কার্নিশে ঝুলে থাকা তরুণকে গুলি ও দুই হত্যা, ৫ পুলিশের রায় আজ

স্ট্রিম প্রতিবেদক
স্ট্রিম প্রতিবেদক
ঢাকা

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। সংগৃহীত ছবি

চব্বিশের জুলাই আন্দোলনে রাজধানীর রামপুরায় কার্নিশে ঝুলে থাকা তরুণকে গুলি এবং দুজনকে হত্যায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার রায় ঘোষণা হবে আজ রোববার। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল এ রায় ঘোষণা করবেন।

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের পর পুনর্গঠিত আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের এটি পঞ্চম রায়। প্রসিকিউশন জানিয়েছে, আগের মতো এই রায়ও বাংলাদেশ টেলিভিশনে (বিটিভি) সরাসরি সম্প্রচার করা হবে।

মামলাটিতে আসামি পাঁচ পুলিশ কর্মকর্তা। তাদের মধ্যে রামপুরা পুলিশ ফাঁড়ির তৎকালীন এএসআই চঞ্চল চন্দ্র সরকার ছাড়া বাকি চারজনই পলাতক। তারা হলেন— ডিএমপির সাবেক কমিশনার হাবিবুর রহমান, খিলগাঁও জোনের সাবেক এডিসি রাশেদুল ইসলাম, রামপুরা থানার সাবেক ওসি মশিউর রহমান এবং সাবেক এসআই তারিকুল ইসলাম ভূঁইয়া।

এ মামলায় তদন্ত কর্মকর্তাসহ ১৪ জন সাক্ষ্য দিয়েছেন। গত ১৫ জুন প্রসিকিউশন ও আসামিপক্ষের দ্বিতীয় দফার যুক্তিতর্ক উপস্থাপন সম্পন্ন হয়। ওই দিন এএসআই চঞ্চল চন্দ্র সরকারের পক্ষে আইনজীবী সারওয়ার জাহান নিপ্পন দাবি করেন, ঘটনায় তার মক্কেলের সম্পৃক্ততা নেই। অন্যদিকে চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম পাঁচ আসামির সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি করেন।

উভয়পক্ষের যুক্তিতর্ক শেষে ২৮ জুন রায় ঘোষণার দিন দেন ট্রাইব্যুনাল। অবশ্য চলতি বছরের ৪ মার্চ এই মামলায় রায় ঘোষণার কথা ছিল। তবে প্রসিকিউশন নতুন করে ডিজিটাল এভিডেন্স (প্রমাণ) জমা দেওয়ার আবেদন করায় রায় পিছিয়ে যায়। এর আগে গত বছরের ৭ আগস্ট প্রসিকিউশন ফরমাল অভিযোগ দাখিল করে। আর ১৮ সেপ্টেম্বর শুরু হয় বিচার।

প্রসিকিউশনের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই ছাত্র-জনতার আন্দোলনে চালানো পুলিশের গুলি থেকে প্রাণ বাঁচাতে রামপুরার বনশ্রী-মেরাদিয়া সড়কের পাশে একটি নির্মাণাধীন ভবনে ওঠেন আমির হোসেন। ওই সময় পুলিশ তার পিছু নেয়। একপর্যায়ে তিনি ছাদের কার্নিশের রড ধরে ঝুলে থাকলেও তার ওপর ছয় রাউন্ড গুলি ছোড়েন এক পুলিশ সদস্য। এতে জীবনে বাঁচলেও তিনি গুরুতর আহত হন।

এ ছাড়া একই দিন বনশ্রী এলাকায় পুলিশের গুলিতে নাদিম ও মায়া ইসলাম শহীদ হন। গুলিবিদ্ধ হয় মায়া ইসলামের ছয় বছরের নাতি বাসিত খান মুসাও। দেশ-বিদেশের বিভিন্ন হাসপাতালে দীর্ঘ চিকিৎসা নেওয়ার পরও শিশুটির বাকশক্তি ফেরেনি।

Ad 300x250

সম্পর্কিত