আবদুল্লাহ কাফি

যেকোনো নির্বাচনে নড়েচড়ে বসে ছাপাখানা। সংসদ নির্বাচনে ব্যস্ততা বেড়ে যায় কয়েক গুণ। কিন্তু এবার ছাপাখানার চিত্র ভিন্ন। নির্বাচন কমিশনের (ইসি) বিধিনিষেধে তলানিতে ঠেকেছে পোস্টার ব্যবসা। শুধু বইমেলা ছাড়া তাদের কোনো ব্যস্ততা নেই। অলস সময় কাটাচ্ছেন রাজধানীর ফকিরাপুল, নীলক্ষেত ও আরামবাগের মুদ্রণ প্রতিষ্ঠানের কর্মীরা।
নির্বাচন কমিশনের (ইসি) আচরণবিধি অনুযায়ী, ত্রয়োদশ নির্বাচনের প্রচারে যেকোনো ধরনের পোস্টার সাটানো নিষিদ্ধ। লিফলেট, হ্যান্ডবিল, ফেস্টুন এবং ব্যানার ব্যবহারেও রয়েছে বিধিনিষেধ। ফলে ক্ষুদ্র ও মাঝারি ছাপাখানার মালিকেরা লোকসান গুণছেন বলে জানিয়েছেন। অবশ্য বাংলাদেশ মুদ্রণ শিল্প সমিতির ভাষ্য, তাদের কেউ লোকসানে পড়েননি। নিয়মিত কাজ ঘিরে যে ব্যবসা হচ্ছে, তাতে পুষিয়ে যাচ্ছে। নির্বাচনের কাজে বাড়তি আয় হয়, সেটি থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
রাজধানীতে তিন হাজারের বেশি ছাপাখানা। এর মধ্যে ফকিরাপুল ও পল্টনেই হাজারখানেক। নির্বাচন এলে যেখানে বাড়তি লোক নিয়োগ দিতে হয়, এবার সেখানে স্বাভাবিক ব্যস্ততা। মুদ্রণসংশ্লিষ্টরা জানান, জাতীয় নির্বাচন এলে ঢাকাসহ সারা দেশের ছাপাখানায় ১০০ কোটি টাকার ওপরে ব্যবসা হয়। পোস্টার নিষিদ্ধ হওয়ায় সেই ব্যবসা থেকে বঞ্চিত ব্যবসায়ীরা।
রাজশাহীর স্বাগতম অফসেট প্রেসের কর্ণধার স্বাগতম নস্কর স্ট্রিমকে বলেন, নির্বাচন ঘিরে রাজশাহীর অনেক প্রেসমালিক আগে থেকে প্রস্তুতি নিয়েছিলেন। পোস্টার নিষিদ্ধ হওয়ায় কোনো কাজ হচ্ছে না। ফলে যারা কাগজ-কালিসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম মজুদ করেছিলেন, তারা ক্ষতির মুখে পড়েছেন।
কয়েকজন খাপাখানার মালিক ও ডিজাইনার জানিয়েছেন, নির্বাচনের সময় বাড়তি কাজ করতে হয়। একটা উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করে। এবার তা নেই। রাজধানীর নীলক্ষেত, ফকিরাপুল ও আরামবাগ ‘প্রেসপাড়া’ হিসেবে পরিচিত। এর মধ্যে পোস্টার, লিফলেট ও হ্যান্ডবিল ছাপার জন্য প্রসিদ্ধ ফকিরাপুল।
সরেজমিন এসব এলাকায় নির্বাচনী কোনো আমেজ দেখা যায়নি। রাজনৈতিক পোস্টারের কাজ নেই। নেই বাড়তি ভিড়। ফকিরাপুলের রাজীব গ্রাফিক্স অ্যান্ড প্রিন্টিংয়ের কর্ণধার রাজীব এস রহমান স্ট্রিমকে বলেন, অন্যান্য বছর নির্বাচনের সময় কাজের প্রচুর চাপ থাকে। বাড়তি লোকবল নিয়েও সামাল দেওয়া যায় না। এবার পোস্টার নিষিদ্ধ হওয়ায় তেমন কাজ নেই। কর্মীরা অলস সময় পার করছেন।
তিনি আরও বলেন, সারা বছরই আমরা কাজ করি। তবে নির্বাচন এলে একটা উৎসবমুখর পরিবেশ তৈরি হয়। দিনরাত ছাপাখানার কাজ চলে। ২৪ ঘণ্টা জমজমাট থাকে এই এলাকা। এবার সেই আনন্দটা একেবারেই নেই।
ডিজাইন টাচের মোহাম্মদ শান্তি বলেন, ফকিরাপুলে তো সব সময় ছাপার কাজ চলে। স্বাভাবিক যে কাজ থাকে, সেগুলোই করা হচ্ছে। বৈধ থাকায় লিফলেটের কিছু কাজ করছি। কাপড়ের ব্যানার বৈধ, এজন্য আমরাও ধরন বদলে অর্ডার নিয়ে কাজ করছি। নির্বাচনের আহামরি কাজ হচ্ছে বলা যাবে না।
বাংলাদেশ মুদ্রণ শিল্প সমিতির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান জুনায়েদ উল্লাহ আল মাহফুজ স্ট্রিমকে বলেন, ৩০০ আসনে গড়ে পাঁচজন হলেও দেড় হাজার প্রার্থী। প্রত্যেকে এক লাখ করে ছাপালে ১৫ কোটি পোস্টার। প্রতিপিস ২ টাকা ৫০ পয়সা ধরলে আসে প্রায় ৩৮ কোটি টাকা। বাস্তবতা হলো প্রার্থীরা অনুমোদনের তুলনায় তিন গুণ বেশি পোস্টার ছাপান। আমাদের বড় ব্যবসা হয় নির্বাচনে। এবার ১০০ কোটি টাকার বেশি ব্যবসা থেকে আমরা বঞ্চিত হয়েছি।
মুদ্রণশিল্প লোকসানে পড়েছে কিনা প্রশ্নে তিনি বলেন, এই শিল্প শুধু পোস্টারে ছাপানোর ওপর নির্ভরশীল না। স্থানীয় পর্যায়ে ছোট পরিসরে যারা কাজ করেন, তারা হয়তো নির্বাচনকেন্দ্রিক অগ্রিম কাগজ কিনে লোকসানে পড়তে পারেন। কিন্তু ঢাকা বা আশেপাশের কেউ পোস্টারের জন্য কাগজ কিনে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন দাবি করলে তা মিথ্যা।
পোস্টারের সঙ্গে কাগজ, কালি ও ডিজাইনের ব্যবসা-সম্পর্কিত। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, অন্যান্য বছর নির্বাচনের আগে কাগজ মজুদ করে রাখেন ব্যবসায়ীরা। চাহিদা বেড়ে গেলে বাড়তি দামেও বিক্রি করেন। তবে এবার এমন ঘটনা ঘটেনি।
ফকিরাপুলে পাইকারী কাগজ বিক্রি করে প্রাপ্তি ট্রেডার্স। প্রতিষ্ঠানটির স্বত্বাধিকারী মোহাম্মদ হারুন-অর-রশিদ স্ট্রিমকে জানান, নির্বাচন ঘিরে তাদের বাড়তি বেচাবিক্রি নেই। সবকিছু স্বাভাবিক।
নির্বাচনের আগে কাগজ মজুদ করেছিলেন কিনা– প্রশ্নে তিনি বলেন, আমরা আগে থেকেই জানতাম এবার পোস্টার ব্যবহার করা যাবে না। তাই আলাদা করে কাগজের মজুদ করা হয়নি। করলে তো লসে পড়তে হতো।
ডিজাইন প্রতিষ্ঠানগুলো পাচ্ছে না বাড়তি কাজ। নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন ডিজাইনার স্ট্রিমকে বলেন, প্রতি নির্বাচনে পোস্টার, ব্যানার, লিফলেটসহ নানা ডিজাইনের কাজ করি। এ বছর কাজ একটু কম। নিয়মিত কাজ নিয়েই আছি। পাশাপশি প্রার্থীদের ফেসবুকে প্রচারের জন্য কিছু কাজ পাচ্ছি। সেটা খুব বেশি না।

যেকোনো নির্বাচনে নড়েচড়ে বসে ছাপাখানা। সংসদ নির্বাচনে ব্যস্ততা বেড়ে যায় কয়েক গুণ। কিন্তু এবার ছাপাখানার চিত্র ভিন্ন। নির্বাচন কমিশনের (ইসি) বিধিনিষেধে তলানিতে ঠেকেছে পোস্টার ব্যবসা। শুধু বইমেলা ছাড়া তাদের কোনো ব্যস্ততা নেই। অলস সময় কাটাচ্ছেন রাজধানীর ফকিরাপুল, নীলক্ষেত ও আরামবাগের মুদ্রণ প্রতিষ্ঠানের কর্মীরা।
নির্বাচন কমিশনের (ইসি) আচরণবিধি অনুযায়ী, ত্রয়োদশ নির্বাচনের প্রচারে যেকোনো ধরনের পোস্টার সাটানো নিষিদ্ধ। লিফলেট, হ্যান্ডবিল, ফেস্টুন এবং ব্যানার ব্যবহারেও রয়েছে বিধিনিষেধ। ফলে ক্ষুদ্র ও মাঝারি ছাপাখানার মালিকেরা লোকসান গুণছেন বলে জানিয়েছেন। অবশ্য বাংলাদেশ মুদ্রণ শিল্প সমিতির ভাষ্য, তাদের কেউ লোকসানে পড়েননি। নিয়মিত কাজ ঘিরে যে ব্যবসা হচ্ছে, তাতে পুষিয়ে যাচ্ছে। নির্বাচনের কাজে বাড়তি আয় হয়, সেটি থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
রাজধানীতে তিন হাজারের বেশি ছাপাখানা। এর মধ্যে ফকিরাপুল ও পল্টনেই হাজারখানেক। নির্বাচন এলে যেখানে বাড়তি লোক নিয়োগ দিতে হয়, এবার সেখানে স্বাভাবিক ব্যস্ততা। মুদ্রণসংশ্লিষ্টরা জানান, জাতীয় নির্বাচন এলে ঢাকাসহ সারা দেশের ছাপাখানায় ১০০ কোটি টাকার ওপরে ব্যবসা হয়। পোস্টার নিষিদ্ধ হওয়ায় সেই ব্যবসা থেকে বঞ্চিত ব্যবসায়ীরা।
রাজশাহীর স্বাগতম অফসেট প্রেসের কর্ণধার স্বাগতম নস্কর স্ট্রিমকে বলেন, নির্বাচন ঘিরে রাজশাহীর অনেক প্রেসমালিক আগে থেকে প্রস্তুতি নিয়েছিলেন। পোস্টার নিষিদ্ধ হওয়ায় কোনো কাজ হচ্ছে না। ফলে যারা কাগজ-কালিসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম মজুদ করেছিলেন, তারা ক্ষতির মুখে পড়েছেন।
কয়েকজন খাপাখানার মালিক ও ডিজাইনার জানিয়েছেন, নির্বাচনের সময় বাড়তি কাজ করতে হয়। একটা উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করে। এবার তা নেই। রাজধানীর নীলক্ষেত, ফকিরাপুল ও আরামবাগ ‘প্রেসপাড়া’ হিসেবে পরিচিত। এর মধ্যে পোস্টার, লিফলেট ও হ্যান্ডবিল ছাপার জন্য প্রসিদ্ধ ফকিরাপুল।
সরেজমিন এসব এলাকায় নির্বাচনী কোনো আমেজ দেখা যায়নি। রাজনৈতিক পোস্টারের কাজ নেই। নেই বাড়তি ভিড়। ফকিরাপুলের রাজীব গ্রাফিক্স অ্যান্ড প্রিন্টিংয়ের কর্ণধার রাজীব এস রহমান স্ট্রিমকে বলেন, অন্যান্য বছর নির্বাচনের সময় কাজের প্রচুর চাপ থাকে। বাড়তি লোকবল নিয়েও সামাল দেওয়া যায় না। এবার পোস্টার নিষিদ্ধ হওয়ায় তেমন কাজ নেই। কর্মীরা অলস সময় পার করছেন।
তিনি আরও বলেন, সারা বছরই আমরা কাজ করি। তবে নির্বাচন এলে একটা উৎসবমুখর পরিবেশ তৈরি হয়। দিনরাত ছাপাখানার কাজ চলে। ২৪ ঘণ্টা জমজমাট থাকে এই এলাকা। এবার সেই আনন্দটা একেবারেই নেই।
ডিজাইন টাচের মোহাম্মদ শান্তি বলেন, ফকিরাপুলে তো সব সময় ছাপার কাজ চলে। স্বাভাবিক যে কাজ থাকে, সেগুলোই করা হচ্ছে। বৈধ থাকায় লিফলেটের কিছু কাজ করছি। কাপড়ের ব্যানার বৈধ, এজন্য আমরাও ধরন বদলে অর্ডার নিয়ে কাজ করছি। নির্বাচনের আহামরি কাজ হচ্ছে বলা যাবে না।
বাংলাদেশ মুদ্রণ শিল্প সমিতির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান জুনায়েদ উল্লাহ আল মাহফুজ স্ট্রিমকে বলেন, ৩০০ আসনে গড়ে পাঁচজন হলেও দেড় হাজার প্রার্থী। প্রত্যেকে এক লাখ করে ছাপালে ১৫ কোটি পোস্টার। প্রতিপিস ২ টাকা ৫০ পয়সা ধরলে আসে প্রায় ৩৮ কোটি টাকা। বাস্তবতা হলো প্রার্থীরা অনুমোদনের তুলনায় তিন গুণ বেশি পোস্টার ছাপান। আমাদের বড় ব্যবসা হয় নির্বাচনে। এবার ১০০ কোটি টাকার বেশি ব্যবসা থেকে আমরা বঞ্চিত হয়েছি।
মুদ্রণশিল্প লোকসানে পড়েছে কিনা প্রশ্নে তিনি বলেন, এই শিল্প শুধু পোস্টারে ছাপানোর ওপর নির্ভরশীল না। স্থানীয় পর্যায়ে ছোট পরিসরে যারা কাজ করেন, তারা হয়তো নির্বাচনকেন্দ্রিক অগ্রিম কাগজ কিনে লোকসানে পড়তে পারেন। কিন্তু ঢাকা বা আশেপাশের কেউ পোস্টারের জন্য কাগজ কিনে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন দাবি করলে তা মিথ্যা।
পোস্টারের সঙ্গে কাগজ, কালি ও ডিজাইনের ব্যবসা-সম্পর্কিত। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, অন্যান্য বছর নির্বাচনের আগে কাগজ মজুদ করে রাখেন ব্যবসায়ীরা। চাহিদা বেড়ে গেলে বাড়তি দামেও বিক্রি করেন। তবে এবার এমন ঘটনা ঘটেনি।
ফকিরাপুলে পাইকারী কাগজ বিক্রি করে প্রাপ্তি ট্রেডার্স। প্রতিষ্ঠানটির স্বত্বাধিকারী মোহাম্মদ হারুন-অর-রশিদ স্ট্রিমকে জানান, নির্বাচন ঘিরে তাদের বাড়তি বেচাবিক্রি নেই। সবকিছু স্বাভাবিক।
নির্বাচনের আগে কাগজ মজুদ করেছিলেন কিনা– প্রশ্নে তিনি বলেন, আমরা আগে থেকেই জানতাম এবার পোস্টার ব্যবহার করা যাবে না। তাই আলাদা করে কাগজের মজুদ করা হয়নি। করলে তো লসে পড়তে হতো।
ডিজাইন প্রতিষ্ঠানগুলো পাচ্ছে না বাড়তি কাজ। নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন ডিজাইনার স্ট্রিমকে বলেন, প্রতি নির্বাচনে পোস্টার, ব্যানার, লিফলেটসহ নানা ডিজাইনের কাজ করি। এ বছর কাজ একটু কম। নিয়মিত কাজ নিয়েই আছি। পাশাপশি প্রার্থীদের ফেসবুকে প্রচারের জন্য কিছু কাজ পাচ্ছি। সেটা খুব বেশি না।

শেরপুর-৩ আসনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী নুরুজ্জামান বাদলের মৃত্যুতে ওই আসনের নির্বাচন ‘আপাতত বাতিল’ হচ্ছে বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশনার (ইসি) আব্দুর রহমানেল মাছউদ।
২ ঘণ্টা আগে
জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমানের এক্স অ্যাকাউন্ট হ্যাকের ঘটনায় বঙ্গভবনের সহকারী প্রোগ্রামার মোহাম্মদ ছরওয়ারে আলমকে আটক করার কথা জানিয়েছে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা শাখা (ডিবি)।
৪ ঘণ্টা আগে
আসন্ন নির্বাচনে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী পুরোপুরি প্রস্তুত বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী। তিনি বলেছেন, ভোটকেন্দ্রে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
১৩ ঘণ্টা আগে
লাইটার জাহাজ ঘাটে পৌঁছানোর তিন দিনের মধ্যে পণ্য খালাস করার নির্দেশ দিয়েছেন নৌপরিবহন উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এম সাখাওয়াত হোসেন।
১৩ ঘণ্টা আগে