গাজায় ইসরায়েলি হামলায় ৩ কমিউনিটি কিচেনকর্মীসহ নিহত ৮

গত বছর তথাকথিত যুদ্ধবিরতি শুরু হওয়ার পর থেকে গাজায় ইসরায়েলি হামলায় অন্তত ৮৭১ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন।

স্ট্রিম ডেস্ক
স্ট্রিম ডেস্ক

প্রকাশ : ১৮ মে ২০২৬, ০৯: ৪২
গাজায় ইসরায়েলি হামলায় নিহতের সংখ্যা বাড়ছেই। ছবি রয়টার্স

গাজাজুড়ে চালানো ইসরায়েলি হামলায় অন্তত আট ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। এর মধ্য গাজার দেইর আল-বালাহতে তিনজন এবং বাকিরা খান ইউনিস ও বেইত লাহিয়াতে নিহত হন।

গাজা সিটি থেকে আল জাজিরার প্রতিনিধি হিন্দ খুদারি জানিয়েছেন, রোববার কেন্দ্রীয় শহর দেইর আল-বালাহতে চালানো হামলায় একটি কমিউনিটি কিচেনকে (দাতব্য রান্নাঘর) টার্গেট করা হয় এবং নিহত তিনজনের সবাই ওই কিচেনের কর্মী ছিলেন।

খুদারি আরও বলেন, ‘এটি প্রমাণ করে যে ইসরায়েল কেবল সাধারণ মানুষকে নয়, বরং গাজাজুড়ে যারা সাধারণ মানুষের সেবায় নিয়োজিত রয়েছে, সেই সব সংস্থাকেও লক্ষ্যবস্তু বানাচ্ছে।’

একই হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে হামাস বলেছে, এটি একটি ‘পরিকল্পিত যুদ্ধাপরাধ এবং গাজা উপত্যকায় আমাদের জনগণের ওপর চলমান গণহত্যারই আরেকটি নির্মম পুনরাবৃত্তি।’

স্বাধীনতাকামী গোষ্ঠীটি এক বিবৃতিতে জানায়, ‘আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের অযৌক্তিক নীরবতা ও নিষ্ক্রিয়তার মধ্যেই এই ঘটনা ঘটছে, যা সমস্ত আন্তর্জাতিক মূল্যবোধ, আদর্শ ও আইনকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে দখলদার বাহিনীকে তাদের হত্যাকাণ্ড চালিয়ে যেতে আরও সাহস জোগাচ্ছে।’

রোববার প্রকাশিত গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া গাজায় ইসরায়েলের এই গণহত্যামূলক যুদ্ধে অন্তত ৭২ হাজার ৭৬০ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন, যার মধ্যে গত অক্টোবরে তথাকথিত যুদ্ধবিরতি শুরুর পর থেকে নিহত হয়েছেন অন্তত ৮৭১ জন।

বর্তমানে গাজার প্রায় ৬০ শতাংশ অঞ্চল ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর দখলে রয়েছে, যা তথাকথিত ‘ইয়েলো লাইন’ (হলুদ রেখা) বা বাফার জোন হিসেবে চিহ্নিত।

রোববার ওই বাফার জোনে ইসরায়েলি বাহিনী এক ব্যক্তিকে হত্যার দাবি করেছে। কোনো প্রমাণ ছাড়াই তাদের দাবি, নিহত ব্যক্তি সশস্ত্র ছিলেন এবং সৈন্যদের জন্য তাৎক্ষণিক হুমকি তৈরি করেছিলেন।

সামরিক বাহিনীর বিবৃতিতে আরও দাবি করা হয়েছে যে, বাহা বারুদ নামে হামাসের এক কমান্ডার নিহত হয়েছেন। তবে হামাসের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে এই তথ্যের কোনো সত্যতা নিশ্চিত করা হয়নি।

সর্বাধিক পঠিত

সম্পর্কিত