বালুর ঘাটে ইজারাদারের কর্মীকে পেটালেন ইউএনও

স্ট্রিম প্রতিবেদক
স্ট্রিম প্রতিবেদক
ময়মনসিংহ

প্রকাশ : ১৩ আগস্ট ২০২৬, ০৯: ৪১
বালুর ঘাটে ইজারাদারের কর্মীকে ইউএনওর থাপ্পড়। ছবি: সংগৃহীত

ময়মনসিংহের ত্রিশালে বালুর ঘাটে ইজারাদারের এক কর্মীকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) মারধরের অভিযোগ উঠেছে। ঘটনার একটি সিসি ক্যামেরার ফুটেজ সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ভিডিওতে ইউএনওকে ওই ব্যক্তিকে থাপ্পড়ের পর লাঠি দিয়ে পেটাতেও দেখা যায়।

বুধবার (১২ আগস্ট) বেলা ১টার দিকে ত্রিশাল উপজেলার কাঁঠাল ইউনিয়নের কালীরবাজারের কুলুরবাড়ি এলাকায় বালু বিক্রির একটি পয়েন্টে ঘটনাটি ঘটে বলে জানিয়েছে ইজারাদার পক্ষ।

ফুটেজে দেখা যায়, ত্রিশালের ইউএনও আরাফাত সিদ্দিকীর সঙ্গে আনসার ও র‍্যাবের সদস্যরা ওই বালু বিক্রির পয়েন্টে যান। ইউএনও ইজারার কাগজপত্র দেখতে চান। এ সময় সেখানে থাকা ঠিকাদারের ব্যবস্থাপক তাঁদের পরিচয় জানতে চান। আরাফাত সিদ্দিকী জানান, তিনি ত্রিশালের ইউএনও এবং ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করছেন।

কথার একপর্যায়ে ইউএনও সারোয়ার জাহানকে পরপর দুটি থাপ্পড় দেন। তখন র‍্যাবের এক সদস্য সারোয়াকে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে ইউএনও ওই সদস্যের হাত থেকে একটি লাঠি নিয়ে তাকে আঘাত করেন। এ সময় উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. মাহবুবুর রহমান ইউএনওকে থামানোর চেষ্টা করেন।

ইজারাদার পক্ষ জানান, মারধরের শিকার ব্যক্তি ময়মনসিংহ মহানগর ছাত্রদলের সাবেক সহসভাপতি সারোয়ার জাহান ওরফে বাচ্চু। তিনি বর্তমানে সৃষ্টি এন্টারপ্রাইজের ব্যবস্থাপক। তাঁকে মারধরের পরে র‍্যাবের গাড়িতে করে ধলা এলাকায় নিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়। সেখান থেকে তাঁকে উদ্ধার করে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

সৃষ্টি এন্টারপ্রাইজের মালিক শামসুজ্জামান মাসুদ জানান, তিনি প্রায় দুই কোটি টাকা ব্যয়ে বালুর ঘাট ইজারা নিয়েছেন। পাঁচ-ছয় মাস আগে ইজারা পেলেও রাস্তা না থাকায় ৮-১০ দিন আগে বালু সরানো শুরু করেছেন। তাঁর কালীরবাজারের কুলুরবাড়ি এলাকায় বালু বিক্রির কাউন্টার চালু করা হয়েছে।

শামসুজ্জামান বলেন, ‘সিসি ক্যামেরার ফুটেজে দেখেছি, ইউএনও কাউন্টারে ঢুকে কাগজপত্র দেখতে চান। কর্তৃপক্ষের কাছে কাগজ আছে, এনে দেওয়া হবে বলার পর তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে কর্মীকে মারধর করেন। ঘাটটি বৈধভাবে ইজারা নেওয়া। ঘটনার পর ইউএনওর সঙ্গে দেখা করতে গেলেও দেখা করতে পারিনি।’

ঘটনার পর ত্রিশালের ইউএনও ও এসি ল্যান্ডের বক্তব্য জানতে তাঁদের দাপ্তরিক মুঠোফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তারা ধরেননি।

এ বিষয়ে ময়মনসিংহ জেলা প্রশাসক মো. সাইফুর রহমান বলেন, ‘আমি ভিডিওটি দেখেছি। ইউএনও যে আচরণ করেছেন তা পেশাদারিত্বের মধ্যে পড়ে না। কোন পরিস্থিতিতে তিনি (ইউএনও) কী করেছেন, তাকেই জবাব দিতে হবে। ভুক্তভোগী লিখিত অভিযোগ দিলে সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

Ad 300x250
লেটেস্ট
সর্বাধিক পঠিত

সম্পর্কিত