সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা আনসারকে দক্ষ করবে: প্রধানমন্ত্রী

স্ট্রিম প্রতিবেদক
স্ট্রিম প্রতিবেদক
ঢাকা

প্রকাশ : ২০ মে ২০২৬, ১২: ৪৬
বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর ৪৬তম জাতীয় সমাবেশে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ছবি: পিএমও

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা আনসার বাহিনীর ভবিষ্যৎ কার্যক্রম আরও দক্ষ ও গতিশীল করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। বুধবার (২০ মে) সকালে গাজীপুরের সফিপুরে বাংলাদেশ আনসার ভিডিপি একাডেমির মিলনায়তনে আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর ৪৬তম জাতীয় সমাবেশে একথা বলেন তিনি।

আনসার-ভিডিপি একাডেমির প্যারেড গ্রাউন্ডে পৌঁছালে প্রধানমন্ত্রীকে অভ্যর্থনা জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী এবং বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আবদুল মোতালেব সাজ্জাদ মাহমুদ। প্রধানমন্ত্রী পরে বীর শহীদদের স্মৃতিসৌধে পুস্পস্তবক অর্পণ করেন।

এরপর প্যারেড গ্রাউন্ড মঞ্চে তারেক রহমান আকর্ষণীয় ব্যুত্থান মহড়া প্রদর্শন করেন। তিনি শারীরিক কসরতের এই মহড়া শেষে অংশগ্রহণকারীদের সঙ্গে করমর্দন করেন।

সমাবেশে বিভিন্ন সময়ে দেশের বিভিন্ন পরিস্থিতিতে আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী ভূমিকা স্মরণ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট রক্তক্ষয়ী গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী সংকটে সব থানা পাহারা, ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার নিরাপত্তায় এই বাহিনী ভূমিকা রেখেছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্বের পাশাপাশি আনসার ও ভিডিপি সদস্যরা সামাজিক সচেতনতা সৃষ্টি, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা এবং প্রযুক্তিনির্ভর সেবার মতো গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রেও সক্রিয় অবদান রাখছে।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বীর শহীদদের স্মৃতিসৌধে পুস্পস্তবক অর্পণ করেন। ছবি: পিএমও
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বীর শহীদদের স্মৃতিসৌধে পুস্পস্তবক অর্পণ করেন। ছবি: পিএমও

তিনি বলেন, দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা রক্ষায় আনসার-ভিডিপির যথেষ্ট অভিজ্ঞতা রয়েছে। এই বিশালসংখ্যক কর্মকর্তা এবং সদস্যদের দীর্ঘ অভিজ্ঞতা এবং কার্যক্রম পর্যবেক্ষণের আলোকে আপনাদের ‘ভিশন এবং সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা’ গ্রহণ করলে, এই বাহিনীর ভবিষ্যৎ কার্যক্রম আরও দক্ষ এবং গতিশীল করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, যে কোনো দেশেই সুশৃঙ্খল বাহিনীর জন্য অনিবার্য এবং অবশ্য পালনীয় নীতি হচ্ছে– ‘চেইন অব কমান্ড’ এবং ‘ডিসিপ্লিন’। এই দুটি বিষয়ে সামান্যতম অবহেলা পরিলক্ষিত হলে কোনো বাহিনী সুশৃঙ্খল হয়ে উঠতে পারে না। বিষয়টি গভীরভাবে মনে রাখা দরকার। কোনো বাহিনীর মধ্যে ডিসিপ্লিনের অভাব পরিলক্ষিত হলে তাদের সম্পর্কে জনমনে আস্থার সংকট সৃষ্টি হয়– এই বিষয়েও খেয়াল রাখা জরুরি।

বর্তমানে ৪৭টি আনসার ব্যাটালিয়নের মধ্যে ১৬টি পার্বত্য চট্টগ্রামের বিভিন্ন অঞ্চলে নিয়োজিত। বাহিনীর ৫২ হাজার অঙ্গীভূত আনসার সদস্য দেশের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো, সরকারি দপ্তর, আর্থিক প্রতিষ্ঠান, শিল্পকারখানা, বিদ্যুৎকেন্দ্রে নিরাপত্তা নিশ্চিত করাসহ বিভিন্ন দায়িত্বে নিয়োজিত। এই বাহিনীর ১৩ হাজারের বেশি হিল আনসার ও হিল ভিডিপি সদস্য বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর মধ্যে আস্থা ও সম্প্রীতি জোরদারে সক্রিয় ভূমিকা পালন করছেন বলে উল্লেখ করেন সরকারপ্রধান।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ব্যুত্থান মহড়া প্রদর্শনে অংশগ্রহণকারীদের সঙ্গে করমর্দন করেন। ছবি: পিএমও
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ব্যুত্থান মহড়া প্রদর্শনে অংশগ্রহণকারীদের সঙ্গে করমর্দন করেন। ছবি: পিএমও

তিনি বলেন, বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী ক্রীড়া এবং সাংস্কৃতিক অঙ্গনে প্রশংসনীয় সাফল্য অর্জন করেছে। পঞ্চম, ষষ্ঠ ও সপ্তম বাংলাদেশ গেমসে টানা তিনবার চ্যাম্পিয়ন হওয়ার স্বীকৃতিস্বরূপ বাহিনীটি ২০০৪ সালে স্বাধীনতা পদক লাভ করে।

বাহিনীর কাঠামোগত উন্নয়ন প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আনসার ব্যাটালিয়ন বিধিমালা ২০২৬, ভিডিপি বিধিমালা ২০২৬, অঙ্গীভূত আনসার বিধিমালা ২০২৬ এবং আনসার ব্যাটালিয়ন সদস্য নিয়োগ ও পদোন্নতি বিধিমালা ২০২৬ এর খসড়া প্রণয়নের কাজ প্রায় চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, উপজেলা পর্যায়ে বাহিনীর কার্যক্রম আরও শক্তিশালী করতে উপজেলা আনসার বিধিমালা ২০২৬ প্রণয়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এছাড়া প্রশাসনিক স্বচ্ছতা ও শৃঙ্খলা জোরদার করার লক্ষ্যে বাহিনী সদর দপ্তরে বায়োমেট্রিক উপস্থিতি ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে।

সর্বাধিক পঠিত

সম্পর্কিত