leadT1ad

‘ঋণখেলাপিদের সংসদ’ মন্তব্য এক্সপাঞ্জের দাবি নিয়ে উত্তপ্ত সংসদ

স্ট্রিম প্রতিবেদক
স্ট্রিম প্রতিবেদক
ঢাকা

প্রকাশ : ১৯ জুন ২০২৬, ০০: ০৬
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমেদ মন্তব্যটি এক্সপাঞ্জ করার পক্ষে মত দেন। সংগৃহীত ছবি

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদকে ‘ঋণখেলাপিদের সংসদ’ বলে দেওয়া সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানার বক্তব্যকে এক্সপাঞ্জ (কার্যবিবরণী থেকে বাদ দেওয়া) করার দাবি জানিয়েছেন গাজীপুর-৫ আসনের বিএনপির সংসদ সদস্য এ কে এম ফজলুল হক মিলন। আজ বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) জাতীয় সংসদে বাজেট বক্তৃতায় অংশ নিয়ে তিনি এ দাবি করেন।

এ সময় সংসদ অধিবেশনে সরকারি দল ও বিরোধী দলের মধ্যে তীব্র বিতর্ক শুরু হয়। সংসদে বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ ও জাতীয় নাগরিক পার্টির বা এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বক্তব্যটি সঠিক বলে মন্তব্য করে তা এক্সপাঞ্জ না করার দাবি জানান। অন্য দিকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমেদ বক্তব্যটি সঠিক নয় বলে এটি এক্সপাঞ্জ করার পক্ষে মত দেন। এ সময় জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল বক্তব্যটি পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে সংসদকে অবহিত করেন।

সংসদে রুমিন ফারহানার বক্তব্যের পর এর প্রতিবাদ জানিয়ে একাধিকবার কথা বলার চেষ্টা করেন ফজলুল হক মিলন। একপর্যায়ে তাঁকে সুযোগ দিলে পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে তিনি বলেন, ‘এই সংসদ প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে একটা ব্যতিক্রমধর্মী সংসদ। অনেক আন্দোলন, সংগ্রাম ও ত্যাগের বিনিময়ে অর্জিত একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের মাধ্যমে এই সংসদ গঠিত হয়েছে। এর ফলে এই সংসদের মর্যাদা অন্য যেকোনো সংসদের চেয়ে অনেক উঁচুতে। কিন্তু আমরা যখন বক্তব্য রাখি, দুঃখজনক হলেও সত্য হয়তো খেয়াল করি না, আমরা অনেকেই অবচেতন মনে হোক বা সচেতন মনে হোক এমন কিছু কথা এই সংসদে উচ্চারণ করি, যা আমাদের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করে, আমাদের বিতর্কিত করে এবং আমাদের মর্যাদাকে খাটো করে। আজকের বক্তব্য চলাকালে মাননীয় সংসদ সদস্য এক জায়গায় দাঁড়িয়ে বলেছেন যে, ঋণখেলাপিদের এই সংসদে দাঁড়িয়ে কথা বলতে। এই যে "ঋণখেলাপিদের এই সংসদ", এই শব্দ কোথা থেকে পেলেন?’

তিনি আরও বলেন, ‘ঋণখেলাপি হয়ে কেউ সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে পারেন না। সেখানে ঋণখেলাপিদের সংসদ কীভাবে হয়? আমি অনুরোধ করব, আপনি এই শব্দটি এখান থেকে এক্সপাঞ্জ করুন এবং ভবিষ্যতে আমরা যখন বক্তব্য রাখব, নিজেদের মান-সম্মানহানি হয় এমন কথা যেন অতিউৎসাহী হয়ে না বলি, এ জন্য সবার প্রতি বিনয়ের সঙ্গে অনুরোধ জানাচ্ছি।’

ফজলুল হক মিলনের বক্তব্যের পর ডেপুটি স্পিকার বলেন, ‘ফজলুল হক মিলন সাহেব একটি পয়েন্ট রেইজ করেছেন। সেই পয়েন্ট আমরা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দেখব। যদি বক্তব্যে সেটি প্রতিফলিত হয়ে থাকে, সেই অংশটি আমরা বিচার-বিশ্লেষণ করে এক্সপাঞ্জ হওয়ার মতো হলে তা করব।’

ডেপুটি স্পিকারের বক্তব্যের সঙ্গে সঙ্গে তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘মাননীয় স্পিকার, এখানে কিন্তু আমরা নির্বাচনের আগেও ঋণখেলাপিদের বিরুদ্ধে কথা বলেছি। ঋণখেলাপিদের নমিনেশন দেওয়া হয়েছে। নির্বাচনের পরেও আমি আমার প্রথম অধিবেশনে এখানে মাননীয় অনেক সম্মানিত সংসদ সদস্যের কত কত ঋণখেলাপি রয়েছে সেই সংখ্যা উল্লেখ করেছি। তাঁদের সম্মানার্থে নাম প্রকাশ করিনি। এখন যে দল ঋণখেলাপিদের নমিনেশন দিয়ে তাঁদের সংসদে নিয়ে আসে, এটি তো তাঁদের দায়িত্ব, তাঁদের ওপরে এই দায় চাপায়। এখন যদি সংসদে এতগুলো ঋণখেলাপি থাকে, তাহলে এই সংসদকে তো ঋণখেলাপিদের সংসদ বলবেই।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা সংসদকে সার্বভৌম বলছি, এখন এই সংসদে যদি আমরা ঋণখেলাপিদের ঋণখেলাপি বলতে না পারি, তাহলে মাননীয় স্পিকার আমরা আর কোথায় বলব? ফলে মাননীয় স্পিকার, আপনার কাছে অনুরোধ থাকবে যে যদি এই ধরনের শব্দ বলা হয়েও থাকে, সেটা আসলে এক্সপাঞ্জ হওয়ার মতো কোনো বক্তব্য নয়।’

নাহিদ ইসলামের বক্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘এই মহান জাতীয় সংসদকে এবং জাতীয় সংসদের সব সংসদ সদস্যকে সম্মান প্রদর্শন করা আমাদের সবার উচিত। এখানে যাঁরা আছেন, কেউ ঋণখেলাপি নন। জাস্ট নির্বাচনী আইন, রিপ্রেজেন্টেশন অব দ্য পিপলস অর্ডার বা আরপিও এবং অন্যান্য বিধিমালা অনুসারে যাঁরা ঋণখেলাপি হিসেবে আদালত কর্তৃক সাব্যস্ত হবেন বা ঘোষিত হবেন, তাঁরা ডিসকোয়ালিফাইড। তাঁরা এমপি হিসেবে নমিনেশন নিতে পারবেন না, সেটা অবৈধ। যাঁরা নির্বাচিত হয়ে এসেছেন, তার মানে তাঁরা ঋণগ্রস্ত হতে পারেন, কিন্তু ঋণখেলাপি নন। এখন যদি এখানে কেউ ক্লেইম করেন যে, এই সংসদে ঋণখেলাপিদের নমিনেশন দেওয়া হয়েছে, এটি কোনো লিগ্যাল ইন্টারপ্রিটেশনে টিকে না। ইটস আ ডিফেমেটরি স্টেটমেন্ট। ইট শুড বি, আই থিঙ্ক, এক্সপাঞ্জড।’

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যের পর রুমিন ফারহানা তাঁর বক্তব্যের ব্যাখ্যা দিতে চাইলে সংসদের একদম শেষ মুহূর্তে তাঁকে সুযোগ দেন ডেপুটি স্পিকার। এ সময় রুমিন ফারহানা বলেন, ‘মাননীয় স্পিকার, টিআইবি (ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ) সম্প্রতি বলেছে যে, এই সংসদের সদস্যদের কাছে এই দেশের ব্যাংকগুলোর পাওনা হচ্ছে ১১ হাজার ৩৫৬ কোটি টাকা। একটা তথ্য দিলাম। দুই হচ্ছে, আমি যেহেতু আইনজীবী, ইলেকশনের আগে সামান্য কিছু টাকা দিয়ে কীভাবে রিসিডিউলিং করা হয়, সেটা আমি খুব ভালো করেই জানি। এবং সিআইবি নামটা আসার পরে কীভাবে রিট পিটিশন দাখিল করে সিআইবির নামটা স্টে করে ইলেকশন করে আবারও সেই মানে সুদ দেওয়া বন্ধ করা হয়, সেটাও আমরা ভালো বুঝি।’

রুমিন ফারহানার বক্তব্য শেষ হওয়ার আগেই ডেপুটি স্পিকার তাঁর মাইক বন্ধ করে দিয়ে বলেন, ‘আমাদের সময় শেষ হয়ে গেছে। আমি আপনার কাছে দুঃখ প্রকাশ করছি।’ এরপর স্পিকার আগামী রবিবার বিকেল তিনটা পর্যন্ত সংসদ মুলতবি ঘোষণা করেন।

Ad 300x250

সম্পর্কিত