চুয়াডাঙ্গায় লোডশেডিংয়ের প্রভাবে ডিম উৎপাদন অর্ধেকে

স্ট্রিম সংবাদদাতা
স্ট্রিম সংবাদদাতা
চুয়াডাঙ্গা

প্রকাশ : ১৩ আগস্ট ২০২৬, ০৮: ৫৪
পোল্ট্রি খামার। সংগৃহীত ছবি

চুয়াডাঙ্গায় সদর উপজেলা হাতিকাটা গ্রামের জোয়ার্দ্দার পোলট্রি ফার্ম। এ ফার্মে ৩ হাজার লেয়ার মুরগি আছে। যেখানে প্রতিদিন ২ হাজার ডিম উৎপাদন হতো। লোডশেডিংয়ের কারণে ডিম উৎপাদন কমেছে দৈনিক ৫০০ থেকে ৭০০টি। এই সঙ্গে বেড়েছে মুরগি ও ডিম উৎপাদনের খরচ। এই খামারে ডিম উৎপাদন হচ্ছে ৬০ হাজার, লোডশেডিংশের যা ছিল ৭৫ হাজারের বেশি।

সারা দেশে লোডশেডিংয়ের প্রভাবে পোলট্রি শিল্প খাতে বড় লোকশানের ধাক্কা খাচ্ছে খামার মালিকেরা। দিনে ও রাতের বেলায় ঘন ঘন লোডশেডিংয়ের প্রভাবে চুয়াডাঙ্গাতে ডিম উৎপাদনে ব্যহত হচ্ছে। দিনে ও রাতের অর্ধেক সময়জুড়ে বন্ধ থাকছে বিদ্যুৎ। যার ফলে মুরগি ও ডিম উৎপাদনে লোকশান গুনতে হবে বলে জানান খামারমালিকরা।

হাতিকাটা জোয়ার্দ্দার ফার্মের মালিক পিন্টু জোয়ার্দ্দার স্ট্রিমকে জানান, চুয়াডাঙ্গার ওজোপাডিকো ও পল্লী বিদুৎ বিভাগে প্রায়ই বিদ্যুৎ বন্ধ থাকছে। এতে খামারমালিকেরা খুব বিপাকে আছে। বিদ্যুৎ না পেয়ে ডিজেলচালিত জেনারেটর চালাতে হচ্ছে। এতে ব্যয় বাড়ছে।

তিনি আরও জানান, প্রতিমাসে মুরগি ও ডিম উৎপাদনে বাড়তি ১ লাখ টাকা খরচ গুনতে হচ্ছে। লোডশেডিংয়ের প্রভাব কমে গেলে পোলট্রি খাতে লাভের সম্ভাবনা আছে । লোডশেডিং চলতে থাকলে ফার্মমালিকদের পথে বসার উপক্রম হয়ে যাবে।

চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রাণিসম্পদ কার্যালয়ে সুত্রে জানাগেছে, জেলায় প্রান্তিক ব্রয়লার মুরগির খামার ৮ হাজার ২৯৫টি, লেয়ার মুরগি খামার ৫ হাজার ৯২৮টি, হাঁসের খামার ৩৯৮টি। অপরদিকে ব্রয়লার মুরগি খামারের সংখ্যা ৬২টি, লেয়ার মুরগির খামার ২১ ও হাঁসের খামার ৬টি।

পোলট্রি খামারি মিরাজ হোসেন বলেন, ‘ঘন ঘন লোডশেডিংর কারণে মুরগি ও ডিম উৎপাদনে অনেক সমস্যা তৈরি হচ্ছে। এক ঘন্টা পর পর বিদ্যুৎ বন্ধ থাকছে। এতে ডিম উৎপাদন প্রতিদিন কমে আসছে। ফলে ফার্মে অনেক লোকশান গুনতে হচ্ছে।’

জেলা প্রাণিসম্পদ অফিসার মো. সাহাবুদ্দিন স্ট্রিমকে বলেন, চুয়াডাঙ্গায় লোডশেডিংয়ের কারণে আমাদের খামারিরা বিপাকে আছে। তাদের মুরগি ও ডিম উৎপাদনে খরচ বাড়ছে। এই বিদ্যুৎ বন্ধ থাকায় মুরগি ডিম উৎপাদনে বড় সমস্যা তৈরি হয়েছে।

চুয়াডাঙ্গা ওয়েস্ট জোন পাওয়ার ডিস্টিভিশন কোম্পানি লিমিটেড (ওজোপাডিকো) সূত্রে জানাগেছে, চুয়াডাঙ্গা সদর ও আলমডাঙ্গা উপজেলা মিলে বিদ্যুতের গ্রাহক আছে ৬০ হাজার। এখানে বিদ্যুদের চাহিদা ২৫ মেগাওয়াট। যেখানে সরবরাহ করা হচ্ছে ২০ মেগাওয়াট। চাহিদার তুলনায় ৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ কম। ওজোপাডিকোর বিদ্যুৎ উপকেন্দ্র আছে ৩টি।

অপরদিকে, চুয়াডাঙ্গা-মেহেরপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি জানিয়েছে, চুয়াডঙ্গায় পল্লী বিদ্যুতের গ্রাহক আছে ৮৪ হাজার। তবে এই বিদ্যুৎতের চাহিদা রয়েছে ২০ মেগাওয়াট। যেখানে বিদ্যুত সরবরাহ করা হচ্ছে ১৩ মেগাওয়াটে ভিতরে। তবে বিদ্যুতের ঘাটতি রয়েছে ৭ মেগাওয়াট। কারণ ৪০ মেগাওয়াট বিদ্যুত দিয়ে দুইটা জেলা কাভার করা লাগে।

এ বিষয়ে ওজোপাডিকো এর নির্বাহী প্রকৌশলী আহসান হাবিব স্ট্রিমকে বলেন, ’জাতীয় গ্রিড থেকে বরাদ্দ বৃদ্ধি না পাওয়া পর্যন্ত এই সাময়িক সংকট দূর করা সম্ভব হচ্ছে না। আমরা চাহিদা মতো বিদ্যুৎ সরবরাহ করছি। তবে এই লোডশেডিং কবে ঠিক হবে এখন বলতে পারছি না।’

চুয়াডাঙ্গা-মেহেরপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার (ডিজিএম) মোহাম্মদ জসিম উদ্দীন বলেন, চুয়াডাঙ্গা-মেহেরপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি দুই ইউনিটে বিদ্যুৎ সরবরাহ করে। যে কারণে ধারণক্ষমতার বিষয় চিন্তা করে আমরা বিদ্যুৎ সাপ্লাই করছি। চাহিদা তুলনায় কম বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হচ্ছে।

Ad 300x250
লেটেস্ট
সর্বাধিক পঠিত

সম্পর্কিত