জনস্বাস্থ্য রক্ষায় কোম্পানির সঙ্গে আপস নয়: তামাকবিরোধী জোট

স্ট্রিম প্রতিবেদক
স্ট্রিম প্রতিবেদক
ঢাকা

প্রকাশ : ১২ মে ২০২৬, ২২: ২৫
ষষ্ঠ জাতীয় তামাক নিয়ন্ত্রণ কর্মশালায় বক্তারা। সংগৃহীত ছবি

সরকার তামাক খাত থেকে যে পরিমাণ রাজস্ব পায়, তামাকজনিত রোগের চিকিৎসা ব্যয়, অকাল পঙ্গুত্ব, মৃত্যু এবং পরিবেশের ক্ষতির কারণে তার চেয়ে দ্বিগুণ অর্থ ব্যয় হয়। রাজস্ব আয়ের কথা চিন্তা করে তামাক কোম্পানিগুলোকে বিশেষ সুবিধা দেওয়ার অর্থ হলো মৃত্যু ও পঙ্গুত্বের সঙ্গে আপস করা।

মঙ্গলবার (১২ মে) রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউটে অনুষ্ঠিত ‘ষষ্ঠ জাতীয় তামাক নিয়ন্ত্রণ কর্মশালায়’ এসব বিষয় উঠে এসেছে। বাংলাদেশ তামাক বিরোধী জোট (বাটা) এবং ওয়ার্ক ফর এ বেটার বাংলাদেশ (ডাব্লিউবিবি) ট্রাস্ট যৌথভাবে দিনব্যাপী এই কর্মশালার আয়োজন করে।
কর্মশালায় তামাক নিয়ন্ত্রণে সুপারিশের মধ্যে রয়েছে ই-সিগারেট, ভেপিং ও নিকোটিন পাউচ নিষিদ্ধে পৃথক আইন প্রণয়ন, আমদানি আদেশে ই-সিগারেট নিষিদ্ধের বিধান বহাল রাখা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ১০০ মিটারের মধ্যে তামাক পণ্য বিক্রি মনিটরিং করা ইত্যাদি।

ই-সিগারেট ও নতুন তামাক পণ্যের ঝুঁকি নিয়ে কর্মশালায় বক্তারা উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, ২০২৫ সালের অধ্যাদেশে ই-সিগারেট, নিকোটিন পাউচ ও হিটেড টোব্যাকো প্রডাক্টসহ ইমার্জিং তামাক পণ্য নিষিদ্ধের বিধান থাকলেও ২০২৬ সালের ১০ এপ্রিল সংশোধিত আইন থেকে তা বাদ দেওয়া হয়েছে। এর ফলে নতুন প্রজন্মকে এসব পণ্যের ভোক্তা বানানোর পথ সহজ হতে পারে। তামাক কোম্পানিগুলো ই-সিগারেটকে ‘কম ক্ষতিকর’ হিসেবে বাজারজাত করে তরুণদের স্বাস্থ্যঝুঁকিতে ফেলছে।

কর্মশালার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ তামাক বিরোধী জোটের সমন্বয়কারী সাইফুদ্দিন আহমেদের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ফরিদা আখতার। তিনি বলেন, ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে বাঁচাতে ই-সিগারেট ও ধোঁয়াবিহীন তামাকজাত দ্রব্য নিয়ন্ত্রণে সরকারকে কঠোর হতে হবে।

জাতীয় তামাক নিয়ন্ত্রণ সেলের মহাপরিচালক (যুগ্মসচিব) মো. আখতারউজ-জামান বলেন, তামাক নিয়ন্ত্রণে বেসরকারি সংস্থাগুলোর বড় ভূমিকা রয়েছে। পাবলিক প্লেসে ধূমপান নিয়ন্ত্রণে অর্জনগুলো ধরে রাখতে এবং টাস্কফোর্স কমিটিগুলোকে সক্রিয় করতে তিনি সবার সহযোগিতা চান।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন প্রত্যাশা মাদকবিরোধী সংগঠনের সেক্রেটারি জেনারেল হেলাল আহমেদ এবং ভাইটাল স্ট্রাটেজিসের হেড অব প্রোগ্রাম মো. শফিকুল ইসলাম। সেশনটি সঞ্চালনা করেন সেতুর প্রকল্প পরিচালক শাগুফতা সুলতানা।

সমাপনী অধিবেশনে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব শেখ মোমেনা মনি বলেন, তামাক কেবল স্বাস্থ্য নয়, অর্থনীতি ও পরিবেশেরও ক্ষতি করছে। তিনি তামাকচাষিদের সচেতন করা এবং বিদ্যালয়গুলোতে তামাকবিরোধী কার্যক্রম জোরদার করার ওপর গুরুত্ব দেন।

বিষয়:

কর্মশালা

সম্পর্কিত