leadT1ad

জাবিতে পুরানো নীতিমালায় শিক্ষক নিয়োগের তোড়জোড়, উপাচার্যের অস্বীকার

স্ট্রিম প্রতিবেদক
স্ট্রিম প্রতিবেদক
ঢাকা

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ মিনার। ফাইল ছবি।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) আইন ও বিচার বিভাগ এবং ইনস্টিটিউট অব রিমোট সেন্সিং অ্যান্ড জিআইএসে নতুন নীতিমালা অনুযায়ী শিক্ষক নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়েছে। তবে এই বিভাগ ও ইনস্টিটিউটে শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রে পুরানো নীতিমালা অনুযায়ী সিলেকশন বোর্ড বসার অভিযোগ উঠেছে। তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য।

বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার শাখা সূত্রে জানা যায়, গত ২১ সেপ্টেম্বর সিন্ডিকেট সভায় নতুন শিক্ষক নিয়োগ নীতিমালার অনুমোদন দেয় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। এরপর ২৪ সেপ্টেম্বর আইন ও বিচার বিভাগ এবং ইনস্টিটিউট অব রিমোট সেন্সিং অ্যান্ড জিআইএস শিক্ষক নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে।

তবে নতুন নীতিমালায় কিছু অসংগতি থাকায় পুনরায় একাডেমিক কাউন্সিলের সভায় নেওয়া সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ১১ ডিসেম্বর সিন্ডিকেট সভায় এই নীতিমালায় বেশ কিছু পরিবর্তন আনা হয়।

নতুন নীতিমালা অনুযায়ী শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রে আবেদন করার পর মাধ্যমিক, উচ্চ মাধ্যমিক, স্নাতক, স্নাতকোত্তর ও গবেষণায় স্কোরিং করা হবে। এই স্কোরিংয়ের ভিত্তিতে চাকরিপ্রার্থী বাছাই শেষে তাঁদের ভাইবা পরীক্ষা ও ডেমো ক্লাসে অংশ নেওয়ার কথা। উভয় পরীক্ষায় উত্তীর্ণ ও সর্বোচ্চ নম্বর পাওয়া প্রার্থীদের নিয়োগ দেওয়া হবে।

তবে ২১ সেপ্টেম্বর অনুমোদিত নীতিমালার আলোকে ২৪ সেপ্টেম্বর নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হলেও আগামী ২৯ জানুয়ারি ও ৩ ফেব্রুয়ারি পুরানো (২০১৬ সালের) নীতিমালার আলোকে সিলেকশন বোর্ড বসতে যাচ্ছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিশ্ববিদ্যালয়ের এক প্রশাসনিক কর্মকর্তা স্ট্রিমকে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। পুরানো নীতিমালায় বোর্ড বসায় কোনো ভাইবা ও ডেমো ক্লাস থাকছে না। এর ফলে শিক্ষক নিয়োগে জালিয়াতি ও স্বজনপ্রীতির আশঙ্কা করছেন বিশ্ববিদ্যালয় সংশ্লিষ্টরা।

বিশ্ববিদ্যালয়ের সরকার ও রাজনীতি বিভাগের ৫০তম আবর্তনের শিক্ষার্থী জিয়া উদ্দিন আয়ান বলেন, ‘আমরা শিক্ষার্থীরা বিগত বছরগুলোতে অবৈধভাবে শিক্ষক নিয়োগের বিরুদ্ধে আন্দোলন করেছি। সিন্ডিকেটে নতুন নীতিমালা অনুমোদন হওয়ার পরও পুরানো নীতিমালায় নিয়োগ দেওয়ার সিদ্ধান্তের নিন্দা জানাই। প্রশাসন সিলেক্টিভ কাউকে নিয়োগ দেওয়ার জন্যই এই পথ বেছে নিয়েছে।’

ইতিহাস বিভাগের অধ্যাপক মোহাম্মদ গোলাম রব্বানী স্ট্রিমকে বলেন, ‘নতুন নীতিমালা অনুমোদনের পর পুরানো নিয়মে নিয়োগ দেওয়া অবৈধ। এর ফলে নিয়োগ প্রক্রিয়ায় জালিয়াতির সম্ভাবনা রয়েছে।’

পুরানো নীতিমালার আলোকে সিলেকশন বোর্ড বসার বিষয়টি স্বীকার করেছেন ডেপুটি রেজিস্ট্রার বিএম কামরুজ্জামান। তিনি বলেন, ‘বিভাগ দুটির নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পর শিক্ষক নিয়োগ নীতিমালা চূড়ান্ত করা হয়েছে। সে কারণে ২০১৬ সালের নিয়োগ নীতিমালার ভিত্তিতেই সিলেকশন বোর্ডের কার্যক্রম পরিচালিত হবে।’

তবে এ বিষয়টি অস্বীকার করেছেন উপাচার্য অধ্যাপক কামরুল আহসান। তিনি বলেন, ‘সামনে অনুষ্ঠিতব্য নিয়োগ ভাইবা বোর্ড নতুন নীতিমালা অনুযায়ীই হবে।’

Ad 300x250
সর্বাধিক পঠিত

সম্পর্কিত