন। আপনি যখন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন, তখন আজকে সরকার গঠন করা দলটির যথেষ্ট উপকার ওই সময়ও করেছেন। আপনার খেদমত আপনার উপকার নির্বাচনে বিজয়ী করা সরকারে আসার ব্যাপারে আপনার সার্ভিসে তারা এত সন্তুষ্ট হয়েছে যে আপনার পরে সমস্ত রাগ দুঃখ ভুলে আপনাকে এখন পররাষ্ট্রমন্ত্রী করেছে।’

গোলাম পরোয়ার বলেন, ‘রাজনৈতিক বিশ্লেষক, যারা চিন্তাশীল যারা সিভিল সোসাইটি আছেন তাঁরা এখন নীরব কেন? আপনারা বলুন, “বিরোধী দলে থাকলেও তাদেরকে আমরা মেইনস্ট্রিমে আসতে দেইনি”—এই কথার অর্থ কী? সমাজের সুশীলদের কাছে এর ব্যাখ্যা চাই। আর রিজওয়ানা হাসান যদি অন্তরের দিক থেকে সিনসিয়ার থাকেন, অপরাধ না করে থাকেন, তাহলে তিনি অকপটে তাঁর এই বক্তব্যের ভুল স্বীকার করতে পারেন। যতক্ষণ তা না বলবেন, ততক্ষণ দেশবাসীর এই বিশ্বাস করার যৌক্তিক কারণ আছে যে আপনি জামায়াতে ইসলামীকে বিরোধী দল থেকে সরকারি দলে আসার পথে বাধা দিয়েছেন।’

সম্পর্কিত