গৃহকর্মীদের নিবন্ধন বাধ্যতামূলক করতে হাইকোর্টের রুল

স্ট্রিম প্রতিবেদক
স্ট্রিম প্রতিবেদক
ঢাকা

প্রকাশ : ২০ এপ্রিল ২০২৬, ০০: ০০
হাইকোর্ট ভবন। ছবি: সংগৃহীত

গৃহকর্মীদের নিবন্ধন কেন বাধ্যতামূলক করা হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে বিদ্যমান ‘দ্য ডোমেস্টিক সার্ভেন্টস রেজিস্ট্রেশন অর্ডিন্যান্স ১৯৬১’ অনুযায়ী কার্যকর ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্টদের নিষ্ক্রিয়তা কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না, তাও জানতে চাওয়া হয়েছে।

রোববার (১৯ এপ্রিল) বিচারপতি রাজিক আল জলিল ও বিচারপতি দেবাশীষ রায় চৌধুরীর হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রুল জারি করেন। আদালত আগামী চার সপ্তাহের মধ্যে বিবাদীদের রুলের জবাব দিতে বলেছেন।

রিটকারী আইনজীবী খাদিজাতুল কোবরা জানান, আদালত আপাতত কোনো অন্তর্বর্তীকালীন আদেশ দেননি; বিবাদীদের জবাব পাওয়ার পর পরবর্তী নির্দেশনার আবেদন করা হবে। রিটে আইন সচিব, শ্রম ও কর্মসংস্থান সচিব, মহিলা ও শিশু বিষয়ক সচিব, স্বরাষ্ট্র সচিব এবং শ্রম অধিদপ্তরের মহাপরিচালককে বিবাদী করা হয়েছে।

রিট আবেদনে বলা হয়েছে, দেশের গৃহকর্মীদের বড় অংশই আইনি সুরক্ষা, চুক্তি বা পরিচয়পত্র ছাড়াই কাজ করছে। ২০১৫ সালে ‘গৃহকর্মী সুরক্ষা ও কল্যাণ নীতি’ গ্রহণ করা হলেও এর তদারকি বা নিবন্ধন ব্যবস্থা এখনো বাস্তবায়িত হয়নি। এছাড়া ১৯৬১ সালের অর্ডিন্যান্সে গৃহকর্মীদের বাধ্যতামূলক নিবন্ধন ও কার্ড ইস্যুর সুস্পষ্ট বিধান থাকলেও তা নির্দিষ্ট এলাকার বাইরে সম্প্রসারণ করা হয়নি। ফলে আইনটি কার্যত অকার্যকর হয়ে আছে।

আবেদনে আরও বলা হয়, কেন্দ্রীয় ডিজিটাল ডেটাবেজ না থাকায় গৃহকর্তারা গৃহকর্মীদের পরিচয় ও অতীত রেকর্ড জানতে পারেন না। এতে অপরাধী শনাক্তকরণ ও পুলিশি তদন্ত ব্যাহত হয়। রিটে মোহাম্মদপুরে মা ও মেয়ে (লায়লা আফরোজ এবং নাফিসা নাওয়াল বিনতে আজিজ) হত্যার অভিযোগে এক গৃহকর্মীর বিরুদ্ধে মামলার বিষয়টি তুলে ধরে আবাসিক নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়।

সব পক্ষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গৃহকর্মীদের জাতীয় পরিচয়পত্রের সঙ্গে যুক্ত করে বাধ্যতামূলক নিবন্ধন, শ্রম মন্ত্রণালয়ের অধীনে ডিজিটাল ডেটাবেজ গঠন এবং ‘ব্যাকগ্রাউন্ড চেক’-এর কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার আরজি জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে গৃহকর্মীদের অধিকার রক্ষা ও অভিযোগ নিষ্পত্তিতে জেলাভিত্তিক তদারকি ব্যবস্থা চালুর সুপারিশ করা হয়েছে।

সর্বাধিক পঠিত

সম্পর্কিত