leadT1ad

পূর্বাচলে প্লট দুর্নীতি: শেখ হাসিনা, টিউলিপ ও আজমিনার আত্মপক্ষ সমর্থনের শুনানি আজ

স্ট্রিম প্রতিবেদক
স্ট্রিম প্রতিবেদক
ঢাকা

প্রকাশ : ০৮ জানুয়ারি ২০২৬, ১১: ৩০
শেখ হাসিনা, টিউলিপ রিজওয়ানা সিদ্দিক ও আজমিনা সিদ্দিক (সংগৃহীত ছবি)

ক্ষমতার অপব্যবহার করে পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পে প্লট বরাদ্দ নেওয়ার অভিযোগে দায়ের করা দুর্নীতির মামলায় ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং তাঁর বোন শেখ রেহানার দুই মেয়ে টিউলিপ রিজওয়ানা সিদ্দিক ও আজমিনা সিদ্দিকের আত্মপক্ষ সমর্থনের শুনানির দিন ধার্য রয়েছে আজ। বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) ঢাকার বিশেষ জজ-৪ আদালতে এই শুনানি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

ফৌজদারি কার্যবিধি অনুযায়ী, সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হওয়ার পর আসামিদের আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ দেওয়া হয়, যেখানে তারা নিজেদের নির্দোষ দাবি করে বক্তব্য রাখার সুযোগ পান।

এর আগে গত সোমবার (৫ জানুয়ারি) ঢাকার বিশেষ জজ-৪ আদালতের বিচারক রবিউল আলম মামলাটির সাক্ষ্যগ্রহণ সমাপ্ত ঘোষণা করেন। এই মামলায় তদন্তকারী কর্মকর্তাসহ মোট ৩১ জন সাক্ষী আদালতে জবানবন্দি দিয়েছেন।

সবশেষ গত সোমবার আদালতে সাক্ষ্য দেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) সহকারী পরিচালক আফনান জান্নাত কেয়া। এরপর আসামি খুরশীদ আলমের পক্ষে তার আইনজীবী শাহিন উর রহমান তদন্তকারী কর্মকর্তাকে জেরা করেন। জেরা শেষে আদালত সাক্ষ্যগ্রহণ পর্বের ইতি টানেন এবং মামলার পরবর্তী ধাপ হিসেবে আত্মপক্ষ সমর্থনের জন্য আজকের দিন ধার্য করেন।

অভিযোগ ও তদন্তের বৃত্তান্ত

মামলার নথিপত্র সূত্রে জানা যায়, অনিয়মের মাধ্যমে পূর্বাচলে ১০ কাঠার সরকারি প্লট বরাদ্দ নেওয়ার অভিযোগে গত বছরের (২০২৫) ১৩ জানুয়ারি আজমিনা সিদ্দিকের বিরুদ্ধে মামলাটি করেন দুদকের সহকারী পরিচালক আফনান জান্নাত কেয়া। তদন্ত শেষে গত ১০ মার্চ আদালতে ১৮ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করা হয়।

অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, সরকারের সর্বোচ্চ পদে থাকাকালে শেখ হাসিনা ক্ষমতার অপব্যবহার করে নিজের ও পরিবারের সদস্যদের নামে পূর্বাচল আবাসন প্রকল্পের ২৭ নম্বর সেক্টরের ২০৩ নম্বর রাস্তার ৬টি প্লট বরাদ্দ দিয়েছিলেন। নীতিমালার তোয়াক্কা না করে অসৎ উদ্দেশ্যে এই বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল, যদিও বিধি অনুযায়ী তারা কেউই এসব প্লট পাওয়ার যোগ্য ছিলেন না।

এজাহারভুক্ত ১৬ জনের সঙ্গে তদন্তে আরও দুজনকে অন্তর্ভুক্ত করে মোট ১৮ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট দেওয়া হয়েছে। শেখ হাসিনা ও তার পরিবারের সদস্যরা ছাড়াও মামলার উল্লেখযোগ্য আসামিরা হলেন জাতীয় গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের প্রশাসনিক কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম সরকার, সিনিয়র সহকারী সচিব পুরবী গোলদার, অতিরিক্ত সচিব অলিউল্লাহ, সচিব কাজী ওয়াছি উদ্দিন, রাজউকের সাবেক চেয়ারম্যানের পিএ আনিছুর রহমান মিঞা, সাবেক সদস্য মোহাম্মদ খুরশীদ আলম, তন্ময় দাস, মোহাম্মদ নাসির উদ্দীন, মেজর (ইঞ্জি.) সামসুদ্দীন আহমদ চৌধুরী (অব.), সাবেক পরিচালক নুরুল ইসলাম, সহকারী পরিচালক মাজহারুল ইসলাম, পরিচালক কামরুল ইসলাম ও উপ-পরিচালক নায়েব আলী শরীফ।

পরবর্তী সময়ে যুক্ত হওয়া দুই আসামি হলেন সাবেক প্রধানমন্ত্রীর একান্ত সচিব-১ মোহাম্মদ সালাহ উদ্দিন এবং সাবেক গৃহায়ন ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী শরীফ আহমেদ।

দুদক সূত্রে জানা গেছে, প্লট বরাদ্দে দুর্নীতির অভিযোগে গত বছরের জানুয়ারিতে শেখ হাসিনা ও তার পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে পৃথক ছয়টি মামলা করা হয়েছিল। এর মধ্যে গত বছরের ২৭ নভেম্বর তিনটি মামলার রায় ঘোষণা করা হয়েছে। ওই রায়ে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ২১ বছর এবং তার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয় ও মেয়ে সায়মা ওয়াজেদ পুতুলকে ৫ বছর করে কারাদণ্ড দেওয়া হয়। আসামিরা পলাতক থাকায় তাদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি রয়েছে।

Ad 300x250
সর্বাধিক পঠিত

সম্পর্কিত