স্ট্রিম ডেস্ক

লিবিয়ার প্রয়াত শাসক মুয়াম্মার গাদ্দাফির ছেলে সাইফ আল-ইসলাম গাদ্দাফি দুর্বৃত্তের গুলিতে নিহত হয়েছেন। দেশটির কর্মকর্তা ও স্থানীয় গণমাধ্যমের বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে আল জাজিরা।
সাইফ আল-ইসলাম গাদ্দাফির আইনজীবী খালেদ আল-জাইদি ও তাঁর রাজনৈতিক উপদেষ্টা আবদুল্লাহ ওসমান মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) পৃথকভাবে ফেসবুকে দেওয়া পোস্টে ৫৩ বছর বয়সী এই নেতার মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেন। তবে মৃত্যুর বিষয়ে বিস্তারিত কোনো তথ্য জানাননি তাঁরা।
গাদ্দাফির রাজনৈতিক দল আরব সোশ্যালিস্ট ইউনিয়নের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, লিবিয়ার উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় শহর জিনতানে তাঁর বাড়িতে মুখোশধারী ব্যক্তিরা হামলা চালিয়ে তাঁকে হত্যা করেছে। দলটির ভাষায়, এটি একটি ‘কাপুরুষোচিত ও বিশ্বাসঘাতক হত্যাকাণ্ড’।
১৯৭২ সালের জুনে ত্রিপোলিতে জন্ম নেওয়া সাইফ আল-ইসলাম গাদ্দাফি ছিলেন লিবিয়ার দীর্ঘদিনের শাসক মুয়াম্মার গাদ্দাফির দ্বিতীয় সন্তান। পশ্চিমা শিক্ষায় শিক্ষিত ও সাবলীল বক্তা হিসেবে তিনি বাবার দমনমূলক শাসনের মধ্যে তুলনামূলকভাবে সংস্কারপন্থী মুখ হিসেবে পরিচিত ছিলেন। ২০০০–এর দশকের শুরুতে পশ্চিমা বিশ্বের সঙ্গে লিবিয়ার সম্পর্ক স্বাভাবিক করতে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।
তিনি লিবিয়ার গণবিধ্বংসী অস্ত্র পরিত্যাগের আলোচনা পরিচালনা করেন এবং ১৯৮৮ সালে স্কটল্যান্ডের লকারবির আকাশে প্যান অ্যাম ফ্লাইট ১০৩–এ বোমা হামলায় নিহতদের পরিবারের জন্য ক্ষতিপূরণ নিয়ে দর-কষাকষি করেন। লন্ডন স্কুল অব ইকোনমিকস থেকে শিক্ষালাভ করা সাইফ আল-ইসলাম মানবাধিকার ও সংবিধানের পক্ষে কথা বলতেন এবং নিজেকে একজন সংস্কারক হিসেবে তুলে ধরতেন। তাঁর গবেষণাপত্রে বৈশ্বিক শাসনব্যবস্থার সংস্কারে নাগরিক সমাজের ভূমিকা নিয়ে আলোচনা ছিল।
তবে ২০১১ সালে মুয়াম্মার গাদ্দাফির দীর্ঘ শাসনের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ শুরু হলে সাইফ আল-ইসলাম পরিবারের ও গোত্রের প্রতি আনুগত্য বেছে নেন। তিনি বিক্ষোভকারীদের দমন অভিযানের অন্যতম পরিকল্পনাকারীতে পরিণত হন এবং বিরোধীদের ‘ইঁদুর’ বলে আখ্যা দেন।
সে সময় রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছিলেন, ‘আমরা লিবিয়াতেই লড়াই করব, লিবিয়াতেই মরব।’ তিনি রক্তের নদী বইবে বলে হুঁশিয়ারি দেন এবং বলেন, সরকার শেষ মানুষ, নারী ও শেষ গুলি পর্যন্ত লড়াই করবে।
২০১১ সালে বাবার পতন ও মৃত্যুর আগে সাইফ আল-ইসলামকে লিবিয়ার দ্বিতীয় ক্ষমতাধর ব্যক্তি হিসেবে বিবেচনা করা হতো। তিনি বিরোধীদের ওপর নির্যাতন ও চরম সহিংসতার অভিযোগে অভিযুক্ত হন। ২০১১ সালের ফেব্রুয়ারিতে তাঁর বিরুদ্ধে জাতিসংঘের নিষেধাজ্ঞা জারি হয় এবং ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়। একই সঙ্গে ২০১১ সালে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি) তাঁকে অভিযুক্ত করে।
ত্রিপোলি বিদ্রোহীদের দখলে গেলে তিনি বেদুইন বেশে প্রতিবেশী নাইজারে পালানোর চেষ্টা করেন। তবে মরুভূমির একটি সড়কে আবু বকর সাদিক ব্রিগেড নামের একটি মিলিশিয়া তাঁকে আটক করে এবং জিনতানে নিয়ে যায়। আইসিসির সঙ্গে দীর্ঘ আলোচনার পর লিবিয়ার কর্তৃপক্ষ তাঁকে যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে বিচার করার ক্ষমতা পায়। ২০১৫ সালে ত্রিপোলির একটি আদালত অনুপস্থিতিতে তাঁকে মৃত্যুদণ্ড দেন।
২০১৭ সালে আটক থেকে মুক্তির পর তিনি হত্যার আশঙ্কায় জিনতানে আত্মগোপনে ছিলেন। ২০২১ সালের নভেম্বরে তিনি লিবিয়ার প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দিলে তা নিয়ে তীব্র বিতর্ক শুরু হয়। পশ্চিম ও পূর্ব লিবিয়ার গাদ্দাফিবিরোধী রাজনৈতিক শক্তিগুলো তাঁর প্রার্থিতার বিরোধিতা করে। ২০১৫ সালের দণ্ডের কারণে তাঁকে অযোগ্য ঘোষণা করা হয়। সেই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করতে গেলে সশস্ত্র যোদ্ধারা আদালত অবরোধ করে রাখে।
এ নিয়ে সৃষ্ট বিরোধ ও টানাপোড়েন শেষ পর্যন্ত নির্বাচনী প্রক্রিয়া ভেঙে পড়ে এবং লিবিয়া আবারও রাজনৈতিক অচলাবস্থায় ফিরে যায়—জানিয়েছে আল জাজিরা।

লিবিয়ার প্রয়াত শাসক মুয়াম্মার গাদ্দাফির ছেলে সাইফ আল-ইসলাম গাদ্দাফি দুর্বৃত্তের গুলিতে নিহত হয়েছেন। দেশটির কর্মকর্তা ও স্থানীয় গণমাধ্যমের বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে আল জাজিরা।
সাইফ আল-ইসলাম গাদ্দাফির আইনজীবী খালেদ আল-জাইদি ও তাঁর রাজনৈতিক উপদেষ্টা আবদুল্লাহ ওসমান মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) পৃথকভাবে ফেসবুকে দেওয়া পোস্টে ৫৩ বছর বয়সী এই নেতার মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেন। তবে মৃত্যুর বিষয়ে বিস্তারিত কোনো তথ্য জানাননি তাঁরা।
গাদ্দাফির রাজনৈতিক দল আরব সোশ্যালিস্ট ইউনিয়নের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, লিবিয়ার উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় শহর জিনতানে তাঁর বাড়িতে মুখোশধারী ব্যক্তিরা হামলা চালিয়ে তাঁকে হত্যা করেছে। দলটির ভাষায়, এটি একটি ‘কাপুরুষোচিত ও বিশ্বাসঘাতক হত্যাকাণ্ড’।
১৯৭২ সালের জুনে ত্রিপোলিতে জন্ম নেওয়া সাইফ আল-ইসলাম গাদ্দাফি ছিলেন লিবিয়ার দীর্ঘদিনের শাসক মুয়াম্মার গাদ্দাফির দ্বিতীয় সন্তান। পশ্চিমা শিক্ষায় শিক্ষিত ও সাবলীল বক্তা হিসেবে তিনি বাবার দমনমূলক শাসনের মধ্যে তুলনামূলকভাবে সংস্কারপন্থী মুখ হিসেবে পরিচিত ছিলেন। ২০০০–এর দশকের শুরুতে পশ্চিমা বিশ্বের সঙ্গে লিবিয়ার সম্পর্ক স্বাভাবিক করতে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।
তিনি লিবিয়ার গণবিধ্বংসী অস্ত্র পরিত্যাগের আলোচনা পরিচালনা করেন এবং ১৯৮৮ সালে স্কটল্যান্ডের লকারবির আকাশে প্যান অ্যাম ফ্লাইট ১০৩–এ বোমা হামলায় নিহতদের পরিবারের জন্য ক্ষতিপূরণ নিয়ে দর-কষাকষি করেন। লন্ডন স্কুল অব ইকোনমিকস থেকে শিক্ষালাভ করা সাইফ আল-ইসলাম মানবাধিকার ও সংবিধানের পক্ষে কথা বলতেন এবং নিজেকে একজন সংস্কারক হিসেবে তুলে ধরতেন। তাঁর গবেষণাপত্রে বৈশ্বিক শাসনব্যবস্থার সংস্কারে নাগরিক সমাজের ভূমিকা নিয়ে আলোচনা ছিল।
তবে ২০১১ সালে মুয়াম্মার গাদ্দাফির দীর্ঘ শাসনের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ শুরু হলে সাইফ আল-ইসলাম পরিবারের ও গোত্রের প্রতি আনুগত্য বেছে নেন। তিনি বিক্ষোভকারীদের দমন অভিযানের অন্যতম পরিকল্পনাকারীতে পরিণত হন এবং বিরোধীদের ‘ইঁদুর’ বলে আখ্যা দেন।
সে সময় রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছিলেন, ‘আমরা লিবিয়াতেই লড়াই করব, লিবিয়াতেই মরব।’ তিনি রক্তের নদী বইবে বলে হুঁশিয়ারি দেন এবং বলেন, সরকার শেষ মানুষ, নারী ও শেষ গুলি পর্যন্ত লড়াই করবে।
২০১১ সালে বাবার পতন ও মৃত্যুর আগে সাইফ আল-ইসলামকে লিবিয়ার দ্বিতীয় ক্ষমতাধর ব্যক্তি হিসেবে বিবেচনা করা হতো। তিনি বিরোধীদের ওপর নির্যাতন ও চরম সহিংসতার অভিযোগে অভিযুক্ত হন। ২০১১ সালের ফেব্রুয়ারিতে তাঁর বিরুদ্ধে জাতিসংঘের নিষেধাজ্ঞা জারি হয় এবং ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়। একই সঙ্গে ২০১১ সালে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি) তাঁকে অভিযুক্ত করে।
ত্রিপোলি বিদ্রোহীদের দখলে গেলে তিনি বেদুইন বেশে প্রতিবেশী নাইজারে পালানোর চেষ্টা করেন। তবে মরুভূমির একটি সড়কে আবু বকর সাদিক ব্রিগেড নামের একটি মিলিশিয়া তাঁকে আটক করে এবং জিনতানে নিয়ে যায়। আইসিসির সঙ্গে দীর্ঘ আলোচনার পর লিবিয়ার কর্তৃপক্ষ তাঁকে যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে বিচার করার ক্ষমতা পায়। ২০১৫ সালে ত্রিপোলির একটি আদালত অনুপস্থিতিতে তাঁকে মৃত্যুদণ্ড দেন।
২০১৭ সালে আটক থেকে মুক্তির পর তিনি হত্যার আশঙ্কায় জিনতানে আত্মগোপনে ছিলেন। ২০২১ সালের নভেম্বরে তিনি লিবিয়ার প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দিলে তা নিয়ে তীব্র বিতর্ক শুরু হয়। পশ্চিম ও পূর্ব লিবিয়ার গাদ্দাফিবিরোধী রাজনৈতিক শক্তিগুলো তাঁর প্রার্থিতার বিরোধিতা করে। ২০১৫ সালের দণ্ডের কারণে তাঁকে অযোগ্য ঘোষণা করা হয়। সেই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করতে গেলে সশস্ত্র যোদ্ধারা আদালত অবরোধ করে রাখে।
এ নিয়ে সৃষ্ট বিরোধ ও টানাপোড়েন শেষ পর্যন্ত নির্বাচনী প্রক্রিয়া ভেঙে পড়ে এবং লিবিয়া আবারও রাজনৈতিক অচলাবস্থায় ফিরে যায়—জানিয়েছে আল জাজিরা।

ওমান ও পাকিস্তান সফর শেষে রাশিয়ার উদ্দেশে রওনা হয়েছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত নিরসনে টেকসই কাঠামোর লক্ষ্যে তিনি এই কূটনৈতিক সফর চালিয়ে যাচ্ছেন বলে জানিয়েছে ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা ইরনা।
১৩ ঘণ্টা আগে
বিদ্রোহী গোষ্ঠীর হামলায় মালির প্রতিরক্ষামন্ত্রী জেনারেল সাদিও কামারা নিহত হয়েছেন। রোববার (২৬ এপ্রিল) আল-জাজিরার প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, শনিবার দেশটির কাটি গ্যারিসন শহরে প্রতিরক্ষামন্ত্রীর বাসভবনে আল-কায়েদা সংশ্লিষ্ট জঙ্গিগোষ্ঠী এবং তুয়ারেগ বিদ্রোহীদের আত্মঘাতী হামলায় তাঁর মৃত্যু হয়।
১৬ ঘণ্টা আগে
ওমানের সুলতান হাইথাম বিন তারিকের সঙ্গে বৈঠক করেছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। রোববার (২৬ এপ্রিল) ওমানের রাজধানী মাস্কাটের আল বারাকা প্যালেসে এই বৈঠক হয়। বৈঠক শেষে আরাগচি আবার পাকিস্তানে আসবেন বলে জানা গেছে।
১৭ ঘণ্টা আগে
যুক্তরাষ্ট্রের হোয়াইট হাউস প্রতিনিধিদের সঙ্গে নৈশভোজ অনুষ্ঠানের বাইরে গুলির ঘটনায় ৩১ বছর বয়সী কোল টমাস অ্যালেন নামের এক ব্যক্তিকে আটক করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। তিনি ক্যালিফোর্নিয়ার লস অ্যাঞ্জেলেস এলাকার টরেন্স শহরের বাসিন্দা বলে জানা গেছে।
২০ ঘণ্টা আগে