গাইবান্ধায় ব্রহ্মপুত্রে অসময়ে ভাঙন, ঝুঁকিতে বালাসী লঞ্চ টার্মিনাল

স্ট্রিম সংবাদদাতা
স্ট্রিম সংবাদদাতা
গাইবান্ধা

প্রকাশ : ০৭ এপ্রিল ২০২৬, ২১: ০৩
ফুলছড়িতে ব্রহ্মপুত্র নদের ভাঙনকবলিত এলাকা। স্ট্রিম ছবি

গাইবান্ধার ফুলছড়িতে ব্রহ্মপুত্র নদে অসময়ে ভাঙন দেখা দেওয়ায় উদ্বেগ বাড়ছে তীরবর্তী মানুষের মধ্যে। ঝুঁকিতে আছে দেড় শ কোটি টাকার বালাসী লঞ্চ টার্মিনাল। ভাঙনের স্থান থেকে মাত্র ১৫ মিটার দূরে অবস্থান করছে এই স্থাপনা। পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) থেকে ব্লক ফেলে ভাঙন রোধের চেষ্টা করলেও, তা কাজে আসছে না। বর্ষায় ব্রহ্মপুত্রের স্রোত তীব্র হওয়ার সঙ্গে ভাঙন নিয়ন্ত্রণ কঠিন হয়ে পড়বে মনে করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। দ্রুত উজান ও ভাটিতে নদীর তীর সংরক্ষণ কাজ শুরু করার দাবি তাঁদের।

রংপুর বিভাগীয় বিআইডব্লিওটিএ-এর তথ্য অনুযায়ী, উত্তরাঞ্চলের মানুষের ঢাকাসহ বিভিন্ন জেলায় যাতায়াতের জন্য বালাসী লঞ্চ টার্মিনালটি ২০২১ সালে নির্মিত হয়। দুই দফায় ব্যয় বাড়িয়ে এটি তৈরিতে ব্যয় হয় প্রায় ১৫৭ কোটি টাকা। গুরুত্বপূর্ণ এই স্থাপনাটি নাব্য সংকট ও যমুনা নদীর গতি পরিবর্তনের কারণে ২০২৫ সালে বন্ধ হয়ে যায়। বর্তমানে টার্মিনালটি অকেজো অবস্থায় পড়ে আছে। ভাঙনের মুখে এর অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, দুই মাস আগে হঠাৎই নদে ভাঙন শুরু হয়। প্রথমবারেই টার্মিনাল সংলগ্ন প্রায় ১০০ মিটার এলাকা নদে বিলীন হয়ে যায়। কয়েকদিন আগে আবারও প্রায় ৪০ মিটার জায়গা নদে ভেঙে পড়ে। এই ভাঙনে অব্যাহত থাকায় লঞ্চ টার্মিনাল, দোকানপাট, গুদামঘরসহ বিভিন্ন স্থাপনা হুমকির মুখে পড়েছে। অনেকেই ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান সরিয়ে নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। তবে স্থায়ী স্থাপনা সরানো সম্ভব না হওয়ায় বড় ক্ষতির আশঙ্কা করছেন ঘাট এলাকার ব্যবসায়ীরা।

ফুলছড়িতে ব্রহ্মপুত্র নদের ভাঙনকবলিত এলাকা। স্ট্রিম ছবি
ফুলছড়িতে ব্রহ্মপুত্র নদের ভাঙনকবলিত এলাকা। স্ট্রিম ছবি

ব্যবসায়ী রেজাউল করিম বলেন, ভাঙতে ভাঙতে প্রতিদিনই নদ দোকানপাটের কাছে চলে আসছে। ভাঙন যেভাবে বাড়ছে, তাতে বর্ষায় পরিস্থিতি ভয়াবহ হতে পারে।

স্থানীয় বাসিন্দা আসলাম বলেন, চোখের সামনে নদ ভেঙে বাড়িঘরের দিকে আসছে। ভুট্টাসহ জমিগুলো নদে পড়ছে। কেউ নদপাড়ের মানুষের খোঁজ খবর নিচ্ছে না।

কৃষক আজগর আলী বলেন, ‘অসময়ে ভাঙনে বেশ কিছু জমি নদে পড়ছে। খুব চিন্তায় আছু। ধার দেনা করিত কষ্টের আধা-পাকা ভুট্টাগুলো ঘরোত তুলবের পামো কি না?’

স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, বর্ষা মৌসুম শুরু হওয়ার আগেই জরুরি ভিত্তিতে তীররক্ষা ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন। নয়তো টার্মিনালসহ বিস্তীর্ণ এলাকা নদ গর্ভে বিলীন হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

গাইবান্ধা পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী মো. শরিফুল ইসলাম বলেন, ভাঙন রোধে ব্যবস্থা নেওয়ার চেষ্টা করেছি। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। ইতিমধ্যে সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

সম্পর্কিত