leadT1ad

নারীর রাজনৈতিক অগ্রযাত্রায় বাধা পুরুষতান্ত্রিক মানসিকতা

স্ট্রিম প্রতিবেদক
স্ট্রিম প্রতিবেদক
ঢাকা

প্রকাশ : ২০ জুন ২০২৬, ২২: ৪৮
জাতিসংঘের সহায়তায় পরিচালিত গবেষণার ফলাফল উপস্থাপন অনুষ্ঠান। ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশে নারীর রাজনৈতিক অংশগ্রহণ ও নেতৃত্বের পথে বড় অন্তরায় অফলাইন-অনলাইন সহিংসতা এবং পুরুষতান্ত্রিক মানসিকতা। সম্প্রতি ব্র্যাক ইনস্টিটিউট অব গভর্নেন্স অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (বিআইজিডি) এবং ইউএন উইমেনের যৌথ গবেষণায় এ তথ্য উঠে এসেছে।

শনিবার (২০ জুন) রাজধানীতে এক অনুষ্ঠানে জাতিসংঘের নির্বাচনী সহায়তা কার্যক্রমের আওতায় পরিচালিত এই গবেষণার ফলাফল প্রকাশ করা হয়। গবেষণায় নারী সংসদ সদস্য, স্থানীয় সরকার প্রতিনিধি ও রাজনৈতিক দলের সদস্যদের ৪৩টি সাক্ষাৎকার নেওয়া হয়েছে।

গবেষণার তথ্য অনুযায়ী, সাংবিধানিক ও আইনি সুযোগ থাকা সত্ত্বেও পুরুষ-প্রধান রাজনৈতিক পরিবেশ, অর্থনৈতিক সীমাবদ্ধতা নারীদের রাজনৈতিক অগ্রযাত্রাকে বাধাগ্রস্ত করছে। এছাড়া পারিবারিক দায়িত্ব এবং নেতিবাচক সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গিও এর পেছনে দায়ী। বিশেষ করে অফলাইন ও অনলাইনে নারী রাজনীতিকদের বিরুদ্ধে সহিংসতা রাজনীতিতে তাদের অংশগ্রহণ ও নেতৃত্বের পথে বড় অন্তরায়।

ইউএন উইমেনের কান্ট্রি রিপ্রেজেন্টেটিভ গীতাঞ্জলি সিং বলেন, ‘নারীর রাজনৈতিক অংশগ্রহণ কেবল ন্যায়বিচারের প্রশ্ন নয়, কার্যকর শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার জন্যও অপরিহার্য।’

নীতিনির্ধারণ প্রক্রিয়ায় নারীদের অংশগ্রহণ বৃদ্ধি পেলে স্বাস্থ্য, শিক্ষা, শিশু পরিচর্যা, অবকাঠামো ও নারীর প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধসহ সামাজিক বিষয়ে ইতিবাচক প্রভাব পড়ে বলে জানান তিনি।

নারী রাজনীতিকদের বিরুদ্ধে অনলাইন ও অফলাইন হয়রানির অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমিন বলেন, তাঁর নিজের নির্বাচনী প্রচারণার সময় ব্যক্তিগত ও পারিবারিক পরিচয়কে কেন্দ্র করে নানা অপপ্রচার চালানো হয়েছিল। একজন নারী হিসেবে রাজনৈতিক অঙ্গনে টিকে থাকতে গেলে এখনও নানা ধরনের বৈষম্য ও হয়রানির মুখোমুখি হতে হয়।

অন্যদিকে, সংরক্ষিত আসনের প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করে সংসদ সদস্য রাশেদা বেগম হিরা বলেন, এই ব্যবস্থা এখনো নারীদের জনগণের সঙ্গে সংযোগ তৈরি এবং রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা অর্জনের সুযোগ করে দিচ্ছে।

জাতীয় নারী শক্তির আহ্বায়ক মনিরা শারমিন রাজনৈতিক দলগুলোর সিদ্ধান্ত নেওয়ার প্রক্রিয়ায় নারীদের কোণঠাসা হয়ে থাকার কথা জানান। তিনি বলেন, ‘দলগুলোর সিদ্ধান্ত নেওয়ার প্রক্রিয়ায় নারীরা থাকলেও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত পুরুষ নেতারাই নেন। অনেক ক্ষেত্রে যোগ্য নারী প্রার্থীকে সাধারণ আসনের পরিবর্তে সংরক্ষিত আসনে বিবেচনা করা হয়।’

গণসংহতি আন্দোলনের রাজনৈতিক পরিষদের সদস্য তাসলিমা আক্তার বলেন, নারীদের রাজনৈতিক যোগ্যতার মূল্যায়নের পরিবর্তে তাদের পারিবারিক পরিচয়কে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়। একজন নারীকে তাঁর স্বতন্ত্র পরিচয়ে মূল্যায়ন করার সংস্কৃতি এখনো গড়ে ওঠেনি।

সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা বলেন, অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করতে স্বাধীন ও শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে। তিনি নির্বাচন কমিশন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কার্যকর ভূমিকার ওপর জোর দেন।

প্রধান অতিথি নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ বলেন, সাম্প্রতিক নির্বাচনে নারীদের অংশগ্রহণ বেড়েছে। তবে সংখ্যাগত অংশগ্রহণ নয়, রাজনীতিতে নারীরা যেন কার্যকরভাবে নিজস্ব মতামত দিতে ও সিদ্ধান্ত নিতে পারেন, তা নিশ্চিত করতে হবে।

অনুষ্ঠানে গবেষক, রাজনৈতিক নেতা, নির্বাচন কর্মকর্তা, উন্নয়ন সহযোগী ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।

Ad 300x250

সম্পর্কিত