leadT1ad

ডিএনসিসির প্রশাসক এজাজের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা

স্ট্রিম প্রতিবেদক
স্ট্রিম প্রতিবেদক
ঢাকা

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) প্রশাসক মোহাম্মদ এজাজ। ছবি: সংগৃহীত

ক্ষমতার অপব্যবহার, নানা অনিয়ম ও ঘুষ গ্রহণের অভিযোগ অনুসন্ধানের মুখে থাকা ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) প্রশাসক মোহাম্মদ এজাজের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছেন আদালত। দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) তলবে হাজির না হওয়ায় এবং দেশত্যাগের আশঙ্কায় সংস্থাটির আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এই আদেশ এল। তবে নিষেধাজ্ঞার খবরে বিস্ময় প্রকাশ করে মোহাম্মদ এজাজ দাবি করেছেন, তিনি চলমান তদন্তে পূর্ণ সহযোগিতা করছেন।

রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) ঢাকা মেট্রোপলিটন সিনিয়র স্পেশাল জজ সাব্বির ফয়েজ এই আদেশ দেন। দুদকের পক্ষে নিষেধাজ্ঞার আবেদনটি করেন সংস্থার সহকারী পরিচালক আশিকুর রহমান।

আদালতের বেঞ্চ সহকারী রিয়াজ হোসেন জানান, দুদকের আবেদনে বলা হয়েছে, মোহাম্মদ এজাজের বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার করে নানাবিধ অনিয়ম, দুর্নীতি ও ঘুষ গ্রহণের অভিযোগের অনুসন্ধান চলছে। অভিযোগ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি দেশ ছেড়ে বিদেশে পালাতে পারেন বলে বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গেছে। তাই অভিযোগের সুষ্ঠু অনুসন্ধানের স্বার্থে তাঁর বিদেশ গমন রহিত করা প্রয়োজন।

আদালতে জমা দেওয়া দুদকের আবেদনে এজাজের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট কিছু অভিযোগের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে—ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের অধীন গাবতলী পশুর হাট ইজারা, ই-রিকশা প্রকল্প, বোরাক টাওয়ার বা হোটেল শেরাটনের ভাগ বা দখলভার নেওয়া, বনানী কাঁচাবাজারে দোকান বরাদ্দ, খিলগাঁও তালতলা সুপার মার্কেটের পার্কিং স্থানে দোকান নির্মাণ ও বরাদ্দ, সিটি করপোরেশনের ভ্যান সার্ভিস এবং ফুটপাতে দোকান বরাদ্দ। এসব খাতসহ ডিএনসিসির স্বার্থসংশ্লিষ্ট নানা বিষয়ে তাঁর বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ খতিয়ে দেখছে দুদক।

দুদক সূত্র জানায়, এসব অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য শুনতে মোহাম্মদ এজাজকে তলব করে নোটিশ পাঠানো হয়েছিল। গত ২২ জানুয়ারি পাঠানো ওই চিঠিতে তাঁকে ২৯ জানুয়ারি (বৃহস্পতিবার) কমিশনের প্রধান কার্যালয়ে হাজির হতে বলা হয়।

মোহাম্মদ এজাজের বিরুদ্ধে দুর্নীতির এই অনুসন্ধান শুরু হয় ২০২৫ সালের ২৭ নভেম্বর। অভিযোগ তদন্তে দুদকের সহকারী পরিচালক মো. আশিকুর রহমানের নেতৃত্বে দুই সদস্যের একটি দল কাজ করছে। দলের অপর সদস্য হলেন উপসহকারী পরিচালক সুবিমল চাকমা। অনুসন্ধান শুরুর পরপরই তৎকালীন সময়ে বিষয়টিকে স্বাগত জানিয়েছিলেন মোহাম্মদ এজাজ।

নদী গবেষণা, পানি ব্যবস্থাপনা ও নগর উন্নয়ন নিয়ে কাজ করা বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান রিভার অ্যান্ড ডেল্টা রিসার্চ সেন্টারের (আরডিআরসি) চেয়ারম্যান মোহাম্মদ এজাজকে গত বছরের (২০২৫) ফেব্রুয়ারিতে ঢাকা উত্তর সিটির প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দেয় সরকার।

প্রশাসকের দায়িত্ব নেওয়ার পরপরই গাবতলী গবাদিপশুর হাটের ইজারা বাতিলের ঘটনায় ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েন মোহাম্মদ এজাজ। ওই সময় ইজারা প্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগ উঠলে গত বছরের এপ্রিলে দুদকের একটি এনফোর্সমেন্ট টিম ডিএনসিসি কার্যালয়ে অভিযান চালায়।

দুদকের ওই সময়ের নথিপত্র অনুযায়ী, ২০২৫ সালের হাট ইজারায় সর্বোচ্চ দর উঠেছিল প্রায় ২২ কোটি টাকা, যা সরকার নির্ধারিত দরের (১৪ কোটি ৬১ লাখ টাকা) চেয়ে অনেক বেশি ছিল। মূল্যায়ন কমিটি সর্বোচ্চ দরদাতাকে ইজারা দেওয়ার সুপারিশ করলেও বাংলাদেশ পাবলিক প্রকিউরমেন্ট অথরিটির (বিপিপিএ) ওয়েবসাইটে বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়নি— এই যুক্তি দেখিয়ে দরপত্র বাতিল করে খাস আদায়ের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

তবে দুদক বিশেষজ্ঞদের মতামত নিয়ে জানিয়েছিল, হাট ইজারা সরকারি ক্রয় নীতিমালার আওতায় পড়ে না এবং ওয়েবসাইটে বিজ্ঞপ্তি দেওয়ার বাধ্যবাধকতাও নেই। দুদকের প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, অস্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় সর্বোচ্চ দরের দরপত্র বাতিল করার ফলে সরকারের বড় অঙ্কের রাজস্ব আয় হাতছাড়া হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। ওই ঘটনাকে তখন ইজারা বাতিলের ত্রুটি হিসেবে চিহ্নিত করেছিল সংস্থাটি।

নতুন করে নিষেধাজ্ঞার আদেশের বিষয়ে জানতে যোগাযোগ করা হলে মোহাম্মদ এজাজ স্ট্রিমকে বলেন, ‘দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞার বিষয়টি শুনে আমি অবাক হয়েছি। কারণ এটি একটি চলমান তদন্ত প্রক্রিয়া এবং আমরা তদন্তে পূর্ণ সহযোগিতা করছি। ইতিমধ্যে আমরা প্রয়োজনীয় অনেক নথিপত্র জমা দিয়েছি।’ তদন্ত চলাকালে এ ধরনের নিষেধাজ্ঞা অতিরঞ্জিত বলেও দাবি করেন তিনি।

দুদকের অভিযোগ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমার বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ আনা হয়েছে, তার সবই ভুয়া ও মিথ্যা।’

Ad 300x250

সম্পর্কিত