স্ট্রিম প্রতিবেদক

বৈশ্বিক অস্থিতিশীল পরিস্থিতির মধ্যে বাংলাদেশের গ্যাস ও জ্বালানি তেলের মজুদ ও সরবরাহের প্রস্তুতি এবং পরিকল্পনা জাতীয় সংসদের দেশবাসীর সামনে উপস্থাপন করেছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু।
সোমবার (৩০ মার্চ) জাতীয় সংসদে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের চতুর্থ দিনে সংসদে ৩০০ বিধিতে দাঁড়িয়ে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বলেছেন, সরবরাহ ব্যবস্থা স্বাভাবিক ও স্থিতিশীল রাখতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশে ও তত্ত্বাবধানে সরকার সঠিক এবং সময়োপযোগী প্রস্তুতি নিয়েছে। এখন পর্যন্ত বাংলাদেশে জ্বালানির কোনো ঘাটতি নাই। গত বছরের তুলনায় সরবরাহ আরও বৃদ্ধি করা হয়েছে বলেও জানিয়েছেন তিনি।
প্রয়োজনের চেয়ে অতিরিক্ত জ্বালানি সংগ্রহের মাধ্যমে মজুদ প্রবণতা থাকায় কৃত্রিম সংকট তৈরি হয়েছে জানিয়ে মন্ত্রী বলেছেন, ‘আমাদের সরবরাহ ও প্রস্তুতি পর্যাপ্ত থাকা সত্ত্বেও মানুষ যদি প্রয়োজনের তুলনায় অতিরিক্ত ক্রয় করে বা কিংবা ড্রাম ও জারের মধ্যে অবৈধ মজুদ করে, তবে স্বাভাবিক সরবরাহ ব্যাহত হতে বাধ্য। দাহ্য পদার্থ হিসেবে গুরুতর অগ্নিকাণ্ডের আশঙ্কার সৃষ্টি করে। সুতরাং আজকের এই পরিস্থিতি আমাদের প্রধান দায়িত্ব হলো জনগণের মধ্যে আস্থা ও সচলতা তৈরি করা।’
লিখিত বক্তব্যের শুরুতে তিনি বলেন, ‘নাগরিকদের জ্ঞাতার্থে আমি আজ এই মহান জাতীয় সংসদে একটি জরুরি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে বক্তব্য উপস্থাপন করতে দাঁড়িয়েছি। যা শুধু জ্বালানি খাতের প্রশ্ন নয়, এর সাথে আমাদের জাতীয় অর্থনীতি, অগ্রগতি, জনগণের দৈনন্দিন জীবনযাপন, উৎপাদনব্যবস্থা, কৃষি, শিল্প, ব্যবসা-বাণিজ্য সামগ্রিকভাবে জাতীয় অগ্রগতির সমৃদ্ধির প্রশ্ন জড়িত। বৈশ্বিক অস্থিতিশীল পরিস্থিতির মধ্যে বাংলাদেশের গ্যাস ও জ্বালানি তেলের মজুদ ও সরবরাহের অগ্রিম প্রস্তুতি এবং পরিকল্পনার বিষয়টি দেশবাসীর সামনে উপস্থাপন করা জরুরি মনে করছি। বিভ্রান্তি সৃষ্টির মাধ্যমে জনসাধারণের মধ্যে যাতে কোনো মহল উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা সৃষ্টি না করতে পারে সে জন্য আজকের আমার এই বিবৃতি।’
মন্ত্রী বলেন, ‘বিশ্ব আজ এক অস্থির সময় অতিক্রম করছে। আন্তর্জাতিক সংঘাত, ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা, সরবরাহ ব্যবস্থার ঝুঁকি ও জ্বালানি পরিবহনের অনিশ্চয়তা—সব মিলিয়ে বিশ্ববাজারে এক ধরণের অস্থিতিশীল পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থাকে চাপের মুখে ফেলেছে। এই অভিঘাত বিভিন্ন দেশের মতো বাংলাদেশেও এসে পৌঁছেছে। কিন্তু আমি অত্যন্ত দৃঢ়তার সাথে এই সংসদকে জানাতে চাই, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমানের নির্দেশে ও তত্ত্বাবধানে আমরা সঠিক এবং সময়োপযোগী প্রস্তুতি নিয়েছি সরবরাহ ব্যবস্থা স্বাভাবিক ও স্থিতিশীল রাখতে। এবং জনগণের স্বস্তি নিশ্চিত করতে নিরলসভাবে আমরা কাজ করে যাচ্ছি।’
এসময় মন্ত্রী বলেন, ‘এই পর্যন্ত বাংলাদেশে জ্বালানির কোনো ঘাটতি নাই। বরং আমরা গত বছরের তুলনায় সরবরাহ আরও বৃদ্ধি করেছি। গত বছরের এই সময়ে যে পরিমাণ জ্বালানি তেল বিক্রি হয়েছিল এ বছর তার চেয়ে বেশি সরবরাহ নিশ্চিত করতে পেরেছি। বর্তমান সরকার দায়িত্বভার গ্রহণ করেছে ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে। সেদিন জ্বালানি তেলের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত ডিজেলের মজুদ ছিল ২ লক্ষ ৬ হাজার মেট্রিক টন। আজ ৩০ মার্চ দেশে ডিজেলের মজুদ আছে ২ লক্ষ ১৮ হাজার মেট্রিক টন। বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণ করার পর ১৭ ফেব্রুয়ারি থেকে ২৯ মার্চ পর্যন্ত ৪১ দিনে ডিজেল বিক্রি হয়েছে ৪ লাখ ৮২ হাজার মেট্রিক টন।’
ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বলেন, ‘এই বিপুল সরবরাহের পরেও মজুদ বৃদ্ধি পাওয়া প্রমাণ করে যে সরকার আগাম প্রস্তুতি, ধারাবাহিক আমদানি ও কার্যকর ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে সরবরাহব্যবস্থাকে দৃঢ়ভাবে অব্যাহত রেখেছে। এবারে ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে মানুষের যাতায়াত যেন নির্বিঘ্ন হয়, পরিবহনব্যবস্থা সচল থাকে, কৃষি ও শিল্প উৎপাদন ব্যাহত না হয়, ব্যবসা-বাণিজ্যে যাতে সচল থাকে সেই লক্ষ্য সামনে রেখে সরকার ডিজেল, অকটেন ও পেট্রোলের মজুদ আরও বৃদ্ধির অগ্রিমব্যবস্থা নিয়েছে।’
এ সময় মন্ত্রী জানান, গত বছরের মার্চ মাসের চাহিদার ভিত্তি ধরে চলতি বছরের মার্চ মাসে জ্বালানি তেলের ক্ষেত্রে ১০ থেকে ২৫ শতাংশ পর্যন্ত অতিরিক্ত সরবরাহব্যবস্থা করা হয়েছে। অর্থাৎ সরকার সম্ভাব্য চাহিদার চেয়েও বেশি প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছে যাতে বাজারে কোনো ধরনের সংকট বা কৃত্রিম চাপ সৃষ্টি না হয়।
মন্ত্রী বলেন, ‘কিন্তু বাস্তবতা হলো প্রকৃত চাহিদা সেই অনুপাতে বাড়েনি। বিশেষ ক্ষেত্রে প্রতিয়মান হয়েছে, জনগণের মধ্যে প্রয়োজনের চেয়ে অতিরিক্ত ক্রয়ের প্রবণতা বিদ্যমান। প্যানিক পরিস্থিতির অনর্থক জটিল করে তুলতে পারে বলেই মনে করার কারণ রয়েছে। গত বছর মার্চ মাসে ডিজেলের দৈনিক চাহিদা ছিল ১২ হাজার মেট্রিক টন। অকটেন ও পেট্রোলের চাহিদা ছিল ১২ শ এবং ১৪ শ মেট্রিক টন। অথচ চলতি বছরে ১ থেকে ২৩ তারিখ পর্যন্ত অকটেনের বিক্রির পরিমাণ হয়েছে ২৮ হাজার ৯৩৯ মেট্রিক টন। অর্থাৎ প্রতিদিন গড়ে ১২ শ ৫৮ মেট্রিক টন। এই ক্ষেত্রে স্পষ্ট হয় যে বাজারে জ্বালানি প্রবাহ অব্যাহত রয়েছে।’
দীর্ঘ বিবৃতিতে মন্ত্রী বলেন, ‘একটি বিষয়ে সকলকে পরিষ্কার করতে চাই, আমাদের মোট ব্যবহৃত জ্বালানির ৬৩ শতাংশ ডিজেল, যার সরবরাহ স্বাভাবিক। অর্থাৎ মোট ব্যবহৃত জ্বালানির ৬ দশমিক ৮ শতাংশ হলো অকটেন আর ৬ দশমিক ৭৭ শতাংশ পেট্রোলের জন্য ফিলিং স্টেশনে দীর্ঘ লাইন জ্বালানি ব্যবস্থাপনার সঠিক চিত্র প্রতিফলন করে না। এখানে প্রয়োজনের চেয়ে অতিরিক্ত জ্বালানি সংগ্রহের মাধ্যমে মজুদ-প্রবণতা থাকায় সংকট কৃত্রিমভাবে তৈরি হয়েছে।’
এই সংকট উত্তরণে সরকার সচেষ্ট রয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘ইতিমধ্যে ৩ হাজার ১৬৮টি অভিযান আমরা পরিচালনা করেছি। ১৫৩টি মামলা করেছি। যাতে ৭৫ লাখ টাকা অর্থদণ্ড ও ১৬ জনকে কারাদণ্ড প্রদান করা হয়েছে। এ ছাড়া অভিযানের মাধ্যমে ১ লক্ষ ৪০ হাজার লিটার ডিজেল, ২২ হাজার লিটার অকটেন, ২৩ হাজার লিটার পেট্রোলসহ ২ লাখ ৮ হাজার লিটার তেল উদ্ধার করা হয়েছে। এই ধরনের অপকর্ম রোধে জনগণের স্বার্থ রক্ষার্থে আগামীতে প্রশাসন প্রয়োজনে আরও কঠোর হতে দ্বিধাবোধ করবে না।’
ডিজেলের পাশাপাশি সরকার অকটেনের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখার জন্য ইতিমধ্যে স্বাক্ষরিত চুক্তি অনুযায়ী এপ্রিলে ৫০ হাজার মেট্রিক টন অকটেন আমদানির উদ্যোগ গ্রহণ করেছে বলে জানান মন্ত্রী। এ ছাড়া দেশীয় উৎস থেকে ৩০ হাজার মেট্রিক টন পাওয়া যাবে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘অর্থাৎ মাসে অকটেনের যে চাহিদা ৩৫ হাজার মেট্রিক টন হলেও সরকারের মজুদের ব্যবস্থা গ্রহণে তাতে আরও দুই মাসের চাহিদা পূরণ হবে।’
মন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে রাজধানীর বিভিন্ন ফিলিং স্টেশনে জ্বালানি সরবরাহ ও বিক্রির তথ্য তুলে ধরেন। তিনি বলেন, প্রাপ্ত তথ্যে দেখা যায় মার্চ ২০২৬-এ অকটেনের সরবরাহ চাহিদার তুলনায় কম নয়। বরং মার্চ ২৫ বা জানুয়ারি ২৬-এর তুলনায় সরবরাহ অনেক বেশি। কিন্তু ভোক্তাদের আচরণের অস্বাভাবিকতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। যেখানে একটি মোটরসাইকেলে সাধারণত গড়ে ৫ লিটার অকটেন গ্রহণ করে, বর্তমানে একই মোটরসাইকেল দিনে ৩-৪ বার এসে ১৫-২০ লিটার... প্রতিবার ৩ থেকে ৫ লিটার পর্যন্ত অকটেন সংগ্রহ করে।’
উদাহরণ দিতে গিয়ে তিনি বলেন, ‘আমি উদাহরণ দিতে চাই, ঢাকার পরিচিত পেট্রোল পাম্প তেজগাঁও ট্রাস্ট ফিলিং স্টেশনে ২০২৫ সালের মার্চ মাসে প্রতিদিন গড়ে ৫ হাজার ৪০০ লিটার অকটেন বিক্রি হতো। অথচ ২৬ সালের মার্চ মাসে প্রতিদিন গড় বিক্রির পরিমাণ প্রায় ১০ হাজার ৬২০ লিটার। অর্থাৎ, প্রায় ৯৬ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। এইভাবে ঢাকায় আসাদগেটে অবস্থিত সোনার বাংলা সার্ভিস স্টেশনে, মহাখালীর গুলশান সার্ভিস স্টেশনে, শাহবাগে মেঘনা মডেল পাম্প, নিকুঞ্জে মডেল সার্ভিস, নিকুঞ্জ ও মিরপুরের খালেক সার্ভিস স্টেশনে ২০২৫ ও ২০২৬-এর সরবরাহকৃত জ্বালানি তেলের তুলনামূলক পর্যালোচনায় একই চিত্র পরিলক্ষিত হয়।’
মন্ত্রী বলেন, ‘প্রশ্ন হলো মানুষের প্রকৃত ব্যবহার কি এক বছরে হঠাৎ করে দ্বিগুণ হয়ে গেছে? নিশ্চয়ই তা নয়। এই অস্বাভাবিক ব্যবধান আমাদের একটি বিষয় পরিষ্কার করে দেয় যে জ্বালানি ঘাটতির চেয়ে জ্বালানি মজুদের মানসিকতাই এখন বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে।’ এরপরে জ্বালানি মজুদ করা সংক্রান্ত বিভিন্ন খবরের শিরোনাম পড়ে শোনান জ্বালানি মন্ত্রী।
বৈদেশিক সংকটের মধ্যেও সরকার জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধি করেনি জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, পৃথিবীর অনেক দেশে জ্বালানির দাম বারবার সমন্বয় করতে হয়েছে, এমনকি প্রতিবেশী অনেক দেশেও ২৫ শতাংশের বেশি মূল্য বৃদ্ধি পেয়েছে। সেখানে বাংলাদেশের সরকার জনগণের স্বার্থে অগ্রাধিকার দিয়ে স্থিতিশীল রেখেছে। কারণ জানি, জ্বালানির দাম বাড়লে কৃষি উৎপাদন, পরিবহন খরচ, সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় বহুগুণ বেড়ে যায়।
মন্ত্রী বলেন, দেশে ডিজেলের বর্তমান বিক্রয় মূল্য প্রতি লিটার ১০০ টাকা অথচ ২৬ সালে প্ল্যাটস রেটে ১ থেকে ২৯ মার্চ গড়ে প্রকৃত ব্যয় প্রতি লিটারে ১৯৮ টাকা। এইভাবে দেশে অকটেনের বর্তমান বিক্রয় মূল্য ১২০ টাকা অথচ প্রকৃত ব্যয় ১৫০ টাকা ৭২ পয়সা। আন্তর্জাতিক বাজারে গত ফেব্রুয়ারির গড় দরের তুলনায় ১ থেকে ২৯ মার্চ সময়ে ডিজেলের গড় দর ৯৮ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। অকটেনের বৃদ্ধি পেয়েছে ২৬ শতাংশ। অর্থাৎ সরকার জনগণের স্বার্থে উল্লেখযোগ্য ভর্তুকি বহন করছে। এই দুটি জ্বালানি তেলের ক্ষেত্রে মার্চ-জুন প্রান্তিক মোট ভর্তুকির প্রয়োজন হবে ডিজেলের ক্ষেত্রে ১৫ হাজার ৪০৯ কোটি টাকা, অকটেনের ক্ষেত্রে ৬৩৬ কোটি টাকা। মোট ১৬ হাজার ৪৫ কোটি টাকা। এ ছাড়া পেট্রোবাংলার মাধ্যমে এলএনজি আমদানিতে এপ্রিল-জুন প্রান্তিকে ১৫ হাজার ৭৭ কোটি টাকা ভর্তুকি প্রয়োজন হবে।’
মন্ত্রী বলেন, ‘এই সরকার বিশ্বাস করে রাষ্ট্রের প্রথম দায়িত্ব হলো সংকটের সময় মানুষের পাশে দাঁড়ানো, তাদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা। আজ বিশ্বে বহু জ্বালানি সংকটে বহু দেশ জ্বালানি সংকটে জরুরি পরিস্থিতি ঘোষণা করেছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান-কলকারখানা পর্যন্ত সীমিত করেছে। কিন্তু বাংলাদেশে আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি জীবনযাত্রা সচল রাখতে। আমাদের পরিবহন, শিক্ষা কার্যক্রম, শিল্প-কারখানা, ব্যবসা-বাণিজ্য ও কৃষি উৎপাদন নিরবচ্ছিন্নভাবে চলছে। আমরা এই গতি বজায় রাখতে চাই।’

বৈশ্বিক অস্থিতিশীল পরিস্থিতির মধ্যে বাংলাদেশের গ্যাস ও জ্বালানি তেলের মজুদ ও সরবরাহের প্রস্তুতি এবং পরিকল্পনা জাতীয় সংসদের দেশবাসীর সামনে উপস্থাপন করেছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু।
সোমবার (৩০ মার্চ) জাতীয় সংসদে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের চতুর্থ দিনে সংসদে ৩০০ বিধিতে দাঁড়িয়ে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বলেছেন, সরবরাহ ব্যবস্থা স্বাভাবিক ও স্থিতিশীল রাখতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশে ও তত্ত্বাবধানে সরকার সঠিক এবং সময়োপযোগী প্রস্তুতি নিয়েছে। এখন পর্যন্ত বাংলাদেশে জ্বালানির কোনো ঘাটতি নাই। গত বছরের তুলনায় সরবরাহ আরও বৃদ্ধি করা হয়েছে বলেও জানিয়েছেন তিনি।
প্রয়োজনের চেয়ে অতিরিক্ত জ্বালানি সংগ্রহের মাধ্যমে মজুদ প্রবণতা থাকায় কৃত্রিম সংকট তৈরি হয়েছে জানিয়ে মন্ত্রী বলেছেন, ‘আমাদের সরবরাহ ও প্রস্তুতি পর্যাপ্ত থাকা সত্ত্বেও মানুষ যদি প্রয়োজনের তুলনায় অতিরিক্ত ক্রয় করে বা কিংবা ড্রাম ও জারের মধ্যে অবৈধ মজুদ করে, তবে স্বাভাবিক সরবরাহ ব্যাহত হতে বাধ্য। দাহ্য পদার্থ হিসেবে গুরুতর অগ্নিকাণ্ডের আশঙ্কার সৃষ্টি করে। সুতরাং আজকের এই পরিস্থিতি আমাদের প্রধান দায়িত্ব হলো জনগণের মধ্যে আস্থা ও সচলতা তৈরি করা।’
লিখিত বক্তব্যের শুরুতে তিনি বলেন, ‘নাগরিকদের জ্ঞাতার্থে আমি আজ এই মহান জাতীয় সংসদে একটি জরুরি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে বক্তব্য উপস্থাপন করতে দাঁড়িয়েছি। যা শুধু জ্বালানি খাতের প্রশ্ন নয়, এর সাথে আমাদের জাতীয় অর্থনীতি, অগ্রগতি, জনগণের দৈনন্দিন জীবনযাপন, উৎপাদনব্যবস্থা, কৃষি, শিল্প, ব্যবসা-বাণিজ্য সামগ্রিকভাবে জাতীয় অগ্রগতির সমৃদ্ধির প্রশ্ন জড়িত। বৈশ্বিক অস্থিতিশীল পরিস্থিতির মধ্যে বাংলাদেশের গ্যাস ও জ্বালানি তেলের মজুদ ও সরবরাহের অগ্রিম প্রস্তুতি এবং পরিকল্পনার বিষয়টি দেশবাসীর সামনে উপস্থাপন করা জরুরি মনে করছি। বিভ্রান্তি সৃষ্টির মাধ্যমে জনসাধারণের মধ্যে যাতে কোনো মহল উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা সৃষ্টি না করতে পারে সে জন্য আজকের আমার এই বিবৃতি।’
মন্ত্রী বলেন, ‘বিশ্ব আজ এক অস্থির সময় অতিক্রম করছে। আন্তর্জাতিক সংঘাত, ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা, সরবরাহ ব্যবস্থার ঝুঁকি ও জ্বালানি পরিবহনের অনিশ্চয়তা—সব মিলিয়ে বিশ্ববাজারে এক ধরণের অস্থিতিশীল পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থাকে চাপের মুখে ফেলেছে। এই অভিঘাত বিভিন্ন দেশের মতো বাংলাদেশেও এসে পৌঁছেছে। কিন্তু আমি অত্যন্ত দৃঢ়তার সাথে এই সংসদকে জানাতে চাই, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমানের নির্দেশে ও তত্ত্বাবধানে আমরা সঠিক এবং সময়োপযোগী প্রস্তুতি নিয়েছি সরবরাহ ব্যবস্থা স্বাভাবিক ও স্থিতিশীল রাখতে। এবং জনগণের স্বস্তি নিশ্চিত করতে নিরলসভাবে আমরা কাজ করে যাচ্ছি।’
এসময় মন্ত্রী বলেন, ‘এই পর্যন্ত বাংলাদেশে জ্বালানির কোনো ঘাটতি নাই। বরং আমরা গত বছরের তুলনায় সরবরাহ আরও বৃদ্ধি করেছি। গত বছরের এই সময়ে যে পরিমাণ জ্বালানি তেল বিক্রি হয়েছিল এ বছর তার চেয়ে বেশি সরবরাহ নিশ্চিত করতে পেরেছি। বর্তমান সরকার দায়িত্বভার গ্রহণ করেছে ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে। সেদিন জ্বালানি তেলের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত ডিজেলের মজুদ ছিল ২ লক্ষ ৬ হাজার মেট্রিক টন। আজ ৩০ মার্চ দেশে ডিজেলের মজুদ আছে ২ লক্ষ ১৮ হাজার মেট্রিক টন। বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণ করার পর ১৭ ফেব্রুয়ারি থেকে ২৯ মার্চ পর্যন্ত ৪১ দিনে ডিজেল বিক্রি হয়েছে ৪ লাখ ৮২ হাজার মেট্রিক টন।’
ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বলেন, ‘এই বিপুল সরবরাহের পরেও মজুদ বৃদ্ধি পাওয়া প্রমাণ করে যে সরকার আগাম প্রস্তুতি, ধারাবাহিক আমদানি ও কার্যকর ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে সরবরাহব্যবস্থাকে দৃঢ়ভাবে অব্যাহত রেখেছে। এবারে ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে মানুষের যাতায়াত যেন নির্বিঘ্ন হয়, পরিবহনব্যবস্থা সচল থাকে, কৃষি ও শিল্প উৎপাদন ব্যাহত না হয়, ব্যবসা-বাণিজ্যে যাতে সচল থাকে সেই লক্ষ্য সামনে রেখে সরকার ডিজেল, অকটেন ও পেট্রোলের মজুদ আরও বৃদ্ধির অগ্রিমব্যবস্থা নিয়েছে।’
এ সময় মন্ত্রী জানান, গত বছরের মার্চ মাসের চাহিদার ভিত্তি ধরে চলতি বছরের মার্চ মাসে জ্বালানি তেলের ক্ষেত্রে ১০ থেকে ২৫ শতাংশ পর্যন্ত অতিরিক্ত সরবরাহব্যবস্থা করা হয়েছে। অর্থাৎ সরকার সম্ভাব্য চাহিদার চেয়েও বেশি প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছে যাতে বাজারে কোনো ধরনের সংকট বা কৃত্রিম চাপ সৃষ্টি না হয়।
মন্ত্রী বলেন, ‘কিন্তু বাস্তবতা হলো প্রকৃত চাহিদা সেই অনুপাতে বাড়েনি। বিশেষ ক্ষেত্রে প্রতিয়মান হয়েছে, জনগণের মধ্যে প্রয়োজনের চেয়ে অতিরিক্ত ক্রয়ের প্রবণতা বিদ্যমান। প্যানিক পরিস্থিতির অনর্থক জটিল করে তুলতে পারে বলেই মনে করার কারণ রয়েছে। গত বছর মার্চ মাসে ডিজেলের দৈনিক চাহিদা ছিল ১২ হাজার মেট্রিক টন। অকটেন ও পেট্রোলের চাহিদা ছিল ১২ শ এবং ১৪ শ মেট্রিক টন। অথচ চলতি বছরে ১ থেকে ২৩ তারিখ পর্যন্ত অকটেনের বিক্রির পরিমাণ হয়েছে ২৮ হাজার ৯৩৯ মেট্রিক টন। অর্থাৎ প্রতিদিন গড়ে ১২ শ ৫৮ মেট্রিক টন। এই ক্ষেত্রে স্পষ্ট হয় যে বাজারে জ্বালানি প্রবাহ অব্যাহত রয়েছে।’
দীর্ঘ বিবৃতিতে মন্ত্রী বলেন, ‘একটি বিষয়ে সকলকে পরিষ্কার করতে চাই, আমাদের মোট ব্যবহৃত জ্বালানির ৬৩ শতাংশ ডিজেল, যার সরবরাহ স্বাভাবিক। অর্থাৎ মোট ব্যবহৃত জ্বালানির ৬ দশমিক ৮ শতাংশ হলো অকটেন আর ৬ দশমিক ৭৭ শতাংশ পেট্রোলের জন্য ফিলিং স্টেশনে দীর্ঘ লাইন জ্বালানি ব্যবস্থাপনার সঠিক চিত্র প্রতিফলন করে না। এখানে প্রয়োজনের চেয়ে অতিরিক্ত জ্বালানি সংগ্রহের মাধ্যমে মজুদ-প্রবণতা থাকায় সংকট কৃত্রিমভাবে তৈরি হয়েছে।’
এই সংকট উত্তরণে সরকার সচেষ্ট রয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘ইতিমধ্যে ৩ হাজার ১৬৮টি অভিযান আমরা পরিচালনা করেছি। ১৫৩টি মামলা করেছি। যাতে ৭৫ লাখ টাকা অর্থদণ্ড ও ১৬ জনকে কারাদণ্ড প্রদান করা হয়েছে। এ ছাড়া অভিযানের মাধ্যমে ১ লক্ষ ৪০ হাজার লিটার ডিজেল, ২২ হাজার লিটার অকটেন, ২৩ হাজার লিটার পেট্রোলসহ ২ লাখ ৮ হাজার লিটার তেল উদ্ধার করা হয়েছে। এই ধরনের অপকর্ম রোধে জনগণের স্বার্থ রক্ষার্থে আগামীতে প্রশাসন প্রয়োজনে আরও কঠোর হতে দ্বিধাবোধ করবে না।’
ডিজেলের পাশাপাশি সরকার অকটেনের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখার জন্য ইতিমধ্যে স্বাক্ষরিত চুক্তি অনুযায়ী এপ্রিলে ৫০ হাজার মেট্রিক টন অকটেন আমদানির উদ্যোগ গ্রহণ করেছে বলে জানান মন্ত্রী। এ ছাড়া দেশীয় উৎস থেকে ৩০ হাজার মেট্রিক টন পাওয়া যাবে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘অর্থাৎ মাসে অকটেনের যে চাহিদা ৩৫ হাজার মেট্রিক টন হলেও সরকারের মজুদের ব্যবস্থা গ্রহণে তাতে আরও দুই মাসের চাহিদা পূরণ হবে।’
মন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে রাজধানীর বিভিন্ন ফিলিং স্টেশনে জ্বালানি সরবরাহ ও বিক্রির তথ্য তুলে ধরেন। তিনি বলেন, প্রাপ্ত তথ্যে দেখা যায় মার্চ ২০২৬-এ অকটেনের সরবরাহ চাহিদার তুলনায় কম নয়। বরং মার্চ ২৫ বা জানুয়ারি ২৬-এর তুলনায় সরবরাহ অনেক বেশি। কিন্তু ভোক্তাদের আচরণের অস্বাভাবিকতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। যেখানে একটি মোটরসাইকেলে সাধারণত গড়ে ৫ লিটার অকটেন গ্রহণ করে, বর্তমানে একই মোটরসাইকেল দিনে ৩-৪ বার এসে ১৫-২০ লিটার... প্রতিবার ৩ থেকে ৫ লিটার পর্যন্ত অকটেন সংগ্রহ করে।’
উদাহরণ দিতে গিয়ে তিনি বলেন, ‘আমি উদাহরণ দিতে চাই, ঢাকার পরিচিত পেট্রোল পাম্প তেজগাঁও ট্রাস্ট ফিলিং স্টেশনে ২০২৫ সালের মার্চ মাসে প্রতিদিন গড়ে ৫ হাজার ৪০০ লিটার অকটেন বিক্রি হতো। অথচ ২৬ সালের মার্চ মাসে প্রতিদিন গড় বিক্রির পরিমাণ প্রায় ১০ হাজার ৬২০ লিটার। অর্থাৎ, প্রায় ৯৬ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। এইভাবে ঢাকায় আসাদগেটে অবস্থিত সোনার বাংলা সার্ভিস স্টেশনে, মহাখালীর গুলশান সার্ভিস স্টেশনে, শাহবাগে মেঘনা মডেল পাম্প, নিকুঞ্জে মডেল সার্ভিস, নিকুঞ্জ ও মিরপুরের খালেক সার্ভিস স্টেশনে ২০২৫ ও ২০২৬-এর সরবরাহকৃত জ্বালানি তেলের তুলনামূলক পর্যালোচনায় একই চিত্র পরিলক্ষিত হয়।’
মন্ত্রী বলেন, ‘প্রশ্ন হলো মানুষের প্রকৃত ব্যবহার কি এক বছরে হঠাৎ করে দ্বিগুণ হয়ে গেছে? নিশ্চয়ই তা নয়। এই অস্বাভাবিক ব্যবধান আমাদের একটি বিষয় পরিষ্কার করে দেয় যে জ্বালানি ঘাটতির চেয়ে জ্বালানি মজুদের মানসিকতাই এখন বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে।’ এরপরে জ্বালানি মজুদ করা সংক্রান্ত বিভিন্ন খবরের শিরোনাম পড়ে শোনান জ্বালানি মন্ত্রী।
বৈদেশিক সংকটের মধ্যেও সরকার জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধি করেনি জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, পৃথিবীর অনেক দেশে জ্বালানির দাম বারবার সমন্বয় করতে হয়েছে, এমনকি প্রতিবেশী অনেক দেশেও ২৫ শতাংশের বেশি মূল্য বৃদ্ধি পেয়েছে। সেখানে বাংলাদেশের সরকার জনগণের স্বার্থে অগ্রাধিকার দিয়ে স্থিতিশীল রেখেছে। কারণ জানি, জ্বালানির দাম বাড়লে কৃষি উৎপাদন, পরিবহন খরচ, সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় বহুগুণ বেড়ে যায়।
মন্ত্রী বলেন, দেশে ডিজেলের বর্তমান বিক্রয় মূল্য প্রতি লিটার ১০০ টাকা অথচ ২৬ সালে প্ল্যাটস রেটে ১ থেকে ২৯ মার্চ গড়ে প্রকৃত ব্যয় প্রতি লিটারে ১৯৮ টাকা। এইভাবে দেশে অকটেনের বর্তমান বিক্রয় মূল্য ১২০ টাকা অথচ প্রকৃত ব্যয় ১৫০ টাকা ৭২ পয়সা। আন্তর্জাতিক বাজারে গত ফেব্রুয়ারির গড় দরের তুলনায় ১ থেকে ২৯ মার্চ সময়ে ডিজেলের গড় দর ৯৮ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। অকটেনের বৃদ্ধি পেয়েছে ২৬ শতাংশ। অর্থাৎ সরকার জনগণের স্বার্থে উল্লেখযোগ্য ভর্তুকি বহন করছে। এই দুটি জ্বালানি তেলের ক্ষেত্রে মার্চ-জুন প্রান্তিক মোট ভর্তুকির প্রয়োজন হবে ডিজেলের ক্ষেত্রে ১৫ হাজার ৪০৯ কোটি টাকা, অকটেনের ক্ষেত্রে ৬৩৬ কোটি টাকা। মোট ১৬ হাজার ৪৫ কোটি টাকা। এ ছাড়া পেট্রোবাংলার মাধ্যমে এলএনজি আমদানিতে এপ্রিল-জুন প্রান্তিকে ১৫ হাজার ৭৭ কোটি টাকা ভর্তুকি প্রয়োজন হবে।’
মন্ত্রী বলেন, ‘এই সরকার বিশ্বাস করে রাষ্ট্রের প্রথম দায়িত্ব হলো সংকটের সময় মানুষের পাশে দাঁড়ানো, তাদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা। আজ বিশ্বে বহু জ্বালানি সংকটে বহু দেশ জ্বালানি সংকটে জরুরি পরিস্থিতি ঘোষণা করেছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান-কলকারখানা পর্যন্ত সীমিত করেছে। কিন্তু বাংলাদেশে আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি জীবনযাত্রা সচল রাখতে। আমাদের পরিবহন, শিক্ষা কার্যক্রম, শিল্প-কারখানা, ব্যবসা-বাণিজ্য ও কৃষি উৎপাদন নিরবচ্ছিন্নভাবে চলছে। আমরা এই গতি বজায় রাখতে চাই।’

‘শিট, মামা শিট’– কয়েক যুবকের উল্লাসের কথোপকথন। কিন্তু এর সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে সড়কে বেপরোয়া তারুণ্যের আওলা গতি! ঘটনা গত ১০ মার্চের। সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়– রাজধানীর জুলাই স্মৃতি এক্সপ্রেসওয়েতে (৩০০ ফিট) প্রাইভেটকারে বসা কয়েক যুবক।
১০ মিনিট আগে
মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে মাইক্রোবাস ও সিএনজিচালিত অটোরিকশার মুখোমুখি সংঘর্ষে চালকসহ দুইজন নিহত হয়েছেন। সোমবার (৩০ মার্চ) বিকেলে ঢাকা-সিলেট আঞ্চলিক মহাসড়কের সিরাজনগর এলাকায় এই দুর্ঘটনা ঘটে।
৩৩ মিনিট আগে
পহেলা বৈশাখ ও বাংলা নববর্ষ-১৪৩৩ বরণে প্রস্তুতি শুরু করেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি)। সোমবার দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদ প্রাঙ্গণে এই প্রস্তুতি কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়।
১ ঘণ্টা আগে
মধ্যপ্রাচ্য সংকটের জেরে মাসজুড়ে দেশের জ্বালানি তেলের বাজারে অস্থিরতা চলছে। রাজধানীর ফিলিং স্টেশনগুলোতে ‘তেল নেই’ সাইনবোর্ড ঝুললেও সরকারের দাবি— মজুত ও সরবরাহে ঘাটতি নেই। ‘প্যানিক বায়িং’ বা আতঙ্কে অতিরিক্ত কেনাকাটাকে এই সংকটের জন্য দায়ী করা হচ্ছে।
২ ঘণ্টা আগে