ফাবিহা বিনতে হক

সাদাত হাসান মান্টোর ‘ঠান্ডা গোশত’ নিয়ে কিছু লেখার আগে তাঁর সঙ্গে আমার পরিচয়পর্বটা বলা প্রয়োজন। তিন-চার বছর আগের কথা। বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্লাস শেষে বারান্দা থেকে নিচে তাকিয়ে দেখলাম, দেয়ালে বড় করে কোনো এক উক্তির পাশে লেখা—‘সাদাত হাসান মান্টো’। নামটা আগে কখনো শুনিনি। কৌতূহল নিয়ে গুগলে সার্চ করলাম। জানতে পারলাম, তিনি উর্দু সাহিত্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ গল্পকার। তাঁকে বলা হয় ‘দেশভাগের কথাকার’।
দেশভাগ পরবর্তী দাঙ্গা নিয়ে আমার পড়া প্রথম বই ছিল খুশবন্ত সিংয়ের ‘ট্রেন টু পাকিস্তান’। এরপরই আমি পরিচিত হই মান্টোর ‘কালো সীমানা’র সঙ্গে। এক বা দুই লাইনের সেসব গল্পে তিনি কী নির্মমভাবে দাঙ্গার ভয়াবহতা ফুটিয়ে তুলেছেন! তবে মান্টোর যেসব লেখা আমাকে সবচেয়ে বেশি নাড়া দিয়েছে, তার মধ্যে অন্যতম হলো ‘ঠান্ডা গোশত’।
গল্পের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত আপনি বুঝতেই পারবেন না যে গল্পটা আসলে কী নিয়ে লেখা। মনে হবে, যেন কোনো অন্তরঙ্গ মুহূর্তের বিশদ বিবরণ পড়ছেন। কিন্তু সেখানে কোনো প্রেমের ছোঁয়া নেই, আছে এক ধরনের অস্থিরতা। মনে হবে কোথাও একটা বড় সমস্যা লুকিয়ে আছে। গল্পের একদম শেষ অংশে গিয়ে আপনি সেই সমস্যাটা ধরতে পারবেন। আর হাড় হিম করা সেই নির্মম সত্যটা পড়ার পর হয়তো আপনার ভ্রু কুঁচকে যাবে, অথবা আপনার গা গুলিয়ে উঠবে!
শুরুতে গল্পটিকে অন্তরঙ্গ মুহূর্তের বর্ণনা মনে হলেও, শেষ পরিণতি পাঠককে সম্পূর্ণ ভিন্ন এক বাস্তবতার মুখোমুখি দাঁড় করায়। মনে অস্বস্তি তৈরি করে।
মান্টো এখানে কোনো নীতিকথা বা আদর্শের কথা বলেননি। দাঙ্গার ভয়াবহতা বোঝাতে তিনি শুধু সেই আয়নাটি পাঠকের সামনে ধরেছেন। মৃতদেহের প্রতি যে আচরণের কথা গল্পে এসেছে, তা মূলত সভ্যতার আড়ালে থাকা অন্ধকার দিককে নির্দেশ করে। এখানে ইশের সিংয়ের অক্ষমতা কোনো সাধারণ শারীরিক দুর্বলতা নয়। এটা তার তীব্র অপরাধবোধ। মৃতদেহ কীভাবে একজন জীবিত মানুষের ভেতরকার প্রাণশক্তি কেড়ে নিয়ে তাকেও জীবন্ত ‘ঠান্ডা গোশত’ বানিয়ে দেয়, মান্টো তা কোনো রাখঢাক না রেখেই তুলে ধরেছেন বাস্তবতার কালিতে।

দেশভাগ ও দাঙ্গার প্রেক্ষাপটে লেখা এই গল্পের পেছনের কাহিনি গল্পের মতোই চমকপ্রদ। ১৯৪৮ সালে মান্টো ভারত থেকে স্থায়ীভাবে বসবাসের জন্য পাকিস্তানে চলে আসেন। এরপর লাহোরে বসে এই গল্পটি লেখেন। পাকিস্তানে এটিই ছিল তাঁর রচিত প্রথম গল্প। পাকিস্তানে তাঁর জীবন কাটছিল চরম অভাব ও দুর্দশার মধ্যে। বোম্বে থেকে যে টাকাপয়সা এনেছিলেন, তা ততদিনে শেষ। লেখালেখির সম্মানী ছাড়া তাঁর আর কোনো আয় ছিল না।
ঠান্ডা গোশত গল্প লেখার প্রেক্ষাপটটি পড়েও বেশ অবাক হলাম। সেখানে লেখা, একদিন মান্টোর স্ত্রী সাফিয়া তাঁকে দুটি মুরগি আনতে টাকা দিলেন। মান্টো তাঁর পরিচিত আজগর নামের এক ওয়েটারকে দিয়ে মুরগি আনালেন। কিন্তু সাফিয়া রান্নাঘরে গিয়ে দেখলেন, একটি মুরগি সদ্য জবাই করা হলেও অন্যটি মরা ও ঠান্ডা। সাফিয়ার কথায় মান্টো পাগলের মতো হেসে উঠলেন। তিনি চিৎকার করে বললেন, ‘পেয়েছি! ঠান্ডা গোশত! আর গরম গোশত!’
এরপরই লিখে ফেললেন তাঁর বিখ্যাত গল্প ‘ঠান্ডা গোশত’।
ঠান্ডা গোশত গল্পের পটভূমি ১৯৪৭ সালের সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা। ইশের সিং তার প্রণয়িনী কালবন্ত কাউরকে ‘সন্তুষ্ট’ করতে ব্যর্থ হলে কালবন্ত কাউর তাকে বিশ্বাসঘাতকতার দায়ে অভিযুক্ত করে। কালবন্ত মনে করে সে অন্য কারো সাথে সম্পর্কে জড়িয়েছে। এরপর কালবন্ত কাউর মাটিতে পড়ে থাকা কৃপাণ দিয়ে ইশের সিংকে আঘাত করতে থাকে। মরার সময় ইশের সিং জানায়, সে দাঙ্গার সময় এক মুসলিম অধ্যুষিত গ্রামে দাঙ্গায় যুক্ত ছিল। একটি মুসলিম পরিবারের ছয়জন সদস্যকে সে ঐ কৃপাণ দিয়ে খুন করে। এরপর সে বাড়ির ভিতরে ঢুকে এবং একটি মেয়েকে দেখতে পায়। মেয়েটিকে ঘাড়ে করে তুলে বেরিয়ে আসে সে এবং ঝোঁপের আড়ালে নিয়ে এসে ধর্ষণ করতে যায়। কিন্তু, মেয়েটি ছিল মৃত, একদম ঠান্ডা গোশতের ন্যায়।
এই এক শব্দেই দাঙ্গার ভয়াবহতা এবং মানুষের আদিম পাশবিকতাকে উন্মোচিত করেন মান্টো।
মান্টো গল্পটি প্রথমে তাঁর বন্ধু আহমেদ নাদিম কাসমির পত্রিকা ‘নাকুশ’-এর জন্য লিখেছিলেন। কিন্তু ‘এ গল্প বড় উত্তেজনাকর’—এই যুক্তিতে কাসমি তা নাকচ করে দেন। এরপর আরও চার-পাঁচ জায়গায় ঘোরার পর পাকিস্তান কমিউনিস্ট পার্টির সদস্য আরিফ আবদুল মতিন তাঁর মাসিক পত্রিকা ‘জাভেদ’-এ বইটি প্রকাশ করেন।
ছাপা হওয়ার বেশ কিছুদিন পর গল্পটিকে ‘অশ্লীল’ আখ্যা দিয়ে নিষিদ্ধ করা হয়। তথ্য দপ্তরের নির্দেশে ‘জাভেদ’-এর অফিস বন্ধ করে পত্রিকার সব কপি বাজেয়াপ্ত করা হয়। শুধু তাই নয়, মান্টোসহ পত্রিকার সম্পাদক ও প্রকাশকের বিরুদ্ধেও মামলা হয়। প্রেস অ্যাডভাইজরি বোর্ডের প্রধান কবি ফয়েজ আহমেদ ফয়েজ গল্পটিকে অশ্লীল না বললেও, বোর্ডের বাকি সদস্যরা আপত্তি জানান।
এরপর মামলা যায় নিম্ন আদালতে। দীর্ঘ সওয়াল-জবাবের পর লেখক এবং পত্রিকার সম্পাদক ও প্রকাশক দোষী সাব্যস্ত হন। অশ্লীল গল্প লেখার অপরাধে শাস্তি হিসেবে মান্টোর তিন মাসের সশ্রম কারাদণ্ড ও ৩০০ রুপি জরিমানা হয়। পরবর্তী সময়ে সেশন জজের আদালতে এই মামলার আপিল করা হলে পরপর তিনজন বিচারক মামলা পরিচালনায় অস্বীকৃতি জানান। অবশেষে অতিরিক্ত সেশন জজ এনায়েতুল্লাহ খান মান্টো ও বাকি আসামিদের বেকসুর খালাস দেন। জরিমানা ফেরত দেওয়ারও নির্দেশ দেন। এই রায় প্রকাশের দিন কয়েক পর মান্টো জানতে পারেন, চৌধুরী মোহাম্মদ হোসেন নামে যে ভদ্রলোক তাঁর বিরুদ্ধে প্রথম মামলা ঠুকেছিলেন, কিছুদিন হলো তিনি মারা গেছেন।
এ কথা শুনে মান্টো মন্তব্য করেছিলেন, ‘মৃত লোকের বিরুদ্ধে কথা বলতে নেই, কিন্তু পাকিস্তানে তো উন্মাদের অভাব নেই। তাদের কেউ যদি ফের এ নিয়ে মামলা ঠুকে, তো তাকে বলব: হে বন্ধু, তোমার দীর্ঘ জীবন কামনা করি, (যাতে প্রেমাস্পদের ঘাড়ে) ছুরি চালানোর মতো সময় ও সুযোগ তোমার থাকে।’ (সার-ই-দস্তাঁ সালামাত, কেহ তু খাঞ্জর আজমায়ি।)

সাদাত হাসান মান্টোর ‘ঠান্ডা গোশত’ নিয়ে কিছু লেখার আগে তাঁর সঙ্গে আমার পরিচয়পর্বটা বলা প্রয়োজন। তিন-চার বছর আগের কথা। বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্লাস শেষে বারান্দা থেকে নিচে তাকিয়ে দেখলাম, দেয়ালে বড় করে কোনো এক উক্তির পাশে লেখা—‘সাদাত হাসান মান্টো’। নামটা আগে কখনো শুনিনি। কৌতূহল নিয়ে গুগলে সার্চ করলাম। জানতে পারলাম, তিনি উর্দু সাহিত্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ গল্পকার। তাঁকে বলা হয় ‘দেশভাগের কথাকার’।
দেশভাগ পরবর্তী দাঙ্গা নিয়ে আমার পড়া প্রথম বই ছিল খুশবন্ত সিংয়ের ‘ট্রেন টু পাকিস্তান’। এরপরই আমি পরিচিত হই মান্টোর ‘কালো সীমানা’র সঙ্গে। এক বা দুই লাইনের সেসব গল্পে তিনি কী নির্মমভাবে দাঙ্গার ভয়াবহতা ফুটিয়ে তুলেছেন! তবে মান্টোর যেসব লেখা আমাকে সবচেয়ে বেশি নাড়া দিয়েছে, তার মধ্যে অন্যতম হলো ‘ঠান্ডা গোশত’।
গল্পের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত আপনি বুঝতেই পারবেন না যে গল্পটা আসলে কী নিয়ে লেখা। মনে হবে, যেন কোনো অন্তরঙ্গ মুহূর্তের বিশদ বিবরণ পড়ছেন। কিন্তু সেখানে কোনো প্রেমের ছোঁয়া নেই, আছে এক ধরনের অস্থিরতা। মনে হবে কোথাও একটা বড় সমস্যা লুকিয়ে আছে। গল্পের একদম শেষ অংশে গিয়ে আপনি সেই সমস্যাটা ধরতে পারবেন। আর হাড় হিম করা সেই নির্মম সত্যটা পড়ার পর হয়তো আপনার ভ্রু কুঁচকে যাবে, অথবা আপনার গা গুলিয়ে উঠবে!
শুরুতে গল্পটিকে অন্তরঙ্গ মুহূর্তের বর্ণনা মনে হলেও, শেষ পরিণতি পাঠককে সম্পূর্ণ ভিন্ন এক বাস্তবতার মুখোমুখি দাঁড় করায়। মনে অস্বস্তি তৈরি করে।
মান্টো এখানে কোনো নীতিকথা বা আদর্শের কথা বলেননি। দাঙ্গার ভয়াবহতা বোঝাতে তিনি শুধু সেই আয়নাটি পাঠকের সামনে ধরেছেন। মৃতদেহের প্রতি যে আচরণের কথা গল্পে এসেছে, তা মূলত সভ্যতার আড়ালে থাকা অন্ধকার দিককে নির্দেশ করে। এখানে ইশের সিংয়ের অক্ষমতা কোনো সাধারণ শারীরিক দুর্বলতা নয়। এটা তার তীব্র অপরাধবোধ। মৃতদেহ কীভাবে একজন জীবিত মানুষের ভেতরকার প্রাণশক্তি কেড়ে নিয়ে তাকেও জীবন্ত ‘ঠান্ডা গোশত’ বানিয়ে দেয়, মান্টো তা কোনো রাখঢাক না রেখেই তুলে ধরেছেন বাস্তবতার কালিতে।

দেশভাগ ও দাঙ্গার প্রেক্ষাপটে লেখা এই গল্পের পেছনের কাহিনি গল্পের মতোই চমকপ্রদ। ১৯৪৮ সালে মান্টো ভারত থেকে স্থায়ীভাবে বসবাসের জন্য পাকিস্তানে চলে আসেন। এরপর লাহোরে বসে এই গল্পটি লেখেন। পাকিস্তানে এটিই ছিল তাঁর রচিত প্রথম গল্প। পাকিস্তানে তাঁর জীবন কাটছিল চরম অভাব ও দুর্দশার মধ্যে। বোম্বে থেকে যে টাকাপয়সা এনেছিলেন, তা ততদিনে শেষ। লেখালেখির সম্মানী ছাড়া তাঁর আর কোনো আয় ছিল না।
ঠান্ডা গোশত গল্প লেখার প্রেক্ষাপটটি পড়েও বেশ অবাক হলাম। সেখানে লেখা, একদিন মান্টোর স্ত্রী সাফিয়া তাঁকে দুটি মুরগি আনতে টাকা দিলেন। মান্টো তাঁর পরিচিত আজগর নামের এক ওয়েটারকে দিয়ে মুরগি আনালেন। কিন্তু সাফিয়া রান্নাঘরে গিয়ে দেখলেন, একটি মুরগি সদ্য জবাই করা হলেও অন্যটি মরা ও ঠান্ডা। সাফিয়ার কথায় মান্টো পাগলের মতো হেসে উঠলেন। তিনি চিৎকার করে বললেন, ‘পেয়েছি! ঠান্ডা গোশত! আর গরম গোশত!’
এরপরই লিখে ফেললেন তাঁর বিখ্যাত গল্প ‘ঠান্ডা গোশত’।
ঠান্ডা গোশত গল্পের পটভূমি ১৯৪৭ সালের সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা। ইশের সিং তার প্রণয়িনী কালবন্ত কাউরকে ‘সন্তুষ্ট’ করতে ব্যর্থ হলে কালবন্ত কাউর তাকে বিশ্বাসঘাতকতার দায়ে অভিযুক্ত করে। কালবন্ত মনে করে সে অন্য কারো সাথে সম্পর্কে জড়িয়েছে। এরপর কালবন্ত কাউর মাটিতে পড়ে থাকা কৃপাণ দিয়ে ইশের সিংকে আঘাত করতে থাকে। মরার সময় ইশের সিং জানায়, সে দাঙ্গার সময় এক মুসলিম অধ্যুষিত গ্রামে দাঙ্গায় যুক্ত ছিল। একটি মুসলিম পরিবারের ছয়জন সদস্যকে সে ঐ কৃপাণ দিয়ে খুন করে। এরপর সে বাড়ির ভিতরে ঢুকে এবং একটি মেয়েকে দেখতে পায়। মেয়েটিকে ঘাড়ে করে তুলে বেরিয়ে আসে সে এবং ঝোঁপের আড়ালে নিয়ে এসে ধর্ষণ করতে যায়। কিন্তু, মেয়েটি ছিল মৃত, একদম ঠান্ডা গোশতের ন্যায়।
এই এক শব্দেই দাঙ্গার ভয়াবহতা এবং মানুষের আদিম পাশবিকতাকে উন্মোচিত করেন মান্টো।
মান্টো গল্পটি প্রথমে তাঁর বন্ধু আহমেদ নাদিম কাসমির পত্রিকা ‘নাকুশ’-এর জন্য লিখেছিলেন। কিন্তু ‘এ গল্প বড় উত্তেজনাকর’—এই যুক্তিতে কাসমি তা নাকচ করে দেন। এরপর আরও চার-পাঁচ জায়গায় ঘোরার পর পাকিস্তান কমিউনিস্ট পার্টির সদস্য আরিফ আবদুল মতিন তাঁর মাসিক পত্রিকা ‘জাভেদ’-এ বইটি প্রকাশ করেন।
ছাপা হওয়ার বেশ কিছুদিন পর গল্পটিকে ‘অশ্লীল’ আখ্যা দিয়ে নিষিদ্ধ করা হয়। তথ্য দপ্তরের নির্দেশে ‘জাভেদ’-এর অফিস বন্ধ করে পত্রিকার সব কপি বাজেয়াপ্ত করা হয়। শুধু তাই নয়, মান্টোসহ পত্রিকার সম্পাদক ও প্রকাশকের বিরুদ্ধেও মামলা হয়। প্রেস অ্যাডভাইজরি বোর্ডের প্রধান কবি ফয়েজ আহমেদ ফয়েজ গল্পটিকে অশ্লীল না বললেও, বোর্ডের বাকি সদস্যরা আপত্তি জানান।
এরপর মামলা যায় নিম্ন আদালতে। দীর্ঘ সওয়াল-জবাবের পর লেখক এবং পত্রিকার সম্পাদক ও প্রকাশক দোষী সাব্যস্ত হন। অশ্লীল গল্প লেখার অপরাধে শাস্তি হিসেবে মান্টোর তিন মাসের সশ্রম কারাদণ্ড ও ৩০০ রুপি জরিমানা হয়। পরবর্তী সময়ে সেশন জজের আদালতে এই মামলার আপিল করা হলে পরপর তিনজন বিচারক মামলা পরিচালনায় অস্বীকৃতি জানান। অবশেষে অতিরিক্ত সেশন জজ এনায়েতুল্লাহ খান মান্টো ও বাকি আসামিদের বেকসুর খালাস দেন। জরিমানা ফেরত দেওয়ারও নির্দেশ দেন। এই রায় প্রকাশের দিন কয়েক পর মান্টো জানতে পারেন, চৌধুরী মোহাম্মদ হোসেন নামে যে ভদ্রলোক তাঁর বিরুদ্ধে প্রথম মামলা ঠুকেছিলেন, কিছুদিন হলো তিনি মারা গেছেন।
এ কথা শুনে মান্টো মন্তব্য করেছিলেন, ‘মৃত লোকের বিরুদ্ধে কথা বলতে নেই, কিন্তু পাকিস্তানে তো উন্মাদের অভাব নেই। তাদের কেউ যদি ফের এ নিয়ে মামলা ঠুকে, তো তাকে বলব: হে বন্ধু, তোমার দীর্ঘ জীবন কামনা করি, (যাতে প্রেমাস্পদের ঘাড়ে) ছুরি চালানোর মতো সময় ও সুযোগ তোমার থাকে।’ (সার-ই-দস্তাঁ সালামাত, কেহ তু খাঞ্জর আজমায়ি।)
.png)
চিত্রশিল্পী তৌহিন হাসান ঘুরে দেখেছেন দেশ-বিদেশের বিখ্যাত সব আর্ট মিউজিয়াম ও আর্ট গ্যালারি। প্রতিটি সংগ্রহশালায় ক্যানভাস থেকে ক্যানভাসে তিনি খুঁজেছেন শিল্পের ভাষা; রঙ, আলো আর তুলির আঁচড়ে অনুভব করেছেন শিল্পীদের জীবন, সময় ও সৃষ্টির গল্প। সেই শিল্পভ্রমণের অভিজ্ঞতা নিয়ে শুরু হলো নতুন ধারাবাহিক ‘আর্ট মিউজ
২ ঘণ্টা আগে
ইন্টারনেটের হাজারো নেতিবাচকতার ভিড়ে প্রাণীদের ‘কিউট’ ভিডিও ছিল এক চিলতে স্বস্তি। কিন্তু এআই-এর যুগে সেই নির্ভেজাল বিশ্বাসে এখন ফাটল ধরেছে। কোনো ভিডিও দেখে হাসার বদলে আমাদের মনে আগে প্রশ্ন জাগছে, এটি কি আসল নাকি এআই দিয়ে তৈরি? অবিশ্বাসের এই ডিজিটাল চোরাবালিতে দাঁড়িয়ে প্রশ্ন উঠছে, আমাদের ছোট ছোট আনন্দ
১ দিন আগে
সমকালীন বাংলাদেশের বুদ্ধিবৃত্তিক জগতে এক অসাধারণ ব্যক্তিত্ব আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ। জনপ্রিয়তা ও মননশীলতার মেলবন্ধনের দুর্লভ উদাহরণ তিনি। সৃজনশীল ব্যক্তিত্বের পাশাপাশি তিনি একজন কর্মবীর। আজ তিনি সাতাশি বছর পূর্ণ করলেন।
২৫ জুলাই ২০২৬
এইতো কিছুদিন আগে কথা। অফিস থেকে বেরিয়ে বিশেষ একটি কাজে শাহবাগের উদ্দেশ্যে রিকশায় উঠেছিলাম। বিকেলের ব্যস্ত ঢাকার চিরচেনা যানজটে রিকশাটি একসময় থেমে গেল। চারপাশে শুধু হর্নের শব্দ, মানুষের কোলাহল আর অসংখ্য গাড়ির সারি। ঠিক সেই মুহূর্তেই কানে ভেসে এলো এক পরিচিত সুর ‘আলো আমার আলো ওগো, আলো ভুবনভরা’…!
২৫ জুলাই ২০২৬