সুনির্দিষ্ট মামলা ছাড়া খায়রুল হককে গ্রেপ্তার না করার নির্দেশ

স্ট্রিম প্রতিবেদক
স্ট্রিম প্রতিবেদক
ঢাকা

প্রকাশ : ১৮ মে ২০২৬, ০০: ০৩
সাবেক প্রধান বিচারপতি এবিএম খায়রুল হক। ছবি: সংগৃহীত

সুনির্দিষ্ট মামলা ছাড়া সাবেক প্রধান বিচারপতি এ বি এম খায়রুল হককে গ্রেপ্তার না দেখাতে ও হয়রানি না করতে নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট।

রোববার (১৭ মে) বিচারপতি রাজিক-আল-জলিল ও বিচারপতি দেবাশীষ রায় চৌধুরীর সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ রুলসহ এই আদেশ দেন।

আগের পাঁচটি মামলায় জামিন পাওয়ার পর গত ৩০ মার্চ রাজধানীর যাত্রাবাড়ী ও আদাবর থানার পৃথক দুটি হত্যা মামলায় খায়রুল হককে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। পরে গত ১২ মে হাইকোর্ট থেকে ওই দুই মামলায় অন্তর্বর্তী জামিন পান তিনি। এর মধ্যে নতুন করে ওই দুই মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর প্রক্রিয়ার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে গত ১৩ মে হাইকোর্টে রিট করেন খায়রুল হকের ছেলে আইনজীবী আশিক উল হক।

রোববার ওই রিটের শুনানি শেষে আদালত আদেশ দেন। আদালতে খায়রুল হকের পক্ষে শুনানিতে ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী কামরুল হক সিদ্দিকী, মোতাহার হোসেন সাজু, মোস্তাফিজুর রহমান খান, সাঈদ আহমেদ রাজা ও আইনজীবী মোনায়েম নবী শাহীন। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল জামিলা মমতাজ।

আদেশে আদালত একটি রুল জারি করেছেন। রুলে শুধু হয়রানি ও অপদস্থ করার উদ্দেশ্যে বারবার মিথ্যা প্রকৃতির মামলায় আবেদনকারীকে জড়ানোর কার্যক্রম এবং যাত্রাবাড়ী ও আদাবর থানার মামলায় ৩০ মার্চ গ্রেপ্তার দেখানো কেন আইনগত কর্তৃত্ববহির্ভূত ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চাওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া ছাড়া তাঁকে গ্রেপ্তার না করতে কেন নির্দেশ দেওয়া হবে না, রুলে সে বিষয়েও জানতে চেয়েছেন হাইকোর্ট।

রিটে স্বরাষ্ট্র সচিব, আইন সচিব, ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম), পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি), ঢাকার জেলা প্রশাসক (ডিসি), পুলিশ সুপার (এসপি) এবং যাত্রাবাড়ী ও আদাবর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের (ওসি) বিবাদী করা হয়েছে।

২০২৪ সালের ২৪ জুলাই সকালে রাজধানীর ধানমন্ডির বাসা থেকে এ বি এম খায়রুল হককে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরে তাঁকে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় ঢাকার যাত্রাবাড়ীতে যুবদলকর্মী আবদুল কাইয়ুম আহাদ হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়। এরপর থেকে তিনি কারাগারেই রয়েছেন। এই হত্যা মামলা ছাড়াও তত্ত্বাবধায়ক সরকারসংক্রান্ত রায় জালিয়াতির অভিযোগে খায়রুল হকের বিরুদ্ধে গত বছরের ২৭ আগস্ট শাহবাগ থানায় এবং ২৫ আগস্ট নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা ও বন্দর থানায় মামলা হয়। এ ছাড়া বিধিবহির্ভূতভাবে প্লট গ্রহণের অভিযোগে গত বছরের আগস্টে তাঁর বিরুদ্ধে মামলা করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

এসব মামলায় নিম্ন আদালতে জামিন নাকচ হওয়ার পর তিনি হাইকোর্টে আবেদন করেন। গত ৮ মার্চ হাইকোর্ট তাঁকে চার মামলায় এবং ১১ মার্চ দুদকের মামলায় জামিন দেন। হাইকোর্টের ওই জামিন স্থগিত চেয়ে রাষ্ট্রপক্ষ পৃথক আবেদন করলেও গত ২৮ এপ্রিল আপিল বিভাগ রাষ্ট্রপক্ষের সেসব লিভ টু আপিল ও আবেদন খারিজ করে জামিন বহাল রাখেন।

২০১০ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর দেশের ১৯তম প্রধান বিচারপতি হিসেবে দায়িত্ব নেন এ বি এম খায়রুল হক। ২০১১ সালের ১৭ মে তিনি অবসরে যান। তাঁর নেতৃত্বাধীন আপিল বেঞ্চ ২০১১ সালের ১০ মে সংবিধানের ত্রয়োদশ সংশোধনী বাতিল করে রায় দেন, যার ফলে দেশে নির্বাচনকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিল হয়ে যায়। অবসরে যাওয়ার পর ২০১৩ সালের ২৩ জুলাই তাঁকে আইন কমিশনের চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ দেয় তৎকালীন সরকার। এরপর কয়েক দফায় তাঁকে পুনর্নিয়োগ দেওয়া হয়। ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ২০২৪ সালের ১৩ আগস্ট আইন কমিশন থেকে পদত্যাগ করেন তিনি।

সর্বাধিক পঠিত

সম্পর্কিত