ঢাকায় আজও বৃষ্টি, ৪ নদীর পানি বিপৎসীমার ওপরে

স্ট্রিম ডেস্ক
স্ট্রিম ডেস্ক

প্রকাশ : ১৩ জুলাই ২০২৬, ১১: ১৫
বৃষ্টি। ছবি: সংগৃহীত

আজ সোমবারও বৃষ্টিতে ভিজছে রাজধানী ঢাকা। সকাল থেকেই মেঘলা আকাশ আর থেমে থেমে বৃষ্টি হচ্ছে রাজধানীজুড়ে। আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, দিনভর মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টি হতে পারে, তবে রাজধানীতে অতি ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা কম।

গতকাল দেশের মধ্যে সর্বোচ্চ ১৭৫ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছিল ঢাকা বিভাগে। রাতের দিকে বৃষ্টি কমে এলেও সকাল সাতটার পর আবার বাড়তে শুরু করে।

প্রায় এক সপ্তাহ ধরে টানা বৃষ্টিতে দেশের অন্তত সাত জেলায় দেখা দিয়েছে বন্যা পরিস্থিতি। আজ উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন জেলায় বৃষ্টি আরও বাড়তে পারে। তবে দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের চট্টগ্রাম এবং উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সিলেট অঞ্চলে বৃষ্টি কিছুটা কমে আসার সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের বুলেটিন বলছে, দেশের ৪টি নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। সিলেট ও ময়মনসিংহ অঞ্চলে স্বল্পমেয়াদি বন্যা পরিস্থিতির আশঙ্কা রয়েছে বলে জানিয়েছে তারা। সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জে কুশিয়ারা নদীর পানি বিপৎসীমার ২৬ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে বইছে। সুনামগঞ্জের মারকুলিতে কুশিয়ারা ও ছাতকে সুরমা নদীর পানিও বিপৎসীমা ছাড়িয়েছে। নেত্রকোণার কলমাকান্দায় সোমেশ্বরী এবং বান্দরবানে সাঙ্গু নদীর পানিও বিপৎসীমার ওপরে রয়েছে।

রোববার সন্ধ্যায় আবহাওয়া অধিদপ্তরের প্রকাশিত পূর্বাভাস অনুযায়ী, মৌসুমি বায়ু বাংলাদেশের ওপর সক্রিয় রয়েছে। এতে আগামী পাঁচ দিন রংপুর, রাজশাহী, ময়মনসিংহ, ঢাকা, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগে মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টি হতে পারে। রাজধানীতে অতি ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা কম থাকলেও দেশের কোথাও কোথাও অতি ভারী বর্ষণের পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।

সোমবার ভোর থেকে দুপুর পর্যন্ত দেশের অভ্যন্তরীণ নদীবন্দরগুলোর জন্য ১ নম্বর সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে। এ সময় ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে দমকা হাওয়াসহ বৃষ্টি হতে পারে।

গত তিন দিনে চট্টগ্রামে ৪১৭ মিলিমিটার, কক্সবাজারে ২৩২ মিলিমিটার ও বান্দরবানের লামায় ৩৩৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট লঘুচাপের প্রভাবে এই ভারি বর্ষণ হচ্ছে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। তবে বর্তমানে বঙ্গোপসাগরে কোনো লঘুচাপ নেই।

এদিকে আগামী ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টায় আরও কয়েকটি নদীর পানি বিপৎসীমা ছাড়াতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। সিলেট, সুনামগঞ্জ, নেত্রকোণা, শেরপুর ও ময়মনসিংহ জেলার সুরমা-কুশিয়ারা, সারিগোয়াইন, যাদুকাটা, সোমেশ্বরী ও ভুগাই-কংস নদীর পানি বেড়ে কিছু কিছু স্থানে বিপৎসীমা ছাড়াতে পারে। এতে নদীতীরবর্তী নিচু এলাকায় স্বল্পমেয়াদি বন্যা দেখা দেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

উত্তরাঞ্চলেও পরিস্থিতি প্রায় একই। নীলফামারী, লালমনিরহাট, রংপুর ও কুড়িগ্রাম জেলার তিস্তা, ধরলা ও দুধকুমার নদীর পানি বাড়ছে। এসব এলাকায়ও কিছু স্থানে পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করতে পারে বলে সতর্ক করেছে পানি উন্নয়ন বোর্ড। ফেনী জেলার মুহুরি ও সেলোনিয়া নদীর পানিও কিছু কিছু স্থানে বিপৎসীমা ছাড়িয়ে স্বল্পমেয়াদি বন্যা সৃষ্টি করতে পারে বলে পূর্বাভাসে সতর্ক করা হয়েছে।

আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, ব্রহ্মপুত্র-যমুনা ও গঙ্গা-পদ্মা নদ-নদীর পানি আগামী ১০ দিনে সার্বিকভাবে বাড়তে পারে, তবে তা বিপৎসীমার নিচেই থাকবে।

তবে চট্টগ্রাম বিভাগে কিছুটা স্বস্তির আভাস মিলেছে। বান্দরবান, চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার জেলার সাঙ্গু ও মাতামুহুরী নদীর পানি কমতে শুরু করেছে। ফলে সেখানকার বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হতে পারে।

Ad 300x250

সম্পর্কিত