leadT1ad

নির্বাচনী পোস্টারে সয়লাব ফেসবুকের ‘দেয়াল’

প্রকাশ : ২৭ জানুয়ারি ২০২৬, ২১: ৩৫
নির্বাচনী পোস্টারে সয়লাব ফেসবুকের ‘দেয়াল’। স্ট্রিম গ্রাফিক

আসন্ন ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে প্রচারের ধরনে বড় পরিবর্তন এনেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। দেয়ালে কাগজের পোস্টার সাঁটায় দিয়েছে নিষেধাজ্ঞা। তাতে দমে যাননি প্রার্থীরা। বিকল্প বেছে নিয়েছেন। সামাজিক মাধ্যমের ‘দেয়াল’ ভরে গেছে রাজনৈতিক দল ও স্বতন্ত্র প্রার্থীর নির্বাচনী পোস্টারে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এটি আধুনিক নির্বাচনী প্রচারের একটি কার্যকর ও পরিবেশবান্ধব পদ্ধতি। তবে একইসঙ্গে ভুল তথ্যের বিস্তার, প্রযুক্তিগত অপব্যবহার, রাজনৈতিক মেরূকরণ ও ডেটা গোপনীয়তা লঙ্ঘনের ঝুঁকির রয়েছে।

নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, কোনো প্রার্থী বা রাজনৈতিক দল কাগজের পোস্টার, ব্যানার কিংবা দেয়াল লিখনের মাধ্যমে প্রচার চালাতে পারবে না। এর পরিবর্তে নির্ধারিত আকারের ডিজিটাল প্রচারসামগ্রী, সামাজিক মাধ্যম, সভা-সমাবেশ এবং অনুমোদিত ইলেকট্রনিক মাধ্যমে নির্বাচনের প্রচার চালাতে পারবেন।

এই সুবিধা কাজে লাগিয়ে বিএনপি ও তাদের জোটের শরিক এবং জামায়াতে ইসলামী ও তাদের নির্বাচনী ঐক্যে জড়িত দলের প্রার্থীরা ডিজিটাল প্রচার চালাচ্ছেন। ফেসবুক পেজ, লাইভ ভিডিও, গ্রাফিক পোস্ট, শর্ট ভিডিও এবং অনলাইন বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে তারা ভোটারের কাছে পৌঁছানোর চেষ্টা করছেন। বিশেষ করে শহরাঞ্চলের তরুণ ভোটার ধরতে ডিজিটাল ক্যাম্পেইন করছেন প্রার্থীরা।

এভাবে প্রার্থীরা শুধু নিজ নির্বাচনী এলাকার ভোটার নয়, বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে থাকা সমর্থকদের কাছ থেকেও প্রচারের সুবিধা নিতে পারছেন। আবার অনেকে এসব পোস্টারে এনেছেন নতুনত্ব। ফলে তুলনামূলক কম খরচে স্মার্ট প্রচার চালাতে পারছেন প্রার্থীরা।

২০০৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ডিজিটাল প্রচার তেমন চোখে পড়েনি। তবে ২০১৪ সালের একতরফা নির্বাচনের পর থেকে ফেসবুকে ভোটের প্রচার বেড়েছে। ২০১৮ ও ২০২৪ সালের বিতর্কিত নির্বাচনেও ভোটারকে প্রভাবিত করতে সামাজিক মাধ্যমকে কাজে লাগিয়েছেন প্রার্থীরা। ইন্টারনেটের সহজলভ্যতা, হাতে হাতে স্মার্টফোন থাকায় ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম ও টিকটকের মতো প্ল্যাটফর্ম নির্বাচনী প্রচারের গুরুত্বপূর্ণ হাতিয়ার হয়ে ওঠে প্রার্থীদের।

নোয়াখালীর একটি আসনের বিএনপি দলীয় প্রার্থী তাঁর ফেসবুক ওয়ালে দলীয় প্রধান তারেক রহমানের পোস্টার শেয়ার করেছেন। পাশাপাশি নিজের নির্বাচনী পোস্টারও দিয়েছেন।

এ ব্যাপারে ঢাকা-১২ আসনের এক প্রার্থী বলেন, ‘আমরা ফেসবুকে নানা ধরনের কনটেন্ট দিচ্ছি। এর মধ্যে সরাসরি প্রচার, আমার প্রতিশ্রুতির ফটোকার্ড, আবার কিছু কনটেন্টে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর সমালোচনাও দেওয়া হয়েছে। দেয়ালের মতোই উত্তেজনা। আমার ডিজিটাল পোস্টার খুব দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে, ব্যাপক সাড়াও পাচ্ছি।’

ঢাকা-১৩ আসনের এক প্রার্থী বলেন, আসনে আমার প্রচুর শুভানুধ্যায়ী আছেন। সরাসরি তাদের পর্যন্ত পৌঁছাতে পারছি না। কিন্তু ডিজিটাল পোস্টার ঠিকই পৌঁছে যাচ্ছে। ভোটারদের কাছে নিজেকে উপস্থাপন করা অনেক সহজ হয়ে গেছে। ডিজিটাল পোস্টারের আরেক সুবিধা হলো– অল্প কিছু পরিবর্তন এনে অনেক মেসেজ সহজেই দেওয়া যাচ্ছে।’

ইসির কর্মকর্তারা বলছেন, অতীতে পোস্টার সাঁটানোকে কেন্দ্র করে পরিবেশ দূষণ ও বিপুল অর্থ খরচের অভিযোগ ছিল। অনেক ক্ষেত্রে এক প্রার্থীর ওপর আরেক প্রার্থীর পোস্টার ঘিরে সহিংসতাও ঘটেছে। এসব বিষয় বিবেচনায় এবার পোস্টারে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে।

নির্বাচন কমিশনের সাবেক অতিরিক্ত সচিব জেসমিন টুলী বলেন, ডিজিটাল পোস্টার অবশ্যই ইতিবাচক উদ্যোগ। সামাজিক মাধ্যমের সক্রিয়তায় বোঝা যাচ্ছে–পোস্টার নিষিদ্ধের সিদ্ধান্ত প্রার্থীরা ভালোভাবে নিয়েছেন। পরিবেশের ক্ষতি না করে সমর্থকদের কাছে পৌঁছানোর মাধ্যমকে কার্যকরভাবে ব্যবহার করছেন তারা।

Ad 300x250

সম্পর্কিত