জাবিতে ধর্ষণচেষ্টা: শিক্ষার্থীদের নতুন প্ল্যাটফর্ম ‘নিরাপদ ক্যাম্পাস আন্দোলন’

স্ট্রিম সংবাদদাতা
স্ট্রিম সংবাদদাতা
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়

প্রকাশ : ১৯ মে ২০২৬, ২০: ৩৮
জাবিতে চলমান আন্দোলনকে গতিশীল করতে ‘নিরাপদ ক্যাম্পাস আন্দোলন’ নামে নতুন প্ল্যাটফর্মের আত্মপ্রকাশ। স্ট্রিম ছবি

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) এক ছাত্রীকে ধর্ষণচেষ্টার ঘটনাকে কেন্দ্র করে চলমান আন্দোলনকে আরও গতিশীল করতে ‘নিরাপদ ক্যাম্পাস আন্দোলন’ নামে নতুন একটি প্ল্যাটফর্ম আত্মপ্রকাশ করেছে।

মঙ্গলবার (১৯ মে) সন্ধ্যা ছয়টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা ও মানবিকী অনুষদের নিচে এক আলোচনা সভায় এই প্ল্যাটফর্ম গঠন করা হয়। সভায় অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীরা জানান, দলীয় ব্যানার বা রাজনৈতিক এজেন্ডা ছাড়াই কেবল ভিকটিমের ন্যায়বিচার ও ক্যাম্পাসের স্থায়ী নিরাপত্তা নিশ্চিতের দাবিতে দীর্ঘমেয়াদি আন্দোলন গড়ে তুলতে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

নতুন প্ল্যাটফর্মের প্রাথমিক প্রতিনিধি দলে বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঁচটি অনুষদ থেকে একজন করে মোট পাঁচজন নারী শিক্ষার্থী রয়েছেন। তাঁরা হলেন—সমাজবিজ্ঞান অনুষদ থেকে আফিয়া ইবনাত সামিহা (অর্থনীতি বিভাগ, ৫৩তম আবর্তন), কলা অনুষদ থেকে মুখলাতুল জিনান তৃষা (প্রত্নতত্ত্ব বিভাগ, ৫১তম আবর্তন), আইন ও বিচার অনুষদ থেকে জাইবা জাফরিন (আইন ও বিচার বিভাগ, ৫১তম আবর্তন), ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদ থেকে সুমাইয়া ইসলাম সামিয়া (অ্যাকাউন্টিং অ্যান্ড ইনফরমেশন সিস্টেমস, ৫১তম আবর্তন) এবং জীববিজ্ঞান অনুষদ থেকে মীম খানম (উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগ, ৫১তম আবর্তন)।

প্রতিনিধিরা জানিয়েছেন, পরবর্তী সময়ে ছাত্র ও ছাত্রী উভয়ের অংশগ্রহণে এই দল আরও সম্প্রসারণ করা হবে।

সমাজবিজ্ঞান অনুষদের প্রতিনিধি আফিয়া ইবনাত সামিহা বলেন, ‘চলমান আন্দোলনে ভিকটিমের জাস্টিস ও ক্যাম্পাসের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার সুযোগ থাকা সত্ত্বেও নানাবিধ জটিলতা, রাজনৈতিক সংগঠনগুলোর মধ্যে কোন্দল ও নেতৃত্বের সঙ্গে দূরত্বের কারণে মূল লক্ষ্য থেকে সরে গিয়ে ছোট ছোট বিষয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। ফলে বড় সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলার পরিবর্তে অনেক শিক্ষার্থী আগের প্ল্যাটফর্ম থেকে সরে যেতে বাধ্য হয়েছেন। তাই নতুন করে আন্দোলনকে সঠিক পথে ফিরিয়ে আনতে এই প্ল্যাটফর্ম গঠন করা হয়েছে।’

আন্দোলনকে গতিশীল করতে প্ল্যাটফর্মটি প্রাথমিক কিছু দাবি উত্থাপন করেছে। দাবিগুলো হলো:

১. দ্রুততম সময়ের মধ্যে অপরাধীদের গ্রেপ্তার ও বিচার নিশ্চিত করতে হবে। তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন ২১ মে’র মধ্যে প্রকাশ করতে হবে। প্রশাসনকে অপরাধী শনাক্তকরণ ও আইনের আওতায় আনতে সর্বোচ্চ চাপ প্রয়োগ করতে হবে এবং প্রশাসনের নেওয়া পদক্ষেপগুলো নিয়মিত শিক্ষার্থীদের জানাতে হবে।

২. ক্যাম্পাসের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রধান নিরাপত্তাকর্মীর শূন্য পদ দ্রুত পূরণ এবং নারী নিরাপত্তারকক্ষীসহ পর্যাপ্ত জনবল নিয়োগের সুনির্দিষ্ট তারিখ ঘোষণা করতে হবে। নিরাপত্তা অবক্ষয়ের জন্য দায়ীদের জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে। সাইবার নিরাপত্তায় কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।

৩. ক্যাম্পাসের সীমানা নির্ধারণ ও প্রাচীর নির্মাণের দরপত্র দ্রুত প্রকাশ করতে হবে। সিঅ্যান্ডবি থেকে গেরুয়া সড়কের কাজ শুরু এবং ছাত্রীদের হলের নিরাপত্তায় বিশেষ ব্যবস্থা নিতে হবে।

৪. সুনির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে বহিরাগত নিয়ন্ত্রণে পাসকার্ড ব্যবস্থা চালু করতে হবে। প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের প্রবেশাধিকার নিয়ে সুস্পষ্ট পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে হবে।

৫. কুইক রেসপন্স টিম গঠন করে তার কার্যপ্রণালি প্রকাশ করতে হবে এবং

৬. সাম্প্রতিক ঘটনার ভিকটিমসহ সব ভিকটিমকে আইনি ও আর্থিক সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে।

প্রতিনিধিরা জানান, প্রতিটি দাবির দৃশ্যমান অগ্রগতি না হওয়া পর্যন্ত তাঁদের আন্দোলন চলবে। সাধারণ শিক্ষার্থীসহ যেকোনো রাজনৈতিক মতাদর্শের শিক্ষার্থী স্বচ্ছতার ভিত্তিতে এই প্ল্যাটফর্মে যোগ দিতে পারবেন।

সর্বাধিক পঠিত

সম্পর্কিত