ইরানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি এখন ‘লাইফ সাপোর্টে’: ট্রাম্প

স্ট্রিম ডেস্ক
স্ট্রিম ডেস্ক

প্রকাশ : ১২ মে ২০২৬, ২২: ৩৪
ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: সংগৃহীত

ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধবিরতির ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। ইরানের পাঠানো শান্তি প্রস্তাব ‘আবর্জনা’বলে প্রত্যাখ্যান করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। চলমান যুদ্ধবিরতি এখন ‘লাইফ সাপোর্টে’আছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। খবর আল জাজিরা

মঙ্গলবার সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবের জবাবে ইরানের পাঠানো বার্তা পড়ে তিনি হতাশ। তার ভাষায়, 'ওরা যে আবর্জনা পাঠিয়েছে, তা পুরোটা পড়াও শেষ করিনি।'

যুক্তরাষ্ট্র প্রথমে যুদ্ধ বন্ধ করে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচিসহ বিতর্কিত বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা শুরুর প্রস্তাব দিয়েছিল। তবে তেহরান যুদ্ধ থামাতে একসঙ্গে কয়েকটি দাবি তোলে। এর মধ্যে রয়েছে—লেবাননসহ সব ফ্রন্টে যুদ্ধ বন্ধ, হরমুজ প্রণালির ওপর ইরানের সার্বভৌমত্ব স্বীকৃতি, যুদ্ধক্ষতির ক্ষতিপূরণ এবং মার্কিন নৌ অবরোধ প্রত্যাহার।

এদিকে যুদ্ধের প্রভাবে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারেও অস্থিরতা বেড়েছে। মঙ্গলবার এশিয়ার বাজারে ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০৪ দশমিক ৫০ ডলারের ওপরে ওঠে। প্রণালিতে জাহাজ চলাচল কমে যাওয়ায় তেল রপ্তানিও কমেছে। রয়টার্সের এক জরিপে দেখা গেছে, এপ্রিল মাসে ওপেকভুক্ত দেশগুলোর তেল উৎপাদন দুই দশকের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে এসেছে।

এ অবস্থায় যুক্তরাষ্ট্র সোমবার নতুন নিষেধাজ্ঞা দেয় কয়েকজন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের ওপর। অভিযোগ, তারা ইরানের তেল চীনে পাঠাতে সহায়তা করছে। একই সঙ্গে ব্যাংকগুলোকে নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে লেনদেনের চেষ্টার বিষয়ে সতর্ক করেছে ওয়াশিংটন।

ট্রাম্প আগামীকাল বুধবার চীন সফরে যাচ্ছেন। সেখানে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে বৈঠকে ইরান ইস্যু আলোচনায় আসতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরেও যুদ্ধ নিয়ে অসন্তোষ বাড়ছে। রয়টার্স/ইপসোসের এক জরিপে দেখা যায়, প্রতি তিনজন মার্কিন নাগরিকের দুজন মনে করেন, যুক্তরাষ্ট্র কেন যুদ্ধে জড়িয়েছে—তা ট্রাম্প পরিষ্কারভাবে ব্যাখ্যা করতে পারেননি। জরিপে অংশ নেওয়া রিপাবলিকানদের এক-তৃতীয়াংশ এবং প্রায় সব ডেমোক্র্যাট একই মত দিয়েছেন।

জ্বালানির দাম কমাতে সাময়িকভাবে ফেডারেল গ্যাসোলিন কর স্থগিত রাখার কথাও জানিয়েছেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, ইরান সংকট শেষ হলেই তেল ও গ্যাসোলিনের দাম দ্রুত কমে যাবে।

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও গতকাল সোমবার অস্ট্রেলিয়া ও ব্রিটেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের সঙ্গে আলাদা ফোনালাপ করেছেন। সেখানে হরমুজ প্রণালিতে নৌ চলাচলের স্বাধীনতা পুনরুদ্ধারের প্রচেষ্টা নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলে জানিয়েছে মার্কিন স্টেট ডিপার্টমেন্ট।

এদিকে তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান মঙ্গলবার কাতারে যাচ্ছেন। সেখানে তিনি যুদ্ধ পরিস্থিতি এবং হরমুজ প্রণালিতে নিরাপদ নৌ চলাচল নিশ্চিত করার বিষয় নিয়ে আলোচনা করবেন বলে তুর্কি কূটনৈতিক সূত্র জানিয়েছে।

সম্পর্কিত