সাংবাদিকদের ওপর ছাত্রদলের হামলা, ৩ দাবি ঢাবি সাংবাদিক সমিতির

স্ট্রিম প্রতিবেদক
স্ট্রিম প্রতিবেদক
ঢাকা

শাহবাগ থানার সামনে নেতাকর্মীদের অবস্থান। সংগৃহীত ছবি

রাজধানীর শাহবাগ থানার ভেতরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির সদস্যদের ওপর ছাত্রদলের হামলার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে সমিতির নেতৃবৃন্দরা। একই সঙ্গে হামলায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তারসহ তিন দফা দাবি জানানো হয়।

বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) সন্ধ্যায় শাহবাগ থানায় সংবাদ সংগ্রহের সময় ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা সাংবাদিকদের ওপর হামলা করে। এতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির নতুন কমিটির সভাপতি মানজুর হোছাঈন মাহি, সাধারণ সম্পাদক লিটন ইসলাম, ডেইলি অবজারভারের বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি নাইমুর রহমান ইমন, দেশ রূপান্তরের খালিদ হাসান, ঢাকা ট্রিবিউনের সামশুদ্দৌজা নবাব, ঢাকা মেইলের মোহাম্মদ ইফতেখার হোসেন সিফাত, নয়া দিগন্তের হারুন ইসলাম, রাইজিংবিডির সৌরভ ইসলাম, মানবজমিনের আসাদুজ্জামান খানসহ ১০ জন সাংবাদিক আহত হন। বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন হলের অর্ধশতাধিক ছাত্রদলের নেতাকর্মী এই হামলায় অংশ নেন।

সাংবাদিক সমিতির সভাপতি মহিউদ্দিন মুজাহিদ মাহি ও সাধারণ সম্পাদক মাহাদী হাসান বলেন, থানার মতো একটি নিরাপদ জায়গায় পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে সাংবাদিকদের ওপর ‘মব’ সৃষ্টি করে হামলা চালানো সংবাদপত্রের স্বাধীনতায় নগ্ন হস্তক্ষেপ। সাংবাদিকদের ওপর এই হামলা কোনো সুস্থ রাজনৈতিক সংগঠনের সংস্কৃতি হতে পারে না। বুধবারও বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন হলে সাংবাদিকদের হেনস্তা করার ঘটনা প্রমাণ করে যে সাংবাদিকদের ওপর এটি একটি পরিকল্পিত ধারাবাহিক আক্রমণ।

নেতৃবৃন্দরা আরও বলেন, হামলার সময় শাহবাগ থানা পুলিশের নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন অত্যন্ত দুঃখজনক ও অপেশাদারিত্বের বহিঃপ্রকাশ।

সরকার, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতি তিনটি দাবি তুলে ধরেন: (১) হামলায় জড়িতদের দ্রুততম সময়ের মধ্যে গ্রেপ্তার করে সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে, (২) হামলায় জড়িতদের মধ্যে থাকা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বহিষ্কার করতে হবে, (৩) সারাদেশে স্বাধীন সাংবাদিকতার পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে।

অতিদ্রুত এসব দাবির বিষয়ে কোনো কার্যকরী পদক্ষেপ না নিলে, সাংবাদিক সমাজ কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করতে বাধ্য হবে বলে জানিয়েছে সাংবাদিক সমিতির নেতৃবৃন্দরা।

সম্পর্কিত