বিএনপি নেতার পাম্পে অভিযান, ৫০ হাজার লিটার পেট্রোলের গরমিল

স্ট্রিম সংবাদদাতা
স্ট্রিম সংবাদদাতা
ময়মনসিংহ

প্রকাশ : ০৮ এপ্রিল ২০২৬, ১০: ১৭
সোয়াদ ফিলিং স্টেশন। সংগৃহীত ছবি

ময়মনসিংহের গৌরীপুরে এক বিএনপি নেতার পেট্রোল পাম্পে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান চালিয়েছে। এসময় তেল সংগ্রহ ও বিক্রির হিসাবে গরমিল পাওয়া গেছে। প্রাপ্ত হিসাবে, গত ৬ দিনে প্রায় ৫০ হাজার লিটার পেট্রোলের কোনো হদিস মেলেনি।

মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) বিকেলে ময়মনসিংহের জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নুরুল হুদা মনির নেতৃত্বে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে এ তথ্য বেরিয়ে আসে। এ ঘটনায় ফিলিং স্টেশনের ম্যানেজার মো. জলিল হোসেন রিফাতকে (৩০) গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

এ ঘটনায় ভ্রাম্যমাণ আদালতের কর্মকর্তা মো. আফসারুল ইসলাম (২৭) বাদী হয়ে গৌরীপুর থানার মামলা দায়ের করেন। মামলা ও গ্রেফতারের বিষয়টি নিশ্চিত করেন গৌরীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. কামরুল হাসান।

গৌরীপুর থানার ওসি মো. কামরুল হাসান জানিয়েছেন, বিশেষ ক্ষমতা আইনের ১৯৭৪ এর ২৫/২৫ ডি ধারায় একটি নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়েছে।

মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, মেসার্স সোয়াদ ফিলিং স্টেশন চলতি মাসের ১, ২ ও ৩ এপ্রিল ১৩ হাজার ৫০০ লিটার করে ৪০ হাজার ৫০০ লিটার পেট্রোল, ৬ ও ৭ এপ্রিল ৯ হাজার লিটার করে ১৮ হাজার লিটার পেট্রোল বরাদ্দ পায়। জ্বালানি সংকটকালীন পরিস্থিতি মোকাবিলায় জ্বালানির নিরীক্ষা অভিযান মঙ্গলবার পরিচালনা করা হয়। কিশোরগঞ্জের ভৈরব বাজার ডিপো থেকে সর্বমোট ৫৮ হাজার ৫০০ লিটার পেট্রোল বরাদ্দ পায়। গ্রেপ্তারকৃত ম্যানেজার মো. জলিল হোসেন রিফাত ভ্রাম্যমাণ আদালতকে নিশ্চিত করে এ মাসে এ পর্যন্ত ৯ হাজার লিটার পেট্রোল বিতরণ করা হয়েছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে ভ্রাম্যমাণ আদালত নিশ্চিত হয় যে ফিলিং স্টেশনটি অসৎভাবে তেল ব্যবসা বা অবৈধ মজুতের সঙ্গে জড়িত।

এছাড়াও ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনাকালে উপস্থিত জনতা, দোকানি, মোটর সাইকেল ব্যবহারকারীরা জানান, এ মাসে মের্সাস সোয়াদ ফিলিং স্টেশনে মাত্র ১ দিন পেট্রোল বিতরণ করা হয়েছে।

তেল বিতরণে নিয়োজিত তদারকি কর্মকর্তার প্রতিনিধি উপজেলা প্রাণিসম্পদ অফিসের কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, এ মাসে ৩ এপ্রিল আমাকে অবগত করা হয় পেট্রোল বরাদ্দ পেয়েছে, যা ৪ এপ্রিল বিতরণ করা হয়।

মেসার্স সোয়াদ ফিলিং স্টেশন নামে ওই পাম্পের মালিক, উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব হাফেজ আজিজুল হক। তাঁর দাবি, ভ্রাম্যমাণ আদালতে তাঁর ম্যানেজার সঠিক তথ্য উপস্থাপন করতে পারেননি। কয়েকদিন হয়েছে মাত্র তাঁর নিয়োগ হয়েছে। তিনি যে পরিমাণ তেল পেয়েছেন, তার সবটুকুই বিক্রি করেছেন।

সম্পর্কিত