‘বাজেটের প্রশংসা না করলে আজাব আসবে’ মন্তব্যে সংসদে উত্তেজনা

স্ট্রিম প্রতিবেদক
স্ট্রিম প্রতিবেদক
ঢাকা

প্রকাশ : ২৪ জুন ২০২৬, ১৯: ৩০
বাজেটের প্রশংসা না করলে ‘আজাব’ আসবে— এমপির এমন মন্তব্যে উত্তপ্ত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। সংগৃহীত ছবি

জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটের ওপর আলোচনার সময় ধর্মীয় উদ্ধৃতি ও তার ব্যাখ্যা নিয়ে সরকারি ও বিরোধী দলের সদস্যদের মধ্যে তীব্র বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। বাজেটের প্রশংসা না করলে ‘আজাব’ আসবে—এক এমপির এমন মন্তব্যে উত্তপ্ত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।

আজ বুধবার (২৪ জুন) বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে কক্সবাজার-২ আসনের সংসদ সদস্য আলমগীর মোহাম্মদ মাহফুজুল্লাহ ফরিদ প্রস্তাবিত বাজেটকে ‘জনস্বস্তির’ ও ‘ঐতিহাসিক’ আখ্যা দেন।

বক্তব্যের একপর্যায়ে তিনি বলেন, সরকারের প্রস্তাবিত বাজেটের জন্য আল্লাহর কাছে শুকরিয়া আদায় করা উচিত এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রতিও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা প্রয়োজন। তিনি আরও বলেন, যাঁরা এই বাজেটের জন্য শুকরিয়া আদায় করবেন না কিংবা তা অস্বীকার করবেন, তাঁদের ওপর আল্লাহর কঠিন ‘আজাব’ (শাস্তি) নেমে আসতে পারে।

এ বক্তব্যের পরপরই বিরোধী দলের সদস্যরা ‘পয়েন্ট অব অর্ডার’-এ দাঁড়িয়ে তীব্র আপত্তি জানান। তাঁরা অভিযোগ করেন, রাজনৈতিক বক্তব্যের সমর্থনে কোরআনের আয়াত ব্যবহার এবং তার এমন ব্যাখ্যা দেওয়া ধর্মীয় অনুভূতির সঙ্গে সংগতিপূর্ণ নয়।

বিরোধী দলের এক সদস্য বলেন, কোরআন ও হাদিসের বাণী কোনো রাজনৈতিক বিতর্ক বা ঠাট্টা-বিদ্রূপের বিষয় হতে পারে না। রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ধর্মীয় উদ্ধৃতির অপপ্রয়োগ বা ভুল ব্যাখ্যা গ্রহণযোগ্য নয় বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

অন্যদিকে বিরোধী দলের সদস্য মজিবুর রহমান স্পিকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, বাজেটের পক্ষে বা বিপক্ষে মত প্রকাশ রাজনৈতিক বিষয়। বাজেটের প্রশংসা না করলে ধর্মীয় শাস্তি বা আজাবের সঙ্গে সেটিকে যুক্ত করা সমীচীন নয়।

পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমেদ বিষয়টি ব্যাখ্যা করতে ‘ফ্লোর’ নেন। তিনি বলেন, মাহফুজুল্লাহ ফরিদ একজন আলেম এবং মাদ্রাসাশিক্ষায় শিক্ষিত ব্যক্তি। তাঁর বক্তব্যের মূল উদ্দেশ্য ছিল আল্লাহর নিয়ামতের জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশের গুরুত্ব তুলে ধরা। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সংসদ সদস্যের বক্তব্যকে রাজনৈতিকভাবে ভুল ব্যাখ্যা করা উচিত নয়। এ সময় তিনি বিষয়টিকে অপ্রয়োজনীয় বিতর্কে পরিণত না করার আহ্বান জানান।

পরে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম হস্তক্ষেপ করে বলেন, বাংলাদেশ একটি মুসলিম-প্রধান দেশ এবং এ দেশের মানুষ ধর্মপ্রাণ। কোরআন-হাদিসের ভুল ব্যাখ্যা বা অপব্যাখ্যা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। ধর্ম অত্যন্ত স্পর্শকাতর বিষয়। সংসদে এ ধরনের বিষয়ে অপ্রয়োজনীয় বিতর্ক সৃষ্টি করা সমীচীন নয়। তিনি সব সদস্যকে ধর্মীয় বিষয়ে সংযত ও দায়িত্বশীল আচরণ করার আহ্বান জানান। স্পিকারের বক্তব্যের পর বিষয়টির ওপর বিতর্কের অবসান ঘটে এবং অধিবেশনের কার্যক্রম স্বাভাবিক ধারায় ফিরে আসে।

Ad 300x250

সম্পর্কিত