স্ট্রিম সংবাদদাতা

সারা দেশে বজ্রপাতে ১২ জনের মৃত্যু ও অন্তত ১৪ জন আহত হয়েছেন। শনিবার (১৮ এপ্রিল) দুপুরে ছয় জেলায় এই বজ্রপাতে হতাহতের ঘটনা ঘটে। মৃতদের মধ্যে সুনামগঞ্জে ৫, রংপুরে ২, ময়মনসিংহে ২, নেত্রকোনায় ১, হবিগঞ্জে ১ ও কিশোরগঞ্জে একজন রয়েছেন।
সুনামগঞ্জের বিভিন্ন হাওরে কাজ করার সময় বজ্রপাতে চারজনের মৃত্যু ও আরও চারজন আহত হয়েছেন। দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে জামালগঞ্জের পাগনার হাওর, ধর্মপাশা উপজেলায় টগার হাওর এবং তাহিরপুরে হতাহতের এসব ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মতিউর রহমান।
মৃতরা হলেন– জামালগঞ্জ উপজেলা সদর ইউনিয়নের চাঁনপুর গ্রামের নুরুজ্জামান, ধর্মপাশার পাইকুরহাটি ইউনিয়নের বড়ইহাটি গ্রামের হাবিবুর রহমান, জয়শ্রী ইউনিয়নের সরস্বতিপুর গ্রামের জয়নাল হকের ছেলে রহমত উল্লাহ ও তাহিরপুর উপজেলা সদর ইউনিয়নের গাজীপুর গ্রামের আবু বকরের ছেলে আবুল কালাম ওরফে কালা মিয়া।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় প্রশাসন জানায়, পয়লা বৈশাখ থেকে হাওরে ধান কাটা শুরু হয়েছে। এবার জলাবদ্ধতার কারণে কম্বাইন হার্ভেস্টরে ধান কাটা যাচ্ছে না। তাই শ্রমিকই ভরসা। স্থানীয় শ্রমিক ও কৃষকরা হাওরে পাকা ধান কাটতে শুরু করেছেন।
শনিবার দুপুরে জামালগঞ্জ উপজেলার পাগনার হাওরে ধান কাটার সময় বজ্রপাতে নুরুজ্জামান ও তাঁর চাচাতো ভাই তোফাজ্জল গুরুতর আহত হন। স্থানীয়রা তাদের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিলে চিকিৎসক নুরুজ্জামানকে মৃত ঘোষণা করেন। তোফাজ্জলকে উন্নত চিকিৎসার জন্য সিলেটে পাঠানো হয়েছে।
একই সময় ধর্মপাশা উপজেলার টগার হাওরের পাশে চাচার সঙ্গে চকিয়াচাপুর গ্রামে বোরো ধান কাটতে যান হাবিবুর। এ সময় বজ্রপাতে হাবিবুর মারা যান। একই সময়ে উপজেলার জয়শ্রী ইউনিয়নের সরস্বতিপুর ইসলামপুর গ্রামে বজ্রপাতে জয়নাল হক, তাঁর ছেলে রহমত উল্লাহ এবং একই এলাকার লাল সাধুর স্ত্রী শিখা মনি আহত হয়।
তাদের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিলে চিকিৎসক রহমতকে মৃত ঘোষণা করেন। এ ছাড়া আহত জয়নাল ও শিখা মনিকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
এদিকে, তাহিরপুর উপজেলায় জামলাবাজ গ্রামে হাওরে একটি হাঁসের খামারে কাজ করছিলেন কালা মিয়া ও নূর মোহাম্মদ। হঠাৎ বজ্রপাতে ঘটনাস্থলেই কালা মিয়ার মৃত্যু হয়। আহত নূর মোহাম্মদকে উন্নত চিকিৎসার জন্য সিলেটে পাঠানো হয়েছে। নূর মোহাম্মদ উপজেলার দক্ষিণ বড়দল ইউনিয়নের জামলাবাজ গ্রামের বাসিন্দা।
অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মতিউর রহমান বলেন, হতাহতদের পরিবারকে প্রয়োজনীয় সহায়তা দিতে স্থানীয় প্রশাসনকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
সুনামগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক ওমর ফারুক বলেছেন, হাওরে শনিবার পর্যন্ত পাঁচ হাজার ৫৫১ হেক্টর জমির ধান কাটা হয়েছে। ধান কাটা উপযুক্ত হলেও পানির কারণে হার্ভেস্টর জমিতে নামছে না। এমন পরিস্থিতিতে স্থানীয় শ্রমিকের পাশাপাশি বাইরের জেলার শ্রমিক নিয়ে আসতেও চিঠি পাঠানো হয়েছে। তবে বজ্রপাত ও ঝড়-বৃষ্টির ভয়ে অনেকে ধান কাটতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।
রংপুরে দুই জেলের মৃত্যু
রংপুরের মিঠাপুকুরে বিলে মাছ ধরতে গিয়ে বজ্রপাতে দুই জেলের মৃত্যু ও কমপক্ষে ১০ জন আহত হয়েছেন। শনিবার দুপুরে উপজেলার বড় হযরতপুর ইউনিয়নের সখীপুর ছোট শালমারা বিলে এ দুর্ঘটনা ঘটে। মিঠাপুকুর থানার ওসি মো. নুরুজ্জামান এ তথ্য জানিয়েছেন।
নিহতরা হলেন– ছোট হযরতপুর মাঝিপাড়া গ্রামের অলিন রায়ের ছেলে মিলন রায় ও রামেশ্বরপাড়া গ্রামের আনছের আলীর ছেলে আবু তালেব।
মৃতদের স্বজন, পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, সকালে অন্যান্য জেলের সঙ্গে বিলে মাছ ধরতে যান আবু তালেব ও মিলন রায়। দুপুরের দিকে পরপর কয়েকটি বজ্রপাত হয়। এতে ঘটনাস্থলেই একাধিক ব্যক্তি আহত হন। গুরুতর অবস্থায় তাদের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়ার পথে মিলন রায় ও আবু তালেবের মৃত্যু হয়।
আহতদের মধ্যে গোল্ডেন মিয়া, তাঁর স্ত্রী লিমা বেগম, মর্জিনা বেগম, জগদীশ রায়, সুবল, নিখিল রায়, শামছুলসহ ১০ জনকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এবং রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তাদের মধ্যে কয়েকজন বিলের পারে দাঁড়িয়ে মাছ শিকার দেখছিলেন বলে জানা গেছে।
ময়মনসিংহে প্রাণ গেল কৃষকসহ ২ জনের
ময়মনসিংহের দুই উপজেলায় বজ্রপাতে দুজন নিহত হয়েছেন। শনিবার দুপুর ২টার দিকে গৌরীপুর ও গফরগাঁওয়ে এ ঘটনা ঘটে।
মৃততরা হলেন– গৌরীপুর উপজেলার গৌরীপুর ইউনিয়নের পূর্ব কোনাপাড়া গ্রামের ওলি মিয়ার ছেলে রহমত উল্লাহ এবং গফরগাঁও উপজেলার উস্থি ইউনিয়নের ধাইরগাঁও গ্রামের মৃত সেকান্দর আলী খানের ছেলে মমতাজ উদ্দিন।
গৌরীপুর ইউপি চেয়ারম্যান হযরত আলী বলেন, রহমত উল্লাহ চা দোকানি। দুপুরে বায়রাউড়া গ্রামের সীমান্তবর্তী বালকি বিলে বোন জামাইয়ের ধান কাটতে যান তিনি। হঠাৎ বজ্রপাতে ঘটনাস্থলেই মারা যান রহমত। স্থানীয়রা টের পেয়ে লাশ বাড়িতে নিয়ে যায়।
অন্যদিকে, গফরগাঁও থানার ওসি আতিকুর রহমান জানান, কৃষক মমতাজ উদ্দিন জোহরের নামাজ পড়ে মেঘ দেখে মাঠ থেকে গরু আনতে বের হন। পথে বজ্রপাতে গুরুতর আহত হন তিনি। স্থানীয়রা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
পাগলা থানার ওসি আমিনুল ইসলাম জানান, সুরতহাল শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
তিন জেলায় আরও ৩ জনের মৃত্যু
কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জে হাওরে ধান কাটতে গিয়ে বজ্রপাতে হলুদ মিয়া নামে কৃষকের মৃত্যু হয়েছে। দুপুরে উপজেলার বড় হাওরে এ ঘটনা ঘটে। হলুদ মিয়া উপজেলার জয়কা ইউনিয়নের কলাবাগ গ্রামের নুরুল ইসলামের ছেলে।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার উম্মে মুসলিমা জানান, হাওরে ধান কাটছিলেন হলুদ মিয়া। দুপুরে হঠাৎ বৃষ্টি শুরু হয়। এ সময় বজ্রপাতে ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয়। পরে স্থানীয়রা মরদেহ উদ্ধার করে বাড়িতে আনেন।
নেত্রকোনার হাওরে ধান কাটার সময় বজ্রপাতে কৃষক আলতু মিয়ার মৃত্যু হয়েছে। শনিবার দুপুরে উপজেলার ধলার হাওরে এ ঘটনা ঢ়টে। আলতু মিয়া আটপাড়া উপজেলার সুখারি ইউনিয়নের হাতিয়া গ্রামের মৃত লাল মিয়ার ছেলে।
স্বজন ও স্থানীয়রা জানান, বাড়ির সামনে ধলার হাওরে অন্যান্য কৃষকের সঙ্গে বোরো ধান কাটছিলেন আলতু মিয়া। হঠাৎ বজ্রসহ বৃষ্টি শুরু হলে স্থানীয় কৃষকরা যে যার মতো বিভিন্ন স্থানে আশ্রয় নেন। বৃষ্টি থামলে তারা আবার ধান কাটতে গিয়ে আলতু মিয়ার মরদেহ পান। শরীরের বিভিন্ন স্থান ঝলসানো দেখে স্থানীয় কৃষকরা নিশ্চিত হন বজ্রপাতে আলতু মিয়ার মৃত্য হয়েছে। পরে পরিবারের সদস্যরা এসে মরদেহ বাড়ি নিয়ে যান।
আটপাড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার শাহনূর রহমান জানান, প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রাথমিকভাবে খোঁজখবর নেওয়া হয়েছে। আলতু মিয়ার দাফনে পরিবারকে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে।
এছাড়া বজ্রপাতে হবিগঞ্জে একজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে, এসব ঘটনায় অন্তত চারজন আহত হয়েছেন।

সারা দেশে বজ্রপাতে ১২ জনের মৃত্যু ও অন্তত ১৪ জন আহত হয়েছেন। শনিবার (১৮ এপ্রিল) দুপুরে ছয় জেলায় এই বজ্রপাতে হতাহতের ঘটনা ঘটে। মৃতদের মধ্যে সুনামগঞ্জে ৫, রংপুরে ২, ময়মনসিংহে ২, নেত্রকোনায় ১, হবিগঞ্জে ১ ও কিশোরগঞ্জে একজন রয়েছেন।
সুনামগঞ্জের বিভিন্ন হাওরে কাজ করার সময় বজ্রপাতে চারজনের মৃত্যু ও আরও চারজন আহত হয়েছেন। দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে জামালগঞ্জের পাগনার হাওর, ধর্মপাশা উপজেলায় টগার হাওর এবং তাহিরপুরে হতাহতের এসব ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মতিউর রহমান।
মৃতরা হলেন– জামালগঞ্জ উপজেলা সদর ইউনিয়নের চাঁনপুর গ্রামের নুরুজ্জামান, ধর্মপাশার পাইকুরহাটি ইউনিয়নের বড়ইহাটি গ্রামের হাবিবুর রহমান, জয়শ্রী ইউনিয়নের সরস্বতিপুর গ্রামের জয়নাল হকের ছেলে রহমত উল্লাহ ও তাহিরপুর উপজেলা সদর ইউনিয়নের গাজীপুর গ্রামের আবু বকরের ছেলে আবুল কালাম ওরফে কালা মিয়া।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় প্রশাসন জানায়, পয়লা বৈশাখ থেকে হাওরে ধান কাটা শুরু হয়েছে। এবার জলাবদ্ধতার কারণে কম্বাইন হার্ভেস্টরে ধান কাটা যাচ্ছে না। তাই শ্রমিকই ভরসা। স্থানীয় শ্রমিক ও কৃষকরা হাওরে পাকা ধান কাটতে শুরু করেছেন।
শনিবার দুপুরে জামালগঞ্জ উপজেলার পাগনার হাওরে ধান কাটার সময় বজ্রপাতে নুরুজ্জামান ও তাঁর চাচাতো ভাই তোফাজ্জল গুরুতর আহত হন। স্থানীয়রা তাদের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিলে চিকিৎসক নুরুজ্জামানকে মৃত ঘোষণা করেন। তোফাজ্জলকে উন্নত চিকিৎসার জন্য সিলেটে পাঠানো হয়েছে।
একই সময় ধর্মপাশা উপজেলার টগার হাওরের পাশে চাচার সঙ্গে চকিয়াচাপুর গ্রামে বোরো ধান কাটতে যান হাবিবুর। এ সময় বজ্রপাতে হাবিবুর মারা যান। একই সময়ে উপজেলার জয়শ্রী ইউনিয়নের সরস্বতিপুর ইসলামপুর গ্রামে বজ্রপাতে জয়নাল হক, তাঁর ছেলে রহমত উল্লাহ এবং একই এলাকার লাল সাধুর স্ত্রী শিখা মনি আহত হয়।
তাদের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিলে চিকিৎসক রহমতকে মৃত ঘোষণা করেন। এ ছাড়া আহত জয়নাল ও শিখা মনিকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
এদিকে, তাহিরপুর উপজেলায় জামলাবাজ গ্রামে হাওরে একটি হাঁসের খামারে কাজ করছিলেন কালা মিয়া ও নূর মোহাম্মদ। হঠাৎ বজ্রপাতে ঘটনাস্থলেই কালা মিয়ার মৃত্যু হয়। আহত নূর মোহাম্মদকে উন্নত চিকিৎসার জন্য সিলেটে পাঠানো হয়েছে। নূর মোহাম্মদ উপজেলার দক্ষিণ বড়দল ইউনিয়নের জামলাবাজ গ্রামের বাসিন্দা।
অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মতিউর রহমান বলেন, হতাহতদের পরিবারকে প্রয়োজনীয় সহায়তা দিতে স্থানীয় প্রশাসনকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
সুনামগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক ওমর ফারুক বলেছেন, হাওরে শনিবার পর্যন্ত পাঁচ হাজার ৫৫১ হেক্টর জমির ধান কাটা হয়েছে। ধান কাটা উপযুক্ত হলেও পানির কারণে হার্ভেস্টর জমিতে নামছে না। এমন পরিস্থিতিতে স্থানীয় শ্রমিকের পাশাপাশি বাইরের জেলার শ্রমিক নিয়ে আসতেও চিঠি পাঠানো হয়েছে। তবে বজ্রপাত ও ঝড়-বৃষ্টির ভয়ে অনেকে ধান কাটতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।
রংপুরে দুই জেলের মৃত্যু
রংপুরের মিঠাপুকুরে বিলে মাছ ধরতে গিয়ে বজ্রপাতে দুই জেলের মৃত্যু ও কমপক্ষে ১০ জন আহত হয়েছেন। শনিবার দুপুরে উপজেলার বড় হযরতপুর ইউনিয়নের সখীপুর ছোট শালমারা বিলে এ দুর্ঘটনা ঘটে। মিঠাপুকুর থানার ওসি মো. নুরুজ্জামান এ তথ্য জানিয়েছেন।
নিহতরা হলেন– ছোট হযরতপুর মাঝিপাড়া গ্রামের অলিন রায়ের ছেলে মিলন রায় ও রামেশ্বরপাড়া গ্রামের আনছের আলীর ছেলে আবু তালেব।
মৃতদের স্বজন, পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, সকালে অন্যান্য জেলের সঙ্গে বিলে মাছ ধরতে যান আবু তালেব ও মিলন রায়। দুপুরের দিকে পরপর কয়েকটি বজ্রপাত হয়। এতে ঘটনাস্থলেই একাধিক ব্যক্তি আহত হন। গুরুতর অবস্থায় তাদের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়ার পথে মিলন রায় ও আবু তালেবের মৃত্যু হয়।
আহতদের মধ্যে গোল্ডেন মিয়া, তাঁর স্ত্রী লিমা বেগম, মর্জিনা বেগম, জগদীশ রায়, সুবল, নিখিল রায়, শামছুলসহ ১০ জনকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এবং রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তাদের মধ্যে কয়েকজন বিলের পারে দাঁড়িয়ে মাছ শিকার দেখছিলেন বলে জানা গেছে।
ময়মনসিংহে প্রাণ গেল কৃষকসহ ২ জনের
ময়মনসিংহের দুই উপজেলায় বজ্রপাতে দুজন নিহত হয়েছেন। শনিবার দুপুর ২টার দিকে গৌরীপুর ও গফরগাঁওয়ে এ ঘটনা ঘটে।
মৃততরা হলেন– গৌরীপুর উপজেলার গৌরীপুর ইউনিয়নের পূর্ব কোনাপাড়া গ্রামের ওলি মিয়ার ছেলে রহমত উল্লাহ এবং গফরগাঁও উপজেলার উস্থি ইউনিয়নের ধাইরগাঁও গ্রামের মৃত সেকান্দর আলী খানের ছেলে মমতাজ উদ্দিন।
গৌরীপুর ইউপি চেয়ারম্যান হযরত আলী বলেন, রহমত উল্লাহ চা দোকানি। দুপুরে বায়রাউড়া গ্রামের সীমান্তবর্তী বালকি বিলে বোন জামাইয়ের ধান কাটতে যান তিনি। হঠাৎ বজ্রপাতে ঘটনাস্থলেই মারা যান রহমত। স্থানীয়রা টের পেয়ে লাশ বাড়িতে নিয়ে যায়।
অন্যদিকে, গফরগাঁও থানার ওসি আতিকুর রহমান জানান, কৃষক মমতাজ উদ্দিন জোহরের নামাজ পড়ে মেঘ দেখে মাঠ থেকে গরু আনতে বের হন। পথে বজ্রপাতে গুরুতর আহত হন তিনি। স্থানীয়রা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
পাগলা থানার ওসি আমিনুল ইসলাম জানান, সুরতহাল শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
তিন জেলায় আরও ৩ জনের মৃত্যু
কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জে হাওরে ধান কাটতে গিয়ে বজ্রপাতে হলুদ মিয়া নামে কৃষকের মৃত্যু হয়েছে। দুপুরে উপজেলার বড় হাওরে এ ঘটনা ঘটে। হলুদ মিয়া উপজেলার জয়কা ইউনিয়নের কলাবাগ গ্রামের নুরুল ইসলামের ছেলে।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার উম্মে মুসলিমা জানান, হাওরে ধান কাটছিলেন হলুদ মিয়া। দুপুরে হঠাৎ বৃষ্টি শুরু হয়। এ সময় বজ্রপাতে ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয়। পরে স্থানীয়রা মরদেহ উদ্ধার করে বাড়িতে আনেন।
নেত্রকোনার হাওরে ধান কাটার সময় বজ্রপাতে কৃষক আলতু মিয়ার মৃত্যু হয়েছে। শনিবার দুপুরে উপজেলার ধলার হাওরে এ ঘটনা ঢ়টে। আলতু মিয়া আটপাড়া উপজেলার সুখারি ইউনিয়নের হাতিয়া গ্রামের মৃত লাল মিয়ার ছেলে।
স্বজন ও স্থানীয়রা জানান, বাড়ির সামনে ধলার হাওরে অন্যান্য কৃষকের সঙ্গে বোরো ধান কাটছিলেন আলতু মিয়া। হঠাৎ বজ্রসহ বৃষ্টি শুরু হলে স্থানীয় কৃষকরা যে যার মতো বিভিন্ন স্থানে আশ্রয় নেন। বৃষ্টি থামলে তারা আবার ধান কাটতে গিয়ে আলতু মিয়ার মরদেহ পান। শরীরের বিভিন্ন স্থান ঝলসানো দেখে স্থানীয় কৃষকরা নিশ্চিত হন বজ্রপাতে আলতু মিয়ার মৃত্য হয়েছে। পরে পরিবারের সদস্যরা এসে মরদেহ বাড়ি নিয়ে যান।
আটপাড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার শাহনূর রহমান জানান, প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রাথমিকভাবে খোঁজখবর নেওয়া হয়েছে। আলতু মিয়ার দাফনে পরিবারকে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে।
এছাড়া বজ্রপাতে হবিগঞ্জে একজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে, এসব ঘটনায় অন্তত চারজন আহত হয়েছেন।

মানিকগঞ্জের বনপারিলে শিশু আতিকা হত্যাকাণ্ডে করা মামলার প্রধান অভিযুক্ত কিশোর নাঈম হোসেনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তাকে গ্রেপ্তার করা বলে শনিবার দুপুরের দিকে নিশ্চিত করেছেন পুলিশ সুপার। তবে ওই ঘটনার কিশোর নাঈমের বাবা ও চাচাকে পিটিয়ে হত্যাকাণ্ডে পরিবারের পক্ষ থেকে এখনো কোনো মামলা করা হয়নি।
৯ মিনিট আগে
চট্টগ্রামের ঐতিহাসিক আব্দুল জব্বার বলী খেলার ১১৭তম আসর বসছে আগামী ১২ বৈশাখ (২৫ এপ্রিল)। এই উপলক্ষে লালদীঘি ময়দান এলাকায় ২৪ ও ২৫ এপ্রিল দু’দিনব্যাপী বৈশাখী মেলারও আয়োজন করা হয়েছে।
৩৬ মিনিট আগে
দীর্ঘ অনিশ্চয়তার পর সাধারণ মানুষ এখন যেকোনো মূল্যে স্থিতিশীলতা চায় বলে মন্তব্য করেছেন রাষ্ট্রবিজ্ঞানী অধ্যাপক রওনক জাহান। তিনি বলেছেন, মানুষের হৃদয়ে সব সময় গণতন্ত্র ও সুশাসনের স্বপ্ন জাগ্রত থাকে।
৪ ঘণ্টা আগে
ভোলায় এক প্রবাসীর ঘরে ঢুকে তাঁর স্ত্রী নাসিমা বেগমকে (৩৫) কুপিয়ে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। এ সময় তাঁর ছেলে আবির (১০) গুরুতর আহত হয়েছে। বর্তমানে সে ভোলা সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। শুক্রবার গভীর রাতে সদর উপজেলার শিবপুর ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের সরদার বাড়ি সংলগ্ন এলাকায় এ ঘটনা
৪ ঘণ্টা আগে