জাতীয় সংসদ নির্বাচন ২০২৬

ও গণভোট

ক্লিক করুন

তাইম হত্যা: ‘এজাহারকারী সাক্ষী, সুরতহালকারী আসামি’, সিলেক্টিভ প্রসিকিউশনের অভিযোগ

স্ট্রিম প্রতিবেদক
স্ট্রিম প্রতিবেদক
ঢাকা

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। সংগৃহীত ছবি

জুলাই গণঅভ্যুত্থানে রাজধানীর যাত্রাবাড়ীতে কলেজ শিক্ষার্থী ইমাম হাসান তাইম হত্যা মামলায় পুলিশের ভূমিকা নিয়ে ‘সিলেক্টিভ প্রসিকিউশন’ বা বাছ-বিচারমূলক আচরণের অভিযোগ তুলেছে আসামিপক্ষ। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে শুনানিকালে আসামিপক্ষের আইনজীবীরা প্রশ্ন তুলেছেন— একই ঘটনায় দাপ্তরিক কাজ করে এজাহার দায়েরকারী পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এসআই) সুকদেব যদি সাক্ষী হতে পারেন, তবে লাশের সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুতকারী এসআই শাহাদাত আলী কেন মানবতাবিরোধী অপরাধের আসামি হবেন?

সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এ অভিযোগ গঠন বিষয়ে শুনানিকালে এই আইনি বিতর্ক উপস্থাপন করেন আসামিপক্ষের আইনজীবী ব্যারিস্টার সিফাত মাহমুদ। শুনানি শেষে ট্রাইব্যুনাল এই মামলায় ১১ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের আদেশের জন্য আগামী ১৭ ফেব্রুয়ারি দিন ধার্য করেছেন। বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল এই দিন নির্ধারণ করেন। প্যানেলের অপর দুই সদস্য হলেন বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদ ও বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।

সিলেক্টিভ প্রসিকিউশনের অভিযোগ
শুনানিতে গ্রেপ্তার দুই আসামি—যাত্রাবাড়ী থানার তৎকালীন ওসি আবুল হাসান ও এসআই মো. শাহাদাত আলীর পক্ষে যথাক্রমে শুনানি করেন আইনজীবী মোহাম্মদ আবুল হাসান ও আইনজীবী সিফাত মাহমুদ।

এসআই শাহাদাত আলীর বিষয়ে শুনানিতে ব্যারিস্টার সিফাত মাহমুদ ট্রাইব্যুনালের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, “এই ঘটনায় ২০২৪ সালের ৩ আগস্ট যাত্রাবাড়ী থানায় একটি এফআইআর (প্রাথমিক তথ্য বিবরণী) দায়ের করা হয়। ওই এফআইআরটি দায়ের করেছিলেন পুলিশেরই একজন এসআই। এটি নথিভুক্ত করেন যাত্রাবাড়ী থানার ওসি আবুল হাসান। অথচ দেখা যাচ্ছে, এই মামলায় যিনি সুরতহাল প্রতিবেদন দিলেন, শাহবাগ থানার সেই এসআইকে আসামি করা হলো। কিন্তু যিনি এফআইআর করলেন, তাকে করা হলো সাক্ষী।”

প্রসিকিউশনের এই অবস্থানকে সিলেক্টিভ প্রসিকিউশন আখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, “বিষয়টি আমরা ট্রাইব্যুনালের সামনে তুলে ধরেছি। যদি এফআইআরে কোনো ভুল থাকে বা সুরতহালে ভুল থাকে, তবে দুজনেই সাক্ষী হতে পারতেন। একজনকে সাক্ষী হিসেবে উপস্থাপন করা এবং মানবতাবিরোধী অপরাধের উপাদান না থাকা সত্ত্বেও অন্যজনকে আসামি করাটা পক্ষপাতমূলক।”

ঘটনাস্থলে ছিলেন না ওসি
অন্যদিকে আইনজীবী মোহাম্মদ আবুল হাসান দাবি করেন, ঘটনার সময় যাত্রাবাড়ী থানার তৎকালীন ওসি আবুল হাসান ঘটনাস্থলে ছিলেন না। তিনি বলেন, “ওসি তখন দাপ্তরিক দায়িত্ব পালনে থানা কার্যালয়ের অভ্যন্তরেই অবস্থান করছিলেন। তাইম হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে তাঁর কোনো সংশ্লিষ্টতা বা সংস্রব নেই। তিনি সম্পূর্ণ নির্দোষ।”

এসআই শাহাদাত আলীর বিষয়ে এই আইনজীবী বলেন, “তাঁকে শুধুমাত্র লাশের ইনকোয়েস্ট বা সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। সুরতহাল প্রস্তুতকালে যদি কোনো ত্রুটি-বিচ্যুতি থেকেও থাকে, তবে তাঁর বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া যেতে পারে। কিন্তু এর জন্য মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ আনা আইনিভাবে গ্রহণযোগ্য নয়।”

আইনজীবীরা গ্রেপ্তার দুই আসামির ‘ডিসচার্জ’ বা অব্যাহতির আবেদন জানান। এছাড়া পলাতক ৯ আসামির পক্ষে শুনানি করেন স্টেট ডিফেন্স আইনজীবী এম হাসান ইমাম ও লোকমান হাওলাদার। তাঁরাও প্রসিকিউশনের আনা অভিযোগের বিরোধিতা করেন।

এর আগে গত ২৮ জানুয়ারি প্রসিকিউশন ১১ আসামির বিরুদ্ধে ‘প্রাইমা ফেসি’ বা প্রাথমিকভাবে অপরাধের উপাদান থাকার যুক্তি দেখিয়ে অভিযোগ গঠনের আবেদন জানিয়েছিল। প্রসিকিউশনের দাবি, আসামিদের নির্দেশ, উসকানি ও প্ররোচনায় এই হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে।

জুলাই অভ্যুত্থান চলাকালে ২০২৪ সালের ২০ জুলাই যাত্রাবাড়ীর কাজলা এলাকায় খুব কাছ থেকে গুলি করে হত্যা করা হয় কলেজ শিক্ষার্থী ইমাম হাসান তাইমকে। তাকে বাঁচাতে এগিয়ে গেলে তার বন্ধু রাহাতকেও গুলি করে পুলিশ। নিহত তাইমের বাবা মো. ময়নাল হোসেন ভূঁইয়াও একজন পুলিশ কর্মকর্তা।

এ মামলায় ডিএমপির তৎকালীন কমিশনার হাবিবুর রহমান, যুগ্ম কমিশনার সুদীপ কুমার চক্রবর্তী, ওয়ারি জোনের সাবেক ডিসি ইকবাল হোসাইনসহ ১১ পুলিশ কর্মকর্তাকে আসামি করা হয়েছে। বর্তমানে গ্রেপ্তার দুই আসামি কারাগারে আছেন এবং বাকি ৯ জন পলাতক রয়েছেন।

Ad 300x250

সম্পর্কিত