মাহবুবুল আলম তারেক

একসময় শিশু টিকাদান কর্মসূচির সফল উদাহরণ হিসেবে আন্তর্জাতিকভাবে প্রশংসিত ছিল বাংলাদেশ। দীর্ঘদিন ধরে নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচি, সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচি (ইপিআই), মাঠপর্যায়ে স্বাস্থ্যকর্মীদের সক্রিয়তা এবং ব্যাপকহারে টিকাদানের ফলে হাম নিয়ন্ত্রণে ছিল। কিন্তু সেই বাংলাদেশই এখন বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ভাষায় হামের ‘উচ্চ ঝুঁকিতে’ থাকা একটি দেশ।
সংস্থাটি বাংলাদেশের চলমান হাম পরিস্থিতিকে ‘জাতীয়ভাবে উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ’ হিসেবে সতর্কতা জারি করেছে। ইতিমধ্যেই দেশের ৫৮ জেলায় হাম ছড়িয়ে পড়েছে। আক্রান্তদের বড় অংশই শিশু এবং হাসপাতালগুলোতে রোগী উপচে পড়ছে।
বিশ্ব স্বাস্থ্যসংস্থা বলেছে, দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে পরিস্থিতি আরও গুরুতর হতে পারে। ফলে একসময় যে বাংলাদেশ হাম নিয়ন্ত্রণে উল্লেখযোগ্য সাফল্য দেখিয়েছিল, সেই দেশ কীভাবে এমন অবস্থায় এল—এখন সেটিই বড় প্রশ্ন হয়ে উঠেছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ১৫ মার্চ থেকে ২৫ মার্চ পর্যন্ত মোট প্রায় ২৭ থেকে ৩০ হাজার সম্ভাব্য হাম রোগী শনাক্ত হয়েছে। এরমধ্যে ৩ হাজার ৯০০ থেকে ৪ হাজার ২০০ জনের শরীরে পরীক্ষায় হাম নিশ্চিত হয়েছে। প্রায় ২০ হাজার বেশি রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। প্রায় ১৬ হাজার ৫০০ জন চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়েছেন।
মৃত্যুর সংখ্যাও উদ্বেগজনক। সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী, এ পর্যন্ত হামে মোট ৪২ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। আর হামের উপসর্গ নিয়ে মৃত্যু হয়েছে ২০০-র বেশি শিশুর। সাম্প্রতিক কয়েক দিনে প্রতিদিন তিন থেকে সাতজন শিশু মারা যাওয়ার খবর পাওয়া গেছে। হামের উপসর্গ নিয়ে সবশেষ শনিবার (২৫ এপ্রিল) সকাল ৮টা পর্যন্ত আগের ২৪ ঘণ্টায় ১১ শিশুর মৃত্যু হয়।
হামে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে শিশুরা এবং রোগীদের বড় অংশই অল্পবয়সী শিশু। তথ্য অনুযায়ী, ৭৯ থেকে ৮২ শতাংশ আক্রান্তের বয়স পাঁচ বছরের নিচে। উল্লেখযোগ্য অংশের বয়স দুই বছরের নিচে। প্রায় এক-তৃতীয়াংশের বয়স ৯ মাসের কম; যারা এখনও নিয়মিত হাম টিকা নেওয়ার বয়সে পৌঁছায়নি। ফলে তাদের আক্রান্ত হওয়া বিশেষ উদ্বেগের বিষয়।
সবচেয়ে বেশি রোগী পাওয়া গেছে ঢাকা বিভাগে। রাজধানীর ঘনবসতিপূর্ণ বস্তি ও নিম্নআয়ের এলাকায় সংক্রমণ দ্রুত ছড়িয়েছে। বিশেষ করে, ডেমরা, যাত্রাবাড়ী, কড়াইল, মিরপুরে। জনসংখ্যার অনুপাতে সংক্রমণ হার বেশি বরিশাল, রাজশাহী ও ময়মনসিংহে। কক্সবাজারে রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবিরগুলোতেও সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলছে, বাংলাদেশে বর্তমানে ‘নিরবচ্ছিন্ন সংক্রমণ’ চলছে। দ্রুত টিকাদান কভারেজ বাড়ানো না গেলে পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে। সংস্থাটি দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া অঞ্চলের জন্য ঝুঁকির মাত্রা ‘উচ্চ’ এবং বৈশ্বিক ঝুঁকির মাত্রা ‘মধ্যম’ হিসেবে উল্লেখ করেছে।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. মুশতাক হোসেন হাম পরিস্থিতিকে জনস্বাস্থ্য জরুরি অবস্থা ঘোষণা করার আহ্বান জানিয়েছেন। তাঁর মতে, বড় ধরনের সমন্বিত উদ্যোগ ছাড়া পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ কঠিন হবে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হাম অত্যন্ত সংক্রামক রোগ। এর ‘আরও’ বা মৌলিক সংক্রমণ হার ১২ থেকে ১৮। অর্থাৎ একজন আক্রান্ত ব্যক্তি গড়ে ১২ থেকে ১৮ জনকে সংক্রমিত করতে পারেন। ফলে সামান্য টিকা ঘাটতিতেও দ্রুত বিস্ফোরক প্রাদুর্ভাব হতে পারে হামের। বাংলাদেশের বাড়তি জনসংখ্যা এবং বহু এলাকায় ঘনবসতি থাকায় এই ঝুঁকি আরও বেশি।
সরকারি কর্মকর্তারাও সংকটের প্রভাব স্বীকার করেছেন এবং প্রতিরোধমূলক পদক্ষেপের কথা জানিয়েছেন। স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব কামরুজ্জামান চৌধুরী নিশ্চিত মৃত্যুর তথ্য তুলে ধরে জরুরি পদক্ষেপের ঘোষণা দেন।
বাংলাদেশ স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণ শাখার পরিচালক হালিমুর রশিদ বলেন, ‘আগের বছরের তুলনায় আক্রান্ত শিশুর সংখ্যা বেশি এবং মৃত্যুও বেশি।’
বাংলাদেশে চলমান হাম প্রাদুর্ভাব নিয়ে আন্তর্জাতিক সংস্থা, সরকারি কর্মকর্তা, জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ, বিশ্লেষক এবং মাঠ পর্যায়ের বাস্তবতা বিশ্লেষণে একটি বিষয় স্পষ্ট হয়েছে—এই সংকট হঠাৎ তৈরি হয়নি। টিকাদানে কয়েক বছরের ঘাটতি, কোভিড-১৯ মহামারি পরবর্তী ব্যাঘাত, টিকা সরবরাহ সংকট, রাজনৈতিক অস্থিরতা, প্রশাসনিক দুর্বলতা, দীর্ঘদিনের অবহেলা এবং ঝুঁকিপূর্ণ শিশুদের বাদ পড়ে যাওয়ার সম্মিলিত ফল হলো বর্তমান পরিস্থিতি।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বর্তমান প্রাদুর্ভাবের মূল কারণ কয়েক বছর টিকাদানে ঘাটতির ফলে সৃষ্ট ইমিউনিটি গ্যাপ বা রোগ প্রতিরোধ ঘাটতি। অর্থাৎ কয়েক বছর ধরে বহু শিশু প্রথম ডোজ বা দ্বিতীয় ডোজ টিকা পায়নি। বাংলাদেশ বহু বছর হামের টিকাদানে উচ্চ কভারেজ বজায় রাখলেও হাম এমন রোগ, যেখানে সামান্য ঘাটতিও বিপজ্জনক। কারণ ভাইরাসটি অত্যন্ত সংক্রামক।
বাংলাদেশে ইউনিসেফ প্রতিনিধি রানা ফ্লাওয়ার্স বলেছেন, শিশুদের বেঁচে থাকার জন্য রোগ প্রতিরোধে টিকা দেওয়া অত্যন্ত জরুরি। কিন্তু হামের পুনরুত্থান দেখিয়ে দিচ্ছে বাংলাদেশে বড় ধরনের রোগ প্রতিরোধ ঘাটতি রয়েছে। বিশেষ করে যেসব শিশু কোনো টিকা পায়নি (জিরো-ডোজ) অথবা পূর্ণ ডোজ নেয়নি, তারা বেশি ঝুঁকিতে।
বাংলাদেশ বহু বছর ধরে শিশুদের টিকাদানে দক্ষিণ এশিয়ার সফল উদাহরণ ছিল। সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচির আওতায় হাম টিকার প্রথম ডোজ কভারেজ ধারাবাহিকভাবে বেড়েছে। দ্বিতীয় ডোজও ২০১০-এর দশকের মাঝামাঝি সময়ে উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ে।
হামের প্রথম ডোজ টিকার কভারেজ ২০০০ সালে ছিল ৮৯ শতাংশ। ২০১৬ সালে তা ১০০ শতাংশের উপরে পৌঁছায়। হামের দ্বিতীয় ডোজ বা এমআর-২ টিকা ২০১২ সালে চালু হয়। তখন কভারেজ ছিল ২২ শতাংশ। ২০২৪ সালে তা ১০০ শতাংশ ছাড়ানোর কথা জানানো হয়। ফলে দেশে নিশ্চিত হাম রোগীর সংখ্যা দ্রুত কমে আসে।
পাশাপাশি বাংলাদেশ হাম নির্মূলের উচ্চাভিলাষী লক্ষ্যও নির্ধারণ করে—প্রথমে ২০২০ সাল, পরে তা বাড়িয়ে ২০২৬ সাল করা হয়। লক্ষ্য ছিল দেশের সব এলাকায় ৯৫ শতাংশের বেশি কভারেজ নিশ্চিত করা এবং দেশীয় সংক্রমণ শূন্যে নামিয়ে আনা। ২০২৫ সালে সারা বছরে নিশ্চিত হাম রোগী ছিল মাত্র ১২৫ জন।
কিন্তু এই সাফল্য দ্রুত ভেঙে পড়ে। এর অন্যতম কারণ হলো ২০২০ সালের পর আর সম্পূরক টিকাদান কর্মসূচি বা এসআইএ না হওয়া। বাংলাদেশে নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচির বাইরে কয়েক বছর পরপর সাপ্লিমেন্টারি ইমিউনাইজেশন অ্যাকটিভিটিজ (এসআইএ) পরিচালিত হয়। এতে বাদ পড়া শিশুদের টিকা দেওয়া হয়। কিন্তু সর্বশেষ এমন কর্মসূচি হয় ২০২০ সালে।
এ ছাড়া কোভিড-১৯ মহামারির সময় নিয়মিত টিকাদান বড় ধাক্কা খায়। লকডাউন, স্বাস্থ্যসেবায় চাপ, পরিবারগুলোর স্বাস্থ্যকেন্দ্রে কম যাওয়া এবং মাঠপর্যায়ের সেবা দুর্বল হয়ে পড়ায় বহু শিশু নির্ধারিত সময়ে টিকা পায়নি।
পরিস্থিতি আরও খারাপ হয় ২০২৪ ও ২০২৫ সালে দেশজুড়ে হাম-রুবেলা (এমআর) টিকার ঘাটতি দেখা দেওয়ায়। রাজনৈতিক অস্থিরতাও বড় ভূমিকা রাখে। ওই সময় স্বাস্থ্য সহকারীদের ধর্মঘট, অর্থসংকট এবং টিকা সংগ্রহ নীতিতে পরিবর্তন দেখা যায়। ফলে পরিকল্পিত টিকাদান অভিযান বাস্তবায়িত হয়নি।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের উপপরিচালক শাহরিয়ার সাজ্জাদ বলেন, ‘২০২০ সালের পর থেকে কোনো বিশেষ হাম টিকাদান কর্মসূচি হয়নি। প্রথমে কোভিডের কারণে, পরে রাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে। চলতি বছরের শুরুতেও হাম টিকাদান কর্মসূচি হওয়ার কথা ছিল, কিন্তু সেটিও হয়নি।’
সাজিদা ফাউন্ডেশনের সিইও বিশ্লেষক জাহিদা ফিজ্জা কবির বলেন, ‘এটি শাসনব্যবস্থার ব্যর্থতা। টিকাদান ব্যবস্থা নির্ভর করে পূর্বানুমেয় ও স্থিতিশীল কাঠামোর ওপর—সমন্বিত টিকা সংগ্রহ, স্থিতিশীল অর্থায়ন, কার্যকর নেতৃত্ব এবং নির্ভরযোগ্য জনবল। এগুলো ব্যাহত হলে পুরো ব্যবস্থাই ভেঙে পড়ে।’
হাম ও রুবেলা বিষয়ক জাতীয় যাচাইকরণ কমিটির প্রধান মাহমুদুর রহমান বলেন, ‘২০২৫ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে রোগীর সংখ্যা শূন্যে নামিয়ে আনার প্রতিশ্রুতি ছিল। কিন্তু দুর্বল টিকাদান কর্মসূচির কারণে সেই লক্ষ্য অর্জন করা যায়নি। গত বছর বড় ধরনের ধাক্কা খেতে হয়েছে।’
সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচির সাবেক কর্মকর্তা ও জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ তাজুল ইসলাম এ বারী বলেন, ‘টিকা কেনার জন্য অর্থ বরাদ্দ ছিল, কিন্তু কর্তৃপক্ষ তা সময়মতো সংগ্রহ করতে ব্যর্থ হয়েছে। এখন তার ফল দেখা যাচ্ছে।’
গ্যাভি, দ্য ভ্যাকসিন অ্যালায়েন্স-এর প্রতিনিধি ডির্ক গেহল বলেন, ‘শিশুদের মৃত্যু একটি মর্মান্তিক সত্য স্মরণ করিয়ে দেয় যে রোগ প্রতিরোধে ঘাটতি থাকলে হাম খুব দ্রুত প্রাণঘাতী হয়ে উঠতে পারে। তাই পরিস্থিতি মোকাবিলায় সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।’
বাংলাদেশে সেভ দ্য চিলড্রেনের স্বাস্থ্য ও পুষ্টি খাতের প্রধান গোলাম মোতাব্বির বলেন, ‘হাম প্রাদুর্ভাব কমাতে টিকাদান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। যদি পর্যাপ্ত টিকা দেওয়া না হয়, অথবা অভিযান ধারাবাহিকভাবে চালানো না হয়, তাহলে সংক্রমণ আরও ছড়াবে। তাই এখন প্রয়োজন এমন স্বাস্থ্যব্যবস্থায় বিনিয়োগ, যা নিরবচ্ছিন্ন টিকা সরবরাহ নিশ্চিত করবে।’
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এখনও সময় আছে। দ্রুত, সমন্বিত ও দীর্ঘমেয়াদি পদক্ষেপ নিলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব। সবচেয়ে বড় কাজ হলো, কোনো শিশুকে টিকার বাইরে না রাখা।
সরকার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে দ্রুত পদক্ষেপ নিয়েছে। গত ৫ এপ্রিল থেকেই স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় দেশব্যাপী হাম-রুবেলা টিকাদান কর্মসূচি শুরু করে। এই কর্মসূচির আওতায়, ৬ মাস থেকে ৫৯ মাস বয়সী শিশুদের টিকা দেওয়া হচ্ছে। প্রথমে বেশি আক্রান্ত এলাকায় শুরু হয়। পরে এপ্রিলের শেষ দিকে দেশব্যাপী সম্প্রসারণ করা হয়।
লক্ষ্য হলো ১ কোটি ৭৮ লাখের বেশি শিশুকে টিকার আওতায় আনা, অন্তত ৯৫ শতাংশ কভারেজ নিশ্চিত করা এবং কোনো শিশুকে বাদ না দেওয়া। এপ্রিলের শেষ দিকে ৪০ লাখের বেশি শিশু টিকা পেয়েছে। এই কার্যক্রমে সহায়তা করছে, ইউনিসেফ, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এবং গ্যাভি, দ্য ভ্যাকসিন অ্যালায়েন্স। টিকার প্রভাব দৃশ্যমান হতে ১-২ সপ্তাহ সময় লাগবে।
তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শুধু একবারের জরুরি অভিযান যথেষ্ট নয়। নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচি শক্তিশালী করতে হবে। এক বিশ্লেষকের ভাষায়, হাম হলো ‘ঘাটতির রোগ’। টিকাদানে ঘাটতি, অর্থায়নে ঘাটতি, মনোযোগে ঘাটতি, সমন্বয়ে ঘাটতি, ব্যবস্থাপনায় ঘাটতি। এসব ঘাটতি পূরণ করা না গেলে হাম বারবার ফিরে আসা ট্র্যাজেডিতে পরিণত হতে পারে।

একসময় শিশু টিকাদান কর্মসূচির সফল উদাহরণ হিসেবে আন্তর্জাতিকভাবে প্রশংসিত ছিল বাংলাদেশ। দীর্ঘদিন ধরে নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচি, সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচি (ইপিআই), মাঠপর্যায়ে স্বাস্থ্যকর্মীদের সক্রিয়তা এবং ব্যাপকহারে টিকাদানের ফলে হাম নিয়ন্ত্রণে ছিল। কিন্তু সেই বাংলাদেশই এখন বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ভাষায় হামের ‘উচ্চ ঝুঁকিতে’ থাকা একটি দেশ।
সংস্থাটি বাংলাদেশের চলমান হাম পরিস্থিতিকে ‘জাতীয়ভাবে উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ’ হিসেবে সতর্কতা জারি করেছে। ইতিমধ্যেই দেশের ৫৮ জেলায় হাম ছড়িয়ে পড়েছে। আক্রান্তদের বড় অংশই শিশু এবং হাসপাতালগুলোতে রোগী উপচে পড়ছে।
বিশ্ব স্বাস্থ্যসংস্থা বলেছে, দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে পরিস্থিতি আরও গুরুতর হতে পারে। ফলে একসময় যে বাংলাদেশ হাম নিয়ন্ত্রণে উল্লেখযোগ্য সাফল্য দেখিয়েছিল, সেই দেশ কীভাবে এমন অবস্থায় এল—এখন সেটিই বড় প্রশ্ন হয়ে উঠেছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ১৫ মার্চ থেকে ২৫ মার্চ পর্যন্ত মোট প্রায় ২৭ থেকে ৩০ হাজার সম্ভাব্য হাম রোগী শনাক্ত হয়েছে। এরমধ্যে ৩ হাজার ৯০০ থেকে ৪ হাজার ২০০ জনের শরীরে পরীক্ষায় হাম নিশ্চিত হয়েছে। প্রায় ২০ হাজার বেশি রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। প্রায় ১৬ হাজার ৫০০ জন চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়েছেন।
মৃত্যুর সংখ্যাও উদ্বেগজনক। সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী, এ পর্যন্ত হামে মোট ৪২ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। আর হামের উপসর্গ নিয়ে মৃত্যু হয়েছে ২০০-র বেশি শিশুর। সাম্প্রতিক কয়েক দিনে প্রতিদিন তিন থেকে সাতজন শিশু মারা যাওয়ার খবর পাওয়া গেছে। হামের উপসর্গ নিয়ে সবশেষ শনিবার (২৫ এপ্রিল) সকাল ৮টা পর্যন্ত আগের ২৪ ঘণ্টায় ১১ শিশুর মৃত্যু হয়।
হামে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে শিশুরা এবং রোগীদের বড় অংশই অল্পবয়সী শিশু। তথ্য অনুযায়ী, ৭৯ থেকে ৮২ শতাংশ আক্রান্তের বয়স পাঁচ বছরের নিচে। উল্লেখযোগ্য অংশের বয়স দুই বছরের নিচে। প্রায় এক-তৃতীয়াংশের বয়স ৯ মাসের কম; যারা এখনও নিয়মিত হাম টিকা নেওয়ার বয়সে পৌঁছায়নি। ফলে তাদের আক্রান্ত হওয়া বিশেষ উদ্বেগের বিষয়।
সবচেয়ে বেশি রোগী পাওয়া গেছে ঢাকা বিভাগে। রাজধানীর ঘনবসতিপূর্ণ বস্তি ও নিম্নআয়ের এলাকায় সংক্রমণ দ্রুত ছড়িয়েছে। বিশেষ করে, ডেমরা, যাত্রাবাড়ী, কড়াইল, মিরপুরে। জনসংখ্যার অনুপাতে সংক্রমণ হার বেশি বরিশাল, রাজশাহী ও ময়মনসিংহে। কক্সবাজারে রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবিরগুলোতেও সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলছে, বাংলাদেশে বর্তমানে ‘নিরবচ্ছিন্ন সংক্রমণ’ চলছে। দ্রুত টিকাদান কভারেজ বাড়ানো না গেলে পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে। সংস্থাটি দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া অঞ্চলের জন্য ঝুঁকির মাত্রা ‘উচ্চ’ এবং বৈশ্বিক ঝুঁকির মাত্রা ‘মধ্যম’ হিসেবে উল্লেখ করেছে।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. মুশতাক হোসেন হাম পরিস্থিতিকে জনস্বাস্থ্য জরুরি অবস্থা ঘোষণা করার আহ্বান জানিয়েছেন। তাঁর মতে, বড় ধরনের সমন্বিত উদ্যোগ ছাড়া পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ কঠিন হবে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হাম অত্যন্ত সংক্রামক রোগ। এর ‘আরও’ বা মৌলিক সংক্রমণ হার ১২ থেকে ১৮। অর্থাৎ একজন আক্রান্ত ব্যক্তি গড়ে ১২ থেকে ১৮ জনকে সংক্রমিত করতে পারেন। ফলে সামান্য টিকা ঘাটতিতেও দ্রুত বিস্ফোরক প্রাদুর্ভাব হতে পারে হামের। বাংলাদেশের বাড়তি জনসংখ্যা এবং বহু এলাকায় ঘনবসতি থাকায় এই ঝুঁকি আরও বেশি।
সরকারি কর্মকর্তারাও সংকটের প্রভাব স্বীকার করেছেন এবং প্রতিরোধমূলক পদক্ষেপের কথা জানিয়েছেন। স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব কামরুজ্জামান চৌধুরী নিশ্চিত মৃত্যুর তথ্য তুলে ধরে জরুরি পদক্ষেপের ঘোষণা দেন।
বাংলাদেশ স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণ শাখার পরিচালক হালিমুর রশিদ বলেন, ‘আগের বছরের তুলনায় আক্রান্ত শিশুর সংখ্যা বেশি এবং মৃত্যুও বেশি।’
বাংলাদেশে চলমান হাম প্রাদুর্ভাব নিয়ে আন্তর্জাতিক সংস্থা, সরকারি কর্মকর্তা, জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ, বিশ্লেষক এবং মাঠ পর্যায়ের বাস্তবতা বিশ্লেষণে একটি বিষয় স্পষ্ট হয়েছে—এই সংকট হঠাৎ তৈরি হয়নি। টিকাদানে কয়েক বছরের ঘাটতি, কোভিড-১৯ মহামারি পরবর্তী ব্যাঘাত, টিকা সরবরাহ সংকট, রাজনৈতিক অস্থিরতা, প্রশাসনিক দুর্বলতা, দীর্ঘদিনের অবহেলা এবং ঝুঁকিপূর্ণ শিশুদের বাদ পড়ে যাওয়ার সম্মিলিত ফল হলো বর্তমান পরিস্থিতি।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বর্তমান প্রাদুর্ভাবের মূল কারণ কয়েক বছর টিকাদানে ঘাটতির ফলে সৃষ্ট ইমিউনিটি গ্যাপ বা রোগ প্রতিরোধ ঘাটতি। অর্থাৎ কয়েক বছর ধরে বহু শিশু প্রথম ডোজ বা দ্বিতীয় ডোজ টিকা পায়নি। বাংলাদেশ বহু বছর হামের টিকাদানে উচ্চ কভারেজ বজায় রাখলেও হাম এমন রোগ, যেখানে সামান্য ঘাটতিও বিপজ্জনক। কারণ ভাইরাসটি অত্যন্ত সংক্রামক।
বাংলাদেশে ইউনিসেফ প্রতিনিধি রানা ফ্লাওয়ার্স বলেছেন, শিশুদের বেঁচে থাকার জন্য রোগ প্রতিরোধে টিকা দেওয়া অত্যন্ত জরুরি। কিন্তু হামের পুনরুত্থান দেখিয়ে দিচ্ছে বাংলাদেশে বড় ধরনের রোগ প্রতিরোধ ঘাটতি রয়েছে। বিশেষ করে যেসব শিশু কোনো টিকা পায়নি (জিরো-ডোজ) অথবা পূর্ণ ডোজ নেয়নি, তারা বেশি ঝুঁকিতে।
বাংলাদেশ বহু বছর ধরে শিশুদের টিকাদানে দক্ষিণ এশিয়ার সফল উদাহরণ ছিল। সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচির আওতায় হাম টিকার প্রথম ডোজ কভারেজ ধারাবাহিকভাবে বেড়েছে। দ্বিতীয় ডোজও ২০১০-এর দশকের মাঝামাঝি সময়ে উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ে।
হামের প্রথম ডোজ টিকার কভারেজ ২০০০ সালে ছিল ৮৯ শতাংশ। ২০১৬ সালে তা ১০০ শতাংশের উপরে পৌঁছায়। হামের দ্বিতীয় ডোজ বা এমআর-২ টিকা ২০১২ সালে চালু হয়। তখন কভারেজ ছিল ২২ শতাংশ। ২০২৪ সালে তা ১০০ শতাংশ ছাড়ানোর কথা জানানো হয়। ফলে দেশে নিশ্চিত হাম রোগীর সংখ্যা দ্রুত কমে আসে।
পাশাপাশি বাংলাদেশ হাম নির্মূলের উচ্চাভিলাষী লক্ষ্যও নির্ধারণ করে—প্রথমে ২০২০ সাল, পরে তা বাড়িয়ে ২০২৬ সাল করা হয়। লক্ষ্য ছিল দেশের সব এলাকায় ৯৫ শতাংশের বেশি কভারেজ নিশ্চিত করা এবং দেশীয় সংক্রমণ শূন্যে নামিয়ে আনা। ২০২৫ সালে সারা বছরে নিশ্চিত হাম রোগী ছিল মাত্র ১২৫ জন।
কিন্তু এই সাফল্য দ্রুত ভেঙে পড়ে। এর অন্যতম কারণ হলো ২০২০ সালের পর আর সম্পূরক টিকাদান কর্মসূচি বা এসআইএ না হওয়া। বাংলাদেশে নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচির বাইরে কয়েক বছর পরপর সাপ্লিমেন্টারি ইমিউনাইজেশন অ্যাকটিভিটিজ (এসআইএ) পরিচালিত হয়। এতে বাদ পড়া শিশুদের টিকা দেওয়া হয়। কিন্তু সর্বশেষ এমন কর্মসূচি হয় ২০২০ সালে।
এ ছাড়া কোভিড-১৯ মহামারির সময় নিয়মিত টিকাদান বড় ধাক্কা খায়। লকডাউন, স্বাস্থ্যসেবায় চাপ, পরিবারগুলোর স্বাস্থ্যকেন্দ্রে কম যাওয়া এবং মাঠপর্যায়ের সেবা দুর্বল হয়ে পড়ায় বহু শিশু নির্ধারিত সময়ে টিকা পায়নি।
পরিস্থিতি আরও খারাপ হয় ২০২৪ ও ২০২৫ সালে দেশজুড়ে হাম-রুবেলা (এমআর) টিকার ঘাটতি দেখা দেওয়ায়। রাজনৈতিক অস্থিরতাও বড় ভূমিকা রাখে। ওই সময় স্বাস্থ্য সহকারীদের ধর্মঘট, অর্থসংকট এবং টিকা সংগ্রহ নীতিতে পরিবর্তন দেখা যায়। ফলে পরিকল্পিত টিকাদান অভিযান বাস্তবায়িত হয়নি।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের উপপরিচালক শাহরিয়ার সাজ্জাদ বলেন, ‘২০২০ সালের পর থেকে কোনো বিশেষ হাম টিকাদান কর্মসূচি হয়নি। প্রথমে কোভিডের কারণে, পরে রাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে। চলতি বছরের শুরুতেও হাম টিকাদান কর্মসূচি হওয়ার কথা ছিল, কিন্তু সেটিও হয়নি।’
সাজিদা ফাউন্ডেশনের সিইও বিশ্লেষক জাহিদা ফিজ্জা কবির বলেন, ‘এটি শাসনব্যবস্থার ব্যর্থতা। টিকাদান ব্যবস্থা নির্ভর করে পূর্বানুমেয় ও স্থিতিশীল কাঠামোর ওপর—সমন্বিত টিকা সংগ্রহ, স্থিতিশীল অর্থায়ন, কার্যকর নেতৃত্ব এবং নির্ভরযোগ্য জনবল। এগুলো ব্যাহত হলে পুরো ব্যবস্থাই ভেঙে পড়ে।’
হাম ও রুবেলা বিষয়ক জাতীয় যাচাইকরণ কমিটির প্রধান মাহমুদুর রহমান বলেন, ‘২০২৫ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে রোগীর সংখ্যা শূন্যে নামিয়ে আনার প্রতিশ্রুতি ছিল। কিন্তু দুর্বল টিকাদান কর্মসূচির কারণে সেই লক্ষ্য অর্জন করা যায়নি। গত বছর বড় ধরনের ধাক্কা খেতে হয়েছে।’
সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচির সাবেক কর্মকর্তা ও জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ তাজুল ইসলাম এ বারী বলেন, ‘টিকা কেনার জন্য অর্থ বরাদ্দ ছিল, কিন্তু কর্তৃপক্ষ তা সময়মতো সংগ্রহ করতে ব্যর্থ হয়েছে। এখন তার ফল দেখা যাচ্ছে।’
গ্যাভি, দ্য ভ্যাকসিন অ্যালায়েন্স-এর প্রতিনিধি ডির্ক গেহল বলেন, ‘শিশুদের মৃত্যু একটি মর্মান্তিক সত্য স্মরণ করিয়ে দেয় যে রোগ প্রতিরোধে ঘাটতি থাকলে হাম খুব দ্রুত প্রাণঘাতী হয়ে উঠতে পারে। তাই পরিস্থিতি মোকাবিলায় সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।’
বাংলাদেশে সেভ দ্য চিলড্রেনের স্বাস্থ্য ও পুষ্টি খাতের প্রধান গোলাম মোতাব্বির বলেন, ‘হাম প্রাদুর্ভাব কমাতে টিকাদান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। যদি পর্যাপ্ত টিকা দেওয়া না হয়, অথবা অভিযান ধারাবাহিকভাবে চালানো না হয়, তাহলে সংক্রমণ আরও ছড়াবে। তাই এখন প্রয়োজন এমন স্বাস্থ্যব্যবস্থায় বিনিয়োগ, যা নিরবচ্ছিন্ন টিকা সরবরাহ নিশ্চিত করবে।’
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এখনও সময় আছে। দ্রুত, সমন্বিত ও দীর্ঘমেয়াদি পদক্ষেপ নিলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব। সবচেয়ে বড় কাজ হলো, কোনো শিশুকে টিকার বাইরে না রাখা।
সরকার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে দ্রুত পদক্ষেপ নিয়েছে। গত ৫ এপ্রিল থেকেই স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় দেশব্যাপী হাম-রুবেলা টিকাদান কর্মসূচি শুরু করে। এই কর্মসূচির আওতায়, ৬ মাস থেকে ৫৯ মাস বয়সী শিশুদের টিকা দেওয়া হচ্ছে। প্রথমে বেশি আক্রান্ত এলাকায় শুরু হয়। পরে এপ্রিলের শেষ দিকে দেশব্যাপী সম্প্রসারণ করা হয়।
লক্ষ্য হলো ১ কোটি ৭৮ লাখের বেশি শিশুকে টিকার আওতায় আনা, অন্তত ৯৫ শতাংশ কভারেজ নিশ্চিত করা এবং কোনো শিশুকে বাদ না দেওয়া। এপ্রিলের শেষ দিকে ৪০ লাখের বেশি শিশু টিকা পেয়েছে। এই কার্যক্রমে সহায়তা করছে, ইউনিসেফ, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এবং গ্যাভি, দ্য ভ্যাকসিন অ্যালায়েন্স। টিকার প্রভাব দৃশ্যমান হতে ১-২ সপ্তাহ সময় লাগবে।
তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শুধু একবারের জরুরি অভিযান যথেষ্ট নয়। নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচি শক্তিশালী করতে হবে। এক বিশ্লেষকের ভাষায়, হাম হলো ‘ঘাটতির রোগ’। টিকাদানে ঘাটতি, অর্থায়নে ঘাটতি, মনোযোগে ঘাটতি, সমন্বয়ে ঘাটতি, ব্যবস্থাপনায় ঘাটতি। এসব ঘাটতি পূরণ করা না গেলে হাম বারবার ফিরে আসা ট্র্যাজেডিতে পরিণত হতে পারে।
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের ফেনীর খাইয়ারা রাস্তার মাথা এলাকায় থেমে থাকা ট্রাকের পেছনে কাভার্ডভ্যানের ধাক্কায় দুজন নিহত হয়েছে। স্থানীয়সহ আহত হয়েছেন আরও আটজন। তাদের মধ্যে পাঁচজনকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
২০ মিনিট আগে
বরিশাল নগরীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে যুবদল নেতা মনির খানের (৩৮) মৃত্যুকে কেন্দ্র করে চিকিৎসক ও হাসপাতাল কর্মীদের সঙ্গে স্বজনের সংঘর্ষ হয়েছে। এতে উভয়পক্ষে বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন।
৯ ঘণ্টা আগে
নিজের চারটি গাড়ি ও চারজন চালক থাকার কথা বলেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। বুধবার (১০ জুন) সংসদে জামায়াতে ইসলামীর সদস্য নজিবুর রহমানের বক্তব্যের প্রতিবাদে নিজের সম্পত্তির হিসাব জানাতে তিনি এই তথ্য দেন।
৯ ঘণ্টা আগে
নারায়ণগঞ্জের সাবেক সংসদ সদস্য শামীম ওসমান এবং তাঁর ছেলে অয়ন ওসমানের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে চলমান মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় এক প্রত্যক্ষদর্শী সাক্ষ্য দিয়েছেন।
৯ ঘণ্টা আগে