ছাত্রী হলে গোপন ক্যামেরায় ভিডিও ধারণের অভিযোগে খুবিতে বিক্ষোভ

স্ট্রিম সংবাদদাতা
স্ট্রিম সংবাদদাতা
খুলনা

প্রকাশ : ২৩ জুলাই ২০২৬, ২১: ৫২
খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ করছেন শিক্ষার্থীরা। স্ট্রিম ছবি

খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজয়’ ২৪ হলের ছাত্রীদের ওয়াশরুমে গোপনে মুঠোফোন রেখে ভিডিও ধারণের অভিযোগে আজ বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন করে ক্যাম্পাসে মানববন্ধন করেছেন শিক্ষার্থীরা। এ ছাড়া তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটক ও প্রশাসনিক কার্যালয়ে তালা ঝুলিয়ে দেন।

এ ঘটনায় অভিযুক্ত ক্যান্টিনকর্মী ইমাম হাসান ও তাঁর স্ত্রী রূপামনিকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন হরিণটানা থানার ওসি মো. হেলাল উদ্দিন।

ওসি হেলাল বলেন, অভিযুক্ত ইমাম হাসান পিটুনির শিকার হওয়ায় তাঁকে প্রথমে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের প্রিজন সেলে চিকিৎসা দেওয়া হয়। তাঁর স্ত্রীকে পুলিশ হেফাজতে রাখা হয়।

আজ বিকেলে অভিযুক্তদের আদালতে পাঠানো হয়েছে উল্লেখ করে ওসি বলেন, ‘ইমাম হাসান আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন এবং এ ঘটনায় মামলা হয়েছে।’

বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, বুধবার (২২ জুলাই) রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের হলের গণরুম-সংলগ্ন ওয়াশরুমের ভেন্টিলেটরের ফাঁক দিয়ে মুঠোফোন ব্যবহার করে এক ছাত্রীর ভিডিও ধারণের চেষ্টা করা হয়। বিষয়টি বুঝতে পেরে ওই ছাত্রী আতঙ্কিত হয়ে সহপাঠীদের জানান।

খবর ছড়িয়ে পড়লে হলের বিভিন্ন ব্লকের আবাসিক শিক্ষার্থীরা ঘটনাস্থলে জড়ো হন এবং অভিযুক্তকে মারধর করেন। পরে হল প্রশাসন ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করে এবং পুলিশকে খবর দেয়।

ছাত্রী হলের ক্যান্টিনে পুরুষ কর্মী নিয়োগের বিধান সম্পর্কে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রবিষয়ক পরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) সহযোগী অধ্যাপক মো. তারেক বিন সালাম বলেন, অর্ডিন্যান্স দেখে এ বিষয়ে মন্তব্য করতে হবে। এখনই কিছু বলা সম্ভব নয়।

খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজয় ২৪ হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক সেলিনা আহমেদ বলেন, হলের ক্যান্টিন পরিচালনাকারী গোপনে ওয়াশরুমের ভেন্টিলেশন দিয়ে মোবাইল ফোনে ভিডিও করার সময় শিক্ষার্থীরা তাকে আটক ও মারধর করে। এ ঘটনার পর ক্যান্টিনের বরাদ্দ বাতিল ও হলের কর্মচারীদের ভেতরে মোবাইল ফোন ব্যবহার নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

এদিকে ঘটনার সুষ্ঠু বিচার ও ক্যাম্পাসে সার্বিক নিরাপত্তার দাবিতে আজ বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম বর্জন ও মানববন্ধন করেছেন শিক্ষার্থীরা।

এ ছাড়া ইতিপূর্বে যৌন হয়রানির অভিযোগে অভিযুক্ত দুইজন শিক্ষক ও অভিযুক্ত ক্যান্টিনকর্মীর বিচার না হওয়া পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লাস ও পরীক্ষা বর্জন অব্যাহত রাখার ঘোষণাও দিয়েছেন শিক্ষার্থীরা।

বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটক ও প্রশাসনিক কার্যালয়ে তালা দেওয়ায় বেলা আড়াইটা পর্যন্ত প্রশাসনিক কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের কেউ ক্যাম্পাসে প্রবেশ করতে পারেননি।

বিজয়’ ২৪ হলের প্রথম বর্ষের এক শিক্ষার্থী নাম প্রকাশ না করে বলেন, আমাদের নিরাপত্তার কথা বলে নানা বিধিনিষেধ দেওয়া হয়। কিন্তু নিজের হলেই যদি নিরাপত্তা না থাকে, তাহলে এসব বিধিনিষেধের অর্থ কী? আগেও ওই ব্যক্তির আচরণ নিয়ে অভিযোগ করা হয়েছিল, কিন্তু গুরুত্ব দেওয়া হয়নি।

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. রেজাউল করিম বলেন, এ ঘটনায় ইতিমধ্যে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। আগামী ৩ দিনের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত হলে প্রচলিত আইন ও বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধি অনুযায়ী সর্বোচ্চ প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Ad 300x250

সম্পর্কিত