leadT1ad

যশোর সফটওয়্যার পার্কের হোটেল বন্ধে বেকার ৬৪ কর্মী

স্ট্রিম সংবাদদাতা
স্ট্রিম সংবাদদাতা
যশোর

প্রকাশ : ২৮ জানুয়ারি ২০২৬, ০০: ০৮
যশোর সফটওয়্যার টেকনোলজি পার্কের ‘হোটেল অ্যান্ড রিসোর্ট’ বন্ধের সিদ্ধান্ত নিয়েছে কর্তৃপক্ষ। ছবি: সংগৃহীত

যশোর সফটওয়্যার টেকনোলজি পার্কের আলোচিত ‘হোটেল অ্যান্ড রিসোর্ট’– এর কার্যক্রম বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। বাংলাদেশ হাই-টেক পার্ক কর্তৃপক্ষের নির্দেশে মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) থেকে প্রতিষ্ঠানটির সব বাণিজ্যিক কার্যক্রম বন্ধ করে দেয় কর্তৃপক্ষ। এই সিদ্ধান্তের ফলে প্রতিষ্ঠানটিতে কর্মরত ৬৪ কর্মী তাদের কর্মসংস্থান হারাচ্ছেন।

যশোর আইসিটি পার্কের অভ্যন্তরে ডরমিটরি ভবনকে বাণিজ্যিক হোটেলে রূপান্তর করার বিষয়টি নিয়ে শুরু থেকে আইটি উদ্যোক্তাদের মধ্যে ক্ষোভ ছিল। পার্কের পরিবেশ রক্ষা এবং আইটি খাতের বিকাশে গুরুত্ব দিতেই হাই-টেক পার্ক অথরিটি এই নির্দেশ জারি করেছে বলে সূত্রের দাবি।

২০১৭ সালের ১০ ডিসেম্বর প্রায় ৩০৫ কোটি টাকা ব্যয়ের এই আইটি পার্ক উদ্বোধন করেন ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। পার্কের মূল উদ্দেশ্য ছিল– দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে তথ্যপ্রযুক্তি শিল্পের বিকাশ ও কর্মসংস্থান সৃষ্টি। সরকার পার্কটি পরিচালনার দায়িত্ব দিয়েছিল ‘টেকসিটি বাংলাদেশ লিমিটেড’ নামের বেসরকারি প্রতিষ্ঠানকে।

পরে ব্যবসায়িক লোকসান ঠেকানোর অজুহাতে ২০২৩ সালের ২৬ জানুয়ারি টেকসিটি তাদের ডরমিটরি ভবনটি ১০ বছরের জন্য সাব-লিজ দেয় যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক ‘খান প্রপার্টিজ গ্রুপকে’। এরপরই সেখানে ‘যশোর আইটি পার্ক হোটেল অ্যান্ড রিসোর্ট’ নামে তিন তারকা মানের বাণিজ্যিক হোটেল শুরু হয়।

নতুন করে বরাদ্দ দেওয়ার উদ্দেশ্যে হাই-টেক পার্ক কর্তৃপক্ষ এই সাব-লিজ বাতিল ও কার্যক্রম বন্ধের পদক্ষেপ নেয়। হঠাৎ কার্যক্রম বন্ধের ঘোষণায় বিপাকে পড়েছেন কর্মরত ৬৪ কর্মী। আইসিটি পার্ক ইনভেস্টার অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক প্রকৌশলী মো. শাহজালাল জানান, খান প্রোপার্টিজের চুক্তি ছিল টেকসিটি বাংলাদেশ লিমিটেডের সঙ্গে। জুলাই অভ্যুত্থানের পর সরকারের সঙ্গে টেকসিটি লিমিটেডের চুক্তি বাতিল করা হয়। ফলে খান প্রপার্টিজের চুক্তিও অঘোষিতভাবে বাতিল হয়। পরে হাইটেক পার্ক অথরিটি খান প্রোপার্টিজকে সাময়িক সময়ের জন্য অপারেশন অব্যাহত রাখার নির্দেশ দেয়। ওই সময় শেষ হয়ে যাওয়ায় হোটেল অ্যান্ড রিসোর্টটি বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে বলে জেনেছি।

খান প্রপার্টিজের জনসংযোগ কর্মকর্তা শামসুজ্জামান স্বজন বলেন, আমরা নিয়ম মেনেই প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করছিলাম। এখানে আমাদের অনেক টাকা লগ্নি হয়েছে। আমরা একটি সংকট মুহূর্ত পার করছি। এই সিদ্ধান্তে আমিসহ ৬৪ কর্মী বেকার হয়ে পড়লাম। কর্মীদের মানবিক দিক বিবেচনায় নিয়ে হাইটেক পার্ক অথরিটি তাদের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করবে বলে আশা করেন তিনি।

হাই-টেক পার্ক কর্তৃপক্ষের যশোরের দায়িত্ব প্রাপ্ত উপসহকারী পরিচালক নজরুল ইসলাম বলেন, যশোর আইসিটি পার্কের এমটিভি ভবনটি হাইটেক পার্ক অথরিটি নিজেরাই পরিচালনা করবে। হোটেল ও ক্যান্টিনের জন্য নতুন দরপত্র আহবান করা হচ্ছে। এজন্য খান প্রপার্টিজের অপারেশন বন্ধ করতে বলা হয়েছে।

তিনি বলেন, আইটি পার্কের কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করতে এবং প্রকৃত আইটি উদ্যোক্তাদের জন্য সুন্দর পরিবেশ নিশ্চিত করতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

Ad 300x250

সম্পর্কিত