গোলটেবিল বৈঠকে বদিউল আলম মজুমদার

কোন প্রতিষ্ঠান দেশি, কোনটা বিদেশি, সেটা স্পষ্ট নয়

স্ট্রিম প্রতিবেদক
স্ট্রিম প্রতিবেদক
ঢাকা

সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক রিসার্চ (সিএসআর) ও ঢাকা স্ট্রিম আয়োজিত বৈঠকে কথা বলছেন বদিউল আলম মজুমদার। স্ট্রিম ছবি

দেশের বড় কিছু শিল্পগোষ্ঠীকে দেশি নাকি বিদেশি প্রতিষ্ঠান হিসেবে বিবেচনা করা হবে, সে বিষয়ে স্পষ্টতা নেই বলে মন্তব্য করেছেন সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার।

মঙ্গলবার রাজধানীর গুলশানের একটি হোটেলে সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক রিসার্চ (সিএসআর) ও ঢাকা স্ট্রিম আয়োজিত ‘কৌশলগত সম্পদে দেশি বিনিয়োগের অগ্রাধিকার’ শীর্ষক গোলটেবিল আলোচনায় তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ সাকি।

বদিউল আলম মজুমদার বলেন, ‘আমরা কোন প্রতিষ্ঠানকে বিদেশি প্রতিষ্ঠান বলব, আর কোন প্রতিষ্ঠানকে দেশি বলব, সেটা অনেক ক্ষেত্রে স্পষ্ট নয়। যেমন আমরা এস আলমকে দেশি না বিদেশি বলব?’

তিনি আরও বলেন, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান পরিস্থিতি অনুযায়ী নিজেদের পরিচয় ব্যবহার করে সুবিধা নেয়। যখন দরকার হয়, সুযোগ–সুবিধা নিতে হয়, তখন তারা দেশি হয়ে যায়। আবার যখন তাদের স্বার্থের প্রতিকূলে পরিস্থিতি চলে যায়, তখন তারা বিদেশি হয়ে যায়।

আলোচনায় দক্ষিণ কোরিয়া ও সিঙ্গাপুরের উন্নয়নের উদাহরণ তুলে ধরে বদিউল আলম মজুমদার বলেন, সেসব দেশ সুশাসন ও মেধাভিত্তিক প্রশাসনিক কাঠামোর মাধ্যমে এগিয়ে গেছে। অথচ বাংলাদেশে বিনিয়োগের স্থবিরতা ও দুর্নীতি উন্নয়নের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

এ সময় ভারতের আদানি গ্রুপের সঙ্গে হওয়া বিদ্যুৎ চুক্তির স্বচ্ছতা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। তাঁর অভিযোগ, ওই চুক্তির ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্মকর্তাদের ডেকে এনে একতরফাভাবে সই করতে বাধ্য করা হয়েছিল।

তিনি বলেন, ‘বিদেশি বিনিয়োগ নিয়ে আমরা নানা “হরর স্টোরি” শুনেছি। আদানির সঙ্গে সব চুক্তিপত্র ভারত থেকে তৈরি করে আনা হয়েছিল। পরে এখানে সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্মকর্তাদের ডেকে সই করতে বলা হয়।’

দেশে দুর্নীতির ধরন পরিবর্তিত হয়েছে উল্লেখ করে বদিউল আলম মজুমদার বলেন, আগে দুর্নীতি অনেকটাই দৃশ্যমান ছিল, এখন তা অদৃশ্য আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে সংঘটিত হচ্ছে। তাঁর ভাষায়, ‘মিলিয়ন ডলারের অদৃশ্য দুর্নীতি এখন বাস্তবতা। চুরি-লুটপাট আমাদের অস্থিমজ্জায় মিশে গেছে।’

সম্পর্কিত