জাতীয় সংসদ নির্বাচন ২০২৬

ও গণভোট

ক্লিক করুন

নাগরিক সংলাপে পার্থ হাফেজ শেখ

উপকূলে দীর্ঘমেয়াদী জলবায়ু সহিষ্ণু ব্যবস্থার দিকে নজর দিতে হবে

স্ট্রিম প্রতিবেদক
স্ট্রিম প্রতিবেদক

অনুষ্ঠানে কথা বলছেন ওয়াটারএইড বাংলাদেশের পরিচালক পার্থ হাফেজ শেখ। স্ট্রিম ছবি

নির্বাচনী ইশতেহারে সুপেয় পানি ও স্যানিটেশনের প্রতিশ্রুতি থাকার চেয়ে ক্ষমতায় গিয়ে তা বাস্তবায়ন করা বেশি জরুরি বলে মন্তব্য করেছেন ওয়াটারএইড বাংলাদেশের পরিচালক পার্থ হাফেজ শেখ। তিনি বলেন, গত ১২ বছরের বাজেট বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ওয়াশ খাতে (পানি, স্যানিটেশন ও হাইজিন) ১০০ টাকা বরাদ্দ থাকলে উপকূলীয় ও দুর্গম অঞ্চলের জন্য থাকে মাত্র ২ থেকে ৩ টাকা। আবার সক্ষমতার অভাবে এই সামান্য বরাদ্দেরও বড় অংশ খরচ হয় না।

রোববার (১১ জানুয়ারি) রাজধানীর বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রে ‘আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রাজনৈতিক দলগুলোর ইশতেহারে উপকূলীয় অঞ্চলের সংকট অন্তর্ভুক্তি’ শীর্ষক এক নাগরিক সংলাপে তিনি এসব কথা বলেন।

পার্থ হাফেজ শেখ দেশের পানি ও স্যানিটেশন খাতের নাজুক চিত্র তুলে ধরে বলেন, বাংলাদেশে নিরাপদ পানি পাচ্ছে মাত্র ৫৯ শতাংশ মানুষ। মানসম্পন্ন স্যানিটেশন সুবিধা পাচ্ছে ৩৭ শতাংশ এবং হাত ধোয়ার মতো ন্যূনতম হাইজিন সুবিধা আছে মাত্র ৩২ শতাংশ মানুষের। এই ধীরগতিতে চললে ২০৩০ সালের মধ্যে এসডিজি লক্ষ্যমাত্রা অর্জন অসম্ভব।

উপকূলীয় অঞ্চলের বাস্তবতা উল্লেখ করে পার্থ হাফেজ শেখ বলেন, সাধারণ টিউবওয়েল বসিয়ে সেখানে পানির সমস্যা মেটানো সম্ভব নয়। এর জন্য ভূগর্ভস্থ পানির স্তর বা ‘একুইফার ম্যাপিং’ জরুরি। দেশে ব্যবহৃত পানির ৮০ শতাংশই কৃষিতে এবং মাত্র ৮ শতাংশ ঘরবাড়িতে ব্যবহৃত হয়। তাই সীমিত সম্পদের সঠিক ব্যবস্থাপনায় একটি সুনির্দিষ্ট মহাপরিকল্পনা প্রয়োজন।

অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়নের দাবি জানিয়ে পার্থ হাফেজ শেখ বলেন, পরিকল্পনাগুলো অবশ্যই নারী, শিশু, প্রবীণ ও প্রতিবন্ধীবান্ধব হতে হবে। ইশতেহারে কেবল প্রতিশ্রুতি নয়, বাস্তবায়নের রোডম্যাপও থাকতে হবে। সিডর বা আইলার মতো দুর্যোগের দীর্ঘমেয়াদি ক্ষত হিসেবে কৃষি জমি লবণাক্ত হওয়া ও পানির উৎস ধ্বংসের কথা স্মরণ করিয়ে দেন তিনি। কয়রার মতো এলাকা এখনো সেই ধকল কাটিয়ে উঠতে পারেনি। তাই দুর্যোগ পরবর্তী পুনর্বাসন ও দীর্ঘমেয়াদি জলবায়ু সহিষ্ণু ব্যবস্থার দিকে নজর দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

বাজেট বাস্তবায়ন প্রসঙ্গে পার্থ হাফেজ শেখ বলেন, সরকারকে কেবল বরাদ্দ বাড়ালেই হবে না, বরাদ্দকৃত অর্থ জনকল্যাণে শতভাগ ব্যয়ের সক্ষমতাও অর্জন করতে হবে। অনুষ্ঠানে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধি ও সুশীল সমাজের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। লোকাল এনভায়রনমেন্ট ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড অ্যাগ্রিকালচারাল রিসার্চ সোসাইটি (লিডার্স) ও মিডিয়া স্ট্রিমের যৌথভাবে আয়োজিত এই সংলাপ অনুষ্ঠানের মিডিয়া পার্টনার ছিল ঢাকা স্ট্রিম।

সম্পর্কিত