যশোরে নিখোঁজের মাস খানেক পর গোয়ালঘরের মেঝে খুঁড়ে মিলল মরদেহ

স্ট্রিম সংবাদদাতা
স্ট্রিম সংবাদদাতা
যশোর

গোয়ালঘরের শেঝে খুঁড়ে উদ্ধার করা হয় লাশ

যশোরের শার্শায় নিখোঁজের ১ মাস পাঁচদিন পর গোয়ালঘরের মাটি খুঁড়ে ইকরামুল কবির (২৫) নামে এক যুবকের অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। বিবাহবহির্ভূত সম্পর্ক, দাম্পত্য কলহ ও টাকার বিরোধকে কেন্দ্র করে এই হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে বলে ধারণা করছেন স্থানীয়রা। ঘটনায় জড়িত সন্দেহে এক দম্পতিকে আটক করা হয়েছে।

শনিবার রাত ৮টার দিকে উপজেলার বসতপুর পূর্বপাড়া গ্রামে পুলিশের অভিযানে এ মরদেহ উদ্ধার করা হয়। নিহত ইকরামুল কবির পুটখালী ইউনিয়নের দক্ষিণ বারোপোতা গ্রামের আব্দুল রশিদের ছেলে।

স্থানীয় সূত্র ও পরিবার জানায়, বসতপুর গ্রামের আলফুরাদের স্ত্রী মুন্নী বেগমের (২২) সঙ্গে ইকরামুলের দীর্ঘদিনের ‘ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক’ ছিল বলে এলাকায় আলোচনা চলছিল। এ সম্পর্ককে কেন্দ্র করে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে প্রায়ই পারিবারিক অশান্তি লেগে থাকত। এরই মধ্যে আর্থিক লেনদেন নিয়েও বিরোধ তৈরি হয়। প্রায় ১ মাস আগে ইকরামুল তাঁর পাওনা টাকা আনতে মুন্নীর বাড়িতে যান। এরপর থেকেই তিনি নিখোঁজ হন। পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তাঁর কোনো সন্ধান পাননি। পরে বিষয়টি রহস্যজনক মনে হলে পুলিশ তদন্ত শুরু করে।

তদন্তের একপর্যায়ে সন্দেহভাজন হিসেবে মুন্নীর স্বামী আলফুরাদকে আটক করে পুলিশ। জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে শনিবার বিকেলে বসতপুর গ্রামে অভিযান চালানো হয়। এ সময় অভিযুক্তদের বাড়ির গোয়ালঘরের মেঝে খুঁড়ে মাটিচাপা অবস্থায় ইকরামুলের অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

লাশ উদ্ধারের খবর ছড়িয়ে পড়লে ঘটনাস্থলে মানুষের ভিড় জমে। ১ মাস পাঁচদিন নিখোঁজ থাকার পর বাড়ির মাটির নিচ থেকে মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় পুরো এলাকায় আতঙ্ক ও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয়রা বলছেন, এটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। হত্যার পর মরদেহ গোপন করে ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে। তাঁরা জড়িত ব্যক্তিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।

শার্শা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মারুফ হোসেন বলেন, ‘প্রাথমিকভাবে বিবাহবহির্ভূত সম্পর্ক ও আর্থিক বিরোধকে কেন্দ্র করে হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। আটক দুজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। এ ঘটনায় অন্য কেউ জড়িত আছে কি না, তাও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য যশোর জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

সম্পর্কিত