মিরহাজুল শিবলী

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অন্তত ৭৫টি আসনে বিএনপির বহিষ্কৃত ও সাবেক নেতা এবং তাঁদের পরিবারের অন্তত ৮৯ জন স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে সক্রিয় রয়েছেন। আওয়ামী লীগ নির্বাচনী মাঠে না থাকায় এবারের নির্বাচনে বিএনপির প্রধান প্রতিপক্ষ হয়ে দাঁড়িয়েছে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্য। এসব আসনের দুই-তৃতীয়াংশেই ‘দাঁড়িপাল্লা’ প্রতীকের প্রার্থী থাকায় বিএনপি, দলীয় বিদ্রোহী এবং জামায়াতের মধ্যে ত্রিমুখী লড়াই হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
বিএনপি এবার আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো বড় জোটে না গেলেও বিগত দিনের আন্দোলন-সংগ্রামের সঙ্গী দলগুলোর সঙ্গে আসন সমঝোতা করেছে। ফলে সব মিলিয়ে ২৯২জন প্রার্থী ‘ধানের শীষ’ প্রতীকে নির্বাচন করছেন। এদের মধ্যে ৬ জন অন্য দল থেকে এসে বিএনপিতে যোগ দিয়ে মনোনয়ন পেয়েছেন। বাকি ৮টি আসনে মিত্র দলগুলো তাদের নিজস্ব প্রতীকে লড়ছে, যেখানে বিএনপি কোনো প্রার্থী দেয়নি। তবে মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ দিনে দেখা গেছে, ৭৯টি আসনে বিএনপির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অন্তত ৯২জন প্রার্থী স্বতন্ত্র হিসেবে মাঠে আছেন। এদের মধ্যে সাবেক সংসদ সদস্য ও বাগেরহাট জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি এম এইচ সেলিম একা তিনটি আসন থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
অবশ্য মনোনয়নপত্র চূড়ান্ত হওয়ার পর সমঝোতার মাধ্যমে ঝালকাঠি-১ ও নাটোর-১ আসনের ৪জন এবং শেরপুর-৩ ও কুমিল্লা-৯ আসনের বিদ্রোহী প্রার্থীরা বিএনপি প্রার্থীকে সমর্থন দিয়ে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন।
ভোট ভাগ হওয়ার ঝুঁকিতে বিএনপি
বাংলাদেশের অতীতের নির্বাচনগুলোর ফলাফল বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, বড় দলগুলোর জনগণের ভেতরে ভোটব্যাংক রয়েছে। অঞ্চলভিত্তিক এসব ভোটব্যাংক যেকোনো পরিস্থিতিতে দলের পক্ষে রায় দেন। বিশ্লেষকরা বলছেন, সরাসরি রাজনীতি না করলেও এসব জনগোষ্ঠী নির্বাচন এলে নির্বাচনী কর্মকাণ্ডে যুক্ত হন এবং নিজ দলের মার্কায় ভোট দেন। তৃণনমূল পর্যায়ে এসব ভোটব্যাংক প্রভাবিত হয় গোষ্ঠীর নেতা বা সামাজিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ ব্যাক্তিদের দ্বারা। এসব ব্যাক্তিরা সাধারণত স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাদের সাথে বিভিন্নভাবে যুক্ত থাকে। অধিকাংশ বিদ্রোহী প্রার্থী তৃণমূলের নেতা হওয়ায় ভোটব্যাংকের ওপর তাদের প্রভাব রয়েছে। সে হিসেবে এবারের নির্বাচনে বিএনপির ভোটব্যাংকে তৃণমূলের বিদ্রোহী প্রার্থীরা ভাগ বসানোর আশঙ্কা অমূলক নয়।
পাবনা-৪ আসনে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে লড়ছেন দলের চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা ও জেলা বিএনপির আহ্বায়ক হাবিবুর রহমান হাবিব। এই আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন জেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম সম্পাদক জাকারিয়া পিন্টু। নব্বই-পরবর্তী সময়ে এই আসনে জামায়াত কখনো জিততে না পারলেও এবার বিএনপির ভোট ভাগ হয়ে যাওয়ার সুযোগে তারা জয়ের স্বপ্ন দেখছে।
একই চিত্র পাবনা-৩ আসনে। সেখানে বিএনপির প্রার্থী কৃষক দলের সভাপতি কৃষিবিদ হাসান জাফির তুহিন। তবে তাঁর পৈতৃক নিবাস ওই এলাকায় না হওয়ায় নিজেকে ‘স্থানীয় প্রার্থী’ হিসেবে তুলে ধরছেন সদ্য বহিষ্কৃত বিএনপি নেতা ও সাবেক এমপি কে এম আনোয়ারুল ইসলাম। তুহিনের পক্ষে দলীয় পদধারীরা থাকলেও আনোয়ারের পক্ষে কাজ করছে বিএনপির একটি অংশ। এ বিষয়ে হাসান জাফির তুহিন বলেন, ‘এটি বড় কোনো চ্যালেঞ্জ নয়, একটি সমস্যা মাত্র। জনগণ ষড়যন্ত্র বুঝতে পারে এবং তারা বোকা নয়। তাই খুব বেশি সমস্যা হবে বলে মনে হয় না।’ অন্যদিকে স্বতন্ত্র প্রার্থী আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, ‘জনগণের ব্যাপক সাড়া পাচ্ছি। ফলাফল যাই হোক, শেষ পর্যন্ত মাঠে থাকব।’
বাগেরহাটের চারটি আসনেই বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী রয়েছে। বাগেরহাট-১ ও ৪ আসনে গত বছর বিএনপিতে যোগ দেওয়া কোপিল কৃষ্ণ মণ্ডল ও সোমনাথ দে এবং ২ ও ৩ আসনে শেখ মোহাম্মদ জাকির ও শেখ ফরিদুল ইসলাম ধানের শীষের প্রার্থী। এর মধ্যে ১, ২ ও ৩ নম্বর আসনে একাই ‘ঘোড়া’ প্রতীকে লড়ছেন সাবেক এমপি এম এ এইচ সেলিম। আর বাগেরহাট-৪ আসনে লড়ছেন বহিষ্কৃত বিএনপি নেতা কাজী খাইরুজ্জামান শিপন। অতীতে এসব আসন আওয়ামী লীগের দখলে থাকলেও ১৯৯১ ও ২০০১ সালে বাগেরহাট-৪ আসনে জামায়াত জয়ী হয়েছিল।
মিত্রদের ভাগ্যে অনিশ্চয়তা
সিলেট-৫ আসনে বিএনপি জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের সঙ্গে সমঝোতা করেছে। সেখানে জমিয়ত সভাপতি মাওলানা উবায়দুল্লাহ ফারুক বিএনপির সমর্থনে ‘খেজুর গাছ’ প্রতীকে লড়ছেন। তবে তাঁর বিপক্ষে ‘বিদ্রোহী’ হিসেবে মাঠে সক্রিয় আছেন জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি মামুনুর রশীদ (চাকসু মামুন)। স্থানীয় নেতাকর্মীরা মামুনের পক্ষে কাজ করছেন বলে জানা গেছে।
জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের সঙ্গে বিএনপি মোট চারটি আসনে সমঝোতা করলেও সবকটিতেই বিদ্রোহীরা চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছেন। নীলফামারী-১ আসনে জমিয়ত প্রার্থী মঞ্জুরুল ইসলামের বিপরীতে লড়ছেন খালেদা জিয়ার ভাগনে শাহরিন ইসলাম তুহিনের বাবা রফিকুল ইসলাম। নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে জমিয়তের মনির হোসেন কাসেমীর বিপরীতে লড়ছেন বহিষ্কৃত বিএনপি নেতা মোহাম্মদ শাহ আলম ও সাবেক এমপি মোহাম্মদ গিয়াসউদ্দিন। ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনে জমিয়ত নেতা জুনায়েদ আল হাবিবের বিপরীতে লড়ছেন বহিষ্কৃত বিএনপি নেত্রী ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা। রুমিন ফারহানা বলেন, ‘আমাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে, আমি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবেই লড়ছি। ভোটাররা আমার সঙ্গেই আছেন।’ জমিয়ত মহাসচিব মঞ্জুরুল ইসলাম আফেন্দী বলেন, ‘বিদ্রোহী প্রার্থীরা বড় চ্যালেঞ্জ। তবে বিএনপি তা প্রশমনের আশ্বাস দিয়েছে।’
ঢাকা-১২ আসনে বিএনপির সমর্থনে বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাইফুল হক প্রার্থী হলেও সেখানে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে লড়ছেন সাবেক যুবদল নেতা সাইফুল আলম নীরব। সাইফুল হক অভিযোগ করেন, তাঁর কর্মী ও জোটের ভাইদের হুমকি দেওয়া হচ্ছে। তিনি বলেন, ‘বিএনপির চেয়ারম্যান আমাকে মনোনীত করেছেন, জোটের সিদ্ধান্ত সবাইকে মেনে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।’
পটুয়াখালী-৩ আসনে গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুর ‘ট্রাক’ মার্কায় লড়ছেন, যেখানে তাঁর প্রধান বাধা বিএনপির বহিষ্কৃত সদস্য হাসান মামুন। অন্যদিকে ঝিনাইদহ-৪ আসনে গণঅধিকার পরিষদ থেকে বিএনপিতে আসা রাশেদ খাঁনের বিরুদ্ধে স্বতন্ত্র লড়ছেন স্বেচ্ছাসেবক দলের বহিষ্কৃত নেতা মো. সাইফুল ইসলাম ফিরোজ।
দলের অবস্থান
বিএনপির একাধিক সূত্র বলছে, শুরু থেকেই বিদ্রোহী প্রার্থীদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে বিএনপি। প্রথম দফায় একযোগে বেশ কয়েকজনকে বহিষ্কারও করা হয়। পরবর্তীতে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমান ব্যক্তিগতভাবে অনেক প্রার্থীর সঙ্গে কথা বলেন এবং তাদের প্রার্থিতা প্রত্যাহারের অনুরোধ জানান। এতে কেউ কেউ সাড়া দিলেও শেষ পর্যন্ত ৭৫ আসনে বিএনপি সংশ্লিষ্ট বিদ্রোহী প্রার্থী নির্বাচনের মাঠ থেকে সরে দাঁড়াননি।
বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির শিক্ষাবিষয়ক সম্পাদক অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম বলেন, ‘বিএনপি বিশাল দল, একাধিক যোগ্য প্রার্থী থাকা স্বাভাবিক। তবে মনে রাখতে হবে ব্যক্তির চেয়ে দল বড়। শৃঙ্খলাভঙ্গকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।’
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও নির্বাচন পরিচালনা কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান সেলিমা রহমান জানান, এ পর্যন্ত প্রায় ৮০ জন নেতাকে বহিষ্কার করা হয়েছে এবং এই প্রক্রিয়া চলমান। এটি কোনো নির্বাচনী কৌশল কি না—এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘এরকম কোনো পরিকল্পনা নেই। দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করায় নিয়মানুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।’
ত্রিমুখী লড়াইয়ের আভাস
বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থীদের আসন বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, আসনগুলোতে অন্তত দৃই তৃতীয়াংশ অর্থাৎ ৫০টি আসনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী রয়েছে। সঙ্গত কারণে এসব আসনে ত্রিমুখী লড়াইয়ের আভাস দিচ্ছেন রাজনীতি বিশ্লেষকেরা।
তরুণ রাজনীতি বিশ্লেষক ও বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক আনিসুর রহমান স্ট্রিমকে বলেন, ‘যে ৫০টির মতো আসনে দাঁড়িপাল্লা প্রতীক রয়েছে, অবশ্যই সেসব আসনে ত্রিমুখী প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে। ফলে এই আসনগুলোতে বিএনপির প্রার্থীদের জয়ী হয়ে আসার ক্ষেত্রে বেগ পেতে হবে। অন্যদিকে, জামায়াত-এনসিপিসহ বিপরীত জোটের প্রার্থীরা স্বাভাবিকভাবে স্বস্তিতে থাকবে। যদিও নির্বাচনের আগ মুহুর্তে গিয়ে বিদ্রোহী প্রার্থীদের সঙ্গে বিএনপি সমঝোতায় পৌঁছালে সমীকরণ ভিন্ন হবে।’
আনিসুর রহমান আরও বলেন, ‘শেষ মুহুর্তে বিদ্রোহীদের সঙ্গে বিএনপি মনোনীত প্রার্থীদের সমঝোতা উড়িয়ে দেওয়া যায় না।’

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অন্তত ৭৫টি আসনে বিএনপির বহিষ্কৃত ও সাবেক নেতা এবং তাঁদের পরিবারের অন্তত ৮৯ জন স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে সক্রিয় রয়েছেন। আওয়ামী লীগ নির্বাচনী মাঠে না থাকায় এবারের নির্বাচনে বিএনপির প্রধান প্রতিপক্ষ হয়ে দাঁড়িয়েছে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্য। এসব আসনের দুই-তৃতীয়াংশেই ‘দাঁড়িপাল্লা’ প্রতীকের প্রার্থী থাকায় বিএনপি, দলীয় বিদ্রোহী এবং জামায়াতের মধ্যে ত্রিমুখী লড়াই হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
বিএনপি এবার আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো বড় জোটে না গেলেও বিগত দিনের আন্দোলন-সংগ্রামের সঙ্গী দলগুলোর সঙ্গে আসন সমঝোতা করেছে। ফলে সব মিলিয়ে ২৯২জন প্রার্থী ‘ধানের শীষ’ প্রতীকে নির্বাচন করছেন। এদের মধ্যে ৬ জন অন্য দল থেকে এসে বিএনপিতে যোগ দিয়ে মনোনয়ন পেয়েছেন। বাকি ৮টি আসনে মিত্র দলগুলো তাদের নিজস্ব প্রতীকে লড়ছে, যেখানে বিএনপি কোনো প্রার্থী দেয়নি। তবে মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ দিনে দেখা গেছে, ৭৯টি আসনে বিএনপির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অন্তত ৯২জন প্রার্থী স্বতন্ত্র হিসেবে মাঠে আছেন। এদের মধ্যে সাবেক সংসদ সদস্য ও বাগেরহাট জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি এম এইচ সেলিম একা তিনটি আসন থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
অবশ্য মনোনয়নপত্র চূড়ান্ত হওয়ার পর সমঝোতার মাধ্যমে ঝালকাঠি-১ ও নাটোর-১ আসনের ৪জন এবং শেরপুর-৩ ও কুমিল্লা-৯ আসনের বিদ্রোহী প্রার্থীরা বিএনপি প্রার্থীকে সমর্থন দিয়ে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন।
ভোট ভাগ হওয়ার ঝুঁকিতে বিএনপি
বাংলাদেশের অতীতের নির্বাচনগুলোর ফলাফল বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, বড় দলগুলোর জনগণের ভেতরে ভোটব্যাংক রয়েছে। অঞ্চলভিত্তিক এসব ভোটব্যাংক যেকোনো পরিস্থিতিতে দলের পক্ষে রায় দেন। বিশ্লেষকরা বলছেন, সরাসরি রাজনীতি না করলেও এসব জনগোষ্ঠী নির্বাচন এলে নির্বাচনী কর্মকাণ্ডে যুক্ত হন এবং নিজ দলের মার্কায় ভোট দেন। তৃণনমূল পর্যায়ে এসব ভোটব্যাংক প্রভাবিত হয় গোষ্ঠীর নেতা বা সামাজিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ ব্যাক্তিদের দ্বারা। এসব ব্যাক্তিরা সাধারণত স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাদের সাথে বিভিন্নভাবে যুক্ত থাকে। অধিকাংশ বিদ্রোহী প্রার্থী তৃণমূলের নেতা হওয়ায় ভোটব্যাংকের ওপর তাদের প্রভাব রয়েছে। সে হিসেবে এবারের নির্বাচনে বিএনপির ভোটব্যাংকে তৃণমূলের বিদ্রোহী প্রার্থীরা ভাগ বসানোর আশঙ্কা অমূলক নয়।
পাবনা-৪ আসনে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে লড়ছেন দলের চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা ও জেলা বিএনপির আহ্বায়ক হাবিবুর রহমান হাবিব। এই আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন জেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম সম্পাদক জাকারিয়া পিন্টু। নব্বই-পরবর্তী সময়ে এই আসনে জামায়াত কখনো জিততে না পারলেও এবার বিএনপির ভোট ভাগ হয়ে যাওয়ার সুযোগে তারা জয়ের স্বপ্ন দেখছে।
একই চিত্র পাবনা-৩ আসনে। সেখানে বিএনপির প্রার্থী কৃষক দলের সভাপতি কৃষিবিদ হাসান জাফির তুহিন। তবে তাঁর পৈতৃক নিবাস ওই এলাকায় না হওয়ায় নিজেকে ‘স্থানীয় প্রার্থী’ হিসেবে তুলে ধরছেন সদ্য বহিষ্কৃত বিএনপি নেতা ও সাবেক এমপি কে এম আনোয়ারুল ইসলাম। তুহিনের পক্ষে দলীয় পদধারীরা থাকলেও আনোয়ারের পক্ষে কাজ করছে বিএনপির একটি অংশ। এ বিষয়ে হাসান জাফির তুহিন বলেন, ‘এটি বড় কোনো চ্যালেঞ্জ নয়, একটি সমস্যা মাত্র। জনগণ ষড়যন্ত্র বুঝতে পারে এবং তারা বোকা নয়। তাই খুব বেশি সমস্যা হবে বলে মনে হয় না।’ অন্যদিকে স্বতন্ত্র প্রার্থী আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, ‘জনগণের ব্যাপক সাড়া পাচ্ছি। ফলাফল যাই হোক, শেষ পর্যন্ত মাঠে থাকব।’
বাগেরহাটের চারটি আসনেই বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী রয়েছে। বাগেরহাট-১ ও ৪ আসনে গত বছর বিএনপিতে যোগ দেওয়া কোপিল কৃষ্ণ মণ্ডল ও সোমনাথ দে এবং ২ ও ৩ আসনে শেখ মোহাম্মদ জাকির ও শেখ ফরিদুল ইসলাম ধানের শীষের প্রার্থী। এর মধ্যে ১, ২ ও ৩ নম্বর আসনে একাই ‘ঘোড়া’ প্রতীকে লড়ছেন সাবেক এমপি এম এ এইচ সেলিম। আর বাগেরহাট-৪ আসনে লড়ছেন বহিষ্কৃত বিএনপি নেতা কাজী খাইরুজ্জামান শিপন। অতীতে এসব আসন আওয়ামী লীগের দখলে থাকলেও ১৯৯১ ও ২০০১ সালে বাগেরহাট-৪ আসনে জামায়াত জয়ী হয়েছিল।
মিত্রদের ভাগ্যে অনিশ্চয়তা
সিলেট-৫ আসনে বিএনপি জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের সঙ্গে সমঝোতা করেছে। সেখানে জমিয়ত সভাপতি মাওলানা উবায়দুল্লাহ ফারুক বিএনপির সমর্থনে ‘খেজুর গাছ’ প্রতীকে লড়ছেন। তবে তাঁর বিপক্ষে ‘বিদ্রোহী’ হিসেবে মাঠে সক্রিয় আছেন জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি মামুনুর রশীদ (চাকসু মামুন)। স্থানীয় নেতাকর্মীরা মামুনের পক্ষে কাজ করছেন বলে জানা গেছে।
জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের সঙ্গে বিএনপি মোট চারটি আসনে সমঝোতা করলেও সবকটিতেই বিদ্রোহীরা চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছেন। নীলফামারী-১ আসনে জমিয়ত প্রার্থী মঞ্জুরুল ইসলামের বিপরীতে লড়ছেন খালেদা জিয়ার ভাগনে শাহরিন ইসলাম তুহিনের বাবা রফিকুল ইসলাম। নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে জমিয়তের মনির হোসেন কাসেমীর বিপরীতে লড়ছেন বহিষ্কৃত বিএনপি নেতা মোহাম্মদ শাহ আলম ও সাবেক এমপি মোহাম্মদ গিয়াসউদ্দিন। ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনে জমিয়ত নেতা জুনায়েদ আল হাবিবের বিপরীতে লড়ছেন বহিষ্কৃত বিএনপি নেত্রী ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা। রুমিন ফারহানা বলেন, ‘আমাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে, আমি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবেই লড়ছি। ভোটাররা আমার সঙ্গেই আছেন।’ জমিয়ত মহাসচিব মঞ্জুরুল ইসলাম আফেন্দী বলেন, ‘বিদ্রোহী প্রার্থীরা বড় চ্যালেঞ্জ। তবে বিএনপি তা প্রশমনের আশ্বাস দিয়েছে।’
ঢাকা-১২ আসনে বিএনপির সমর্থনে বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাইফুল হক প্রার্থী হলেও সেখানে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে লড়ছেন সাবেক যুবদল নেতা সাইফুল আলম নীরব। সাইফুল হক অভিযোগ করেন, তাঁর কর্মী ও জোটের ভাইদের হুমকি দেওয়া হচ্ছে। তিনি বলেন, ‘বিএনপির চেয়ারম্যান আমাকে মনোনীত করেছেন, জোটের সিদ্ধান্ত সবাইকে মেনে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।’
পটুয়াখালী-৩ আসনে গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুর ‘ট্রাক’ মার্কায় লড়ছেন, যেখানে তাঁর প্রধান বাধা বিএনপির বহিষ্কৃত সদস্য হাসান মামুন। অন্যদিকে ঝিনাইদহ-৪ আসনে গণঅধিকার পরিষদ থেকে বিএনপিতে আসা রাশেদ খাঁনের বিরুদ্ধে স্বতন্ত্র লড়ছেন স্বেচ্ছাসেবক দলের বহিষ্কৃত নেতা মো. সাইফুল ইসলাম ফিরোজ।
দলের অবস্থান
বিএনপির একাধিক সূত্র বলছে, শুরু থেকেই বিদ্রোহী প্রার্থীদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে বিএনপি। প্রথম দফায় একযোগে বেশ কয়েকজনকে বহিষ্কারও করা হয়। পরবর্তীতে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমান ব্যক্তিগতভাবে অনেক প্রার্থীর সঙ্গে কথা বলেন এবং তাদের প্রার্থিতা প্রত্যাহারের অনুরোধ জানান। এতে কেউ কেউ সাড়া দিলেও শেষ পর্যন্ত ৭৫ আসনে বিএনপি সংশ্লিষ্ট বিদ্রোহী প্রার্থী নির্বাচনের মাঠ থেকে সরে দাঁড়াননি।
বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির শিক্ষাবিষয়ক সম্পাদক অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম বলেন, ‘বিএনপি বিশাল দল, একাধিক যোগ্য প্রার্থী থাকা স্বাভাবিক। তবে মনে রাখতে হবে ব্যক্তির চেয়ে দল বড়। শৃঙ্খলাভঙ্গকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।’
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও নির্বাচন পরিচালনা কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান সেলিমা রহমান জানান, এ পর্যন্ত প্রায় ৮০ জন নেতাকে বহিষ্কার করা হয়েছে এবং এই প্রক্রিয়া চলমান। এটি কোনো নির্বাচনী কৌশল কি না—এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘এরকম কোনো পরিকল্পনা নেই। দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করায় নিয়মানুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।’
ত্রিমুখী লড়াইয়ের আভাস
বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থীদের আসন বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, আসনগুলোতে অন্তত দৃই তৃতীয়াংশ অর্থাৎ ৫০টি আসনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী রয়েছে। সঙ্গত কারণে এসব আসনে ত্রিমুখী লড়াইয়ের আভাস দিচ্ছেন রাজনীতি বিশ্লেষকেরা।
তরুণ রাজনীতি বিশ্লেষক ও বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক আনিসুর রহমান স্ট্রিমকে বলেন, ‘যে ৫০টির মতো আসনে দাঁড়িপাল্লা প্রতীক রয়েছে, অবশ্যই সেসব আসনে ত্রিমুখী প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে। ফলে এই আসনগুলোতে বিএনপির প্রার্থীদের জয়ী হয়ে আসার ক্ষেত্রে বেগ পেতে হবে। অন্যদিকে, জামায়াত-এনসিপিসহ বিপরীত জোটের প্রার্থীরা স্বাভাবিকভাবে স্বস্তিতে থাকবে। যদিও নির্বাচনের আগ মুহুর্তে গিয়ে বিদ্রোহী প্রার্থীদের সঙ্গে বিএনপি সমঝোতায় পৌঁছালে সমীকরণ ভিন্ন হবে।’
আনিসুর রহমান আরও বলেন, ‘শেষ মুহুর্তে বিদ্রোহীদের সঙ্গে বিএনপি মনোনীত প্রার্থীদের সমঝোতা উড়িয়ে দেওয়া যায় না।’

আওয়ামী লীগের দুঃসময়ে গোপালগঞ্জ অঞ্চলের মানুষের পাশে দাঁড়াবেন বলেই বিএনপির রাজনীতি করেছিলেন বলে মন্তব্য করেছেন গোপালগঞ্জ ৩ আসনের বিএনপি প্রার্থী ও কেন্দ্রীয় স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি এস এম জিলানী।
২ ঘণ্টা আগে
কিশোরগঞ্জ-৪ (ইটনা-মিঠামইন-অষ্টগ্রাম) আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ফজলুর রহমান বলেছেন, জামায়াত ক্ষমতায় গেলে দেশে ইসলাম ও গণতন্ত্র দুটিই ক্ষতিগ্রস্ত হবে। শনিবার (৩১ জানুয়ারি) বিকেলে ঘাগড়া ইউনিয়নে স্থানীয় বিএনপি আয়োজিত নির্বাচনী সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
৩ ঘণ্টা আগে
চব্বিশের গণঅভ্যুত্থান যে পরিবর্তন এনেছে তা শুধু রাজনীতিতে সীমাবদ্ধ রাখলে হবে না, মানুষের ভাগ্যেও পরিবর্তন আনতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। শনিবার (৩১ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় টাঙ্গাইলের চরজানা বাইপাস এলাকায় এক নির্বাচনী জনসভায় তিনি এ কথা বলেন।
৫ ঘণ্টা আগে
ওই তিন প্রার্থী হলেন– কুমিল্লা-১০ আসনে মোবাশ্বের আলম ভূঁইয়া ও আবদুল গফুর ভূঁইয়া এবং কুমিল্লা-৪ আসনে মঞ্জুরুল আহসান মুন্সী।
৫ ঘণ্টা আগে