জন্মদিন
স্ট্রিম ডেস্ক

পাবলো নেরুদা বিশ্বসাহিত্যের অন্যতম জনপ্রিয় কবি। বিংশ শতাব্দীর সবচেয়ে প্রভাবশালী কবিদের একজন হিসেবে তাঁর নাম শ্রদ্ধার সঙ্গে উচ্চারণ করা হয়। স্প্যানিশ ভাষার শ্রেষ্ঠ কবিদের মধ্যেও তিনি অন্যতম। তবে বিশ্বের বেশির ভাগ পাঠকের কাছে তিনি সবচেয়ে বেশি পরিচিত তাঁর প্রেমের কবিতা এবং মানুষের জীবন নিয়ে লেখা কবিতার জন্য।
পাবলো নেরুদার জন্মনাম ছিল রিকার্দো এলিয়েসের নেফতালি রেয়েস ই বাসোআলতো। খুব অল্প বয়সেই তিনি ‘পাবলো নেরুদা’ নামটি গ্রহণ করেন। চিলির দক্ষিণের ছোট শহর তেমুকোতে তাঁর শৈশব কেটেছে। ছোটবেলা থেকেই লেখালেখির প্রতি ঝোঁক ছিল। তখন তাঁর জীবনে ‘মেন্টর’ হয়ে আসেন শিক্ষক গ্যাব্রিয়েলা মিস্ত্রাল। পরে তিনিও সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার পান। মিস্ত্রাল তরুণ নেরুদার প্রতিভা চিনতে পেরেছিলেন। তিনি তাঁকে বই পড়তে উৎসাহ দিয়েছিলেন এবং লেখালেখি চালিয়ে যেতে সাহস জুগিয়েছিলেন।
স্কুলজীবনেই নেরুদার লেখা স্থানীয় পত্রিকা ও সাময়িকীতে প্রকাশিত হতে শুরু করে। সাহিত্য প্রতিযোগিতায়ও পুরস্কার পান। ১৯২১ সালে উচ্চশিক্ষার জন্য সান্তিয়াগো যান। তাঁর লক্ষ্য ছিল ফরাসি ভাষার শিক্ষক হওয়া। কিন্তু পড়াশোনার চেয়ে সাহিত্যই তাঁকে বেশি টানত। সেখানেই লিখে শেষ করেন তাঁর সবচেয়ে বিখ্যাত কাব্যগ্রন্থগুলোর একটি ‘Twenty Love Poems and a Song of Despair’।
এই বই প্রকাশের পর নেরুদা চিলিতে পরিচিত হয়ে ওঠেন। বইয়ের প্রেমের কবিতাগুলো ছিল বেশ আবেগময় এবং কিছুটা ভিন্ন ধরনের। নারী, ভালোবাসা ও প্রকৃতিকে তিনি এমনভাবে একসঙ্গে তুলে ধরেছিলেন, যা সে সময়ের পাঠকদের কাছে নতুন মনে হয়েছিল। তাঁর কবিতায় শুধু প্রেম নয়, নিজের জন্মভূমির প্রকৃতির স্মৃতিও ফিরে আসে। একই সঙ্গে গ্রাম ছেড়ে শহরে চলে আসা একজন মানুষের একাকীত্বও ফুটে ওঠে।

১৯২৭ সালে নেরুদা চিলির সম্মানসূচক কনসাল হিসেবে বিদেশে যান। তাঁর প্রথম কর্মস্থল ছিল রেঙ্গুন (মিয়ানমার)। এরপর এশিয়ার আরও কয়েকটি দেশে দায়িত্ব পালন করেন। কিন্তু এই বিদেশজীবন তাঁর কাছে সুখকর ছিল না। একাকীত্ব, কিছুটা দারিদ্র্য এবং অপরিচিত পরিবেশ তাঁকে নাড়া দেয়। সেই অভিজ্ঞতা থেকেই জন্ম নেয় ‘Residence on Earth’ কাব্যগ্রন্থ।
এই বইয়ে নেরুদা মানুষের একাকীত্ব, হতাশা এবং জীবনের অনিশ্চয়তার কথা বলেছেন। পৃথিবীকে তিনি এখানে এমন এক জায়গা হিসেবে দেখেছেন, যেখানে সবকিছুই যেন বিশৃঙ্খল এবং অর্থহীন। পরে যদিও নিজেই এই বই নিয়ে বেশ কড়া সমালোচনা করেছিলেন। তাঁর মনে হয়েছিল, এই কবিতাগুলো মানুষকে বাঁচার চেয়ে মৃত্যুর দিকেই বেশি ঠেলে দেয়।
১৯৩৫ সালে নেরুদা স্পেনে কনসাল হিসেবে কাজ করছিলেন। সেখানে থাকাকালে তিনি আন্তর্জাতিক সাহিত্যজগতে আরও পরিচিতি পান। একই সময়ে স্পেনের অনেক কবি ও বুদ্ধিজীবীর সঙ্গে তাঁর ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে ওঠে। সেই প্রভাবেই তিনি রাজনীতি, বিশেষ করে কমিউনিস্ট আন্দোলনের প্রতি আকৃষ্ট হন।
১৯৩৬ সালে স্পেনের গৃহযুদ্ধ শুরু হলে নেরুদা প্রকাশ্যে রিপাবলিকানদের সমর্থন করেন। তিনি ‘España en el corazón’ কবিতা লেখেন। এই অবস্থানের কারণে তাঁকে কনসালের পদ হারাতে হয়। পরে তিনি ফ্রান্স ও মেক্সিকোতে দায়িত্ব পালন করেন।
এরপর থেকে নেরুদার কবিতায় বড় পরিবর্তন দেখা যায়। তিনি বিশ্বাস করতে শুরু করেন, কবিতা শুধু ব্যক্তিগত অনুভূতির কথা বলবে না; মানুষের জীবন, সমাজ, ইতিহাস এবং রাজনীতির কথাও বলবে। তাঁর লেখায় ব্যক্তিগত আবেগের পাশাপাশি মানুষের সম্মিলিত সংগ্রাম গুরুত্ব পেতে শুরু করে।
এই পরিবর্তনের ছাপ স্পষ্ট দেখা যায় ‘Tercera residencia’ গ্রন্থে। এখানে শিল্প ও রাজনীতি পাশাপাশি এসেছে। তাঁর দীর্ঘ কবিতা ‘Las Furias y las penas’-এ ভালোবাসা হারানোর কষ্ট, অপরাধবোধ, মানসিক যন্ত্রণা এবং মানুষের অসহায়ত্ব ফুটে উঠেছে। স্পেনের গৃহযুদ্ধের অভিজ্ঞতাও এই কবিতায় প্রভাব ফেলেছে।
নেরুদার রাজনৈতিক বিশ্বাসের সবচেয়ে বড় প্রকাশ ‘Canto General’। এটি লাতিন আমেরিকার ইতিহাস, প্রকৃতি, সাধারণ মানুষ এবং ন্যায়বিচারের সংগ্রামের কাব্যিক দলিল। তিনি এই বই লেখা শুরু করেছিলেন ১৯৩৫ সালে। পরে চিলির কমিউনিস্ট পার্টির প্রতিনিধি হিসেবে সিনেটে দায়িত্ব পালন করার সময়ও এর কাজ চালিয়ে যান।
১৯৪৭ সালে ধর্মঘটকারী শ্রমিকদের সমর্থন এবং চিলির প্রেসিডেন্ট বিদেলার সমালোচনা করার কারণে নেরুদার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হয়। তখন আত্মগোপনে থেকেই তিনি ‘Canto General’ শেষ করেন।
এই কাব্যে নেরুদা সাধারণ মানুষের শ্রমকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছেন। খনি শ্রমিক, নির্মাণশ্রমিক, আদিবাসীসহ ইতিহাসের অগণিত সাধারণ মানুষ তাঁর কবিতার নায়ক হয়ে উঠেছেন। একই সঙ্গে তিনি লাতিন আমেরিকার প্রকৃতি, অতীত এবং মানুষের দীর্ঘ সংগ্রামের ইতিহাসও তুলে ধরেছেন।
১৯৫৩ সালে নির্বাসন শেষে নেরুদা চিলিতে ফিরে আসেন। জীবনের শেষ দুই দশকে তিনি আবারও প্রেমের অসাধারণ কবিতা লিখেছেন। পাশাপাশি প্রকৃতিকে নতুনভাবে আবিষ্কার করেছেন তাঁর কবিতায়। বৃষ্টি, পাথর, ফুল, পাখি কিংবা দৈনন্দিন জীবনের সাধারণ বিষয়ও কবিতার বিষয় হয়ে উঠেছে। তিনি সহজ ভাষায় লিখতে চেয়েছেন, যাতে সাধারণ মানুষও তাঁর কবিতা পড়ে নিজেদের খুঁজে পায়।
১৯৭১ সালে চিলির কমিউনিস্ট পার্টি নেরুদাকে রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থী করতে চেয়েছিল। কিন্তু তিনি নিজের প্রার্থিতা প্রত্যাহার করে সালভাদর আলেন্দেকে সমর্থন দেন। আলেন্দে ক্ষমতায় আসার পর নেরুদাকে ফ্রান্সে রাষ্ট্রদূত নিয়োগ করেন। একই বছর তিনি সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার লাভ করেন।
অসুস্থতার কারণে পরে নেরুদা দেশে ফিরে আসেন। ১৯৭৩ সালে চিলিতে সামরিক অভ্যুত্থানের কয়েক দিনের মধ্যেই তাঁর মৃত্যু হয়। জীবনের শেষ দিকের অনেক কবিতায় তিনি নিজের মৃত্যুর আগমনের ইঙ্গিত দিয়েছিলেন।
মৃত্যুর পরও নেরুদার জনপ্রিয়তা কমেনি। তাঁর কবিতা, প্রবন্ধ, বক্তৃতা ও গদ্য নিয়ে নতুন নতুন সংকলন প্রকাশিত হয়েছে। তিনি বিশ্বাস করতেন, একজন কবি শুধু নিজের জন্য লেখেন না; মানুষের অভিজ্ঞতাকে মানুষের কাছেই পৌঁছে দেওয়াই তাঁর দায়িত্ব। নোবেল পুরস্কার গ্রহণের ভাষণেও তিনি এই বিশ্বাসের কথা বলেছিলেন।
প্রেম, প্রকৃতি, ইতিহাস, শ্রম, রাজনীতি এবং মানুষের জীবনের গল্প—সবকিছু মিলিয়ে পাবলো নেরুদা আজও বিশ্বসাহিত্যের এক অনিবার্য নাম। তাঁর কবিতা মনে করিয়ে দেয়, একজন কবির কণ্ঠ একই সঙ্গে ব্যক্তিগতও হতে পারে, আবার একটি মহাদেশের কণ্ঠস্বরও হয়ে উঠতে পারে।

পাবলো নেরুদা বিশ্বসাহিত্যের অন্যতম জনপ্রিয় কবি। বিংশ শতাব্দীর সবচেয়ে প্রভাবশালী কবিদের একজন হিসেবে তাঁর নাম শ্রদ্ধার সঙ্গে উচ্চারণ করা হয়। স্প্যানিশ ভাষার শ্রেষ্ঠ কবিদের মধ্যেও তিনি অন্যতম। তবে বিশ্বের বেশির ভাগ পাঠকের কাছে তিনি সবচেয়ে বেশি পরিচিত তাঁর প্রেমের কবিতা এবং মানুষের জীবন নিয়ে লেখা কবিতার জন্য।
পাবলো নেরুদার জন্মনাম ছিল রিকার্দো এলিয়েসের নেফতালি রেয়েস ই বাসোআলতো। খুব অল্প বয়সেই তিনি ‘পাবলো নেরুদা’ নামটি গ্রহণ করেন। চিলির দক্ষিণের ছোট শহর তেমুকোতে তাঁর শৈশব কেটেছে। ছোটবেলা থেকেই লেখালেখির প্রতি ঝোঁক ছিল। তখন তাঁর জীবনে ‘মেন্টর’ হয়ে আসেন শিক্ষক গ্যাব্রিয়েলা মিস্ত্রাল। পরে তিনিও সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার পান। মিস্ত্রাল তরুণ নেরুদার প্রতিভা চিনতে পেরেছিলেন। তিনি তাঁকে বই পড়তে উৎসাহ দিয়েছিলেন এবং লেখালেখি চালিয়ে যেতে সাহস জুগিয়েছিলেন।
স্কুলজীবনেই নেরুদার লেখা স্থানীয় পত্রিকা ও সাময়িকীতে প্রকাশিত হতে শুরু করে। সাহিত্য প্রতিযোগিতায়ও পুরস্কার পান। ১৯২১ সালে উচ্চশিক্ষার জন্য সান্তিয়াগো যান। তাঁর লক্ষ্য ছিল ফরাসি ভাষার শিক্ষক হওয়া। কিন্তু পড়াশোনার চেয়ে সাহিত্যই তাঁকে বেশি টানত। সেখানেই লিখে শেষ করেন তাঁর সবচেয়ে বিখ্যাত কাব্যগ্রন্থগুলোর একটি ‘Twenty Love Poems and a Song of Despair’।
এই বই প্রকাশের পর নেরুদা চিলিতে পরিচিত হয়ে ওঠেন। বইয়ের প্রেমের কবিতাগুলো ছিল বেশ আবেগময় এবং কিছুটা ভিন্ন ধরনের। নারী, ভালোবাসা ও প্রকৃতিকে তিনি এমনভাবে একসঙ্গে তুলে ধরেছিলেন, যা সে সময়ের পাঠকদের কাছে নতুন মনে হয়েছিল। তাঁর কবিতায় শুধু প্রেম নয়, নিজের জন্মভূমির প্রকৃতির স্মৃতিও ফিরে আসে। একই সঙ্গে গ্রাম ছেড়ে শহরে চলে আসা একজন মানুষের একাকীত্বও ফুটে ওঠে।

১৯২৭ সালে নেরুদা চিলির সম্মানসূচক কনসাল হিসেবে বিদেশে যান। তাঁর প্রথম কর্মস্থল ছিল রেঙ্গুন (মিয়ানমার)। এরপর এশিয়ার আরও কয়েকটি দেশে দায়িত্ব পালন করেন। কিন্তু এই বিদেশজীবন তাঁর কাছে সুখকর ছিল না। একাকীত্ব, কিছুটা দারিদ্র্য এবং অপরিচিত পরিবেশ তাঁকে নাড়া দেয়। সেই অভিজ্ঞতা থেকেই জন্ম নেয় ‘Residence on Earth’ কাব্যগ্রন্থ।
এই বইয়ে নেরুদা মানুষের একাকীত্ব, হতাশা এবং জীবনের অনিশ্চয়তার কথা বলেছেন। পৃথিবীকে তিনি এখানে এমন এক জায়গা হিসেবে দেখেছেন, যেখানে সবকিছুই যেন বিশৃঙ্খল এবং অর্থহীন। পরে যদিও নিজেই এই বই নিয়ে বেশ কড়া সমালোচনা করেছিলেন। তাঁর মনে হয়েছিল, এই কবিতাগুলো মানুষকে বাঁচার চেয়ে মৃত্যুর দিকেই বেশি ঠেলে দেয়।
১৯৩৫ সালে নেরুদা স্পেনে কনসাল হিসেবে কাজ করছিলেন। সেখানে থাকাকালে তিনি আন্তর্জাতিক সাহিত্যজগতে আরও পরিচিতি পান। একই সময়ে স্পেনের অনেক কবি ও বুদ্ধিজীবীর সঙ্গে তাঁর ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে ওঠে। সেই প্রভাবেই তিনি রাজনীতি, বিশেষ করে কমিউনিস্ট আন্দোলনের প্রতি আকৃষ্ট হন।
১৯৩৬ সালে স্পেনের গৃহযুদ্ধ শুরু হলে নেরুদা প্রকাশ্যে রিপাবলিকানদের সমর্থন করেন। তিনি ‘España en el corazón’ কবিতা লেখেন। এই অবস্থানের কারণে তাঁকে কনসালের পদ হারাতে হয়। পরে তিনি ফ্রান্স ও মেক্সিকোতে দায়িত্ব পালন করেন।
এরপর থেকে নেরুদার কবিতায় বড় পরিবর্তন দেখা যায়। তিনি বিশ্বাস করতে শুরু করেন, কবিতা শুধু ব্যক্তিগত অনুভূতির কথা বলবে না; মানুষের জীবন, সমাজ, ইতিহাস এবং রাজনীতির কথাও বলবে। তাঁর লেখায় ব্যক্তিগত আবেগের পাশাপাশি মানুষের সম্মিলিত সংগ্রাম গুরুত্ব পেতে শুরু করে।
এই পরিবর্তনের ছাপ স্পষ্ট দেখা যায় ‘Tercera residencia’ গ্রন্থে। এখানে শিল্প ও রাজনীতি পাশাপাশি এসেছে। তাঁর দীর্ঘ কবিতা ‘Las Furias y las penas’-এ ভালোবাসা হারানোর কষ্ট, অপরাধবোধ, মানসিক যন্ত্রণা এবং মানুষের অসহায়ত্ব ফুটে উঠেছে। স্পেনের গৃহযুদ্ধের অভিজ্ঞতাও এই কবিতায় প্রভাব ফেলেছে।
নেরুদার রাজনৈতিক বিশ্বাসের সবচেয়ে বড় প্রকাশ ‘Canto General’। এটি লাতিন আমেরিকার ইতিহাস, প্রকৃতি, সাধারণ মানুষ এবং ন্যায়বিচারের সংগ্রামের কাব্যিক দলিল। তিনি এই বই লেখা শুরু করেছিলেন ১৯৩৫ সালে। পরে চিলির কমিউনিস্ট পার্টির প্রতিনিধি হিসেবে সিনেটে দায়িত্ব পালন করার সময়ও এর কাজ চালিয়ে যান।
১৯৪৭ সালে ধর্মঘটকারী শ্রমিকদের সমর্থন এবং চিলির প্রেসিডেন্ট বিদেলার সমালোচনা করার কারণে নেরুদার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হয়। তখন আত্মগোপনে থেকেই তিনি ‘Canto General’ শেষ করেন।
এই কাব্যে নেরুদা সাধারণ মানুষের শ্রমকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছেন। খনি শ্রমিক, নির্মাণশ্রমিক, আদিবাসীসহ ইতিহাসের অগণিত সাধারণ মানুষ তাঁর কবিতার নায়ক হয়ে উঠেছেন। একই সঙ্গে তিনি লাতিন আমেরিকার প্রকৃতি, অতীত এবং মানুষের দীর্ঘ সংগ্রামের ইতিহাসও তুলে ধরেছেন।
১৯৫৩ সালে নির্বাসন শেষে নেরুদা চিলিতে ফিরে আসেন। জীবনের শেষ দুই দশকে তিনি আবারও প্রেমের অসাধারণ কবিতা লিখেছেন। পাশাপাশি প্রকৃতিকে নতুনভাবে আবিষ্কার করেছেন তাঁর কবিতায়। বৃষ্টি, পাথর, ফুল, পাখি কিংবা দৈনন্দিন জীবনের সাধারণ বিষয়ও কবিতার বিষয় হয়ে উঠেছে। তিনি সহজ ভাষায় লিখতে চেয়েছেন, যাতে সাধারণ মানুষও তাঁর কবিতা পড়ে নিজেদের খুঁজে পায়।
১৯৭১ সালে চিলির কমিউনিস্ট পার্টি নেরুদাকে রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থী করতে চেয়েছিল। কিন্তু তিনি নিজের প্রার্থিতা প্রত্যাহার করে সালভাদর আলেন্দেকে সমর্থন দেন। আলেন্দে ক্ষমতায় আসার পর নেরুদাকে ফ্রান্সে রাষ্ট্রদূত নিয়োগ করেন। একই বছর তিনি সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার লাভ করেন।
অসুস্থতার কারণে পরে নেরুদা দেশে ফিরে আসেন। ১৯৭৩ সালে চিলিতে সামরিক অভ্যুত্থানের কয়েক দিনের মধ্যেই তাঁর মৃত্যু হয়। জীবনের শেষ দিকের অনেক কবিতায় তিনি নিজের মৃত্যুর আগমনের ইঙ্গিত দিয়েছিলেন।
মৃত্যুর পরও নেরুদার জনপ্রিয়তা কমেনি। তাঁর কবিতা, প্রবন্ধ, বক্তৃতা ও গদ্য নিয়ে নতুন নতুন সংকলন প্রকাশিত হয়েছে। তিনি বিশ্বাস করতেন, একজন কবি শুধু নিজের জন্য লেখেন না; মানুষের অভিজ্ঞতাকে মানুষের কাছেই পৌঁছে দেওয়াই তাঁর দায়িত্ব। নোবেল পুরস্কার গ্রহণের ভাষণেও তিনি এই বিশ্বাসের কথা বলেছিলেন।
প্রেম, প্রকৃতি, ইতিহাস, শ্রম, রাজনীতি এবং মানুষের জীবনের গল্প—সবকিছু মিলিয়ে পাবলো নেরুদা আজও বিশ্বসাহিত্যের এক অনিবার্য নাম। তাঁর কবিতা মনে করিয়ে দেয়, একজন কবির কণ্ঠ একই সঙ্গে ব্যক্তিগতও হতে পারে, আবার একটি মহাদেশের কণ্ঠস্বরও হয়ে উঠতে পারে।
.png)

ফরহাদ মজহার কবি, দার্শনিক, রাজনীতি বিশ্লেষকসহ বহুবিধ পরিচয়ে পরিচিত। যাপন থেকে শুরু করে চিন্তা ও তৎপরতায় রাজনীতি, সাহিত্য, দর্শন, কাব্য ও কৃষির উদ্যোগে প্রতিনিয়ত নিজেকেই নিজে অতিক্রম করছেন তিনি। ‘আমাকে তুমি দাঁড় করিয়ে দিয়েছ বিপ্লবের সামনে’, ‘অকস্মাৎ রপ্তানিমুখী নারীমেশিন’, ‘এবাদতনামা’ প্রভৃতি তাঁর উল
১৩ ঘণ্টা আগে
১৪৯২ সালের ২ জানুয়ারি। জিব্রাল্টার প্রণালির পাশ ঘেঁষে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে সিয়েরা নেভাদা পর্বতমালা। এরই পাদদেশের শহর গ্রানাডার আকাশেই অস্ত যায় মুসলিম আন্দালুসের আট শতকের গৌরবময় ইতিহাসের শেষ সূর্য।
০৭ আগস্ট ২০২৬
স্ট্রিম: ‘চিহ্ন’ পত্রিকার ২৫ বছরের যাত্রায় ফিরে তাকালে আপনার সবচেয়ে বড় অর্জন কী বলে মনে হয়? শহীদ ইকবাল: অর্জন তো কোট-আনকোট (‘’)। আমরা কাজের নেশা থেকে কাজ করে যাচ্ছি। নিশ্চয়ই ভাষা-সাহিত্য-সংস্কৃতির ক্ষেত্রে আমাদের জার্নিটা একটা প্রভাবশালী শক্তি। সামগ্রিক অবদান তো সেভাবে দেখা যাবে না। তবে বড় অর্জনের
০৭ আগস্ট ২০২৬
‘গতকল্য বৃহস্পতিবার বেলা ১২.১৩ মিঃ সময় বিশ্ববরেণ্য কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর কলিকাতা জোড়াসাঁকোস্থিত বাসভবনে মহাপ্রয়াণ করিয়াছেন। মৃত্যুকালে তাঁহার বয়স ৮০ বৎসর ৩ মাস হইয়াছিল।
০৬ আগস্ট ২০২৬