তালাক জালিয়াতি মামলায় ক্রিকেটার নাসির ও তাঁর স্ত্রী তামিমার খালাস

স্ট্রিম প্রতিবেদক
স্ট্রিম প্রতিবেদক
ঢাকা

প্রকাশ : ১০ জুন ২০২৬, ২২: ২১
ক্রিকেটার নাসির হোসেন ও তাঁর স্ত্রী তামিমা সুলতানা তাম্মি। সংগৃহীত ছবি

আইনগতভাবে বিচ্ছেদের আগেই নতুন করে বিয়ে করার অভিযোগে দায়ের করা মামলা থেকে খালাস পেয়েছেন ক্রিকেটার নাসির হোসেন ও তাঁর স্ত্রী তামিমা সুলতানা তাম্মি। ব্যভিচার ও জালিয়াতির অভিযোগ এনে তামিমার সাবেক স্বামী রাকিব হোসেনের দায়ের করা মামলাটি খারিজ করে দিয়েছেন আদালত।

আজ বুধবার (১০ জুন) ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জশিতা ইসলাম আলোচিত এ মামলার রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণার সময় নাসির ও তামিমা আদালতে উপস্থিত ছিলেন।

রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করে নাসির ও তামিমার আইনজীবী আজিজুর রহমান দুলু বলেন, ‘যেসব ফাইন্ডিংসের ভিত্তিতে আদালত এই রায় দিয়েছেন, তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো রাকিব ও তামিমার তালাক সঠিকভাবে কার্যকর হয়েছে।’

ঘটনাস্থল সংক্রান্ত ত্রুটির কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আর বাদী যে ঘটনাস্থলের কথা বলেছেন, সেখানে দুই আসামির কেউই যাননি। একটা মামলার যে কয়টি মূল উপাদান—প্লেস অব অকারেন্স (ঘটনাস্থল), টাইম অব অকারেন্স (ঘটনার সময়), ম্যানার অব অকারেন্স (ঘটনার ধরন)—তার মধ্যে ঘটনাস্থল একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। সেখানে নাসির কিংবা তামিমা কোনো দিনও যাননি। তাহলে অপরাধ হয় কী করে? এই ফাইন্ডিংসের (পর্যবেক্ষণগুলোর) ভিত্তিতেই আদালত উভয় আসামিকে খালাস দিয়েছেন।’

আসামিদের খালাসের রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে উচ্চ আদালতে আপিল করার কথা জানিয়েছেন বাদী ও তাঁর আইনি পরামর্শকেরা।

মামলার বাদী রাকিব হাসান রায়ের প্রতিক্রিয়ায় বলেন, ‘আজ রায় ঘোষণার সময় জজ সাহেব যা বলছিলেন, তাতে মনে হচ্ছিল, এটি পূর্বপরিকল্পিত। দুই-তিনটা কথা বলেই রায় দিয়েছেন। মামলায় বিভিন্ন এভিডেন্স ছিল, ১০ জন সাক্ষী ছিল, তার কিছুই পড়ে শোনাননি। আমি এই রায়ে সন্তুষ্ট নই।’

প্রভাব খাটানোর অভিযোগ এনে তিনি বলেন, ‘আমরা শতভাগ নিশ্চিত ছিলাম যে ন্যায়বিচার পাব। কারণ, আমরা আদালতে সব সাক্ষ্য-প্রমাণ দ্বারা প্রমাণ করেছি, তাঁরা অপরাধ করেছেন। আমি আইনের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে কোর্টে এসেছিলাম, কিন্তু সেটি হলো না।’

বাদীপক্ষের আইনজীবী ইশরাত হাসান বলেন, ‘আদালত মামলাটি সরাসরি আমলে নেয়নি, পিবিআইকে (পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন) তদন্তের নির্দেশ দেয়। সাক্ষ্য-প্রমাণ পাওয়ায় পিবিআই তাঁদের বিরুদ্ধে চার্জশিট দিয়েছে। ১০ জন সাক্ষী আদালতে সাক্ষ্য দিয়েছেন। তামিমা সাফাই সাক্ষ্য দিলে তাঁকে জেরা করি। জেরায় তামিমা অনেক কিছু স্বীকার করেছেন। কিন্তু আদালত আজ দুজনকেই খালাস দিয়েছেন। অপারেটিভ বিষয়গুলো বলেছেন। বিস্তারিত রায় আমাদের হাতে নেই।’

তিনি আরও বলেন, ‘উপযুক্ত সাক্ষ্য-প্রমাণ থাকা সত্ত্বেও জুডিসিয়াল মাইন্ড অ্যাপ্লাই না করে এ ধরনের রায় দেওয়ায় আমরা সংক্ষুব্ধ। আমরা ন্যায়বিচার পাইনি। এ রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল করব।’

নথিপত্র জালের অভিযোগ তুলে ইশরাত হাসান বলেন, ‘পিবিআইয়ের তদন্ত রিপোর্টে এসেছে, তামিমা সুলতানা বাদী রাকিব হাসানকে ডিভোর্স (তালাক) না দিয়ে নাসির হোসেনকে বিয়ে করেছেন। ২০১৬ সালের যে ডকুমেন্টগুলো রয়েছে, সেগুলো সব জাল-জালিয়াতির মাধ্যমে তৈরি করা। তাঁর সপক্ষে ডাক বিভাগের ডিজিএম (উপমহাব্যবস্থাপক) সাক্ষ্য দিতে আদালতে এসে বলেছেন, তাঁরা বিষয়টি নিয়ে তদন্ত করেছেন। তদন্ত করে দেখেছেন, সেই ডাক রশিদগুলো ডাক বিভাগেরই না। এখানে সুস্পষ্ট জালিয়াতির অভিযোগ রয়েছে।’

চেয়ারম্যানদের সাক্ষ্যের বরাত দিয়ে তিনি বলেন, ‘দুইজন চেয়ারম্যান আদালতে সাক্ষ্য দিতে এসে বলেছেন, তাঁরা কোনো ধরনের নোটিস পাননি। তামিমা সুলতানা জেরায় বলেছেন, সিটি করপোরেশন বা চেয়ারম্যানকে কোনো ধরনের নোটিস পাঠাননি। আমাদের বক্তব্য হচ্ছে, কোনো নোটিস না পাঠিয়ে জাল ডকুমেন্ট তৈরি করলেই যদি খালাস পাওয়া যায়, তাহলে এ ধরনের দৃষ্টান্ত সমাজের জন্য ক্ষতিকর নজির হয়ে থাকবে।’

মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ২০১১ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি তামিমার সঙ্গে রাকিব হোসেনের বিয়ে হয়। তবে রাকিবের সঙ্গে বৈবাহিক সম্পর্ক চলমান থাকা অবস্থায় ২০২০ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি তামিমা ও ক্রিকেটার নাসির বিয়ে করেন।

২০২১ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতে এই মামলা দায়ের করেন রাকিব।

সে বছর ৩০ সেপ্টেম্বর নাসির, তামিমা ও তাঁর মা সুমি আক্তারকে আসামি করে আদালতে প্রতিবেদন দেয় পিবিআই। ২০২২ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে বিচার শুরুর আদেশ হলেও নাসিরের শাশুড়ি সুমি আক্তারকে মামলা থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।

পরবর্তীতে ২০ মার্চ বাদী রাকিবের সাক্ষ্যগ্রহণের মধ্য দিয়ে এ মামলার বিচার শুরু হয়। ২০২৫ সালের ১৬ এপ্রিল সাক্ষ্য গ্রহণ শেষ হওয়া পর্যন্ত মোট ১০ জনের সাক্ষ্য শোনে আদালত। এরপর গত ১০ মার্চ আসামিদের আত্মপক্ষ শুনানি হয়, যেখানে তাঁরা নিজেদের নির্দোষ দাবি করেন।

গত ৩০ মার্চ সাউদিয়া এয়ারলাইন্সের সাবেক বিমানবালা তামিমা নিজের পক্ষে সাফাই সাক্ষ্য দিয়ে দাবি করেন, সাংসারিক ও মানসিক বনিবনা না থাকায় আগের স্বামী রাকিবকে তালাক দিয়ে বৈধভাবেই তিনি ক্রিকেটার নাসিরকে বিয়ে করেছেন।

ক্রিকেটার নাসিরের বিরুদ্ধে পৃথক দুই ধারায় এবং তামিমার বিরুদ্ধে পৃথক তিন ধারায় অভিযোগ গঠন করে এ মামলার বিচার চলে। আদালতের বিচারে তাঁরা দুজনই নির্দোষ প্রমাণিত হয়ে খালাস পেয়েছেন।

বিষয়:

মামলা
সর্বাধিক পঠিত

সম্পর্কিত