জাবিতে ধর্ষণচেষ্টা: প্রশাসনিক ভবনে ৮ ঘণ্টা অবরুদ্ধ কর্মকর্তারা

স্ট্রিম সংবাদদাতা
স্ট্রিম সংবাদদাতা
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়

শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আলোচনা করছেন উপাচার্য। স্ট্রিম ছবি

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় (জাবি) ক্যাম্পাসে এক ছাত্রীকে ধর্ষণচেষ্টার ঘটনায় অভিযুক্ত ব্যক্তিকে দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবিতে নতুন প্রশাসনিক ভবনে তালা ঝুলানোর আট ঘণ্টা পর তা খুলে দিয়েছেন শিক্ষার্থীরা।

রবিবার (১৭ মে) সকাল ১০টায় শিক্ষার্থীরা প্রশাসনিক ভবনে তালা ঝুলিয়ে সারাদিন সেখানে অবরোধ কর্মসূচি পালন করেন। পরে বিকেল পৌনে পাঁচটার দিকে উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ কামরুল আহসানের সঙ্গে আলোচনা শেষে শিক্ষার্থীরা তালা খুলে দেন। তবে প্রক্টর কার্যালয়ে লাগানো তালা এখনো খোলা হবে না বলে জানিয়েছেন তাঁরা।

এর আগে ভুক্তভোগী ছাত্রীকে ধর্ষণচেষ্টা ও হত্যাচেষ্টায় করা মামলার চলমান তদন্তের বিষয়ে শিক্ষার্থীদের সংক্ষিপ্ত ব্রিফ করেন উপাচার্য। তিনি জানান, সরকারপ্রধান পুলিশের আইজিকে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের এই বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখতে বলেছেন। এ ছাড়া আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তাঁর সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

এরপর প্রশাসনিক ভবনের তালা খোলার সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য নিজেরা আলোচনা করার সময় চান আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। আলোচনা শেষে শিক্ষার্থীরা উপাচার্যকে জানান, আগামী ৭২ ঘণ্টার মধ্যে অপরাধীকে পরিচয়সহ শনাক্ত করতে হবে। একই সঙ্গে ধর্ষণচেষ্টার ঘটনায় নিরাপত্তা সংক্রান্ত দায়ভার নিরূপণের জন্য গঠিত কমিটিকে এই ৭২ ঘণ্টার মধ্যে অফিস টাইমে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিয়ে তাঁদের বিষয়টি জানাতে হবে। তবে এ বিষয়ে উপাচার্য আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের স্পষ্ট কোনো আশ্বাস দেননি।

প্রশাসনিক ভবনে আটকে থাকা কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। স্ট্রিম ছবি
প্রশাসনিক ভবনে আটকে থাকা কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। স্ট্রিম ছবি

ঠিক ওই মুহূর্তে প্রশাসনিক ভবনের ভেতরে সকাল থেকে আটকে থাকা কর্মকর্তা-কর্মচারীরা গোলযোগ শুরু করেন। ওই সময় উপাচার্য, উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) এবং উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) তাঁদের শান্ত থাকার আহ্বান জানান। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, গোলযোগ শুরু হলে শিক্ষার্থীরা প্রশাসনিক ভবনের তালা খুলে দেন। তবে ইতিহাস বিভাগের শিক্ষার্থী লামিশা জামান স্ট্রিমকে বলেন, 'আমরা উপাচার্য স্যারের সঙ্গে কথা বলার পরপরই তালা খুলে দিতে চেয়েছিলাম। তবে যার কাছে চাবি ছিল সেই সময় সে কোনো এক কাজে থাকায় সেখানে উপস্থিত ছিল না। গোলযোগ হওয়ায় আমরা তালা খুলে দিয়েছি—বিষয়টি এমন নয়।'

সার্বিক বিষয়ে লামিশা জামান বলেন, 'আমরা যে ৬ দফা দাবি দিয়েছিলাম তার শেষ ৪ দফা দাবি পূরণ সময়সাপেক্ষ। এ ক্ষেত্রে আমরা স্যারকে বলেছি ২০ তারিখ অফিস টাইমের মধ্যে অপরাধীর পরিচয় শনাক্ত করে আমাদের জানাতে হবে এবং গঠিত কমিটির তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করতে হবে।' ৭২ ঘণ্টা পর আবার আন্দোলনে নামবেন কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, 'এটি আসলে নির্ভর করছে উপাচার্য স্যার আমাদের কী জানান তার ওপর।'

উল্লেখ্য, গত ১২ মে রাত সাড়ে ১১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের পুরাতন ফজিলাতুন্নেছা হল সংলগ্ন এলাকায় এক ছাত্রীকে ধর্ষণের চেষ্টা করা হয়। অভিযুক্তের শাস্তির দাবিতে ১৩ মে রাতে বিক্ষোভ মিছিল করেন শিক্ষার্থীরা। এরপর ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার এবং তা করতে ব্যর্থ হলে প্রক্টরিয়াল বডির পদত্যাগের দাবি জানান তাঁরা। সময়সীমা শেষে ১৬ মে দিবাগত রাতে উপাচার্যের বাসভবনের সামনে প্রক্টরের পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলন করেন শিক্ষার্থীরা। পরে প্রক্টরকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করে প্রক্টর কার্যালয়ে তালা ঝুলিয়ে দেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা।

সর্বাধিক পঠিত

সম্পর্কিত