গণতান্ত্রিক উত্তরণ টেকসই করতে নাগরিক পরিসর বাড়ানোর তাগিদ

স্ট্রিম প্রতিবেদক
স্ট্রিম প্রতিবেদক
ঢাকা

সিপিডি, ইউএনওপিএস, ইইউ আয়োজিত আলোচনা সভায় উপস্থিত বক্তা ও অতিথিরা। সংগৃহীত ছবি।

বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় গণতান্ত্রিক উত্তরণ টেকসই করতে নাগরিক পরিসর সুরক্ষা ও সম্প্রসারণের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন বক্তারা। তাঁরা বলেন, অন্তর্ভুক্তিমূলক শাসন ও জবাবদিহিমূলক উন্নয়ন নিশ্চিত করতে একটি বিস্তৃত ও সক্রিয় নাগরিক পরিসর অপরিহার্য।

বুধবার (৮ এপ্রিল) রাজধানীতে ‘বাংলাদেশে নাগরিক সমাজের সম্পৃক্ততা নিয়ে সিভিল সোসাইটি রোডম্যাপ (সিএসআরএম) ২০২৬–২৮’ এবং ‘বাংলাদেশে নাগরিক পরিসর বিষয়ে রাজনৈতিক অর্থনীতি বিশ্লেষণ (পোস্ট–জুলাই ২০২৪)’ শীর্ষক এক বিশেষ আলোচনা সভায় এসব কথা বলা হয়। সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি), ইউনাইটেড নেশনস অফিস ফর প্রজেক্ট সার্ভিসেস (ইউএনওপিএস) এবং ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) যৌথভাবে এ সভার আয়োজন করে।

সিপিডি কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এ সভায় নাগরিক সমাজ, শিক্ষাবিদ ও উন্নয়ন সহযোগী সংস্থার প্রতিনিধিরা অংশ নেন। সভায় নাগরিক পরিসরের বর্তমান অবস্থা, অংশগ্রহণের ধারা, কাঠামোগত প্রতিবন্ধকতা ও অন্তর্ভুক্তিমূলক অংশগ্রহণের সুযোগ নিয়ে মতবিনিময় করা হয়।

সূচনা বক্তব্যে সিপিডির নির্বাহী পরিচালক ড. ফাহমিদা খাতুন অন্তর্ভুক্তিমূলক নীতিকাঠামো গড়ে তুলতে প্রমাণভিত্তিক সংলাপের প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন। তিনি বলেন, জুলাই ২০২৪-পরবর্তী রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে সংস্কারের অঙ্গীকার থাকলেও তা এখনো রাজনৈতিক সমঝোতার মধ্যেই সীমাবদ্ধ রয়েছে। এ অবস্থায় নাগরিক সমাজ সংগঠনগুলোকে প্রকল্পভিত্তিক কার্যক্রমের বাইরে গিয়ে প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বৃদ্ধিতে মনোযোগ দিতে হবে।

অনুষ্ঠানে ইইউ প্রতিনিধিদলের কর্মসূচি কর্মকর্তা জুল সাইৎজ এবং ইউএনওপিএস বাংলাদেশ ও ভুটানের কান্ট্রি ম্যানেজার সুধীর মুরলিধরন বক্তব্য দেন। তাঁরা নাগরিক সমাজের সক্রিয় অংশগ্রহণ ও গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া জোরদারে সম্মিলিত উদ্যোগের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এনজিও বিষয়ক ব্যুরোর ভারপ্রাপ্ত মহাপরিচালক ব্যারিস্টার মো. খলিলুর রহমান খান বলেন, জুলাই-পরবর্তী সময়ে নাগরিক পরিসর বিস্তারে অনুমোদন প্রক্রিয়া সহজ ও প্রশাসনিক জট কমানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তিনি নাগরিক সমাজকে সহযোগিতার আশ্বাসও দেন।

মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ড. কাজী মাহমুদুর রহমান ও ফকরুদ্দীন আল কবির। তাঁরা সিভিল সোসাইটি রোডম্যাপ ও রাজনৈতিক অর্থনীতি বিশ্লেষণের প্রাথমিক ফলাফল তুলে ধরেন। উপস্থাপনায় নাগরিক পরিসরের প্রবণতা, প্রাতিষ্ঠানিক চ্যালেঞ্জ ও নীতিনির্ধারণী প্রক্রিয়ায় নাগরিক সমাজের কার্যকর ভূমিকা নিয়ে সম্ভাব্য করণীয় উঠে আসে।

মুক্ত আলোচনায় অংশগ্রহণকারীরা সমন্বয় জোরদার, নিরাপদ ও অন্তর্ভুক্তিমূলক পরিবেশ নিশ্চিতকরণ এবং নীতিনির্ধারকদের সঙ্গে প্রাতিষ্ঠানিক সংযোগ বাড়ানোর ওপর জোর দেন। বক্তারা একমত হন যে, রাষ্ট্র, নাগরিক সমাজ ও উন্নয়ন সহযোগীদের মধ্যে কার্যকর সহযোগিতা ছাড়া নাগরিক পরিসর বিস্তৃত করা সম্ভব নয়। সভা থেকে প্রাপ্ত সুপারিশগুলো ইইউ’র সিভিল সোসাইটি রোডম্যাপ ২০২৬–২৮ প্রণয়নে এবং দেশের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিতের কৌশল নির্ধারণে ব্যবহৃত হবে বলে জানানো হয়।

সম্পর্কিত