leadT1ad

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন: ইইউ ও তিন দেশের প্রায় ২০০ পর্যবেক্ষক থাকবেন

স্ট্রিম প্রতিবেদক
স্ট্রিম প্রতিবেদক
ঢাকা

প্রকাশ : ১১ জানুয়ারি ২০২৬, ২০: ০৪
ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ তিন দেশ পাঠাচ্ছে প্রায় ২০০ পর্যবেক্ষক। সংগৃহীত ছবি

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন সুষ্ঠু ও অবাধ হচ্ছে কিনা তা নিশ্চিত করতে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) ২৭টি দেশের পাশাপাশি কানাডা, নরওয়ে ও সুইজারল্যান্ডের প্রায় ২০০ পর্যবেক্ষক থাকবেন। এরইমধ্যে তাঁদের নির্বাচন পর্যবেক্ষণ মিশনের কার্যক্রম শুরু হয়েছে। রবিবার (১১ জানুয়ারি) দুপুরে গুলশানে একটি পাঁচ তারকা হোটেলে সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রধান পর্যবেক্ষক ইভার্স ইজাবস।

ইভার্স ইজাবস বলেন, আসন্ন জাতীয় নির্বাচন পর্যবেক্ষণের জন্য একটি ইইউ ইলেকশন অবজারভেশন মিশন (ইওএম) মোতায়েন করা হয়েছে। লাটভিয়ার ইউরোপীয় পার্লামেন্ট সদস্য ও প্রধান পর্যবেক্ষক ইভার্স ইজাবসের নেতৃত্বে ইওএম ২০২৫ সালের ডিসেম্বরের শেষ দিকে কার্যক্রম শুরু করেছে। রবিবার ৫৬ জন দীর্ঘমেয়াদি পর্যবেক্ষকের আগমনের মাধ্যমে এর কার্যক্রম আরও সম্প্রসারিত হচ্ছে, যাঁদের বাংলাদেশের ৬৪টি প্রশাসনিক জেলায় মোতায়েন করা হবে।

২০০৮ সালের পর এটিই বাংলাদেশে ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রথম পূর্ণাঙ্গ নির্বাচন পর্যবেক্ষণ মিশন। সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়েছে, বাংলাদেশের এবারের নির্বাচনে ইউরোপীয় ইউনিয়নের ২৭টি দেশের পাশাপাশি কানাডা, নরওয়ে ও সুইজারল্যান্ডের প্রায় ২০০ জন পর্যবেক্ষক থাকবেন বলে জানানো হয়েছে। এর মধ্যে ঢাকাভিত্তিক ১১ জন বিশ্লেষক নিয়ে একটি কোর টিম, ৫৬ জন দীর্ঘমেয়াদি পর্যবেক্ষক এবং ৯০ জন স্বল্পমেয়াদি পর্যবেক্ষক থাকবেন—যাঁদের ভোটের ঠিক আগে মোতায়েন করা হবে।

এ ছাড়া ইইউ সদস্য রাষ্ট্র ও অংশীদার দেশগুলোর কূটনৈতিক মিশনের পর্যবেক্ষকরাও এতে অন্তর্ভুক্ত থাকবেন। ইউরোপীয় পার্লামেন্টের একটি প্রতিনিধি দল এই মিশনে যোগ দিয়ে এর কার্যক্ষমতা আরও বাড়াবে।

প্রধান পর্যবেক্ষক ইভার্স ইজাবস বলেন, এই নির্বাচন পর্যবেক্ষণ মিশনটি বাংলাদেশের সঙ্গে ইউরোপীয় ইউনিয়নের অংশীদারত্বের গুরুত্ব পুনরায় নিশ্চিত করতে কাজ করছে। মিশনটি তাদের কার্যক্রম চলাকালে নির্বাচন প্রস্তুতি, আইনগত কাঠামো ও তার বাস্তবায়ন, নির্বাচনী প্রচারণা এবং নির্বাচনী বিরোধ নিষ্পত্তিসহ বিভিন্ন দিক পর্যবেক্ষণ ও বিশ্লেষণের লক্ষ্যে নির্বাচন প্রশাসন, রাজনৈতিক দল, বিচার বিভাগ, সুশীল সমাজ ও গণমাধ্যমের সঙ্গে সম্পৃক্ত হবে।

এ ছাড়াও নারী, তরুণ প্রজন্ম ও ঝুঁকিতে থাকা অন্যান্য জনগোষ্ঠীসহ সবার রাজনৈতিক ও নাগরিক অংশগ্রহণের সামগ্রিক পরিসর মূল্যায়ন করা হবে এবারের পর্যবেক্ষণে। ভোটারদের সচেতন ও তথ্যভিত্তিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ভূমিকা মূল্যায়নের জন্য ইওএমের পৃথক গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম পর্যবেক্ষণ ইউনিট রয়েছে।

সামগ্রিকভাবে, ইইউ ইওএম নির্বাচনগুলো জাতীয় আইন অনুযায়ী কতটা পরিচালিত হয়েছে, পাশাপাশি বাংলাদেশ যে আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক গণতান্ত্রিক নির্বাচন মানদণ্ড গ্রহণ করেছে, সেগুলোর সঙ্গে কতটা সামঞ্জস্যপূর্ণ—তা মূল্যায়ন করবে।

প্রধান পর্যবেক্ষক ইভার্স ইজাবস জোর দিয়ে বলেন, ‘ব্যালট বাক্সের মাধ্যমে গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে আরও শক্তিশালী করতে এই ঐতিহাসিক নির্বাচন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তাই নির্বাচন শান্তিপূর্ণভাবে এবং বিশ্বাসযোগ্য ও স্বচ্ছ উপায়ে অনুষ্ঠিত হওয়া অত্যন্ত জরুরি। আমি আশা করি, এখানে আমাদের কাজ নির্বাচনী প্রক্রিয়ার প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থা ও বিশ্বাস বৃদ্ধিতেও সহায়ক হবে।’

নির্বাচনের দুই দিন পর, ১৪ ফেব্রুয়ারি, প্রাথমিক প্রতিবেদন প্রকাশ করবে ইইউ ইওএম। প্রায় দুই মাস পর একটি পূর্ণাঙ্গ চূড়ান্ত প্রতিবেদন প্রকাশ ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে উপস্থাপন করা হবে, যেখানে ভবিষ্যৎ নির্বাচনের জন্য সুপারিশ অন্তর্ভুক্ত থাকবে।

Ad 300x250

সম্পর্কিত