leadT1ad

চুয়াডাঙ্গায় ভোটারদের দাবি কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় ও আধুনিক হাসপাতাল

স্ট্রিম সংবাদদাতা
স্ট্রিম সংবাদদাতা
চুয়াডাঙ্গা

প্রকাশ : ০১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১৪: ৪৩
চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে আধুনিক অবকাঠামো থাকলেও সেখানে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ও নার্সের চরম সংকট রয়েছে। স্ট্রিম ছবি

চুয়াডাঙ্গা জেলার শিক্ষা ও স্বাস্থ্য সেবার মান নিয়ে জনগণের দীর্বদিনের পুঞ্জীভূত ক্ষোভ ও বঞ্চনা এখন আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রধান আলোচ্য বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। সদর হাসপাতালটি ২৫০ শয্যায় উন্নীত করে বহুতলা ভবন করা হলেও কাঙ্ক্ষিত চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন জেলাবাসী। অন্যদিকে, একটি মানসম্মত বিশ্ববিদ্যালয়ের অভাবে উচ্চশিক্ষা গ্রহণে ব্যর্থ হচ্ছে জেলার হাজার হাজার মেধাবী শিক্ষার্থী। এই পরিস্থিতিতে নির্বাচনী মাঠে থাকা প্রার্থীরা এবার শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতের একগুচ্ছ প্রতিশ্রুতি নিয়ে ভোটারদের দ্বারে দ্বারে যাচ্ছেন।

স্থানীয়দের অভিযোগ, চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে আধুনিক অবকাঠামো থাকলেও সেখানে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ও নার্সের চরম সংকট রয়েছে। ২৫০ শয্যার এই হাসপাতালে পর্যাপ্ত জনবল না থাকায় রোগীদের ভোগান্তি এখন চরমে। চিকিৎসার প্রয়োজনে সাধারণ মানুষকে ছুটতে হচ্ছে পাশের জেলাগুলোতে।

সীমান্তবর্তী জেলা চুয়াডাঙ্গা ফল ও ফসলের জন্য দেশজুড়ে পরিচিত। কৃষিখাতে অভাবনীয় সাফল্য থাকলেও একটি কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় ও গবেষণাগারের অভাব দীর্ঘদিনের। চুয়াডাঙ্গা শিক্ষাবিদ ফোরামের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক অধ্যক্ষ শাহজাহান আলী বলেন, ‘চুয়াডাঙ্গায় একটি কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় এখন সময়ের দাবি। আমরা আশা করছি, প্রার্থীরা সংসদে গিয়ে এই দাবি পূরণ করবেন।’

নির্বাচনী লড়াইয়ে থাকা প্রার্থীরা এই দুই মৌলিক সংকটকে গুরুত্বের সঙ্গে দেখছেন। চুয়াডাঙ্গা-১ আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী শরিফুজ্জামান বলেন, ‘চুয়াডাঙ্গা দীর্ঘকাল অবহেলিত। সদর হাসপাতালটি ২৫০ বেডের হলেও ১০০ বেডের সমান সেবাও পাওয়া যায় না। আমি নির্বাচিত হলে শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার মান উন্নয়নকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেব।’

জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী মাসুদ পারভেজ রাসেল বলেন, ‘চুয়াডাঙ্গায় কৃষি উৎপাদন সমৃদ্ধ হলেও কোনো বিশেষায়িত বিশ্ববিদ্যালয় নেই। নির্বাচিত হওয়ার পর একটি আধুনিক কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করাই হবে আমার অন্যতম প্রধান লক্ষ্য।’

ইসলামী আন্দোলনের মনোনীত প্রার্থী মোহাম্মদ জহুরুল ইসলাম জানান, ভোটারদের সঙ্গে তাঁর আলোচনার মূল কেন্দ্রবিন্দু শিক্ষা ও স্বাস্থ্য। তিনি বলেন, ‘জয়ী হলে এই দুই খাতের উন্নয়ন নিশ্চিত করাই হবে আমার প্রথম অঙ্গীকার।’

তবে সাধারণ ভোটারদের মধ্যে প্রার্থীদের এসব আশ্বাস নিয়ে সংশয় রয়েছে। ভোটার হারুন-অর-রশীদ শান্ত আক্ষেপ করে বলেন, ‘আগেও অনেকে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন কিন্তু কেউ কথা রাখেনি। শিক্ষা ও স্বাস্থ্যখাতের অবস্থা এখনো নড়বড়ে।’

আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে জয়ী প্রতিনিধিরা এই দীর্ঘদিনের বঞ্চনা ঘোচাতে পারবেন কি না, এখন সেটিই দেখার বিষয়।

Ad 300x250

সম্পর্কিত