‘লাল দালানে’র নাম শুনেছেন? কিংবা ‘চৌদ্দ শিক’ আর ‘শ্বশুর বাড়ি’র নাম? নিশ্চয়ই শুনেছেন। আর জানাজানির সূত্রে এও জেনেছেন, লাল দালান, চৌদ্দ শিক কিংবা শ্বশুর বাড়ি অনিবার্যভাবে লাল রঙের কোনো দালান, ছাতার চৌদ্দটি শিক আর স্ত্রীর প্রিয়তম পিত্রালয় বুঝিয়ে থাকে না; বরং বোঝায় এমন সব জায়গার নাম, যা শুনলে আতঙ্কে আমাদের ঘুম আসে না, সেগুলো হলো জেলখানা, হাজত কিংবা কয়েদখানা। এক সময় ইংরেজি ‘গার্ল’ শব্দটি দিয়ে লিঙ্গ-নির্বিশেষে অল্পবয়সী ছেলেমেয়ে যে-কাউকেই সম্বোধন করা যেত। কিন্তু আধুনিক ইংরেজিতে শব্দটি আটকে গেছে লৈঙ্গিক পরিচয়ের হ্যাঙারে। এখন ‘গার্ল’ হলো অল্পবয়সী কিশোরীতুল্য নারী। সাম্প্রতিক কালের বাংলাদেশের বাংলা ভাষায়ও শব্দের এ রকম অর্থবদল বা রূপান্তর ঘটেছে। শব্দের আর্থপরিধি কখনো কখনো সংকুচিত হয়েছে, কখনোবা প্রসারিত হয়েছে। এরকম কিছু শব্দের আর্থ-রূপান্তর নিয়ে কথা বলা যাক।
তরুণদের ভাষায়
ধরা যাক, ‘অস্থির’ শব্দটির কথা। সাধারণ অর্থ, যা স্থির নয়। প্রধানত বিশেষণ হিসেবে শব্দটি প্রয়োগ করা হয়ে থাকে। মানুষের চঞ্চলতা প্রকাশ করতে গিয়ে বলা হয়, ‘অস্থির ছেলে’, ‘অস্থির লোক’। রাজনৈতিক শোরগোলে চমকে উঠে বলি, ‘অস্থির রাজনৈতিক অবস্থা’, ‘অস্থির জীবনযাপন’। কিন্তু বাংলাদেশের তরুণ-প্রজন্মের মধ্যে ‘অস্থির’ শব্দটির অর্থবদল ঘটে গেছে; ‘অস্থির’ বলতে তারা বুঝিয়ে থাকেন চমকপ্রদ কোনো কিছু—যা মজার, আনন্দদায়ক এবং অভিভূত করার মতো গুণসম্পন্ন। হয়তো কারো গায়ে নতুন একটা জ্যাকেট, দেখতে খুবই সুন্দর। যিনি জ্যাকেটটি পরেছেন, তাকেও দেখতে সুন্দর লাগছে। এই পরিস্থিতিতে হয়তো বলে ফেলা হলো, ‘পুরাই অস্থির!’ কোনো কনসার্টে বিশ্বখ্যাতশিল্পী শাকিরা হয়তো তুমুল নেচেছেন; সেই নাচের সৌন্দর্য আর জমজমাট ভাবকে প্রকাশ করতে গিয়ে বলতে শোনা যেতে পারে, ‘অস্থির!’
ঠিক এ ধরনের অর্থাভাসযুক্ত আরও কিছু শব্দ—‘জটিল’, ‘ব্যাপক’। ‘জটিল’ শব্দটির আক্ষরিক অর্থ জটাযুক্ত বা জটাবিশিষ্ট। ঋষিদের চুলে জটা থাকে; সেক্ষেত্রে ‘জটিল ঋষি’ বলতে বোঝাবে মাথায় চুলের জটাযুক্ত ঋষি। জড়ানো, পেঁচানো, পাকানো বোঝাতে ‘জটিল’ শব্দের প্রয়োগ আছে। যা বোঝা কঠিন, এমন বোঝাতে আমরা অহরত ‘জটিল’ শব্দটি ব্যবহার করে থাকি। কোনো কিছু দুরূহ হলেও ‘জটিল’ শব্দটির সাহায্যে আমরা আমাদের ভাবকে স্পষ্ট করতে চাই। শব্দটিকে ঘিরে পরিচিতি কিছু প্রয়োগ—জটিল অবস্থা, জটিল জীবন, জটিল পরিস্থিতি, জটিল প্রশ্ন। কিন্তু তরুণদের ভাষা-পরিমণ্ডলে ‘জটিল’ হয়ে গেছে ভালো, চমকপ্রদ আর দৃষ্টিনন্দন কোনো কিছু। এ কারণে কেউ যদি কোনো ক্লাসরুমে খুব ভালো একটি প্রেজেন্টেশন দেয় তাহলে সে ‘জটিল কাজ’ করেছে বলে অভিনন্দিত হয়।
একই ধরনের পরিস্থিতি দাঁড়িয়েছে ‘ব্যাপক’ শব্দটিকে ঘিরেও। সাধারণভাবে শব্দটি বোঝায় কোনো কিছুর প্রসার বা বিস্তৃতি। আমরা হয়তো লিখতে দেখি, ‘ব্যাপক জনদুর্ভোগ’, ‘ব্যাপক নিরাপত্তাব্যবস্থা’, ‘ব্যাপক সমালোচনা’, ‘ব্যাপক সুযোগ’। কিন্তু তরুণদের ভাষায় শব্দটি সবসময় ঠিক এরকম থাকে না, অর্থ বদলে যায়। কেউ হয়তে বললেন, ‘ব্যাপক হয়েছে’; তাহলে বুঝতে হবে, কোনো অনুষ্ঠান, আয়োজন, কাজ, পোশাক, সজ্জা ইত্যাদি খুবই সুন্দর হয়েছে; সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি আনন্দের আতিশয্য প্রকাশ করছেন।
কোনো কিছু প্রবলভাবে ভালো লাগলে কিংবা আনন্দদায়ক হলে তরুণেরা বলেন ‘জোস্’। তরুণদের ভাষায় ফারসি থেকে বাংলা ভাষায় পরিগৃহীত ‘জোশ’ শব্দটিরও রূপান্তর ঘটেছে। ‘জোশ’ থেকে হয়েছে ‘জোস্’। ফারসিতে ‘জোশ’ শব্দের প্রধান অর্থ তাপ। বল, শক্তি বা উত্তেজনা বোঝাতেও শব্দটির বহুল প্রয়োগ দেখা যায়। আমরা প্রায়শই বলতে শুনি, ‘জেহাদি জোশ’। সম্প্রতি একটি পত্রিকায় জুসবিষয়ক ফিচারের শিরোনামে লেখা হয়েছে, ‘যে জুসে আসবে জোশ।’ জুস কী করে শরীরে চনমনে ভাব নিয়ে আসবে তার ইঙ্গিত আছে শিরোনামে ব্যবহৃত ‘জোশ’ শব্দে। কিন্তু তরুণেরা ঠিক এ ধরনের অর্থে ‘জোস্’ শব্দটিকে ব্যবহার করেন না। এই শব্দের ওপর ভর করে তারা বোঝাতে চান ‘দারুণ কিছু’। তারা হয়তো বলেন, ‘জোস্ হইছে’। অর্থাৎ চমৎকার, সুন্দর কিংবা ভালো কিছু হয়েছে।
‘সেই’-এর মতো একটি সর্বনাম ও বিশেষণ জাতীয় শব্দও রূপান্তরিত হয়েছে বিশেষণে। খুব ভালো হয়েছে এমন কোনো কিছুর প্রশংসায় আমরা বলতে শুনি, ‘সেই হয়েছে’। এর পাশাপাশি কেউ কেউ বলেন ‘সেই রকম’। কোন রকম? ‘সেই’-এর ভেতর উহ্য থাকা ভাবটি প্রধানত ইতিবাচক। দারুণ, চমৎকার, ভীষণ ইত্যাদি শব্দের বিকল্প হিসেবে ‘সেই’-এর প্রচলন দেখা যাচ্ছে সাম্প্রতিক কালের বাংলা ভাষায়। অথচ ‘সেই’-এর প্রচলিত প্রয়োগ এরকম—সেই ছেলেটি, সেই সময়, সেই সূত্রে।
কখনো কখনো কোনো কোনো শব্দের নতুন অর্থ অথবা বিশেষ প্রয়োগ জনপ্রিয় হয়ে ওঠে; তখন ভিন্ন অর্থের তাৎপর্য নিয়ে সেই শব্দ মানুষের কথ্যস্তরে স্থায়ী আসন পেয়ে যায়। অভিধানে স্থান পেতে তার আরও সময় লাগে। অভিধানপ্রণেতারা বেশি মনোযোগ দেন অতি-প্রচলিত লিখিত শব্দের প্রতি। কিন্তু ভাষা তো সব চেয়ে সচল থাকে মানুষের কণ্ঠস্বরে।
গত এক-দেড় দশকে সংকুচিত হয়ে এসেছে ‘ভাই’ শব্দটির আর্থপরিধি। এই ‘ভাই’ আত্মীয়বাচক মধুর সম্পর্কের কেউ নন। ‘ভাই’ হলেন বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের প্রভাবশালী ও সমীহপ্রত্যাশী ছাত্রনেতা, যাকে দেখতে পেলে তিন বেলা সালাম ঠুকতে হয়। ভীতিকর এই ‘ভাই’ প্রতি মুহূর্তে ক্ষমতাপ্রদর্শন করেন, তার আছে গডফাদারসুলভ ভঙ্গি, তিনিই ‘বিগবস’। শিক্ষার্থীরা তাকে ডাকেন ‘ভাই’।
তরুণদের মাধ্যমে অনেক শব্দই নতুন অর্থ পরিগ্রহ করে। বছর কয়েক আগে একটি বাগ্বিধি বা ইডিয়মের সুপ্রচুর প্রয়োগ দেখা গেছে, সেটি হলো ‘জমে খির’। কোনো অনুষ্ঠান, আয়োজন, উৎসব যদি জমজমাট হয়ে উঠত, বলা হতো ‘জমে খির’। সুমিষ্ট খাদ্য খিরের ঘনীভূত রূপটির সাযুজ্যে মিষ্টি-মধুর কোনো আয়োজনকে বিশেষণে ভূষিত করে বলা হতো জমে খির। ধরা যাক, দুজন ব্যক্তির মধ্যে বন্ধুত্ব, ভালোবাসা কিংবা সম্পর্কের মধ্যে চমৎকার বন্ধন গড়ে উঠেছে। সেটির গায়েও অভিধা জুটত জমে খির। জুটির মধ্যে যদি গভীর ভালোবাসি থাকে, তাও নাকি ‘জমে খির’।
অর্থবদলের তোড়ে বদলে গেছে জ্ঞাতিসম্পর্কবাচক শব্দও। আর তাই ‘আব্বা’, ‘কাকা’, ‘চাচা’, ‘মামা’ শব্দগুলো আত্মীয়তার যে ছকের কথা বলে তরুণেরা চলে গেছেন তার বাইরে। তরুণদের মধ্যে দেখা যায় বন্ধুরা পরস্পরকে ‘আব্বা’, ‘কাকা’, ‘চাচা’, ‘মামা’ বলে সম্বোধন করছে। তারা হয়তো বলছেন, ‘কাকা, কই ছিলা এই কয় দিন? দেখলাম না।’ তার মানে এই নয় যে, জলজ্যান্ত বাবার ভাই কাকার হদিস নেওয়া হচ্ছে। তরুণটি হয়তো বললেন, ‘শোন্ মামা, তোর এইটা করা ঠিক হবে না।’ সে মামাটিও মায়ের ভাই মামা নন।
বন্ধুদের মধ্যে কেউ যদি গড়নে একটু ভারিক্কি আর স্বভাবে একটু বুড়ো হয়ে থাকে, তাহলে তো কথাই নেই। নির্দ্বিধায় তার জন্য বরাদ্দ করা হয় ‘চাচা’ সম্বোধন। বাদ যায় না ‘আব্বা’, ‘আব্বু’ও। যুক্তিতক্কের ধার না ধারা এ ধরনের প্রয়োগ পুরোটাই আবেগে টইটম্বুর। তরুণেদের কাছে শব্দগুলো হয়ে ওঠে বন্ধুত্ব ও সম্পর্কের ঘনিষ্ঠতার মাপকাঠি।
তরুণীদের মধ্যে প্রচলিত একটি শব্দ ‘খালাম্মা’। ‘খালা’ ও ‘আম্মা’ মিলে ‘খালাম্মা’। এই শব্দেও মায়ের বোন খালার কোনো অস্তিত্ব নেই। বান্ধবীদের মধ্যে কেউ যদি মা-খালাদের মতো দায়িত্ব-সচেতন অথবা খানিকটা রক্ষণশীল হয়ে থাকেন, তাহলে বান্ধবীরা অনায়াসে তাকে চিহ্নিত করেন ‘খালাম্মা’ হিসেবে। ধরা যাক, কোনো অনুষ্ঠান-আয়োজনে যাওয়া ঠিক হবে কিনা—এই প্রসঙ্গ নিয়ে বান্ধবীদের মধ্যে কেউ প্রশ্ন তুললেন। কারণ ওই অনুষ্ঠানে অনেক ছেলে থাকতে পারে, লোকজনের ভীড় হতে পারে। এ রকম গণ-আয়োজনে যাওয়া, না-যাওয়া নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিল। তখন সেই প্রশ্নউত্থাপনকারীর কপালে জুটে যেতে পারে ‘খালাম্মা’ অভিধা। তখন হয়তো কোনো বান্ধবী বলে ফেলতেই পারে, ‘ওই খালাম্মা! কী কস এগুলো?’
দিনযাপনের ভূগোল থেকে কয়েক টুকরো
দিনযাপনের অনেক শব্দই অর্থবদল করেছে; যেমন ঘটেছে ‘ময়দা’ ও ‘মুরগি’র ক্ষেত্রে। দৈনন্দিন খাদ্যবস্তু হিসেবে ‘ময়দা’ শব্দের প্রয়োগ-পরিসর আমাদের চেনা। কিন্তু ‘ময়দা’র অর্থবদল ঘটে গেছে কিংবা বলা যায় অর্থ-যোগ ঘটে গেছে। ঠাট্টা করে ‘মেইক আপ করা’কে বলা হয় ‘ময়দা মাখা’। সাজঘরে গিয়ে সেজে আসা কাউকে দেখে হয়তো বলা হলো ‘ময়দা মেখে আসছে’। ময়দার সাদা ভাব আর মেইক আপের মাধ্যমে তৈরি করা কৃত্রিম ফরসা ভাবের সঙ্গে সন্ধি পাতিয়ে হচ্ছে ময়দা।
বদলে গেছে ‘মুরগি’ও। পাখি বোঝাতে ফারসিতে তার নাম ছিল ‘মরগাহ্’। বাংলায় ‘মরগাহ’ হয়ে গেছে পাখি জাতীয় গৃহপালিত প্রাণী। কিন্তু আর্থপরিধি ও প্রয়োগ-ক্ষেত্র বদলে ‘মুরগি’ ভিন্ন অর্থ পরিগ্রহ করেছে। মুরগি আছে বাংলাদেশের বাংলাবাজারে। ভাবতে পারেন, বইয়ের বাজারে মুরগি কেন! হ্যাঁ, বইয়ের বাজারেও মুরগি পাওয়া যায়। বাংলা বাজারে ‘মুরগি’ হলেন ‘নবীন লেখক, যিনি নিজের খরচায় বই প্রকাশ করতে চান’। ওই বাজারে এমন কিছু প্রকাশকও আছেন যারা নবীন কবি-লেখকদের কাছ থেকে টাকার বিনিময়ে বই প্রকাশ করে দেন। নবীন সেই কবি-লেখককে নিজের টাকায় নিজের বই কিনতে হয়। লাভ আর মূলধনের গুঁড়টুকু খায় প্রকাশনা-সংস্থা। বলাবাহুল্য, পুস্তকপ্রকাশাকুল এ ধরনের লেখকদের নামকরণ করেছেন প্রকাশকেরাই।
আরও একধরনের মুরগি আছে। এদের পাওয়া যায় বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে। ক্যাম্পাসে প্রথম বর্ষের নবীন শিক্ষার্থীরাই ‘মুরগি’ নামে পরিচিত। সাধারণত তরুণদের মুখেই এসব প্রয়োগ লক্ষ করা যায়। বয়স্করা এ জাতীয় শব্দ খুব একটা ব্যবহার করেন না। হতে পারে শব্দের এই ধরনের প্রয়োগকে তারা স্ল্যাং-এর পর্যায়ে ফেলেন।
খুবই প্রচলিত একটি শব্দ ‘চায়না’ বা ‘চায়নিজ’। সোজা অর্থ হলো চিনে উৎপন্ন। চিনা জিনিস বোঝাতে আলাপের পরিসরে শোনা যায়, চায়নিজ মাল। কিন্তু এর বাইরেও অর্থ আছে। ‘চায়না’, ‘চায়নিজ’ দ্বারা বোঝায় গুণগত দিক থেকে ভালো নয় এমন পণ্য; এসব পণ্য ভঙুর—দীর্ঘদিন ব্যবহারের অযোগ্য। এজন্য হয়তো কখনো কখনো পথচলিত মানুষের কণ্ঠে শোনা যায়, ‘জুতা কিনলাম, ছয় মাসও টিকল না। পুরাই চায়নিজ।’ এক্ষেত্রে জুতাটি অবশ্য যেকোনো দেশেই উৎপাদিত হতে পারে। যত দোষ নন্দ ঘোষ—একইভাবে যত খারাপ মাল, সবই চাইনিজ।
ইদানীং শোনা যায় ‘পেরা’ অথবা ‘প্যারা দেয়া’র প্রসঙ্গ। সমস্যায় আছি বোঝাতে অনেকেই বলেন ‘পেরায় আছি’। এরকম প্রয়োগ শুনে অনেকের মধ্যেই প্রশ্ন জাগে, ‘পেড়া’, ‘পেঁড়া’ কিংবা ‘প্যাঁড়া’ তো মিষ্টি জাতীয় খাবার; মিষ্টতার সঙ্গে ঝামেলা কিংবা জটিলতার কী সম্পর্ক? খানিকটা ভাবতে হয়। অনুমানের ঢিল ছুড়ে বলা যায়, ‘পেরা’ সম্ভবত ‘পেরেশান’ শব্দের সংক্ষেপিত রূপ। ফারসি ‘পেরেশান’ বোঝায় উদ্বিগ্ন বা চিন্তিত দশা। সেই দশাকেই প্রকাশ করে এ কালের ‘পেরা’। ‘পেরা’ কিন্তু ‘প্যায়ারা’ নয়। অর্থাৎ ‘প্যায়ারে’র সঙ্গে কোনো সম্পর্ক নেই।
গত এক-দেড় দশকে সংকুচিত হয়ে এসেছে ‘ভাই’ শব্দটির আর্থপরিধি। এই ‘ভাই’ আত্মীয়বাচক মধুর সম্পর্কের কেউ নন। ‘ভাই’ হলেন বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের প্রভাবশালী ও সমীহপ্রত্যাশী ছাত্রনেতা, যাকে দেখতে পেলে তিন বেলা সালাম ঠুকতে হয়।
সমস্যা, বিপদ, নিরুপায় ইত্যাদি ভাব বোঝাতে বাংলায় প্রচলিত আছে ‘ফাঁপর’ শব্দটি। বিপদে পড়ার ভাব বোঝাতে আমরা বলি, ‘ফাঁপরে পড়া’। মনের অস্বস্তি কিংবা মন খারাপ বোঝাতেও আছে ‘ফাঁপরে’র প্রয়োগ। ধারণা করা হয়, শব্দটি প্রাকৃতের সূত্রে বাংলায় এসেছে। সাম্প্রতিক কালে কাউকে বিব্রত করার কাজ বোঝাতে বলা হয় ‘ফাঁপর দেওয়া’। আবার কেউ যদি ক্ষমতা কিংবা বল প্রদর্শন করে তাহলে বলতে শোনা যায় ‘ফাঁপর নেওয়া’র কথা। অর্থাৎ শব্দটির আর্থপরিধি বদলেছে।
‘কাহিনি’ শব্দটির সঙ্গে নাটক ও সিনেমার সম্পর্ক থাকলেও ‘কাহিনি’ চলে এসেছে বাঙালির মুখের ভাষায়। ঘটনা বা পরিস্থিতি দ্বারা যা বোঝানো হয়ে থাকে ‘কাহিনি’র মর্মমূলে আদতে তা-ই লুকিয়ে আছে। কেউ যদি বলেন ‘কাহিনি কী’, ‘কাহিনি বুঝলাম না’ তখন বুঝতে হবে যে, বক্তা ‘কাহিনি’ শব্দটি দিয়ে কোনো ঘটনা বা পরিস্থিতির পূর্বাপর বুঝতে চাইছেন।
অর্থবদলের এই ধুন্ধুমার কাণ্ডে ঢুকে পড়েছে ইংরেজি শব্দও। স্থানীয়করণের ফলে বদলে গেছে এসব ইংরেজি শব্দের উচ্চারণ ও অর্থ। মনের মাধুরী (দীক্ষিত?) মিশিয়ে বাঙালি তৈরি করে নিয়েছে নিজস্ব অর্থ। ‘শান্টিং দেওয়া’ তেমনই একটি প্রয়োগ। ইংরেজি shunting শব্দটি ট্রেনের মালগাড়ি রাখার বিন্যাস ও পুনর্বিন্যাস সম্পর্কিত অর্থ ধারণ করে। মালগাড়ির বোচকা থেকে ‘শান্টিং’ নেমে এসেছে কথ্য বাংলায়। শব্দটি বোঝায় কোনো কিছুর জন্য কাউকে আচ্ছামতো বকাঝকা করা, উচিৎ শিক্ষা দেওয়া। অভিধানে এ অর্থে ‘শান্টিং’-এর অর্থ মেলে না।
ইংরেজি থেকে গৃহীত Heavy শব্দটিরও স্থানীয়করণ ঘটেছে। বাংলায় Heavy হয়েছে ‘হেবি’, ‘হেব্বি’। ইংরেজি ‘হেভি’ দিয়ে আমরা কোনো কিছুর ওজন বুঝি। বিশেষণ হিসেবে এই প্রয়োগ অতি-প্রচলিত। কিন্তু বাঙালি সেখানে আটকে নেই। কোনো কিছুর আভিজাত্য, সৌন্দর্য অথবা বিশিষ্টতাকে বোঝাতে তারা বলে ‘হেবি’, ‘হেব্বি’। এর শুরু সম্ভবত আশি-নব্বই দশকের তরুণদের মাধ্যমে। পরে এর প্রয়োগের বিস্তৃতি বেড়েছে।
ইংরেজি থেকে আসা খুবই প্রচলিত শব্দ ‘হেলিকপ্টার’, যাকে আমরা আকাশে উড়তেই দেখি। অথচ এই বস্তুনির্দেশক শব্দটিকে প্রয়োগ করতে দেখি ভিন্নার্থে; বাংলাদেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ‘হেলিকপ্টার’ হলো মুরগির পাখার মাংস। বাঙালির সুদূপ্রসারী কল্পনা মুরগির ডানাকে কল্পনা করেছে হেলিকপ্টারের পাখার সঙ্গে। হতে পারে হয়তো কোনো এক নিরীহ ঠাট্টাই শব্দের এই অর্থবদলের কারণ।
কোনো ক্যাম্পাসীয় পরিমণ্ডলে মুরগি খেতে আপনি হয়তো আরেকটি শব্দও শুনে থাকতে পারেন; সেটি হলো ‘গেটিস’। ইংরেজিতে gratis শব্দটি বোঝায় বিনামূল্যে কিংবা মাগনা। বাংলায় সেটি হয়ে গেছে ‘গেটিস’। খাবার হোটেলগুলোতেও এর প্রয়োগ দেখা যায়। গেটিস কী? খাবার হিসেবে দেওয়া মূল ডিসের অতিরিক্ত অংশই ‘গেটিস’। অর্থাৎ হোটেলে খাবার পরিবেশনের সময় বাড়তি যে ঝোল, ডাল, তরকারি দেওয়া হয় সেটির নাম হয়ে গেছে ‘গেটিস’। অবশ্য মনে রাখতে হবে, ডালের গেটিস হিসেবে ডালই দেওয়া হয়, মুরগির ঝোল নয়।
আকার-আকৃতি বোঝাতে ইংরেজি থেকে ধার করে আমরা বলি, ‘সাইজ’। যেমন, ‘শার্টের সাইজ’, ‘প্রমাণ সাইজের ইলিশ মাছ’। কিন্তু ক্রিয়াপদ হিসেবে ‘সাইজ’ শব্দটি অন্যতর অর্থের দিকেও গিয়েছে; কাউকে আঘাত করা, উচিৎ শিক্ষা দেওয়া বোঝাতে খুব প্রচলিত প্রয়োগ হলো ‘সাইজ করা’।
ইংরেজি শব্দযোগে আরেকটি অতি-প্রচলিত বাগ্ভঙ্গি ‘দুই নম্বর’। এর সাধারণ অর্থ বোঝায় দ্বিতীয় সংখ্যক। কিন্তু অর্থ সংকোচের ফলে ‘দুই নম্বর’-এর অর্থ হয়ে দাঁড়িয়েছে নকল। এ কারণে আমরা বলি, ‘দুই নম্বর জিনিস’। ধাপ্পাবাজি বা ঠকবাজি বোঝাতে আমরা বলি ‘দুই নম্বরি কাজ’।
বৈদ্যুতিক বাতি হিসেবে ‘টিউবলাইটে’র জুড়ি নেই। অথচ ইংরেজি থেকে বাংলায় তৈরি হওয়া ‘টিউবলাইট’ শব্দটিকে ব্যবহার করা হয় ভিন্নার্থে। বিশিষ্ট অর্থে ‘টিউবলাইট’ হলো বোকাসোকা বা কমবুদ্ধিসম্পন্ন ব্যক্তি। কারণ পরিপূর্ণভাবে আলো জ্বলার আগে টিউবলাইটে দুই-তিনবার আলোর কম্পন দেখা যায়। আর তার জন্য দরকার স্টার্টার নামক অন্য এক বৈদ্যুতিক সামগ্রী। কমবুদ্ধিসম্পন্ন ব্যক্তি যেন তেমনই একজন—বুদ্ধির ধার খুলতে সামান্য সময় নেয়। অতএব কারো কারো অভিধায় কোনো কোনো বন্ধু বা ব্যক্তি হয়ে ওঠে ‘টিউবলাইট’।
আরও একধরনের মুরগি আছে। এদের পাওয়া যায় বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে। ক্যাম্পাসে প্রথম বর্ষের নবীন শিক্ষার্থীরাই ‘মুরগি’ নামে পরিচিত। সাধারণত তরুণদের মুখেই এসব প্রয়োগ লক্ষ করা যায়।
সাম্প্রতিক কালে অতি-প্রচলিত প্রয়োগ ‘রোস্ট করা’। ইংরেজিতে roast-এর একটি অর্থ হলো ঝলসানো। আমরা মুরগি ঝলসাই, মাছ ঝলসাই। কিন্তু কাউকে অতিরিক্ত সমালোচনা করা অর্থেও ‘রোস্টে’র প্রয়োগ আছে। বাংলায় ‘রোস্ট’ বোঝায় কাউকে নিয়ে রঙ্গব্যঙ্গ কিংবা হাস্যরসাত্মকভাবে মজা করা। বাংলায় যার আরেকটি রূপ ‘পচানো’।
ইংরেজি থেকেই বাংলায় এসেছে ‘গ্যাস’। সরল অর্থ বায়ুজাতীয় পদার্থ। আমরা বলি, গ্যাস চেম্বার, গ্যাসবেলুন, প্রাকৃতিক গ্যাস, বিষাক্ত গ্যাস। আবার পেটে গ্যাস হওয়ার প্রয়োগও আছে বাংলা ভাষায়। আবার, কটু গন্ধ বোঝাতেও আছে ‘গ্যাস’। আঞ্চলিক বাংলায় ‘গ্যাস বের হওয়া’র মানে হলো বাজে কোনো গন্ধ বের হওয়া; হতে পারে কোনো পানা-পুকুরের অথবা ময়লা ডোবার।
শব্দের অর্থ যখন বর্ণবাদ
শব্দের রূপান্তর কখনো কখনো বেশ বর্ণবাদীও হয়ে ওঠে। যেমনটি ঘটেছে বাংলাদেশে ‘রোহিঙ্গা’ শব্দটির ক্ষেত্রে। মিয়ানামারে জাতিগত নিধনের সময় রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর প্রচুরসংখ্যক মানুষ বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে। এদের অধিকাংশই দরিদ্র। বহিরাগত জাতির পোড় খাওয়া অধস্তন দশাটি কারো কারো কাছে ব্যঙ্গাত্মক রূপ পেয়েছে। ‘রোহিঙ্গা’ শব্দটিকে তারা প্রায় গালির পর্যায়ে নামিয়ে এনেছেন। তাদের কাছে দরিদ্র, জোড়াতালি দেওয়া জীবনের হতশ্রী দশার যেকোনো ব্যক্তিই ‘রোহিঙ্গা’। কাউকে অধস্তন করার ক্ষেত্রে ‘রোহিঙ্গা’ শব্দটি ব্যবহার করে থাকেন কেউ কেউ।
ব্রাহ্মণ্যবাদী ইতিহাস বহনকারী ‘ব্রাহ্মণ’ শব্দটিও অর্থবদলের দৃষ্টান্ত বহন করে। বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে ‘ব্রাহ্মণ’ হলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকবৃন্দ। শিক্ষার্থীরা ব্যঙ্গ করে এই নতুন অর্থ তৈরি করেছেন। শব্দটির ব্যঙ্গের লক্ষ্য শিক্ষকদের আচরণিক আভিজাত্য; এক কালে ব্রাহ্মণরা জাতের শ্রেষ্ঠত্ব দেখিয়ে অন্য জাতসমূহকে তুচ্ছতাচ্ছিল্য করতেন। শিক্ষার্থীদের দৃষ্টিতে শিক্ষকরাও যেন তেমন আভিজাত্যের গর্বে নাক-উঁচু। আর তাই কট্টর চতুর্বর্ণীয় প্রথার উচ্চতম ধাপের অনুসরণে শিক্ষকদের অন্য নাম হয়ে উঠেছে ‘ব্রাহ্মণ’। শিক্ষার্থীদের মনস্তত্ত্বে কাজ করেছে ব্রাহ্মণ্যবাদের বর্ণবাদী দৃষ্টিভঙ্গির সমালোচনা।
শব্দের অর্থরূপান্তরের ভেতর লুকিয়ে থাকে ভাষাভাষী জনগোষ্ঠীর নীরব সহিংসতা। সাম্প্রতিক বাংলা ভাষায় ‘অটিস্টিক’ শব্দটির অর্থপরিধিতে প্রবেশ করেছে সহিংসতার আবহ। অটিজমে আক্রান্ত ব্যক্তির আচরণ ও মুখভঙ্গির সঙ্গে তুলনা সাপেক্ষে কারো কারো উদ্দেশ্যে কাউকে কাউকে বলতে শোনা যায় ‘অটিস্টিক’। ইংরেজিতে ‘অটিস্টিক’ বিশেষণ হলেও বাংলায় তা বিশেষ্যে রূপান্তরিত হয়েছে। শব্দটির আরোপিত অর্থ হলো নির্বুদ্ধিতা, অস্বাভাবিক আচরণ এবং অঙ্গভঙ্গিযুক্ত মানুষ।
অনেকে বোকামির ভাব বোঝাতে ‘অটিস্টিকে’র বিকল্প হিসেবে ‘প্রতিবন্ধী’ শব্দটিকেও ব্যবহার করে থাকেন। কেউ হয়তো নিজের ঘনিষ্ঠ বন্ধুকে ডেকে বসেন, ‘অ্যাই অটিস্টিক’ কিংবা ‘কী রে প্রতিবন্ধী কী খবর’। অথচ ‘প্রতিবন্ধী’ ও ‘অটিস্টিক’ শব্দ দিয়ে মুখ্যত শারীরিক ও মানসিকভাবে ব্যাহত ব্যক্তি ও তার অবস্থাকে চিহ্নিত করা হয়ে থাকে। নির্মম হলেও সত্য যে, বাংলা ভাষায় আমরা শব্দ দুটির ব্যঙ্গাত্মক প্রয়োগ দেখতে পাই। এ ধরনের প্রয়োগ আদতে একধরনের ভাষা-সহিংসতা। কেননা এসব শব্দ প্রয়োগের মাধ্যমে মানুষের শারীরিক ও মানসিক পরিস্থিতিকে নীরবে আঘাত করা হয়।
কোনো কোনো শব্দ প্রয়োগের ভেতর রয়ে গেছে বড়লোকি ভাব, আছে শ্রেণি-বৈষম্যের অনুষঙ্গ। যেমন, ‘খেত’ শব্দটি দিয়ে শস্যক্ষেত্র বোঝালেও পরিস্থিতি-সাপেক্ষে শব্দটি হয়ে ওঠে অসম্মানজনক ও আক্রমণাত্মক অভিধা। অনেকের কাছে ‘খেত’ দ্বারা বোঝায় অসংস্কৃত, অসভ্য, রুচিহীন মানসিকতা। এর পেছনে পূর্ব-ধারণা হিসেবে কাজ করছে ‘খেতে কাজ করা লোকেদের আচরণ’। মানে, অনুন্নত কৃষিজীবী জনগোষ্ঠী, যারা শিক্ষাদীক্ষা নিয়ে ‘সভ্য’, ‘সংস্কৃত’, ‘উন্নত রুচি’র হয়ে উঠতে পারেনি। ‘লোকটা একদম খেত’—এই বাক্যের অর্থ দাঁড়ায় উদ্দিষ্ট ব্যক্তিটি ‘অনুন্নত’ স্তরের।
শেষ কথাটি বলবে কে?
কেন এই অর্থবদল? চিরায়ত কাল ধরে ভাষাবিজ্ঞানীরা এ ধরনের প্রশ্নের জবাব খুঁজেছেন। ডান্ডা মেরে তো কেউ শব্দের ওপর ভাব আরোপ করেনি কেউ; আসলে শব্দের অর্থ রূপান্তরের পেছনে সুনির্দিষ্ট একক কোনো কারণ নেই। ভাষাভাষীর স্বেচ্ছাচারিতা ভাষাকে প্রভাবিত করে। সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও অর্থনৈতিক কার্যকারণ শব্দের প্রচলিত অর্থকে বদলে দেয়। ভাষাভাষীর উদ্ভট কল্পনা, ভাষা নিয়ে খেলা, ভুল অর্থবোধও পুরনো শব্দের গায়ে নতুন অর্থের আঁচড় লাগাতে পারে।
কখনো কখনো কোনো কোনো শব্দের নতুন অর্থ অথবা বিশেষ প্রয়োগ জনপ্রিয় হয়ে ওঠে; তখন ভিন্ন অর্থের তাৎপর্য নিয়ে সেই শব্দ মানুষের কথ্যস্তরে স্থায়ী আসন পেয়ে যায়। অভিধানে স্থান পেতে তার আরও সময় লাগে। অভিধানপ্রণেতারা বেশি মনোযোগ দেন অতি-প্রচলিত লিখিত শব্দের প্রতি। কিন্তু ভাষা তো সব চেয়ে সচল থাকে মানুষের কণ্ঠস্বরে। অভিধানপ্রণেতারা তাই শব্দের অর্থ বদলের দৌড়ের সঙ্গে কুলিয়ে উঠতে পারেন না। এ কারণে প্রচলিত শব্দের অভিধানসম্মত অর্থের বিপরীতে সারিতে থেকে যায় শব্দের অর্থবদলের কথ্য-ইতিহাস। শব্দের অর্থ নিয়ে তাই শেষ কথা বলবে কে!
অনেকেই ভাষাকে নদীর সঙ্গে তুলনা করে থাকেন; নদী যেমন ঢেউ তুলে পাড় ভেঙে বহু বর্ষ ধরে বইতে থাকে, ভাষাও তেমনই যেন—প্রবহমান, তরঙ্গসংকুল। ভাষা বহন করে চলে ধ্বনি ও শব্দের নুড়ি, পাথর ও বালি। কিন্তু এ ধরনের তুলনা দিয়ে ভাষার বৈচিত্র্যকে সব সময় বুদ্ধি ও যুক্তির আওতায় নিয়ে আসা যায় না। ভাষাভাষীর মনোস্থিত বাসনার চাপে ভাষা কখনো কখনো স্বেচ্ছাচারীও হয়ে ওঠে। সমাজ, সংস্কৃতির বিধান বা অনুশাসন না মানার ঝোঁক তারও আছে। শাশ্বত চেহারা নিয়ে ভাষা টিকে থাকতে পারে না। ভাষার জন্ম, ক্ষয় ও বিলুপ্তি আছে। মোটা দাগে এই কথাগুলোকে যদি সত্য বলে ধরে নিই তাহলে বলতেই হবে যে, ভাষার ইতিহাসে শব্দের অর্থবদলও এক অবশ্যম্ভাবী ঘটনা।