গণভোট বাতিল হলে সংসদের বৈধতাই প্রশ্নে পড়তে পারে: শিশির মনির

স্ট্রিম প্রতিবেদক
স্ট্রিম প্রতিবেদক
ঢাকা

কথা বলছেন আইনজীবী শিশির মনির

গণভোট বাতিল হলে নির্বাচিত সংসদ আইনগত হুমকির মুখে পড়বে বলে মনে করেন জামায়াতের কেন্দ্রীয় কমিটির কর্মপরিষদের সদস্য ও আইনজীবী শিশির মনির। তিনি দাবি করেছেন, স্বয়ংক্রিয়ভাবে গণভোট বাতিলের কোনো সুযোগ নেই।

সোমবার (৩০ মার্চ) হাইকোর্ট প্রাঙ্গণে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, গণভোট, ‘জুলাই সনদ’ বাস্তবায়ন এবং নির্বাচন কমিশনের ঘোষিত তফসিল—এই তিনটি বিষয় পরস্পর সম্পর্কযুক্ত। এগুলোকে আলাদাভাবে বিবেচনা করা হলে আইনি জটিলতা তৈরি হবে। তাঁর ভাষ্য, ‘সবকিছু একসঙ্গে নিষ্পত্তি না করলে লিগ্যাল কমপ্লেক্সিটি তৈরি হবে।’

এর আগে গতকাল রোববার (২৯ মার্চ) এই অধ্যাদেশগুলো আপাতত বাতিল করা না হলেও এগুলোর মধ্যে অনেকগুলোই বাতিল বা তামাদি (ল্যাপস) হয়ে যাবে বলে জানান আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। গতকাল বিশেষ কমিটির বৈঠকের পর সাংবাদিকদের আইনমন্ত্রী বলেন, এগুলোকে আরও যাচাই-বাছাই করে, স্টেকহোল্ডারদের (অংশীজন) সঙ্গে কথা বলে ফ্রেশ (নতুন) বিল আকারে পার্লামেন্টে আনা হবে। আগামী ২ এপ্রিলের মধ্যে কমিটির প্রতিবেদন প্রকাশ করা হলে কতটি অধ্যাদেশ ল্যাপস বা তামাদি হবে—তা জানা যাবে বলেও জানান তিনি।

এ বিষয়ে শিশির মনির দাবি করেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের করা ১৩৩টি অধ্যাদেশের মধ্যে ১২টিকে ল্যাপস বা তামাদি, তিনটিকে বাতিল এবং ৩১টিকে সংশোধন সাপেক্ষে সংসদে তোলার প্রস্তাব দিয়েছে বিশেষ কমিটি।

শুধু কার্যকারিতা নেই—এই যুক্তিতে কোনো আইন স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হয়ে যায় না দাবি করেন আইনজীবী শিশির মনির। ১৯৯১ সালে প্রণীত গণভোট আইন দীর্ঘদিন কার্যকর থাকার উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, ‘১৯৯১ সালে খালেদা জিয়া সরকারের আমলে আরেকটা গণভোট অ্যাক্ট জারি করা হয়েছে। সংবিধান থেকে পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে যখন গণভোটকে বিলুপ্ত করে দেওয়া হয়, তখনও গণভোট অ্যাক্টটা কার্যকর ছিল। সংবিধানের আলোকে ১৪২ অনুচ্ছেদে যে গণভোটের বিধান আছে, এটাকে কার্যকর করার জন্যই মূলত গণভোট অ্যাক্টটা পাস করা হয়েছিল। কিন্তু পঞ্চদশ সংশোধনী দীর্ঘদিন কার্যকর ছিল, যেখানে গণভোটের কোনও বিধান ছিল না। কিন্তু ঠিকই গণভোট অ্যাক্ট ১৯৯১, যা অক্টোবর মাসে জারি করা হয়েছিল সেটা কার্যকর ছিল। তাহলে এখন কেন তারা (সরকার) এ কথা বলছেন যে যেহেতু তার কার্যকারিতা নাই সেজন্য অটোমেটিকটা বাতিল হয়ে যাবে?’

তিনি বলেন, ‘এই প্রশ্ন যদি আপনারা সমাধান করতে চান, তাহলে জুলাই সনদ, বাস্তবায়ন আদেশ, একইসঙ্গে জুলাই সনদ ও নির্বাচন কমিশন কর্তৃক ঘোষিত তফসিল এবং ইলেকশনের ফলাফল একসঙ্গে ডিসপোজ করতে হবে। আদারওয়াইজ দেয়ার উইল বি এ লিগ্যাল কেস অ্যান্ড লিগ্যাল কমপ্লেক্সিটি।’

সম্পর্কিত