ইমরান নাফিস

চানখাঁরপুলে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের রায়ে মাঠ পর্যায়ের পুলিশ সদস্যদের ‘লঘু দণ্ড’ দেওয়ায় গভীর উদ্বেগ ও অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন শহীদ পরিবারের সদস্যরা। তাঁরা রায় পুনর্বিবেচনা করতে ট্রাইব্যুনাল প্রশাসনকে স্মারকলিপি দিয়েছেন।
একইসঙ্গে ন্যায়বিচার নিশ্চিত না হলে চলমান সব মামলা প্রত্যাহারেরও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তাঁরা। যদিও এক প্রসিকিউটর বলেছেন, ট্রাইব্যুনালের রায় রিভিউ করার আইনি কোনো সুযোগ নেই। তবে উচ্চ আদালতে আপিল করা যাবে।
তাঁদের অভিযোগ, হত্যাকাণ্ডে সরাসরি জড়িত মূল অপরাধীদের (প্রিন্সিপাল অফেন্ডার) নামমাত্র শাস্তি দিয়ে কেবল পলাতক উর্ধ্বতনদের মৃত্যুদণ্ড দেওয়া ন্যায়বিচারের পরিপন্থী। এ রায় ভবিষ্যতে নেতিবাচক আইনি নজির স্থাপনের শঙ্কা থেকেই তা পুনর্বিবেচনার দাবিতে স্মারকলিপি দিয়েছেন তাঁরা।
আজ মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) দুপুরে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এর রেজিস্ট্রারের দপ্তরে এই স্মারকলিপি দেন তাঁরা। স্মারকলিপি দেওয়ার সময় আদালত প্রাঙ্গণে বিক্ষোভকালে শহীদ পরিবারের সদস্যরা এসব প্রতিক্রিয়া জানান।
স্মারকলিপিটি জমা দেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের লিগ্যাল সেল সম্পাদক মোতাসিম বিল্লাহ মাহফুজ এবং শহীদ পরিবারের সদস্যরা। স্মারকলিপিতে বলা হয়, সুস্পষ্ট ভিডিও ফুটেজ থাকার পরও মূল অপরাধীদের নামমাত্র শাস্তি দিয়ে কেবল উর্ধ্বতন বা ‘সুপিরিয়র’ কর্মকর্তাদের মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। প্রিন্সিপাল অফেন্ডারদের লঘু দণ্ড দেওয়ায় ভবিষ্যতে উচ্চ আদালতে এ রায় বহাল থাকবে কি না, তা নিয়ে যথেষ্ট আইনি সংশয় রয়েছে। এই রায় জুলাই আন্দোলনের চেতনার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় এবং এতে ১৪০০ শহীদ পরিবারের সদস্যরা মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়েছেন।
মোতাসিম বিল্লাহ মাহফুজ সাংবাদিকদের বলেন, ‘রায়ের পুরো অংশে আমরা সন্তুষ্ট হতে পারিনি। তবে যেখানে কমান্ড রেসপনসিবিলিটি বিদ্যমান ছিল, সেখানে সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ দণ্ডাদেশ দেওয়ায় আমরা আংশিক সন্তুষ্টি প্রকাশ করছি।’
তিনি বলেন, ‘প্রিন্সিপাল অফেন্ডাররা মাঠপর্যায়ে থেকে নির্দেশ বাস্তবায়ন বা এক্সিকিউট করেছেন। অথচ তাদের ক্ষেত্রে ন্যূনতম কোনো অর্থবহ শাস্তি দেওয়া হয়নি। বরং কলা চুরি বা বদনা চুরির জন্য যে ধরনের সাজা হয়, তার সমপর্যায়ের নামমাত্র শাস্তি দেওয়া হয়েছে। আমরা মনে করি, এতে ন্যায়বিচার গুরুতরভাবে বিঘ্নিত হয়েছে।’
রায়কে ‘নাটকীয়’ আখ্যা দিয়ে শহীদ রমিজ উদ্দিন আহমেদের বাবা রকিবুল আহমেদ বলেন, ‘কিছুদিন আগে গণমাধ্যমে দেখলাম, একটি কুকুরের বাচ্চাকে হত্যা করার দায়ে একজন সরকারি কর্মকর্তার স্ত্রীকে জেল দেওয়া হয়েছে। তাহলে কুকুরের বাচ্চাকে হত্যার জন্য যদি জেল হতে পারে, তাহলে একজন মানুষের সন্তানকে হত্যার শাস্তি কি মাত্র তিন বছর? তাহলে কি আমরা কুকুরের থেকেও অধম?’
আদালত প্রাঙ্গণে ক্ষোভ প্রকাশ করে শহীদ শাহরিয়ার হাসান আলভী’র বাবা আবুল হাসান বলেন, ‘ভিডিওতে স্পষ্ট দেখা গেছে, পুলিশ সদস্য সুজন গুলি করার পর উল্লাস প্রকাশ করেছে। বিচারকদের উদ্দেশে প্রশ্ন আপনারা যে রায় দিলেন, আপনাদের সন্তান যদি এভাবে গুলিবিদ্ধ হতো, আপনারা কি এই ধরনের রায় দিতে পারতেন? মনে হচ্ছে আপনারা ২৪ জুলাইয়ের অভ্যুত্থানকে ভুলে গেছেন।’
শহীদ আহনাফের মা জারতাজ পারভীন দণ্ডিত কনস্টেবল সুজনের ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণের বর্ণনা দিয়ে নিরাপত্তা শঙ্কা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, ‘আদালতে দাঁড়িয়েই খুনি সুজন তাঁর মাকে বলছিল—“মা তুমি চিন্তা করো না, আমার কিচ্ছু হবে না।” তার মানে তাঁর ভেতরে কতটা আত্মবিশ্বাস! এই খুনি জেল থেকে বেরিয়ে যে আবারও হত্যাকাণ্ড ঘটাবে না, তার নিশ্চয়তা কে দেবে? আমরা সর্বোচ্চ শাস্তি চাই।’
এদিকে, উত্তরার শহীদ ফাওমিন জাফরের মা কাজী মাকনুন শিল্পী বলেন, ‘যারা প্রকাশ্য খুনি, যাদের সবাই দেখেছে, তাদের যদি মাত্র তিন বছরের সাজা হয়, তাহলে আমরা বাবা–মায়েরা আমাদের শহীদ সন্তানদের কাছে কি জবাব দেব? আমার সন্তান যদি আমাকে জান্নাতে নেয়, সেখানে আমি তাকে কী উত্তর দেব? আর এই সরকার আমাদের কাছে কী জবাব দিতে চায়—সেটাই আমরা জানতে চাই।’
রায় পুনর্বিবেচনা বা রিভিউ প্রসঙ্গে প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম স্ট্রিমকে বলেন, ‘ট্রাইব্যুনালের রায় রিভিউ করার আইনি কোনো সুযোগ নেই। তবে আমরা এই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল বিভাগে যাব এবং আসামিদের সর্বোচ্চ শাস্তি চেয়ে আপিল করব।’
আসামী পক্ষের আইনজীবী জিয়াউর রশিদও রিভিউ বা পুনর্বিবেচনার কোনো সুযোগ নেই বলে জানিয়েছেন। তিনি আইনের সংশোধিত ২১ ধারার উদ্ধৃতি দিয়ে বলেন, ‘ওই ধারায় আপিলসংক্রান্ত বিধান স্পষ্ট করা হয়েছে। এর ফলে প্রসিকিউশন ও ডিফেন্স উভয় পক্ষই ট্রাইব্যুনালের রায়ের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে আপিল দায়ের করতে পারবেন।’
তিন কনস্টেবলের লঘু দণ্ড দেওয়ার আইনি ভিত্তি হিসেবে আদালত লঘুকারী পরিস্থিতি বা এক্সটেনিউয়েটিং সারকামস্ট্যান্সেসের উল্লেখ করেছেন। রায়ের পর্যবেক্ষণে বলা হয়, কনস্টেবল সুজন মাত্র কয়েক মাস আগে চাকরিতে যোগ দিয়েছিলেন। ৫ আগস্টের উত্তাল পরিস্থিতিতে এডিসি আখতারুল তাকে অস্ত্র ধরিয়ে গুলির নির্দেশ দেন। উর্ধ্বতনের মুখের ওপর ‘না’ বলা তাঁর পক্ষে সম্ভব ছিল না। আন্তর্জাতিক অপরাধ আইনে একে লঘুকারী পরিস্থিতি বলা হয়।
আদালত আরও উল্লেখ করেন, ‘মৃত বিক্ষোভকারীদের মধ্যে কে কার গুলিতে আঘাতপ্রাপ্ত হয়েছিল অথবা ছয়জন ভিকটিমের কাকে কার গুলি আঘাত করেছিল, তা সুনির্দিষ্টভাবে প্রমাণিত হয়নি।’ কনস্টেবল ইমাজ হোসেন ও নাসিরুল ইসলামও একই পরিস্থিতির শিকার বলে রায়ে উল্লেখ করা হয়।
চানখাঁরপুল হত্যা মামলায় গত সোমবার (২৬ জানুয়ারি) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ রায় ঘোষণা করেন। রায়ে সাবেক ডিএমপি কমিশনার হাবিবুর রহমানসহ তিন উর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে মৃত্যুদণ্ড, এসি ইমরুলকে ৬ বছরের কারাদণ্ড এবং তিন কনস্টেবলকে ৩ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
মামলার নথিপত্র অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট চানখাঁরপুলে শিক্ষার্থীদের শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে পুলিশ গুলি চালায়। এতে শাহরিয়ার খান আনাস, শেখ জুনায়েদ, মো. ইয়াকুব, মো. রাকিব হাওলাদার, মো. ইসমামুল হক ও মানিক মিয়া নিহত হন।
মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করা হয়েছিল গত বছরের ২১ এপ্রিল (৯০ পৃষ্ঠা)। অভিযোগ গঠন হয় ১৪ জুলাই। সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয় ১১ আগস্ট। ২৬ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয় ১০ ডিসেম্বর। যুক্তিতর্ক চলে ১৫ থেকে ২৪ ডিসেম্বর পর্যন্ত। মামলায় জব্দ তালিকায় ১৯টি ভিডিও, ১১টি নিউজ প্রতিবেদন, ৬টি মৃত্যুসনদ, ২টি অডিও এবং ১১টি রিপোর্ট অন্তর্ভুক্ত ছিল।

চানখাঁরপুলে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের রায়ে মাঠ পর্যায়ের পুলিশ সদস্যদের ‘লঘু দণ্ড’ দেওয়ায় গভীর উদ্বেগ ও অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন শহীদ পরিবারের সদস্যরা। তাঁরা রায় পুনর্বিবেচনা করতে ট্রাইব্যুনাল প্রশাসনকে স্মারকলিপি দিয়েছেন।
একইসঙ্গে ন্যায়বিচার নিশ্চিত না হলে চলমান সব মামলা প্রত্যাহারেরও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তাঁরা। যদিও এক প্রসিকিউটর বলেছেন, ট্রাইব্যুনালের রায় রিভিউ করার আইনি কোনো সুযোগ নেই। তবে উচ্চ আদালতে আপিল করা যাবে।
তাঁদের অভিযোগ, হত্যাকাণ্ডে সরাসরি জড়িত মূল অপরাধীদের (প্রিন্সিপাল অফেন্ডার) নামমাত্র শাস্তি দিয়ে কেবল পলাতক উর্ধ্বতনদের মৃত্যুদণ্ড দেওয়া ন্যায়বিচারের পরিপন্থী। এ রায় ভবিষ্যতে নেতিবাচক আইনি নজির স্থাপনের শঙ্কা থেকেই তা পুনর্বিবেচনার দাবিতে স্মারকলিপি দিয়েছেন তাঁরা।
আজ মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) দুপুরে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এর রেজিস্ট্রারের দপ্তরে এই স্মারকলিপি দেন তাঁরা। স্মারকলিপি দেওয়ার সময় আদালত প্রাঙ্গণে বিক্ষোভকালে শহীদ পরিবারের সদস্যরা এসব প্রতিক্রিয়া জানান।
স্মারকলিপিটি জমা দেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের লিগ্যাল সেল সম্পাদক মোতাসিম বিল্লাহ মাহফুজ এবং শহীদ পরিবারের সদস্যরা। স্মারকলিপিতে বলা হয়, সুস্পষ্ট ভিডিও ফুটেজ থাকার পরও মূল অপরাধীদের নামমাত্র শাস্তি দিয়ে কেবল উর্ধ্বতন বা ‘সুপিরিয়র’ কর্মকর্তাদের মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। প্রিন্সিপাল অফেন্ডারদের লঘু দণ্ড দেওয়ায় ভবিষ্যতে উচ্চ আদালতে এ রায় বহাল থাকবে কি না, তা নিয়ে যথেষ্ট আইনি সংশয় রয়েছে। এই রায় জুলাই আন্দোলনের চেতনার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় এবং এতে ১৪০০ শহীদ পরিবারের সদস্যরা মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়েছেন।
মোতাসিম বিল্লাহ মাহফুজ সাংবাদিকদের বলেন, ‘রায়ের পুরো অংশে আমরা সন্তুষ্ট হতে পারিনি। তবে যেখানে কমান্ড রেসপনসিবিলিটি বিদ্যমান ছিল, সেখানে সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ দণ্ডাদেশ দেওয়ায় আমরা আংশিক সন্তুষ্টি প্রকাশ করছি।’
তিনি বলেন, ‘প্রিন্সিপাল অফেন্ডাররা মাঠপর্যায়ে থেকে নির্দেশ বাস্তবায়ন বা এক্সিকিউট করেছেন। অথচ তাদের ক্ষেত্রে ন্যূনতম কোনো অর্থবহ শাস্তি দেওয়া হয়নি। বরং কলা চুরি বা বদনা চুরির জন্য যে ধরনের সাজা হয়, তার সমপর্যায়ের নামমাত্র শাস্তি দেওয়া হয়েছে। আমরা মনে করি, এতে ন্যায়বিচার গুরুতরভাবে বিঘ্নিত হয়েছে।’
রায়কে ‘নাটকীয়’ আখ্যা দিয়ে শহীদ রমিজ উদ্দিন আহমেদের বাবা রকিবুল আহমেদ বলেন, ‘কিছুদিন আগে গণমাধ্যমে দেখলাম, একটি কুকুরের বাচ্চাকে হত্যা করার দায়ে একজন সরকারি কর্মকর্তার স্ত্রীকে জেল দেওয়া হয়েছে। তাহলে কুকুরের বাচ্চাকে হত্যার জন্য যদি জেল হতে পারে, তাহলে একজন মানুষের সন্তানকে হত্যার শাস্তি কি মাত্র তিন বছর? তাহলে কি আমরা কুকুরের থেকেও অধম?’
আদালত প্রাঙ্গণে ক্ষোভ প্রকাশ করে শহীদ শাহরিয়ার হাসান আলভী’র বাবা আবুল হাসান বলেন, ‘ভিডিওতে স্পষ্ট দেখা গেছে, পুলিশ সদস্য সুজন গুলি করার পর উল্লাস প্রকাশ করেছে। বিচারকদের উদ্দেশে প্রশ্ন আপনারা যে রায় দিলেন, আপনাদের সন্তান যদি এভাবে গুলিবিদ্ধ হতো, আপনারা কি এই ধরনের রায় দিতে পারতেন? মনে হচ্ছে আপনারা ২৪ জুলাইয়ের অভ্যুত্থানকে ভুলে গেছেন।’
শহীদ আহনাফের মা জারতাজ পারভীন দণ্ডিত কনস্টেবল সুজনের ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণের বর্ণনা দিয়ে নিরাপত্তা শঙ্কা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, ‘আদালতে দাঁড়িয়েই খুনি সুজন তাঁর মাকে বলছিল—“মা তুমি চিন্তা করো না, আমার কিচ্ছু হবে না।” তার মানে তাঁর ভেতরে কতটা আত্মবিশ্বাস! এই খুনি জেল থেকে বেরিয়ে যে আবারও হত্যাকাণ্ড ঘটাবে না, তার নিশ্চয়তা কে দেবে? আমরা সর্বোচ্চ শাস্তি চাই।’
এদিকে, উত্তরার শহীদ ফাওমিন জাফরের মা কাজী মাকনুন শিল্পী বলেন, ‘যারা প্রকাশ্য খুনি, যাদের সবাই দেখেছে, তাদের যদি মাত্র তিন বছরের সাজা হয়, তাহলে আমরা বাবা–মায়েরা আমাদের শহীদ সন্তানদের কাছে কি জবাব দেব? আমার সন্তান যদি আমাকে জান্নাতে নেয়, সেখানে আমি তাকে কী উত্তর দেব? আর এই সরকার আমাদের কাছে কী জবাব দিতে চায়—সেটাই আমরা জানতে চাই।’
রায় পুনর্বিবেচনা বা রিভিউ প্রসঙ্গে প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম স্ট্রিমকে বলেন, ‘ট্রাইব্যুনালের রায় রিভিউ করার আইনি কোনো সুযোগ নেই। তবে আমরা এই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল বিভাগে যাব এবং আসামিদের সর্বোচ্চ শাস্তি চেয়ে আপিল করব।’
আসামী পক্ষের আইনজীবী জিয়াউর রশিদও রিভিউ বা পুনর্বিবেচনার কোনো সুযোগ নেই বলে জানিয়েছেন। তিনি আইনের সংশোধিত ২১ ধারার উদ্ধৃতি দিয়ে বলেন, ‘ওই ধারায় আপিলসংক্রান্ত বিধান স্পষ্ট করা হয়েছে। এর ফলে প্রসিকিউশন ও ডিফেন্স উভয় পক্ষই ট্রাইব্যুনালের রায়ের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে আপিল দায়ের করতে পারবেন।’
তিন কনস্টেবলের লঘু দণ্ড দেওয়ার আইনি ভিত্তি হিসেবে আদালত লঘুকারী পরিস্থিতি বা এক্সটেনিউয়েটিং সারকামস্ট্যান্সেসের উল্লেখ করেছেন। রায়ের পর্যবেক্ষণে বলা হয়, কনস্টেবল সুজন মাত্র কয়েক মাস আগে চাকরিতে যোগ দিয়েছিলেন। ৫ আগস্টের উত্তাল পরিস্থিতিতে এডিসি আখতারুল তাকে অস্ত্র ধরিয়ে গুলির নির্দেশ দেন। উর্ধ্বতনের মুখের ওপর ‘না’ বলা তাঁর পক্ষে সম্ভব ছিল না। আন্তর্জাতিক অপরাধ আইনে একে লঘুকারী পরিস্থিতি বলা হয়।
আদালত আরও উল্লেখ করেন, ‘মৃত বিক্ষোভকারীদের মধ্যে কে কার গুলিতে আঘাতপ্রাপ্ত হয়েছিল অথবা ছয়জন ভিকটিমের কাকে কার গুলি আঘাত করেছিল, তা সুনির্দিষ্টভাবে প্রমাণিত হয়নি।’ কনস্টেবল ইমাজ হোসেন ও নাসিরুল ইসলামও একই পরিস্থিতির শিকার বলে রায়ে উল্লেখ করা হয়।
চানখাঁরপুল হত্যা মামলায় গত সোমবার (২৬ জানুয়ারি) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ রায় ঘোষণা করেন। রায়ে সাবেক ডিএমপি কমিশনার হাবিবুর রহমানসহ তিন উর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে মৃত্যুদণ্ড, এসি ইমরুলকে ৬ বছরের কারাদণ্ড এবং তিন কনস্টেবলকে ৩ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
মামলার নথিপত্র অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট চানখাঁরপুলে শিক্ষার্থীদের শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে পুলিশ গুলি চালায়। এতে শাহরিয়ার খান আনাস, শেখ জুনায়েদ, মো. ইয়াকুব, মো. রাকিব হাওলাদার, মো. ইসমামুল হক ও মানিক মিয়া নিহত হন।
মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করা হয়েছিল গত বছরের ২১ এপ্রিল (৯০ পৃষ্ঠা)। অভিযোগ গঠন হয় ১৪ জুলাই। সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয় ১১ আগস্ট। ২৬ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয় ১০ ডিসেম্বর। যুক্তিতর্ক চলে ১৫ থেকে ২৪ ডিসেম্বর পর্যন্ত। মামলায় জব্দ তালিকায় ১৯টি ভিডিও, ১১টি নিউজ প্রতিবেদন, ৬টি মৃত্যুসনদ, ২টি অডিও এবং ১১টি রিপোর্ট অন্তর্ভুক্ত ছিল।

নরসিংদীতে পিকনিক থেকে ফেরার পথে সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনায় মামলা হয়েছে। মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) আহত সাংবাদিক ফয়েজ আহমেদ নরসিংদীর মাধবদী থানায় এ মামলা করেন।
৩ ঘণ্টা আগে
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের ফলাফল ডাক মাশুল ছাড়াই ইসি সচিবের কাছে পাঠাতে পারবেন প্রিসাইডিং কর্মকর্তা। মঙ্গলবার নির্বাচন কমিশন (ইসি) এ বিষয়ে ডাক অধিদপ্তরের মহাপরিচালক বরাবর চিঠি পাঠিয়েছে।
৪ ঘণ্টা আগে
আসন্ন ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে প্রচারের ধরনে বড় পরিবর্তন এনেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। দেয়ালে কাগজের পোস্টার সাঁটায় দিয়েছে নিষেধাজ্ঞা। তাতে দমে যাননি প্রার্থীরা। বিকল্প বেছে নিয়েছেন।
৪ ঘণ্টা আগে
বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোকে গণভোটে ‘হ্যাঁ’-এর পক্ষে প্রচারণা চালাতে নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।
৪ ঘণ্টা আগে