মধ্যপ্রাচ্য সংঘাতে বাংলাদেশে ইন্টারনেট বিপর্যয়ের শঙ্কা নেই

স্ট্রিম প্রতিবেদক
স্ট্রিম প্রতিবেদক

প্রকাশ : ১২ মে ২০২৬, ২২: ০৯
বাংলাদেশ সাবমেরিন ক্যাবলস পিএলসির (বিএসসিপিএলসি) লোগো।

সম্প্রতি কিছু গণমাধ্যমে সাবমেরিন ক্যাবল ব্যবস্থা ও ভূ-রাজনৈতিক ঝুঁকি নিয়ে প্রকাশিত খবরকে ভিত্তিহীন দাবি করেছে বাংলাদেশ সাবমেরিন ক্যাবলস পিএলসি (বিএসসিপিএলসি)।

মঙ্গলবার (১২ মে) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে ব্যান্ডউইডথ সরবরাহ নিয়ে ছড়ানো ভুল তথ্যের প্রতিবাদ জানিয়েছে সংস্থাটি।

বিএসসিপিএলসি বলছে, বর্তমানে কোনো ব্যান্ডউইডথ বা ইন্টারনেট ঘাটতি নেই এবং ভূ-রাজনৈতিক সংকটের কারণে দেশে ইন্টারনেট ব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঝুঁকি নেই।

সংস্থাটির দাবি , ‘হুতি বিদ্রোহী বা ইরানের আঘাতে বাংলাদেশ ডিজিটাল অন্ধকারে পড়তে পারে’—এমন প্রচার বাস্তবতা বিবর্জিত।

বিএসসিপিএলসি জানায়, বর্তমানে তাদের দুটি ক্যাবল সিস্টেমের (SEA-ME-WE-4 ও 5) সক্ষমতা ৭ হাজার ২০০ জিবিপিএস। এর মধ্যে ৪ হাজার ১০০ জিবিপিএস সরবরাহ হচ্ছে এবং আরও ৩ হাজার ১০০ জিবিপিএস সরবরাহের সক্ষমতা রয়েছে। মোট সক্ষমতার মাত্র ১ দশমিক ৩৪ শতাংশ লোহিত সাগর হয়ে আসে এবং হরমুজ প্রণালি দিয়ে বাংলাদেশের কোনো সংযোগ নেই। ফলে এসব অঞ্চলের সংকটে বাংলাদেশের ইন্টারনেট ব্যবস্থা বিঘ্নিত হওয়ার সুযোগ নেই।

ক্যাবলের সক্ষমতা ও আয়ুষ্কাল নিয়ে বিভ্রান্তি দূর করতে সংস্থাটি জানায়, SEA-ME-WE-5 ক্যাবলের সক্ষমতা এখনো ফুরিয়ে যায়নি; বর্তমানে এর ৭১২ জিবিপিএস সক্ষমতা অব্যবহৃত রয়েছে এবং ২০৩৭ সাল পর্যন্ত সচল থাকবে। একইভাবে SEA-ME-WE-4 ক্যাবলটি ২০৩০ সাল পর্যন্ত কার্যকর এবং এর পর্যাপ্ত ব্যান্ডউইডথ মজুত রয়েছে।

ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরে বিএসসিপিএলসি জানায়, ২০২৭ সালের শুরুতে SEA-ME-WE-6 ক্যাবল চালু হলে দেশে আরও ৩০ হাজার জিবিপিএস ব্যান্ডউইডথ যুক্ত হবে। এর ফলে ২০২৭ সাল নাগাদ রাষ্ট্রীয় সাবমেরিন ক্যাবলগুলোর মোট সক্ষমতা দাঁড়াবে প্রায় ৩৮ হাজার জিবিপিএস।

বিজ্ঞপ্তিতে দেশের সব ইন্টারনেট সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান ও নাগরিকদের বিভ্রান্তিকর খবরে প্রভাবিত না হওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।

সম্পর্কিত