জাতীয় সংসদ নির্বাচন ২০২৬

ও গণভোট

ক্লিক করুন

তিন দশক পর সংসদ পাচ্ছে সবচেয়ে বড় বিরোধী দল

স্ট্রিম ডেস্ক
স্ট্রিম ডেস্ক

বাংলাদেশের জাতীয় সংসদ ভবন। সংগৃহীত ছবি

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জনরায়ের মাধ্যমে দীর্ঘ তিন দশক পর দেশে একটি ভারসাম্যপূর্ণ সংসদ গঠিত হতে যাচ্ছে। ১৯৯৬ সালের পর এবার বৃহত্তম বিরোধী জোটের দেখা মিলবে।

শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন কমিশন ভবনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ২৯৯টি আসনের মধ্যে ২৯৭টির বেসরকারি ফলাফল ঘোষণা করেছেন ইসি-সচিব আখতার আহমেদ। আদালতের নির্দেশে চট্টগ্রামের দুটি আসনের ফলাফল স্থগিত থাকলেও ঘোষিত ফলাফলে বিএনপি একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা লাভ করেছে। ঘোষিত ২৯৭ আসনের মধ্যে বিএনপি ও তার মিত্ররা পেয়েছে ২১২টি আসন। অন্যদিকে, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্য পেয়েছে ৭৭টি আসন।

বাংলাদেশের সংসদীয় ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, ১৯৯৬ সালের ১২ জুনের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ সরকার গঠন করেছিল এবং বিএনপি ১১৬টি আসন নিয়ে শক্তিশালী বিরোধী দল হিসেবে সংসদে ছিল। সেই সংসদের পর ২০০১ সালে বিএনপি ১৯৩টি আসন পেলেও বিরোধী দল আওয়ামী লীগ পেয়েছিল মাত্র ৬২টি আসন। ২০০৮ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ২৩০টি আসন পেলেও বিএনপি নেমে আসে মাত্র ৩০টি আসনে।

পরবর্তী সময়ে ২০১৪-এর একতরফা নির্বাচন, ২০১৮-এর 'রাতের ভোটের' নির্বাচন এবং ২০২৪ সালের 'ডামি নির্বাচন' ছিল বিতর্কিত এবং প্রায় বিরোধী দলশূন্য। ২০১৪ সালে বিএনপি বর্জন করায় আওয়ামী লীগ একতরফাভাবে ২৩৪টি আসন পায়। ২০১৮ সালে ব্যাপক জালিয়াতির অভিযোগে আওয়ামী লীগ জোট সংসদের ৯০ শতাংশের বেশি আসন দখল করে। ২০২৪ সালে বিএনপি-জামায়াতসহ প্রধান বিরোধী দলগুলো অংশ না নেওয়ায় দেশ কার্যত একদলীয় ব্যবস্থার দিকে চলে যায়।

এই প্রেক্ষাপটে ২০২৬ সালের এই নির্বাচন বাংলাদেশের সংসদীয় গণতন্ত্রে পুনরায় ভারসাম্য ফিরিয়ে আনল। বিশেষ করে জুলাই বিপ্লবের সম্মুখসারির নেতাদের নিয়ে গঠিত জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) প্রথমবারের মতো নির্বাচনে অংশ নিয়ে ৬টি আসনে জয়লাভ করেছে।

সংসদ নির্বাচনের পাশাপাশি এবার ‘জুলাই জাতীয় সনদ’ বাস্তবায়নের ওপর গণভোট অনুষ্ঠিত হয়েছে। গণভোটের ফলাফলে দেখা গেছে, মোট ভোটারের ৬০ দশমিক ২৬ শতাংশ মানুষ এতে অংশ নিয়েছেন। এর মধ্যে ‘হ্যাঁ’ ভোট পড়েছে ৪ কোটি ৮০ লাখ ৭৪ হাজার ৪২৯টি এবং ‘না’ ভোট পড়েছে ২ কোটি ২৫ লাখ ৬৫ হাজার ৬২৭টি।

বড় ব্যবধানে ‘হ্যাঁ’ জয়ী হওয়ায় পরবর্তী নির্বাচিত সরকারকে জুলাই সনদে উল্লিখিত সংস্কারগুলো বাস্তবায়ন করতে হবে। ফলে ১৯৯৬ সালের পর বাংলাদেশ একটি কার্যকর সংসদ পেতে যাচ্ছে বলে আশা করা হচ্ছে।

Ad 300x250

সম্পর্কিত