নরসিংদীতে বেত্রাঘাতে রক্তাক্ত মাদ্রাসাছাত্র, শিক্ষক আটক

স্ট্রিম সংবাদদাতা
স্ট্রিম সংবাদদাতা
নরসিংদী

প্রকাশ : ০৫ এপ্রিল ২০২৬, ১২: ৫৫
ভুক্তভোগী মাদ্রাসাছাত্র (বামে) ও অভিযুক্ত শিক্ষক (ডানে)

নরসিংদীতে মাদ্রাসার এক ছাত্রকে বেত্রাঘাতে রক্তাক্ত করার অভিযোগে নাজমুল ইসলাম নামের এক শিক্ষককে আটক করেছে পুলিশ। নরসিংদী পৌর শহরের ভেলানগর জেলখানা মোড়ে অবস্থিত মাদরাসাতুল আবরার অ্যারাবিয়া মাদরাসায় সাত বছর বয়সী ওই ছাত্রকে নির্মমভাবে প্রহারের অভিযোগ উঠেছে।

মাদ্রাসাসূত্রে জানা গেছে, গোসল না করার অভিযোগে শুক্রবার দুপুরে ওই ছাত্রকে মারধর করেন তার শিক্ষক নাজমুল ইসলাম। শনিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ওই ছাত্রের ছবি ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি নজরে আসে। পরিবারের লোকজন আহত নূরানী বিভাগের শিক্ষার্থী মুজাহিদকে নরসিংদী ১০০ শয্যা বিশিষ্ট জেলা হাসপাতালে ভর্তি করেছেন।

ভুক্তভোগী ছাত্র মুজাহিদ হোসেন শিবপুর উপজেলার কারারচর এলাকার জুয়েল মিয়ার ছেলে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে অভিযুক্ত শিক্ষক নাজমুলকে আটক করে পুলিশ। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন নরসিংদী সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এম আর আল-মামুন।

আহত মুজাহিদ হোসেন বলেন, গোসল করতে অনীহা প্রকাশ করায় মাদ্রাসার শিক্ষক নাজমুল ইসলাম তাকে বেত দিয়ে মারধর করেন। এক পর্যায়ে শিশুটির শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত লাগে এবং গভীর ক্ষত তৈরি হয়। তার শরীরের বিভিন্ন অংশে চামড়া ফেটে রক্ত বের হয় বলেও পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে।

ভুক্তভোগী শিশুটি আরও দাবি করেছে, ঘটনাটি কাউকে না বলার জন্য তাকে ভয়ভীতি দেখানো হয়।

শিশুটির বাবা মাদ্রাসায় গিয়ে তার শরীরে আঘাতের চিহ্ন দেখতে পেয়ে বিষয়টি জানতে পারেন। পরিবারের সদস্যরা শিশুটির শরীরজুড়ে বেত্রাঘাতের দাগ ও রক্তাক্ত ক্ষত দেখতে পান।

ভুক্তভোগীর ফুপু শাকিলা বেগম বলেন, ‘এতদিন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ ধরনের নির্যাতনের খবর দেখেছি। এবার আমাদের নিজের পরিবারের শিশুই এমন ঘটনার শিকার হলো। কিছু শিক্ষকের আচরণের কারণে পুরো আলেম সমাজের বদনাম হচ্ছে। একটি শিশুকে এভাবে প্রহার কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।’

তিনি আরও বলেন, ‘গোসল না করার মতো সামান্য কারণে একটি শিশুকে এভাবে শাস্তি দেওয়া যৌক্তিক হতে পারে না। এসব ঘটনা ধর্মীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রতি অভিভাবকদের আস্থা ক্ষুণ্ন করতে পারে।’

নরসিংদী ১০০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডাক্তার মিজানুর রহমান বলেন, ‘শিশুটি শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের ক্ষত নিয়ে শুক্রবার সন্ধ্যায় আমাদের হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য ভর্তি হয়েছে।’

এ বিষয়ে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের মোবাইলে যোগাযোগ করার চেষ্টা করলেও নম্বর বন্ধ পাওয়া যায়।

নরসিংদী সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এম আর আল-মামুন বলেন, ‘পরিবারের লিখিত অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে অভিযুক্ত শিক্ষককে আটক করা হয়েছে। মামলা দায়েরের পর গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানো হবে। শনিবার দুপুরে মাদ্রাসা থেকে ওই শিক্ষককে আটক করে থানায় নিয়ে আসা হয়েছে এবং আইনি প্রক্রিয়া অব্যাহত রয়েছে।’

সম্পর্কিত