সীমান্তবর্তী জেলা চুয়াডাঙ্গার দুই সংসদীয় আসনে বইছে নির্বাচনী হাওয়া। প্রতিবার জাতীয় সংসদ নির্বাচন এলে প্রার্থীরা একগুচ্ছ প্রতিশ্রুতি দিয়ে ভোট নিলেও পরে তা ভুলে যান—এমন আক্ষেপ এ জনপদের মানুষের দীর্ঘদিনের। তবে আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোটাররা শুধু ‘কথার ফুলঝুরি’তে ভুলতে রাজি নন। চায়ের দোকান থেকে শুরু করে পাড়া-মহল্লার আড্ডায় এবার আলোচনার কেন্দ্রে রয়েছে দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত সমস্যাগুলোর স্থায়ী ও বাস্তবসম্মত সমাধান। উন্নয়নের ছোঁয়া থেকে পিছিয়ে পড়া এ জেলার ১০ লাখেরও বেশি ভোটার এবার প্রাপ্তি আর প্রত্যাশার পূর্ণ প্রতিফলন দেখতে চান ব্যালটের মাধ্যমে।
জেলা নির্বাচন অফিসের তথ্য অনুযায়ী, চুয়াডাঙ্গার দুটি আসনে এবার মোট ভোটার সংখ্যা ১০ লাখের বেশি। এর মধ্যে চুয়াডাঙ্গা-১ (সদর ও আলমডাঙ্গা) আসনে মোট ভোটার ৫ লাখ ১৩ হাজার ৭১৮ জন। যেখানে পুরুষ ভোটার ২ লাখ ৫৫ হাজার ৭০৪ জন, নারী ২ লাখ ৫৮ হাজার ৬ জন এবং হিজড়া ভোটার ৮ জন। এই আসনে ৩ জন প্রার্থী লড়ছেন।
অন্যদিকে, চুয়াডাঙ্গা-২ আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৪ লাখ ৯২ হাজার ৩৭৯ জন। এর মধ্যে পুরুষ ২ লাখ ৪৬ হাজার ৬৩১ জন, নারী ২ লাখ ৪৫ হাজার ৭৪৩ জন এবং হিজড়া ভোটার ৫ জন। এই আসনেও ভোটযুদ্ধে লড়ছেন ৩ জন প্রার্থী। চুয়াডাঙ্গার দুটি আসনে বিএনপি, জামায়াত ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মোট ৬ জন প্রার্থী নির্বাচনী ময়দানে সক্রিয় রয়েছেন।
ভোটারদের মতে, অতীতে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিরা চুয়াডাঙ্গার মৌলিক সমস্যা সমাধানে ব্যর্থ হয়েছেন। ভোটার হারুন-অর-রশীদ শান্ত ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘আগে যারা নির্বাচিত হয়েছেন, তারা এলাকার উন্নয়নে কোনো ভূমিকা রাখেননি। আমাদের শিক্ষাখাত ও স্বাস্থ্যসেবার মান এখনো নড়বড়ে।’
নারী ভোটার সুমিতা দে বলেন, ‘আমরা এমন প্রতিনিধি চাই যারা নারী সমাজকে এগিয়ে নেবে এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টি করবে। প্রার্থীরা এখন যে প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন, নির্বাচনের পর তা রক্ষা করতে হবে।’ আরেক ভোটার কানিজ সুলতানার দাবি, সীমান্তবর্তী জেলা হিসেবে চুয়াডাঙ্গায় মাদক, স্বর্ণ চোরাচালান ও সন্ত্রাস নিয়ন্ত্রণ করতে হবে।
স্থানীয়দের দাবি, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি ঘটিয়ে জননিরাপত্তা জোরদার করা জরুরি। প্রশাসনের জবাবদিহিতা নিশ্চিত না করলে মাদক ও চোরাচালানের এই প্রকোপ কমানো সম্ভব নয় বলে মনে করেন তারা।
চুয়াডাঙ্গা শিক্ষাবিদ ফোরামের সাধারণ সম্পাদক সাবেক অধ্যক্ষ শাহজাহান আলী বলেন, ‘প্রার্থীরা অনেক প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন, কিন্তু বাস্তবায়নই হলো আসল বিষয়। আমরা আশা করি, তারা প্রতিশ্রুতি পূরণ করে নতুন বাংলাদেশ গড়ায় অবদান রাখবেন।’
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে সাতটা থেকে বিকেল সাড়ে চারটা পর্যন্ত বিরতিহীনভাবে ভোটগ্রহণ চলবে। চুয়াডাঙ্গার মানুষ এবার ব্যালটের মাধ্যমে এমন এক নেতৃত্ব বেছে নিতে চান, যারা কেবল বুলি নয়, চুয়াডাঙ্গার সার্বিক উন্নয়নে দৃশ্যমান ভূমিকা রাখবেন।