নিহার সরকার অংকুর

‘ময়মনসিংহ বিভাগে স্থায়িত্বশীল মৎসচাষ সম্প্রসারণ’ নামে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় এক প্রকল্প প্রস্তাব করেছে। মৎস্য অধিদপ্তর এই প্রকল্প বাস্তবায়ন করবে। প্রায় ৪৭ কোটি টাকার প্রস্তাবিত প্রকল্পের একটি বড় অংশের ব্যয় হবে ভ্রমণ, প্রদর্শনী, গাড়ি ভাড়া, ভবন নির্মাণে। প্রকল্প প্রস্তাবনার কয়েকটি অসঙ্গতি চিহ্নিত করেছে পরিকল্পনা কমিশন।
ময়মনসিংহ বিভাগের ৪টি জেলায় প্রকল্পটি ২০২৫ সালের জুলাই হতে ২০২৯ সালের জুন মাসের মধ্য সময়কে বাস্তবায়নকাল হিসেবে নির্ধারণ করা হয়েছে। যার মোট প্রাক্কলিত ব্যয় নির্ধারণ করা হয়েছে ৪৬ দশমিক ৮২২৭ কোটি টাকা।
মাছের চাষ সম্প্রসারণ লক্ষ্য হলেও প্রকল্পের অধিকাংশ প্রস্তাবিত ব্যয় ধরা হয়েছে ভবন নির্মাণ, ৪ বছরের প্রকল্পে ‘দুই মাসের’ গাড়ি ভাড়া, মোটরসাইকেল ক্রয়, অফিস ভাড়া, ভ্রমণ, অভিজ্ঞতা বিনিময় সফর, আপ্যায়ন, প্রদর্শনী, বিজ্ঞাপন আর বিভিন্ন ভাতার খাতে। যার প্রস্তাবিত অর্থের পরিমাণ ১৭ কোটি ৮১ লাখ ৪৩ হাজার টাকা।
এ ছাড়া আসবাবপত্র, এসি ক্রয়, স্টেশনারি সামগ্রী ক্রয় ও তা রক্ষণাবেক্ষণ এবং ব্যবস্থাপনায় রয়েছে ২ কোটি ২৩ লাখ ৪০ হাজার টাকার। পাশাপাশি কেবল উদ্যোক্তা তৈরির জন্য ব্যয় নির্ধারণ করা হয়েছে ১ কোটি ৭৫ লাখ টাকা।
এদিকে, ময়মনসিংহে চার হাজার বর্গফুটের একতলা ভবন নির্মাণের জন্য ব্যয় প্রস্তাবনা দেওয়া হয়েছে ৩ কোটি ২ লাখ টাকা। যা অতিরিক্ত হিসেবে বিবেচনায় নিয়েছে পরিকল্পনা কমিশন।
প্রকল্পে মাত্র দুজন কর্মকর্তা ও একজন কর্মচারী থাকার কথা রয়েছে। কিন্তু ৩৫টি মোটরসাইকেল ক্রয়ের জন্যে ১ কোটি ৫ লাখ টাকার প্রস্তাবনা দেওয়া হয়েছে। কারা ব্যবহার করবেন, ব্যয় কারা নির্বাহ করবে, এমন কোনো স্পেসিফিকেশন নেই।
কেবল ২৮টি সভা ও সেমিনার আয়োজন বাবদ প্রায় কোটি টাকা ব্যয়ের পরিকল্পনা করেছে অধিদপ্তর।
প্রকল্পটিতে ল্যাব স্থাপন ও যন্ত্রপাতি সরবরাহের জন্য ১০ কোটি ৫৩ লাখ ৪৮হাজার টাকা প্রস্তাব করেছে অধিদপ্তর—যাকে অতিরিক্ত হিসেবে চিহ্নিতও করেছে পরিকল্পনা কমিশন। কেবল তা-ই নয়, ৪ হাজার বর্গফুটের একটি ভবন নির্মাণের জন্য ৩ কোটি ২ লাখ টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব দিয়েছে মৎস্য অধিদপ্তর । যা অতিরিক্ত হিসেবে আলোচনায় এনেছে কমিশন।
এ ছাড়া যন্ত্রপাতি থেকে সব ধরনের ক্রয়ে কোনো ধরনের স্পেসিফিকেশনের উল্লেখ নেই, যা নিয়ম বহির্ভুত। প্রকল্পে ব্যানার, ফেস্টুনসহ বিজ্ঞাপন সংশ্লিষ্ট খাতেও প্রায় কোটি টাকার প্রস্তাবনা রয়েছে।
ছোট প্রকল্পে এমন ভুতুড়ে অর্থ বরাদ্দের প্রস্তাবনায় বাধা হয়েছে পরিকল্পনা কমিশনের মূল্যায়ন। যার কারণে আটকে আছে প্রকল্পটি। বাংলাদেশ পরিকল্পনা কমিশনের প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটির বৈঠক শেষে বেশ কয়েকটি বিষয়ে আপত্তি উঠে সভায়। যেগুলো নিয়ে সংশোধন করে প্রকল্পটি পুনরায় উপস্থাপন করার পরিকল্পনাও নিয়েছে অধিদপ্তর।
এ ছাড়া প্রস্তাবিত ডিপিপির ক্রয় পরিকল্পনায় ক্রয় পদ্ধতি পিপিআর ২০২৫ মেনে করা হয়নি।
আপত্তি ওঠা বিষয়গুলোর মধ্যে রয়েছে চার বছরের প্রকল্পে ‘দুই মাসের’ জন্য জন্য ১টি জিপ ও পিকআপ ভাড়ার বিষয়টি। যার ব্যয় নির্ধারণ করা হয়েছে প্রায় ১ কোটি ৮৩ লাখ টাকা। যেখানে প্রস্তাবনায় বিস্তারিত বিবরণী পরিশিষ্ট আকারে নেই। এ ছাড়া তাতে নেই ক্রয়-সংক্রান্ত কোনো পরিকল্পনা। ভাড়ায় সুবিধা নিলেও তাতে যুক্ত করা হয়েছে মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণের ব্যয়। যাকে যুক্তিসঙ্গত মনে করছে না কমিশন।
মাত্র দুই মাসের গাড়ি ভাড়া বাবদ ১ কোটি ৮২ লাখ ৪০ হাজার টাকার ব্যয় পরিকল্পনা নিয়ে প্রশ্ন করলে মৎস্য অধিদপ্তরের মৎস্য পরিকল্পনা বিভাগের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মো. সাহেদ আলী স্ট্রিমকে বলেন, ‘এটা মিসটেক। আর এগুলো হতেই পারে। এই নিয়ে উত্তর দিতে চাই না।’
এ ছাড়া ব্যয় পরিকল্পনার ভ্রমন, বিজ্ঞাপন, ল্যাব স্থাপন নিয়ে প্রশ্ন করলে মন্তব্য করতে পারবেন না বলে ফোনও কেটে দেন এই কর্মকর্তা।
কমিশন যুক্তিসঙ্গত মনে না করলেও প্রকল্পের পরিকল্পনা ঠিকভাবেই করা হয়েছে বলে জানান মৎস্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (অতিরিক্ত দায়িত্ব) মো. জিয়া হায়দার চৌধুরী।
এই খাতে ব্যয় পরিকল্পনা নিয়ে প্রশ্ন করলে মো. জিয়া হায়দার চৌধুরী বলেন, ‘এই নিয়ে এখন কথা বলতে পারব না। আমরা ভুলগুলো সংশোধন করে পূর্ণাঙ্গ করব। আগের সিস্টেমে প্রকল্প সাজানো হয়েছিল। তবে সবকিছুই বাস্তবসম্মত।’
এগুলো অসঙ্গতি কিনা প্রশ্নে অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. জিয়া হায়দার চৌধুরী বলেন, ‘কিছু ক্ষেত্রে অসঙ্গতি নয়, কিছু ভুল থাকতে পারে। তবে অর্থনৈতিক ব্যয়ের নির্ধারণ বিষয়ে আমি জানি না। ব্যস্ত ছিলাম।’

‘ময়মনসিংহ বিভাগে স্থায়িত্বশীল মৎসচাষ সম্প্রসারণ’ নামে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় এক প্রকল্প প্রস্তাব করেছে। মৎস্য অধিদপ্তর এই প্রকল্প বাস্তবায়ন করবে। প্রায় ৪৭ কোটি টাকার প্রস্তাবিত প্রকল্পের একটি বড় অংশের ব্যয় হবে ভ্রমণ, প্রদর্শনী, গাড়ি ভাড়া, ভবন নির্মাণে। প্রকল্প প্রস্তাবনার কয়েকটি অসঙ্গতি চিহ্নিত করেছে পরিকল্পনা কমিশন।
ময়মনসিংহ বিভাগের ৪টি জেলায় প্রকল্পটি ২০২৫ সালের জুলাই হতে ২০২৯ সালের জুন মাসের মধ্য সময়কে বাস্তবায়নকাল হিসেবে নির্ধারণ করা হয়েছে। যার মোট প্রাক্কলিত ব্যয় নির্ধারণ করা হয়েছে ৪৬ দশমিক ৮২২৭ কোটি টাকা।
মাছের চাষ সম্প্রসারণ লক্ষ্য হলেও প্রকল্পের অধিকাংশ প্রস্তাবিত ব্যয় ধরা হয়েছে ভবন নির্মাণ, ৪ বছরের প্রকল্পে ‘দুই মাসের’ গাড়ি ভাড়া, মোটরসাইকেল ক্রয়, অফিস ভাড়া, ভ্রমণ, অভিজ্ঞতা বিনিময় সফর, আপ্যায়ন, প্রদর্শনী, বিজ্ঞাপন আর বিভিন্ন ভাতার খাতে। যার প্রস্তাবিত অর্থের পরিমাণ ১৭ কোটি ৮১ লাখ ৪৩ হাজার টাকা।
এ ছাড়া আসবাবপত্র, এসি ক্রয়, স্টেশনারি সামগ্রী ক্রয় ও তা রক্ষণাবেক্ষণ এবং ব্যবস্থাপনায় রয়েছে ২ কোটি ২৩ লাখ ৪০ হাজার টাকার। পাশাপাশি কেবল উদ্যোক্তা তৈরির জন্য ব্যয় নির্ধারণ করা হয়েছে ১ কোটি ৭৫ লাখ টাকা।
এদিকে, ময়মনসিংহে চার হাজার বর্গফুটের একতলা ভবন নির্মাণের জন্য ব্যয় প্রস্তাবনা দেওয়া হয়েছে ৩ কোটি ২ লাখ টাকা। যা অতিরিক্ত হিসেবে বিবেচনায় নিয়েছে পরিকল্পনা কমিশন।
প্রকল্পে মাত্র দুজন কর্মকর্তা ও একজন কর্মচারী থাকার কথা রয়েছে। কিন্তু ৩৫টি মোটরসাইকেল ক্রয়ের জন্যে ১ কোটি ৫ লাখ টাকার প্রস্তাবনা দেওয়া হয়েছে। কারা ব্যবহার করবেন, ব্যয় কারা নির্বাহ করবে, এমন কোনো স্পেসিফিকেশন নেই।
কেবল ২৮টি সভা ও সেমিনার আয়োজন বাবদ প্রায় কোটি টাকা ব্যয়ের পরিকল্পনা করেছে অধিদপ্তর।
প্রকল্পটিতে ল্যাব স্থাপন ও যন্ত্রপাতি সরবরাহের জন্য ১০ কোটি ৫৩ লাখ ৪৮হাজার টাকা প্রস্তাব করেছে অধিদপ্তর—যাকে অতিরিক্ত হিসেবে চিহ্নিতও করেছে পরিকল্পনা কমিশন। কেবল তা-ই নয়, ৪ হাজার বর্গফুটের একটি ভবন নির্মাণের জন্য ৩ কোটি ২ লাখ টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব দিয়েছে মৎস্য অধিদপ্তর । যা অতিরিক্ত হিসেবে আলোচনায় এনেছে কমিশন।
এ ছাড়া যন্ত্রপাতি থেকে সব ধরনের ক্রয়ে কোনো ধরনের স্পেসিফিকেশনের উল্লেখ নেই, যা নিয়ম বহির্ভুত। প্রকল্পে ব্যানার, ফেস্টুনসহ বিজ্ঞাপন সংশ্লিষ্ট খাতেও প্রায় কোটি টাকার প্রস্তাবনা রয়েছে।
ছোট প্রকল্পে এমন ভুতুড়ে অর্থ বরাদ্দের প্রস্তাবনায় বাধা হয়েছে পরিকল্পনা কমিশনের মূল্যায়ন। যার কারণে আটকে আছে প্রকল্পটি। বাংলাদেশ পরিকল্পনা কমিশনের প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটির বৈঠক শেষে বেশ কয়েকটি বিষয়ে আপত্তি উঠে সভায়। যেগুলো নিয়ে সংশোধন করে প্রকল্পটি পুনরায় উপস্থাপন করার পরিকল্পনাও নিয়েছে অধিদপ্তর।
এ ছাড়া প্রস্তাবিত ডিপিপির ক্রয় পরিকল্পনায় ক্রয় পদ্ধতি পিপিআর ২০২৫ মেনে করা হয়নি।
আপত্তি ওঠা বিষয়গুলোর মধ্যে রয়েছে চার বছরের প্রকল্পে ‘দুই মাসের’ জন্য জন্য ১টি জিপ ও পিকআপ ভাড়ার বিষয়টি। যার ব্যয় নির্ধারণ করা হয়েছে প্রায় ১ কোটি ৮৩ লাখ টাকা। যেখানে প্রস্তাবনায় বিস্তারিত বিবরণী পরিশিষ্ট আকারে নেই। এ ছাড়া তাতে নেই ক্রয়-সংক্রান্ত কোনো পরিকল্পনা। ভাড়ায় সুবিধা নিলেও তাতে যুক্ত করা হয়েছে মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণের ব্যয়। যাকে যুক্তিসঙ্গত মনে করছে না কমিশন।
মাত্র দুই মাসের গাড়ি ভাড়া বাবদ ১ কোটি ৮২ লাখ ৪০ হাজার টাকার ব্যয় পরিকল্পনা নিয়ে প্রশ্ন করলে মৎস্য অধিদপ্তরের মৎস্য পরিকল্পনা বিভাগের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মো. সাহেদ আলী স্ট্রিমকে বলেন, ‘এটা মিসটেক। আর এগুলো হতেই পারে। এই নিয়ে উত্তর দিতে চাই না।’
এ ছাড়া ব্যয় পরিকল্পনার ভ্রমন, বিজ্ঞাপন, ল্যাব স্থাপন নিয়ে প্রশ্ন করলে মন্তব্য করতে পারবেন না বলে ফোনও কেটে দেন এই কর্মকর্তা।
কমিশন যুক্তিসঙ্গত মনে না করলেও প্রকল্পের পরিকল্পনা ঠিকভাবেই করা হয়েছে বলে জানান মৎস্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (অতিরিক্ত দায়িত্ব) মো. জিয়া হায়দার চৌধুরী।
এই খাতে ব্যয় পরিকল্পনা নিয়ে প্রশ্ন করলে মো. জিয়া হায়দার চৌধুরী বলেন, ‘এই নিয়ে এখন কথা বলতে পারব না। আমরা ভুলগুলো সংশোধন করে পূর্ণাঙ্গ করব। আগের সিস্টেমে প্রকল্প সাজানো হয়েছিল। তবে সবকিছুই বাস্তবসম্মত।’
এগুলো অসঙ্গতি কিনা প্রশ্নে অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. জিয়া হায়দার চৌধুরী বলেন, ‘কিছু ক্ষেত্রে অসঙ্গতি নয়, কিছু ভুল থাকতে পারে। তবে অর্থনৈতিক ব্যয়ের নির্ধারণ বিষয়ে আমি জানি না। ব্যস্ত ছিলাম।’

ছোট ভাই আরাফাত রহমান কোকোর মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে রাজধানীর বনানী কবরস্থানে তাঁর কবর জিয়ারত করেছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। শনিবার (২৪ জানুয়ারি) বিকেলে কবর জিয়ারতের সময় তাঁর সঙ্গে স্ত্রী ডা. জোবাইদা রহমানসহ পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
১ ঘণ্টা আগে
আসন্ন নির্বাচনকে সামনে রেখে বিএনপি চেয়ারপারসন তারেক রহমানের শিক্ষাগত যোগ্যতা নিয়ে একটি বিতর্কিত স্লোগান ও প্ল্যাকার্ড সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনার জন্ম দিয়েছে।
১ ঘণ্টা আগে
রাজধানীর খিলগাঁও পুলিশ ফাঁড়ির সামনে বাসের ধাক্কায় জাকির হোসেন চৌধুরী (৬০) নামের এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। শনিবার (২৪ জানুয়ারি) বেলা ৩টার দিকে গুরুতর অবস্থায় তাঁকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
২ ঘণ্টা আগেসবশেষ পাঁচটি জাতীয় নির্বাচনের তুলনায় আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঋণগ্রস্ত প্রার্থীর সংখ্যা কমেছে। তবে টাকার অংকে মোট ঋণের পরিমাণ অতীতের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে। এবারের নির্বাচনে প্রার্থীদের মোট ঋণের পরিমাণ ১৮ হাজার ৮৬৮ কোটি টাকা।
২ ঘণ্টা আগে