ব্যবসায়ী বিশ্বস্ত হলে এলসি বাধ্যতামূলক নয়: অর্থমন্ত্রী

স্ট্রিম প্রতিবেদক
স্ট্রিম প্রতিবেদক
ঢাকা

প্রকাশ : ২১ জুন ২০২৬, ২১: ২৪
রাজধানীর গুলশানের একটি হোটেলে আয়োজিত ‘সিপিডি বাজেট সংলাপ-২০২৬’ শীর্ষক অনুষ্ঠান। ছবি: সংগৃহীত

ব্যবসায়ীরা বিশ্বস্ত হলে এলসি বাধ্যতামূলক রাখার নীতি থেকে সরে আসার ইঙ্গিত দিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। রোববার (২১ জুন) রাজধানীর গুলশানের একটি হোটেলে ‘সিপিডি বাজেট সংলাপ-২০২৬’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে তিনি এই ইঙ্গিত দেন।

অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘যেসব ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বিশ্বাসযোগ্য, যাদের সক্ষমতা রয়েছে; আমরা তাদের ধীরে ধীরে এলসির বাইরে নিয়ে আসতে চাই। তারা সরাসরি ব্যবসা করতে পারবে। এলসি ব্যবসার খরচ বাড়ায়, অনেক সময় আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে অপ্রয়োজনীয় জটিলতা তৈরি করে।’

আমির খসরু জানান, বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক ক্রেডিট রেটিং কমে যাওয়ায় অনেক ক্ষেত্রে এলসি কনফার্মেশনেও অতিরিক্ত ব্যয় হচ্ছে। এতে ব্যবসার সামগ্রিক খরচ বেড়ে যাচ্ছে। এই পরিস্থিতি বিবেচনায় সরকার ধীরে ধীরে বিশ্বস্ত ও সক্ষম ব্যবসায়ীদের জন্য এলসি ছাড়া সরাসরি লেনদেনের সুযোগ বাড়াতে চায়।

ব্যবসা সহজ করতে সরকার একাধিক সংস্কার কার্যক্রম হাতে নিয়েছে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশকে একটি ব্যবসাবান্ধব অর্থনীতিতে রূপ দিতে হলে অপ্রয়োজনীয় নিয়ন্ত্রণ ও জটিলতা কমানোর বিকল্প নেই। ব্যবসার খরচ কমানো ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যকে আরও সহজ করতে সরকার সরাসরি রেমিট্যান্স বা ডাইরেক্ট ট্রেডের সুযোগ উন্মুক্ত করার পথে এগোচ্ছে।

অর্থমন্ত্রী জানান, অপ্রয়োজনীয় বিধিনিষেধ ও প্রশাসনিক জটিলতা চিহ্নিত করতে সরকার একটি বিশেষ ওয়েবসাইটও চালু করবে। কোনো ব্যবসায়ী যদি মনে করেন, অতিরিক্ত নিয়ম-কানুন বা আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে তিনি বাধাগ্রস্ত হচ্ছেন, তাহলে সেখানে অভিযোগ জানাতে পারবেন।

ব্যবসা সহজ করতে শুধু বাণিজ্য নীতিতেই নয়, সামগ্রিকভাবে অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনাতেও পরিবর্তন আনা হচ্ছে বলে জানান অর্থমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘সরকারের লক্ষ্য এমন একটি পরিবেশ তৈরি করা, যেখানে ব্যবসায়ীরা কম জটিলতায় ব্যবসা পরিচালনা করতে পারবেন। মানুষ যেন সহজে কাজ করতে পারে, ব্যবসা করতে পারে এবং অপ্রয়োজনীয় বাধার মুখে যেন না পড়ে; সেটিই আমাদের লক্ষ্য।’

Ad 300x250

সম্পর্কিত